<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | আবিদাতুর রাহমান | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/soldierofislam/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/soldierofislam/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for আবিদাতুর রাহমান.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 05 Oct 2026 03:05:41 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">50a6be133701253fdebac829013ec634</guid>
				<title>হে গাযযার ফুল, তোমাকে 

.
গাযযাকে নিয়ে একটি গল্প লিখতে চেয়েছিলাম, 
বহুক্ষণ ভেবেও পাইনি গল্প-শুরুর প্রেরণা... ;
কী লিখব আমি গাযযাকে নিয়ে ? 
— সেখানে প্রতিনিয়তই যে রচিত হতে থাকে 
নতুন নতুন গল্পের সূচনা... 

আমি গাযযাকে নিয়ে কিভাবে লিখব,যখন —
হিন্দ রজবের জীবনের গল্প জেনে গিয়েছি ? 
যখন পড়েছি এক ছোট্ট সোণামণির জীবনাবসানের গল্পখানি, 
আর, এক মায়ের শহীদ-জননী হওয়ার গল্পটাও, 
যখন আমি জানতে পেরে গেছি ? 

আমি জেনেছি ছোট্ট মুনার সংগ্রামের কথা,
জেনেছি গল্প শিশু মাহমুদের দুঃখে ভরা জীবনের , 
জেনেছি এক বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়া শিশুর শৈশব হারানোর কাহিনী,
জেনেছি এক অবুঝ বালককেও ছাড় না দেয়াই
 শিক্ষা ওদের প্রতিহিংসার রাজনীতির। 

যা কিছুই লিখি তোমাদের নিয়ে আজ, 
কম হয়ে যাবে হয়তোবা সবটুকুই, 
হে গাযযার ছোট্ট ফুলেরা, 
আজ বড়ো অক্ষম আমরা, 
ক্ষমা কোরো আমাদের তাই....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/279304/</link>
				<pubDate>Sun, 27 Sep 2026 12:55:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হে গাযযার ফুল, তোমাকে </p>
<p>.<br />
গাযযাকে নিয়ে একটি গল্প লিখতে চেয়েছিলাম,<br />
বহুক্ষণ ভেবেও পাইনি গল্প-শুরুর প্রেরণা&#8230; ;<br />
কী লিখব আমি গাযযাকে নিয়ে ?<br />
— সেখানে প্রতিনিয়তই যে রচিত হতে থাকে<br />
নতুন নতুন গল্পের সূচনা&#8230; </p>
<p>আমি গাযযাকে নিয়ে কিভাবে লিখব,যখন —<br />
হিন্দ রজবের জীবনের গল্প জেনে গিয়েছি ?<br />
যখন পড়েছি এক ছোট্ট সোণামণির জীবনাবসানের গল্পখানি,<br />
আর, এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-279304"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/279304/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2a9266c7024425e6c5013fead21d2884</guid>
				<title>গল্প : সিরিয়াল নং ৩

.
কামনার একটি ছেলে। মেয়েও একটি মাত্র। দুই সন্তানকে নিয়ে কামনার গর্বের শেষ নেই। স্কুলজীবনে দুইজনই ছিল তুখোড়। ছেলে মাহিব আর মেয়ে মেধার পুরো স্কুলজুড়ে ছিল খুব নামডাক। মাহিব পড়ায় ছিল অসাধারণ। প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় সে কখনও হয়নি। সে ধারা মাহিব বজায় রেখেছে পরবর্তীতেও। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছে। পাসের পর চাকরি পেতে গিয়ে অবশ্য দুই বছর নষ্ট হয়েছে। সে কথা আর বলে কী হবে ? অতীত, অতীত হয়ে গেছে। 
আর মেধার মেধা পড়াশোনায় ছিল না। সেটা ছিল খেলা-ধুলায়। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে ইউনিভার্সিটিতেও সে খেলায় ভালো করে গেছে। কী দড়িলাফ, কী বালিশ খেলা, কী লংজাম্প – সব কিছুতেই সে ছিল অন্যরকম। তাকে পেছনে ফেলতে পেরেছে খুব কম ছাত্রীই। 
সব মিলিয়ে বলাই যায় সন্তানদের দিয়ে তিনি সব রকম সুখই চেখে দেখতে পেরেছেন। 
এখন ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তিনি ঝাড়া হাত-পা। ছেলে বউ নিয়ে তাদের সাথেই থাকছে। মেয়ে আছে শ্বশুরবাড়ি। ভালোই চলে যাচ্ছে সব। টিপটপ সুখী পরিবার। 
তবে গল্পের ভেতরের গল্পগুলো যেমন গভীর হয় আরও, তেমনই এক গল্প আছে কামনাদের। সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন... 

