Profile Photo

আবিদাতুর রাহমানOffline

  • soldierofislam
  • পথযাত্রা

    .
    (১).

    ” বাবা, আমাকে যেতে দাও। প্লিজ বাবা, আজ গেলে আর যাব না। আমি কথা দিয়েছি, বাবা। মেয়েটা বসে থাকবে, ” দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে করুণ স্বরে বলতে লাগল রাফিয়া। কিন্তু ওপাশ থেকে কিছুমাত্র সাড়া পাওয়া গেল না।

    রাফিয়া এবার রাফানকে ডাকতে শুরু করল, ” রাফান, তুই একটু খুলে দে-না ভাই। খুব জরুরী ওখানে যাওয়া। ”
    এবারও সাড়া পেল না সে। মরিয়া হয়ে জোরে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করল রাফিয়া আর ডাকতে লাগল রাফানকে।
    বেশ কিছুক্ষণ পর রাফানের কণ্ঠ শোনা গেল, ” আপু ধাক্কাচ্ছিস ? দরজা বাইরে থেকে আটকানো কেন ! ”
    রাফিয়া ম্রিয়মান স্বরে বলল, ” সেটা পরে বলব। তুই একটু দরজাটা খুলে দে আগে। ”
    রাফান খুলে দিল দরজা। রাফান কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলে উঠল, ” পরে বলি সব ? এখন দেরি হয়ে যাচ্ছে – ”
    ” আচ্ছা, যা, ” সরে গিয়ে তাকে পথ করে দিল রাফান।

    রাফিয়া তাড়াহুড়ো করে বোরকা-নিকাবে নিজেকে পুরোপুরি আবৃত করে নিল। মোবাইলটা দরকার ছিল, কিন্তু বাবা সেটা আটকে রেখেছে। উপায় না পেয়ে মোবাইল ছাড়াই বের হল সে, গোপন জায়গা থেকে টাকাগুলো বের করে নিয়ে। সন্তর্পণে যখন বের হচ্ছিল সে, হঠাৎই চোখে অশ্রু জমতে শুরু করেছিল। সিড়ি দিয়ে নামতে কষ্ট হচ্ছিল দৃশ্যমান পথ ঝাপসা হয়ে যাওয়ায়।

    _________________

    রাফিয়া একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মা-বাবা, এক ভাইকে নিয়ে তার জীবন। ক্ষুদ্র এ জীবনটারও যে এক অন্যরকম মূল্য আছে, সেটা রাফিয়া বুঝেছিল মাসছয়েক আগে এক দ্বীনী হালাকায় গিয়ে।
    রাফিয়া স্টাইলিশ হিজাব পরলেও সলাত সে পড়ত না। কোনো দিন পড়েছে কিনা মনে করতে পারত না। সেই তাকে একদিন পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া আন্টি নিয়ে গিয়েছিল সে হালাকায়। আন্টির বাসার ওপর তলায় সেটার আয়োজন করা হয়েছিল। রাফিয়া এসবের সাথে মোটেও পরিচিত ছিল না ; অবশ্য তার আগ্রহও ছিল না। বলা যায়, কোনো কিছুই তাকে আগ্রহী করে তুলতে পারেনি তেমন করে। পড়াশোনায় সে মোটামুটি নিম্ন মানের, যেখানে তার এক বছরের ছোট রাফান রীতিমতো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। খাওয়া-দাওয়ার প্রতিও সে অত বাছ-বিচার করে না। গয়নাগাটির তার নেই কোনো রকম লোভ ; এক্ষেত্রে সে কেবল পরিপাটি হয়ে থাকাতেই স্বচ্ছন্দ।
    জীবন সম্পর্কে অনাগ্রহী সে রাফিয়া ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে উঠল এর পর থেকে। ধীরে ধীরে দ্বীনের সম্পর্কে সিরিয়াস হয়ে ওঠা অন্যদের মতো রাফিয়া পূর্ণ পর্দার পথে হাঁটতে শুরু করল। স্বাভাবিকভাবে বাধাও পেল তখন। বাবা তাকে বুঝিয়ে, শাসন করেও দমাতে পারলেন না। মা তার অন্য সব বিষয়ের মতো এ বিষয়েও অনেকটা নির্লিপ্ত রইলেন। রাফান আদর্শ ছোট ভাইয়ের মতো বাবার বকাঝকার সময় তার পাশে দাঁড়াল ; কিন্তু তাকে সাহায্য করল না অন্য কোনোভাবে।