আজকালের ছেলেরা যেমন হয়, নিজেরা পছন্দ করে বিয়ে করে, কামনার ছেলের বেলায়ও তা-ই হয়েছিল। সে কলেজজীবন থেকে এক মেয়েকে পছন্দ করত। ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত গড়ায় এ সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত সেই মেয়েকেই বিয়ে করে সে। কামনা আর তার স্বামীও বাধা দেননি এতে। যেমনটা দেননি মেয়ের পছন্দের বিয়েতেও। সন্তানদের স্বাধীনতায় বরাবরই তাঁরা বিশ্বাসী। কিন্তু কে জানত, ছেলের পছন্দ এমন হবে ? 
বউ হয়ে যে এসেছে, সে তাদেরকে প্রথম থেকেই যথাযথ সম্মান দেয়নি। চলে নিজের মর্জিতে। দিন-রাত মোবাইলে মুখ গুঁজে রাখে। সেখানে কী দেখে কে জানে, আজকাল সে লাগামছাড়া হয়ে গেছে একেবারে। এমনকি এখন আলাদা হয়ে যাওয়ার হুমকিও দিচ্ছে হররোজ ! জবাবে কিছু বলতে গেলেই উদাহরণ দেয় তার মেয়ে মেধার। অথচ মেধা আলাদা হতে চাচ্ছে তার জঘন্য শাশুড়িটার জন্য... 

____________


রিয়া শাশুড়ি কুচুটে বুড়ি হিসেবে দশে দশ পাবে, যদি কোনো প্রতিযোগিতায় নাম লেখায়। নিজে সারাদিন সিরিয়াল দেখে পার করে, অথচ বউয়ের মোবাইল দেখাটা তার সহ্য হয় না। সকালে বুয়া এসে কাজ করে দিয়ে যায়। নাস্তা বানিয়ে দুপুরের জন্য তরকারি কেটে দেয় সে। দুপুর হতে না হতেই রান্না রেডি চাই বুড়ির। অথচ রিয়া সকালে সাড়ে দশটার আগে ঘুম থেকে উঠতেই পারে না। নাস্তা করেই তাই তাকে লেগে পড়তে হয় কাজে। একেবারে রাতের রান্নাও করে ফেলতে হয় তখন। বুড়ি যদিও কাজে টুকটাক সাহায্য করে, তবুও মূল কাজটা তাকেই করতে হয়। এরপর বিকেলেই বুড়ি মহিলার কফি খেতে হয় রোজ। সেটা রিয়াকেই বানাতে হয়। রিয়া নিজেও খায় অবশ্য। তবে এসব হ্যাঁপা আর পোহাতে ইচ্ছে না রিয়ার। এ নিয়ে দুয়েকদিন কিছু বলেছে কি বলেনি, শাশুড়ির গায়ে আগুন লেগে গেছে যেন। আলাদা হওয়াটা যেন মস্ত অন্যায়। অথচ তার নিজের মেয়ে ঠিকই আলাদা হতে চাইছে ; সে বেলায় যেন কোনো সমস্যাই নেই ! 

____________


মেধা মায়ের একমাত্র মেয়ে। দারুণ আদরে বড়ো হয়েছে সে। কখনও কোনো কাজ নিজের হাতে করতে হয়নি তাকে। আম্মু নিজে করেছে কিংবা কাজের বুয়াকে দিয়েছে বাড়ির কাজ। অথচ তার এমন পোড়া কপাল যে, এখন শ্বশুরবাড়ির প্রায় সমস্ত কাজ তাকেই করতে হয়। শাশুড়ি নামক দজ্জাল মহিলাটা টুকটাক সাহায্য ছাড়া আর কিছুই করে না। বাবার বাড়িতে বিলাসিতায় বড়ো হয়েছে সে। অথচ বিয়ে হয়েছে এ মধ্যবিত্ত ঘরে। পছন্দ করেছিল যখন তুর্জয়কে, তখন এত কিছু দেখেনি। তুর্জয়ের স্মার্টনেস, তুখোড় রেজাল্ট – এসবের ঝনঝনানিতে অন্য কিছু চোখে পড়েনি সে সময়। যদি পড়ত, তাহলে কি আর এখানে রাজি হত সে কস্মিনকালেও ! 
সে একটু ঘর অগোছালো করে রাখলে প্যানপ্যানানি, মোবাইল চালালে ভাষণ, সামান্য অপরিপাটি হয়ে থাকলে ঘ্যানঘ্যান – এসব আর সহ্য হয় না তার। একটা ছেলে হয়ে গেছে বলে ওর মুখ চেয়ে আছে সে এখনও এখানে, নয়তো কবেই সংসারের গায়ে ঝাঁটা মেরে চলে যেত...। সেটা করতে না পেরে, শেষ-মেশ নানান দিক ভেবে যে-ই সে আলাদা হওয়ার কথা তুলেছে সে, সাথে সাথে হুলস্থুল পড়ে গেছে একেবারে। শাশুড়ি দিন-রাত কান্নাকাটি জুড়ে দিচ্ছে এরপর থেকে নিয়ম করে সকাল-সন্ধ্যা। সে কান্না দেখে মেধার দিকে চোখ গরম তাকাচ্ছে তুর্জয় প্রায়ই। 
এদিকে বাবার বাড়ি গিয়েও শান্তি নেই। ভাবি মেয়েটাও সুবিধার নয়। তার সাথে আগে ভালোই মিশত, কিন্তু আজকাল কেমন অদ্ভুত আচরণ করছে। বিশেষ করে তার আলাদা হতে চাওয়ার খবর শোনার পর থেকে সে-ও একই সুর তুলছে। অথচ এখানে কত শান্তিতেই আছে সে, মেধার তুলনায় ; বলা যায় রানীর হালতে আছে.... 

_____________________


কামনা আর তার মেয়ে মেধা ও পুত্রবধূ রিয়া – তিনজনই খুব ব্যস্ত থাকেন আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রায়শই &quot;সংসার সমাচার&quot; নামক গ্রুপে তারা পরিচয় লুকিয়ে নিজেদের প্রতি হওয়া অনাচার নিয়ে পোস্ট দেন। পড়ে মানুষজনও তাদের স্বান্তনা দেয়। আপাতত সেসব স্বান্তনা নিয়ে কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করছেন তারা। 

অন্যদিকে তাদের তিনজনই ভারতীয় সিরিয়াল আর বাংলা নাটক খুব ভালোবাসেন। সারাদিন তাদের বেশিরভাগ দেখা ভিডিওর তালিকার সিংহভাগ জুড়ে এসবের অবস্থান। কিন্তু তারা তিনজন যা জানেন না, তা হচ্ছে – সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া ৩নং সিরিয়াল &quot;প্রীতিলতা&quot; তাদের তিনজনেরই সবচেয়ে পছন্দের সিরিয়াল। প্রীতিলতার মূল উপজীব্য ননদ, দেবর, ভাবি আর মায়ের মাঝের নানান দ্বন্দ আর সেসবের ফলাফল.... 
তাদের মতো আরও হাজারো নারীর প্রিয় এ সিরিয়াল সফলভাবে ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার একশ&#039; দুই পর্ব পার করে ফেলেছে। আরও হাজারখানেক পর্বের আগে এ সিরিয়াল শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/278270/</link>
				<pubDate>Fri, 25 Sep 2026 01:44:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প : সিরিয়াল নং ৩</p>
<p>.<br />
কামনার একটি ছেলে। মেয়েও একটি মাত্র। দুই সন্তানকে নিয়ে কামনার গর্বের শেষ নেই। স্কুলজীবনে দুইজনই ছিল তুখোড়। ছেলে মাহিব আর মেয়ে মেধার পুরো স্কুলজুড়ে ছিল খুব নামডাক। মাহিব পড়ায় ছিল অসাধারণ। প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় সে কখনও হয়নি। সে ধারা মাহিব বজায় রেখেছে পরবর্তীতেও। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছে। পাসের পর চাকরি পেতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-278270"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/278270/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c50576414199c788f6094fb1ea61f4c5</guid>
				<title>তুলট কর্তৃপক্ষ তাদের মঞ্চে অংশগ্রহণকারীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে, এটি একই সাথে বিস্মিত ও আনন্দিত করেছে। ধন্যবাদ তুলট। 
আল-হামদু লিল্লাহ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/278269/</link>
				<pubDate>Fri, 25 Sep 2026 01:42:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তুলট কর্তৃপক্ষ তাদের মঞ্চে অংশগ্রহণকারীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে, এটি একই সাথে বিস্মিত ও আনন্দিত করেছে। ধন্যবাদ তুলট।<br />
আল-হামদু লিল্লাহ।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">04f70c29cbc56bfc6e54cba3a53115f3</guid>
				<title>পিংকি

.