    এসবের পরও রাফিয়া হালাকায় যাচ্ছিল। একদিন বাবা যখন সেটা আবিষ্কার করলেন, তখন তিনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে, রাফিয়ার অধঃপতনের পেছনে এটাই দায়ী। তখন থেকে তাকে যথাসাধ্য শাসন করতে শুরু করলেন। এতেও যখন সে দমল না, তখন আজ নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে তাকে আটকে রাখলেন।
    কিন্তু রাফিয়া গতকাল মেয়েটাকে কথা দিয়েছিল যে, সে আজ তার জমানো টাকাগুলো নিয়ে যাবে। মেয়েটা ১৫ বছর বয়সী। বাবা রিকশা চালক। ঘরে আরও চার ভাই-বোন আছে তার। তার মা কিছুদিন আগে বাথরুমে পিছলে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলেছেন। তড়িঘড়ি করে অপারেশন করতে হয়েছে তাঁর। সেজন্য বেশ কিছু টাকা ধার করতে হয়েছে মেয়েটির বাবাকে। এছাড়াও অপারেশন পরবর্তী খরচপত্র আছে কিছু। সে টাকা যোগাড় করতে না পেরে তার বাবা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছেন। মেয়েটি তাই বাধ্য হয়ে উস্তাযার কাছে এ বিষয়ে হালাকার সকলকে জানিয়েছেন। সেটা শুনে রাফিয়া মেয়েটির বাসায় গিয়েছিল নিজ থেকেই মেয়েটির মাকে দেখতে। জীর্ণশীর্ণ ঘরে ভাড়া থাকে ওরা। তিন রুমের বাসা। রংচটা বাসাটায় গেলে এমনিতেই মন খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। তার ওপর অসুস্থ একজন মানুষকে সে দেখেছে, রাফিয়ার মন এত বেশি বিষন্ন হয়ে গিয়েছিল যে, সে বাসায় এসে আর কথাই বলেনি কারও সাথে।

    আজ শুক্রবার বলে বাবা বাসায়। যখন তিনি মায়ের কাছ থেকে শুনলেন যে, রাফিয়া আজ হালাকায় যাবে, সাথে সাথে ভীষণভাবে রেগে গিয়ে তাকে অন্ধকার স্টোররুমটায় আটকে রাখলেন। কিন্তু আজ যে তার ভীষণ প্রয়োজন ছিল যাওয়ার…
    কিন্তু এতসবের পর এখন মনে হচ্ছে যে, আর না যাওয়াই উচিৎ হবে। কারণ বাবা-মাকে অসন্তুষ্ট করাও অন্যায়।

    (২).

    “তুমি এসো না আর। ”
    মায়ের কঠোর কথায় থমকে গেল রাফিয়া। সে হতভম্ব চোখে তাকাল মায়ের দিকে। মা আবার বললেন, ” যেহেতু বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে তোমার বাবার অনুমতির প্রয়োজন পড়েনি, সেহেতু বাসায়ও আসার দরকার নেই। নিজ ইচ্ছায় বাইরে গেছ, বাইরেই থাক। ”
    রাফিয়ার একটি বাজে স্বভাব হচ্ছে, অল্পতেই তার চোখে পানি চলে আসে। সে টলটলে অশ্রু নিয়ে বলল, ” আর যাব না মা। আমার ভুল হয়ে গেছে।… ”
    ” ভুল ? আচ্ছা, ভুলকে কিভাবে ঠিক করা যায়, ভাব, ” বলে দরজা লাগিয়ে দিলেন মা।

    রাফিয়া এবার নিজেকে আর আটকে রাখতে পারল না, ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল সে। দাঁড়িয়ে রইল অসহায়ের মতো। রাফান এলো এক সময় কোচিং করে ; তার অনুরোধেও মা ঢুকতে দিলেন না।
    হঠাৎ সে বাবাকে দেখতে পেল ; তিনি আসছেন বাসার দিকে। তাকে দেখতেই দাঁড়িয়ে পড়লেন। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থেকেই বললেন, ” আচ্ছা, তাহলে বাইরে গেছই ? তো কখন এলে ? ”
    রাফিয়া ভয়ে ভয়ে বলল, ” আধা ঘণ্টা হতে পারে। ”
    ” বাইরে কেন ? ” বলেই বাবা নিজেকে যেন শোনালেন, ” হুম, তোমার জন্য বাইরে থাকাই ভালো। থাক তাহলে – ”
    রাফিয়া ক্ষমা চাইতে গেল , ” আর যাব না বাবা তোমাকে না বলে। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে – ”
    ” ভুল করেছ ? বাবার কথা অমান্য করে যাওয়া কি তোমার ইসলাম তোমাকে শেখায় ? ”
    রাফিয়া কিছু বলল না, যদিও তার বলতে ইচ্ছে হল, ” আমি কিছু করলে, সেটা আমার দোষ। এখানে ইসলামকে কেন টান বাবা ? ”

    বাবা ভেতরে চলে গেলেন তাকে রেখেই। দরজা আটকে দিলেন ভেতর থেকে। তিনি ঢুকতেই রাফিয়া শুনতে পেল মায়ের কণ্ঠস্বর , ” তোমার মেয়ে কি বাইরে ? ”
    বাবার গম্ভীর স্বর কানে এলো তারপর, ” হুম। ”
    মায়ের কথা আবার শুনতে পেল সে, ” দু’দিন পর পর নতুন নতুন কান্ড দেখতে হয় তার। ভালোই। ”
    মায়ের এ তীব্র শ্লেষে আবারও কেঁদে ফেলল রাফিয়া। যখনই সে কিছু একটা ভুলচুক করে ফেলে, তখন মা বাবার কাছে তাকে “তোমার মেয়ে” বলে সম্বোধন করেন। যদিও তিনি কখনোই রাফানকে “তোমার ছেলে” বলেননি বাবার কাছে। এ নিয়ে কতবার যে কষ্ট পেয়েছে রাফিয়া…

    তার মগ্নতা ভাঙলো বাবার কথায়, ” আমার মেয়ে যখন করেছে, তখন আমাকেই সামলাতে দাও। তুমি এর মধ্যে এসো না। ”
    কিছুক্ষণ থেমে বাবা আবার বললেন, ” আর ওকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছ তুমি নিশ্চয়ই। কেন ? ”
    ” বাহ্ , ভালোই সম্মান দিচ্ছ ! মেয়েকে পালার জন্য এনেছ ; মেয়ে বড়ো হতেই এখন পর হয়ে গেলাম ! ” মায়ের এ কথায় প্রচন্ড অবাক হলো রাফিয়া।
    তবে সাথে সাথেই শুনতে পেল বাবার কথা, ” তুমি কি আদৌ দেখেছ আমার মেয়েকে ? ওকে তো কাজের মেয়ে সাজেদাই বড়ো করল। তুমি ব্যস্ত রইলে কেবল তোমার ছেলেকে নিয়ে। আসলে এ বিয়েতে আমার কোনো লাভই দেখি না আমি। আর… জেনে রেখ, তুমি যে সম্পত্তির লোভে আমাকে বিয়ে করেছ, আমি সেটা ভুলে যাইনি। ”
    বলে বিদ্রুপের অট্টহাসি হেসে উঠলেন বাবা, ” যে নারী সম্পদের লোভে তার সন্তানকে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে অন্য পুরুষকে ভোলায়, তাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, ভাবলেও হাসি আসে ! ”

    রাফিয়া থরথর করে কাঁপতে লাগল এত ভয়ঙ্কর সত্য আজ একসাথে উন্মোচিত হওয়ায়। তারিন খান তার মা না হলে তার মা কে ? কোথায় তার মা ?

    (৩).

    তারিন খান, যিনি তার সৎ মা, তিনি সেদিনই চলে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে তাকে দেখতে পেয়ে পাঁচ মিনিট ধরে প্রচন্ড ঘৃণাসূচক কথা বলে গিয়েছিলেন সেদিন।

    সেই থেকে রাফিয়া কেঁদে চলেছে। বাবার হয়তো তার এ হাল দেখে রাগ ভেঙে গেছে। তিনি রাফিয়াকে সেদিন থেকে বুঝিয়ে চলেছেন নানান কথায় ; এমনকি তাকে হালাকায় যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন।
    রাফিয়ার বারবার প্রশ্নের উত্তরে বিরক্ত হয়ে মায়ের পরিচয়ও দিয়েছেন। তারিন খান তার বাবাকে বিয়ের আগে মাকে বিচ্ছিন্ন করিয়েছিলেন। মা-ও আর কোনোদিন যোগ করেননি তাদের কারও সাথে। তার বিয়েও হয়ে যায় সে বছরেই।