&quot; হাউ সুইট ! অবশেষে পিংক বাসে উঠতে পারলাম ! &quot; উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ল স্বর্ণার কণ্ঠ থেকে। স্বর্ণার পরণে আজ গোলাপি টপ আর জিন্স; বাসে ওঠা উপলক্ষে। তার পাশে বড়ো বোন রূপা। তার পরণে অবশ্য গোলাপি রঙের পোশাক নেই। সে পরেছে বেগুনি রঙের থ্রিপিস। মাথায় কালো হিজাব বাঁধা। পায়ে বাদামী মোজা। 
সে বিরক্তি প্রকাশ করল। এমনিতেই সে আজকে আসতে চায়নি। মাথা ব্যথা করছিল খুব। শুধুমাত্র এ বাসে চড়ার জন্য সে রূপাকে জোর করে রাজি উঠিয়েছে। অবশ্য সে বড়ো চাচ্চুর বাসায় যাওয়ার নাম দিয়ে এ কাজ করেছে। তাই রূপা বিরক্তি এড়াতে পারছে না। তার ওপর স্বর্ণার এ ন্যাকামি। বিরক্তিভরে সে বলল, &quot; ওফ, তোর এ ইংরেজি রাখ তো ! &quot; 
সে বদমেজাজি হিসেবে পরিচিত তাদের বাসায়। স্বর্ণার অবশ্য ঠান্ডা মাথা। বোন রাগ ঝাড়লেও সে গায়ে মাখে না। এ স্বভাব পেল না বলে রূপার মনোকষ্ট কম নয়। কিন্তু সামলাতে পারে না সে প্রয়োজনের সময়। 
তবে স্বর্ণার ঠান্ডা স্বভাবের কারণে অন্য দিক দিয়ে কিছুটা বিরক্ত রূপা। সে বলে-কয়েও বোনকে শালীন পোশাক পরাতে পারে না খুব একটা। কোনো কিছুকে পাত্তা না দেয়া স্বর্ণা তার এ কথাতেও গা করে না তেমন। 

রূপার কথার বিপরীতে হেসে স্বর্ণা বলল, &quot; কেন, তুই কোনোদিন ইংরেজি বলিস না যেন ? &quot;
রূপা এর উত্তর দিল না, অহেতুক তর্ক করে লাভ নেই। 
স্বর্ণা বোনকে রাগাতে এবার বলল, &quot; বাসটা কী পুকি রে, আপু ! &quot;
তার উদ্দেশ্য সফল করে দিয়ে রূপা এবার আগের চেয়েও বেশি রেগে গেল, &quot; একদম এ শব্দটা ব্যবহার করবি না ! বিশ্রী একটা শব্দ ! &quot;
স্বর্ণা মিটিমিটি হেসে বলল, &quot; অবশ্যই বলব ! আরও বেশি করে ইংরেজি বলব। &quot;
রূপা রাগের পারদ বাড়াতে গিয়েও থেমে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, &quot; ঠিক আছে, ইংরেজি বলার এত ইচ্ছে যেহেতু তোর, বলতো – আমি সকালে ভাত খেতে গিয়েও খাইনি – এটার ইংরেজি কী ? &quot;
স্বর্ণা চুপ করে গেল। কয়েক মুহূর্ত পর বলে উঠল, &quot; মিথ্যা বলব কেন ? আমি তো সকালে ভাত খেয়েছি ! &quot;
রূপা হেসে ফেলল ; অথচ তার বোন প্রতি আলোচনায় কমপক্ষে পাঁচ-ছ&#039;টা মিথ্যা বলে ! 
_________

জ্যোতির স্বামী উদারমনা। তাদের দুই সন্তান। চারজনের সুখের সংসার ছিল। কিন্তু বিলাসী জীবনযাপন করতে গিয়ে ইদানিংকালে কিছুটা ঋণে পড়ে গেছেন তারা। এদিকে আবির-আরিবার বাবার বাবার প্রমোশনও আটকে গেছে অফিসে। তাই কিছু একটা কাজ খুঁজছিলেন জ্যোতি। এরই মধ্যে আশীর্বাদ হয়ে এলো গোলাপি বাসে ড্রাইভিং করবার লোভনীয় সুযোগ। 
কিন্তু আবিরের বাবাকে বলতেই সে এক কথায় ভেটো দিয়ে দিল এতে৷ তার মতে জ্যোতির জন্য বাসায় প্রাইভেট ব্যাচে টিউশনি কিংবা স্কুলে শিক্ষকতা করাটাই সর্বোত্তম হবে। জ্যোতি তখন তাকে নানা কায়দায় কথা বলে রাজি করিয়েছেন। তবে ব্যঙ্গ করাটাই কাজে লেগেছে সবশেষে। জ্যোতির ব্যঙ্গাত্বক কথা হজম করতে না পেতে মত দিয়েছে সে।
এর পর পরই শাশুড়িকে গ্রাম থেকে আনিয়েছেন জ্যোতি। উদ্দেশ্য ছেলে-মেয়েকে দেখে রাখা। এতসবের পর চাকরিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু শান্তি তিনি পুরোপুরি পাননি ; হুটহাট নাতির দুষ্টুমি আর নাতনির কান্নার অজুহাত দেখিয়ে জ্যোতিকে কল করে বিরক্ত করছেন শাশুড়ি মা। 

নানা কথা ভাবতে ভাবতে বাস চালাতে লাগলেন জ্যোতি। সামনে ইউটার্ন। সেটা পেরিয়ে কিছুদূর পর ফ্লাইওভার। বাঁক পেরোনোর আগে হঠাৎ কল দিলেন তার শাশুড়ি আবারও। বাসায় ছেলে-মেয়ে ভাত খাওয়ানোর সময় যেন কোনো রকম ঝামেলা না করে, তাই ট্যাবটা দিয়ে এসেছেন। শাশুড়ি কখনো সেটা দিয়ে কল করেন, কখনো বা তার নিজের বাটন মোবাইলে দিয়ে। এখন করেছেন ভিডিও কল ; নির্ঘাত আবির শিখিয়ে দিয়েছে তাকে। কখনো কখনো অবশ্য আবির-আরিবারও কল করে ; তবে সেটা কদাচিৎ, শাশুড়ির তুলনায়। জ্যোতি কল ধরলেন না। তবে তাতে থেমে যাওয়ার মানুষ নন শাশুড়ি ; ফের কল দিলেন তিনি। জ্যোতি বিরক্ত হয়ে কল রিসিভ করলেন। সাথে সাথে ভেসে এলো মেয়ের কান্নার সুর, &quot; মাম্মা, ব্যাতা পেয়েসি। পা কেতে গেসে, মাম্মা ! মাম-মা... – &quot;
জ্যোতি আঁতকে উঠলেন, &quot; কোথায় ব্যথা পেয়েছ, সোনা ? কিভাবে, আম্মু ? মলম দিয়েছো ? দেখি- মাম্মা, কাটা জায়গাটা দেখাও মাম্মাকে – &quot; 
হঠাৎ বিকট শব্দে পিলে চমকে লেন তার। সামনে যে ইউটার্ন ছিল, সেটা কখন যেন ভুলে গিয়েছেন তিনি। বাসটা সেখানে ধাক্কা খেয়ে থেমে গেছে। দেবে গেছে অনেকখানি !... 
আর আশেপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সম্মিলিত নারীকণ্ঠের চিৎকার। কেউবা জোরে জোরে পড়ছে, &quot; লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ &quot;, &quot; লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জোয়ালিমিন &quot;... 

__________

বিধ্বস্থ অবস্থায় বাস থেকে নামতে নামতে স্বর্ণা বলতে লাগল, &quot; এই বাসে আর উঠব না জীবনে ! কী সাংঘাতিক ! &quot;

টীকা : 
দু&#039;আ দু&#039;টির সঠিক রূপ :

আরবী: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

​উচ্চারণ: লা- হাওলা ওয়া লা- কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ্।

​অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

​দ্বিতীয় দু&#039;আ (দু&#039;আ ইউনুস):

​আরবী: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

​উচ্চারণ: লা- ইলা-হা ইল্লা- আংতা সুবহা-নাকা ইন্নি- কুংতু মিনায্- যো-লিমীন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276097/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Sep 2026 06:20:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পিংকি</p>
<p>.</p>
<p>&#8221; হাউ সুইট ! অবশেষে পিংক বাসে উঠতে পারলাম ! &#8221; উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ল স্বর্ণার কণ্ঠ থেকে। স্বর্ণার পরণে আজ গোলাপি টপ আর জিন্স; বাসে ওঠা উপলক্ষে। তার পাশে বড়ো বোন রূপা। তার পরণে অবশ্য গোলাপি রঙের পোশাক নেই। সে পরেছে বেগুনি রঙের থ্রিপিস। মাথায় কালো হিজাব বাঁধা। পায়ে বাদামী মোজা।<br />
সে বিরক্তি প্রকাশ করল। এমনিতেই সে আজকে আসতে চায়নি। মাথা ব্যথা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276097"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276097/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2ec890bdc7e44e9c596bf033c0905b8d</guid>
				<title>একটু রিল বানাই ? 