    রাফিয়া সবচেয়ে বেশি কেঁদেছে এটা ভেবে যে, রাফানকে নিজের ভাই ভেবে এতদিন সে তার সামনে পর্দা করেনি। কতটা গুনাহ সে কামিয়েছে এতে…
    বাবার কাছে সে এ সম্পর্কেও জেনেছে। রাফানের আসল নাম আইমান ইমতিয়াজ আহমেদ। তার বাবার নাম ইমতিয়াজ আহমেদ। রাফানের ছয় মাস বয়সে তারিন খান ইমতিয়াজ আহমেদকে তালাক দিয়েছিলেন। এর পাঁচ মাস পর বাবার সাথে তার বিয়ে হয়।
    পরে তার নাম থেকে “ইমতিয়াজ” -কে ছেটে ফেলে বাবার রাশেদ নামটির সাথে মিলিয়ে সেখানে “রাফান” রাখা হয়। অথচ রাফিয়া শুনেছে যে, সন্তানের বাবার নাম কখনো মুছে ফেলা জায়েয নেই।

    _____________

    রাফিয়া জানে না তার ভবিষ্যৎ কী। তার সৎ মা ফিরে এসেছেন নিজ থেকেই। রাফিয়ার সাথে স্বাভাবিক ব্যবহারও করেছেন প্রথম দিকে। বাবাও আর কিছু বলেননি তাকে এ নিয়ে।

    তিনি আসার পর থেকে তার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে আইমানকে নিয়ে, যাকে সে এতদিন আদরের ছোট ভাই রাফান হিসেবে জানত। আইমান সব জানার পর হয়তো নিজেও খুব কষ্ট পেয়েছে। তাকে অন্তত অন্যদের মতো নয় বলেই ভাবতে চায় রাফিয়া। তাছাড়া, নানান কথার আভাসে বোঝা যাচ্ছিল যে, আইমান এখানে ফিরে আসতে ইচ্ছুক ছিল না।
    তবুও যখন আইমান প্রথম তার ঘরে এসেছিল, অবাক হয়েছিল রাফিয়া। সে বাবার ভয়ে দরজা লাগিয়ে রাখতে পারেনি। আইমান যাওয়ার পর নিজেকে তিরষ্কার করেছে সে ভীষণ এ নিয়ে।
    আইমান আসার সাথে সাথে সে নিজেকে পাতলা কম্ফোর্টারটা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঢেকে ফেলেছিল। আইমান বিস্মিত হয়েছিল তাতে, রাফিয়া বুঝতে পারছিল। সে অস্ফুটে বলেছিল, ” আমার সাথেও তাহলে পর্দা করতে হবে ? ”
    বলে বিষন্ন কণ্ঠে ফের বলেছিল, ” ভেবেছিলাম, সব কিছুর পরও আমার একটা বোন আছে। কিন্তু….. না, আমি কষ্ট পাচ্ছি না। যাদের কারণে আজ এ অবস্থা, তাদের আল্লাহ দেখে নিক। আমি তো-মাকে বড়ো বোন বলেই মানব। আর কখনো এখানে আসতে না হোক, দোয়া কোরো, আপু। ”

    আইমান এর কিছুক্ষণ পরই যে এ বাসা থেকে একেবারে চলে গেছে, সেটা বাসার সবাই বুঝতে পেরেছিল পরদিন। সে তার কাঁধ ব্যাগে করে তার পড়াশোনা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র কোনো এক ফাঁকে খুঁজে বের করে সেসবই কেবল সাথে নিয়ে গিয়েছে।

    আর সেদিন থেকেই পালটে গেছে তার সৎ মায়ের ব্যবহার। তার সাথে, কয়েক দিন পর যখন জানা গেল যে, আইমান আসলে কোনোভাবে তার বাবার ঠিকানা বের করে তারই কাছে গিয়েছে, তখনই তার ওপর কথার অত্যাচার বেড়েছে তারিন খানের।
    বাবা আর তার ঝগড়ার মাঝে রাশেদ হাসান যখন চিৎকার করে করে এ তথ্যগুলো সরবরাহ করছিলেন যে, রাফান তার বাবার ঠিকানা বের করেছে তারিন খানেরই মোবাইল থেকে। সেখানে সেই ব্যাক্তির বহুবার ফোন করেছেন ছেলের খবর জানতে। তারিন না জানালেও কি হবে, সে ঠিকই তার বাবার সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছে। ভদ্রলোক তারিন খানের মতো স্বার্থপর নয়, তাই এখনো পুত্রশোকে বিয়ে করেননি — রাফিয়া তার সামনে পর্দার অন্য পাশ উন্মোচিত হয়ে যাওয়ার পর হতবাক হয়ে গিয়েছিল।