.
 

.
সামিরাকে আজ রাতে পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে বিয়ের কথা পাঁকা করার জন্য। পাত্রপক্ষের বেশ কয়েকজনই আসছে ; বিশেষত পাত্রের বড়ো বোন। তিনি আমেরিকা প্রবাসী, সেখানেই বাসা বেধে স্থায়ী হয়ে আছেন এখন। আরও আসছেন পাত্রের ফুফুরা আর খালারা। 
সামিরা হিসেব করে দেখেছে, ওপক্ষের দেয়া তালিকা মতে মোট পনেরো জন হয়। কিন্তু নিশ্চয়ই এর চেয়ে বেশি আসবে তারা... ; এটা সাধারণ বিষয়। যতজন আসবে বলা হয়, তার চেয়ে বেশি আসাটাও একটা আর্ট বটে। 
গত মাসে পাত্র তাকে দেখে গেছে। জনাব হাবিবের নাকি তাকে এক দেখায়ই ভালো লেগে গেছে। সামিরারও তাকে অপছন্দ হয়নি। তাছাড়া তিরিশ বছর বয়সী কোনো নারী বিয়ের বাজারে ভীষণ পিছিয়ে ; কখনো এক বাচ্চার বাপ আবার কখনো তালাকপ্রাপ্ত, এমন লোকের প্রস্তাবই সে পেয়েছে এতকাল। তাই লন্ডন প্রবাসী হাবিবের বাড়ির প্রস্তাব পেয়ে দেখাদেখির আগেই রাজি হয়ে গেছে সে মনে মনে। 

.
সানিয়া, তার ছোট বোন, এসে পিঁড়ি নিয়ে বসে মাছগুলো খানিকক্ষণ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে বলল, &quot; আপু, তিনটা মাছই পাঁচ​হাজার টাকা ?.... আরও কতকিছু কিনলি, বল ? কেমন আক্কেলহীন মানুষ এরা ; দলবেধে আসছে ! &quot; 
&quot; হুম, &quot; দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সামিরা। &quot; চৌদ্দ গোষ্ঠী এসে পড়বে বলে মনে হচ্ছে রে... &quot;
 &quot; থাক মন খারাপ করিস না। বিয়ের আগে এটাই শেষ খরচ, &quot; বোনকে সমবেদনা জানালো সানিয়া। 

এত মন খারাপের মাঝে তার চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট বোনের কাছ থেকে মমতামাখা কথা শুনবার পর সহসা চোখে পানি চলে এলো তার। চোখ মুছে নিয়ে সে বলল, &quot; আজ বাবা থাকলে এই খরচে কোনো কষ্টই হতো না রে।... কেন চলে গেল বাবা ? &quot;
আবারও ভিজে আসছে চোখ। 
সামিরা আবারও মুছে নিয়ে বলল, &quot; আর আজকের খরচই তো শেষ না। বিয়ের সময় কতটা খরচ হবে, ভাব একটু– &quot; 

__________ 

দু&#039;বোনে মিলে মাংস কাটাকুটি সেরে মসলা ব্লেন্ড করে নিল। চাইনিজ সবজির জন্য সবজি কেটে রাখল। মা-ও সাহায্য করলেন যথাসাধ্য ; তিনি পেঁয়াজ​ কুচি করা সহ আনুষাঙ্গিক ছোট ছোট কাজে হাত লাগালেন। দুই মেয়েকে সব দ্রুত গুছিয়ে ফেলার তাগাদা দিয়ে নিজে গোসল করতে চলে গেলেন। 
আজান দিয়েছে বেশ অনেকক্ষণ হবে ; মা খুব অসুস্থতা ছাড়া নামাজ ছাড়েন না। আর তারা দু&#039;বোন নামাজই পড়ে না। মায়ের এতকালের বকাঝকাতেও তাদের কোনো উন্নতি হয়নি এ ব্যাপারে। বাবাও তাদেরই মতো ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে মন চাইলে জুম্মার নামাজটুকু পড়তেন। মায়ের এ নিয়ে আফসোস আর কষ্টের শেষ নেই। সামিরাও বাবার বেনামাজি থাকাবস্থার মৃত্যু নিয়ে ভাবলে মাঝে মাঝে ভীত হয়ে যায়। কিন্তু তবু আলসেমির আধিপত্য মন জুড়ে ; নামাজ আর পড়া হয় না তার। সানিয়ার ব্যাপারও তারই মতো। 