    তিনি এখন উঠে পড়ে লেগেছেন, তার পরিচিত এক শিল্পপতির ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবার জন্য। বাবার সাথে এ নিয়ে দফায় দফায় ঝগড়া হচ্ছে তার। বাবার মতে সেই ছেলে চরম লম্পট আর ড্রাগ এডিক্টেড।
    সৎ মায়ের কথানুযায়ী, তিনি রাফিয়ার সাথে একই বাসায় সহাবস্থান করতে পারছেন না।

    [ টীকা : মা-বাবাকে অভিশাপ দেয়া সন্তানের জন্য জায়িয নেই। ]

    (৪).

    রাফিয়ার ডায়েরিটা তার টেবিলের ওপর রাখা ছিল সযত্নে কলম চাপা দিয়ে। সেটার শেষ পৃষ্ঠায় অগোছালো হাতের লেখা দেখা যাচ্ছে —
    বাবা, কেন যেন মনে হচ্ছে আমি আর হয়তো পৃথিবীতে বেশিদিন থাকব না। আমার যত ভুল হয়েছে, আমি সেসবের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে মাফ করে দিও বাবা। আর আমার মৃত্যু সত্যিই হলে আমার হালাকার উস্তাযাকে জানিও কোনো মহিলাকে দিয়ে, তিনি পুরুষদের সামনে আসেন না। আর মাকে জানিও সম্ভব হলে। তিনি হয়তো আসতেও পারেন।…
    কোনো রকম ঘোষণা দিও না মৃত্যুর। আর আমাকে দ্রুত সময়ে, সম্ভব হলে এক ঘন্টার মধ্যে দাফন করে দিও। কোনো পুরুষ মানুষকে আমায় দেখতে দিও না ; আমার চাচা আর যদি মামা থাকেন, তাদের ছাড়া। কবরে রাখার সময়ও শুধু তোমরাই ধরতে পারবে। মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে কথা বোলো এ বিষয়ে ; শুনেছি তিনি খুব ভালো মানুষ। আমার এ শেষ অনুরোধগুলো রেখ বাবা।

    সিজদায় পাওয়া গিয়েছিল রাফিয়াকে সেদিন। সে তখন অন্য পথের যাত্রী।

    2
    5 Comments
    • সুন্দর গল্প তবে, রাফিয়ার জন্য মনটা খারাপ লাগছে মঞ্চবন্ধু, এবার একটা মন ভালো করার গল্প চাই!

    • আপনার লেখাটিতে জীবনবোধ ও গভীর আবেগ এক অদ্ভুত সংবেদনশীলতা নিয়ে ফুটে উঠেছে, যা সত্যিই পাঠককে ভাবিয়ে তোলে। আপনি চমৎকারভাবে চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, আর আমাদের এই সক্রিয় প্লাটফর্মে মাঝে মাঝে অন্যদের লেখায় মন্তব্য বা ভালোবাসা জানিয়ে নিজের উপস্থিতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলুন, এতে সবারই ভালো লাগবে।

    • বড় বড় ঘটনার ঘাত প্রতিঘাত – খুব বাস্তব আর মন কেড়ে নেয়।

    • আবিদাতুর রাহমান, লেখাটির প্রতিটি লাইন এত হৃদয়স্পর্শী যে “সিজদায় পাওয়া গিয়েছিল রাফিয়াকে সেদিন” — এই লাইনটি পড়ে আমার বুকটা একদম কেঁপে উঠল! রাফিয়ার জীবনের এই কঠিন সত্যগুলো এবং তার শেষ অনুরোধগুলো পড়ে আপনার কি খুব কষ্ট হয়নি?

Friends

Profile Photo
Mamun Azad
@mamunazad
Profile Photo
Jannatul Ferdous Barsha
@jannatulferdousbarsha
Profile Photo
janatha tv bangla
@janathatvbangla
Profile Photo
sajib maijd
@sajibmaijd
Profile Photo
Poly Alam
@butterflywords
Profile Photo
Shahin Aktar
@shahinaktar
Profile Photo
ujjal mutsuddi
@ujjalmutsuddi
Skip to toolbar