সামিরা মাছগুলো কেটে নিতে যাবে, এমন সময় হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত বুদ্ধি মাথায় এলো। সাথে সাথে সানিয়ার সাথে সেটা শেয়ার করে ফেলল সে। 
সানিয়াও দ্বিধা না করে মাথা নেড়ে সায় জানালো, &quot; হ্যাঁ, আজকাল দেখছি তো, মানুষ উইয়ার্ড ক্যাপশন দিয়ে রিলস বা ছবি ছাড়ে রিচ বাড়ানোর জন্য। দিতে পারো। &quot; 
সামিরার একখানা ফেইসবুক পেইজ আছে। তা প্রায় আজ থেকে বছর চারেক আগে খোলা হয়েছিল। সেখানে সামিরা প্রায়ই তাদের বাসার সুন্দর অংশগুলোর ছবি তুলে এডিট করে পোস্ট করে। কখনো করে বারান্দার কি-বা বাড়ির লাগোয়া ছোট লনের বাগানের গাছগুলোর ছবি তুলে পেইজটায় ছাড়ে। কখনো বা আবার তাদের জমানো বইগুলোর ছবি ছাড়ে সেটাতে। 
বাবা থাকতে তাদের পয়সাকড়ির দুশ্চিন্তা ছিল না। আপু তখন কেবল আনন্দের জন্যই পেইজটা চালাত। তবে দু&#039;বছর আগে বাবা চলে যাওয়ার পর সমস্ত দুশ্চিন্তার ভার এসে পড়ল আপুর ঘাড়ে। সে ইপিজেডে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দিল। তবুও মাস শেষে কুলিয়ে উঠতে পারল না। 
বোনের এ অবস্থা দেখে বাসার কাছের একটা কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষক হিসেবে তাই এ বছর যোগ দিয়েছে সানিয়া। বেতন বেশি নয়। তাই সবমিলিয়ে আপুর সর্বদা কপাল কুঁচকে রাখার কারণ ধরতে অসুবিধা হয় না সানিয়ার। আপু তাই আজকাল তার পেইজটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবতে শুরু করেছে। মা অবশ্য কিছুই জানেন না এ বিষয়ে ; পুরনো যুগের মানুষ তিনি। তাছাড়া পরহেজগারও বটে ; জানলে নির্ঘাত তাদেরকে এসব কাজে বাধা দিতেন।

----
সামিরা সাথে সাথে আঠারো সেকেন্ডের একখানা ভিডিও বানালো। এবং পোস্ট করে দিল ফেইসবুকে ভিডিওর ওপরে লিখে – বোনেরা, দেবরকে দিয়ে মাছ আনিয়েছিলাম। সে আট হাজার টাকা দিয়ে এ তিনটে মাছ এনেছে কেবল। এখন আপনারাই বলুন, কী করতে পারি। ভিডিওতে তাকে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল। মাঝে দুয়েকবার প্রবল হতাশার সাথে মাথা নাড়তে দেখা গেল। 
সামিরা খুশি মনে অনেক আশা নিয়ে মাছগুলো কেটে এরপর গোসলে গেল। সারাদিন আর মোবাইল দেখার ফুরসত পেল না সামিরা। সানিয়া তাকে সাহায্য করেছে, তবে ফাঁকে ফাঁকে সে মোবাইলও চালিয়ে নিয়েছে বেশ কয়েকবার। সামিরার নির্দেশে তার পেইজেও লক্ষ্য রেখেছে। 

সন্ধ্যা হতেই ঘটক আন্টি চলে এসেছে ; আপুকে দ্রুত সেজেগুজে নেয়ার তাগাদা দিতে। আপু তাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সানিয়া আবার আপুর মোবাইল নিল নিজেরটা রেখে। আর সাথে সাথে বিস্ময়ের ধাক্কা খেল ; ভিডিওতে এর মধ্যে হঠাৎ করে ষোলো হাজার ভিউস হয়ে গেছে, রিয়েক্ট পড়েছে তিন হাজার। কমেন্ট পাঁচশ&#039; একত্রিশটা ! 
সানিয়া কাঁপতে কাঁপতে কমেন্ট পড়তে শুরু করল — 
একজন মহিলা লিখেছে, মনে হয় বাকি টাকা মেরে দিয়েছে। তাকে সহমত জানিয়েছে বেশ কয়েকজন। 
আরেকজন লিখেছে, যদি আপনার ভাই হতো এর জায়গায়, তবে তাকে কী করতেন ? কমেন্টকারী একজন পুরুষ। তাকে ইচ্ছেমত রোস্ট করেছে অনেকজন। আবার সহমতও জানিয়েছে বটে। . 
সানিয়া সকলকে, ঠিক আছে, আপু ; ঠিক বলেছেন ভাইয়া ; রাইট – ইত্যাদি লিখে গণহারে উত্তর করতে লাগল। শেষে ক্লান্ত হয়ে মোবাইলটা রেখে দিল।

_____________

.
আপুকে পাত্রপক্ষের প্রায় সবাই পছন্দ করে গিয়েছে। বলেন বিয়ের তারিখ ফেলেছে আগামী মাসের শেষ শুক্রবার। 
তারা যেতেই মা তাকে ধরলেন, &quot; মা রে, আমার কেন যেন ভয় করছে। এত বড়োলোক বাড়ির লোক আমাদের এত পছন্দ কিসের ভিত্তিতে করছে ? কোনো ঘাপলা নেই তো ? &quot; 
&quot; ধুর মা, কীসব ভাবছ ! আমরা কি একেবারে স্ট্যাটাসহীন ? এই বাড়িটা আছে না আমাদের ? &quot; 
মাকে বোঝালেও সামিরা মনে মনে তপ্ত নিশ্বাস গোপন করল। তাকে প্রথম দেখতে আসার দিনে নিরিবিলি করা বলার সময়টাতে সামিরার সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে পাত্র স্বীকার করেছিল যে, সে নাইট ক্লাবে যেত। তবে হাবিব সাহেবের ধানাই-পানাই করতে করতে দেয়া উত্তরে সামিরার মনে সন্দেহ জেগেছে যে, তিনি হয়তো এখনও ক্লাবে যাওয়াটা জারি রেখেছেন। তবু এ নিয়ে আর কথা বাড়ায়নি সামিরা ; এর চেয়ে ভালো সম্বন্ধ আর এ বয়সে কোথায় পাবে সে ?

____________ 

সামিরা সানিয়ার কথা শুনে মোবাইল হাত নিয়ে পেইজে ঢুকেই হতবাক হয়ে গেল। তার পেইজের ফলোয়ার সংখ্যা পঞ্চাশ থেকে এক লাফে তিন হাজার হয়ে গেছে। আর পোস্টে রিয়েক্ট সংখ্যা এখন ছাব্বিশ হাজার। সামিরা তৃপ্তির হাসি হেসে কমেন্ট পড়তে গিয়ে নিচের দিকের একটা কমেন্টে আটকে গেল। 
কমেন্টকারী লিখেছে, মানুষ কী আশ্চর্য বোকা ! এরা যে মিথ্যা পোস্ট দিয়েছে, সেটা এদের রিপ্লাই দেখেও বুঝতে পারছে না। 
সামিরা সাথে সাথে মাথা গরম করে ফেলল। সানিয়াকে দু&#039;কথা শুনিয়ে দিল তৎক্ষণাৎ এমন বোকামির জন্য। রিপ্লাইগুলোও কেটে দিল যতটা সম্ভব। 

________ 

পরদিন বিকালে ভয়াবহ আঘাতটা পেল সামিরা। তার ফেইসবুক পোস্ট পাত্রপক্ষের সামনেও গেছে। সামিরা ফেইসবুক আইডিই নেই বলে তথ্য দিয়েছিল ঘটক মহিলা। এর মধ্যেই তার এ ভেলকিবাজি দেখে আর এ সম্বন্ধ এগিয়ে নিয়ে যাবার মধ্যে কোনো রকম স্বার্থকতা খুঁজে পায়নি তারা। উপরন্তু, পাত্রীর এমন হিংসাত্মক আচরণ দেখে তারা শঙ্কিতও বোধ করেছে। সামিরা ভাঙা মন নিয়ে মোবাইলটা আছড়ে ফেলে দিল। সানিয়ারও খুব কষ্ট হলো বোনের জন্য। 

___________

কালকে বিয়ে ঠিক করে এলো আম্মু-আব্বু, ভাইয়ার জন্য, আর এর মধ্যে আপনি দেবর কোথার পেলেন আপু !? 
– সামিরাপুর হতে পারত ছোট ননদের কমেন্ট ছিল ওটা। 
সানিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল ; এই কমেন্টই তাহলে এসবের মূলে।... 
তার আপু ভাইরাল হতে চেয়েছিল। কিন্তু এভাবে ভাইরাল হবে, কে জানত ? 
আপুর পেইজের ফলোয়ার কমে এক হাজারে নেমে এসেছে। তার পোস্টে মানুষের কমেন্ট বেড়েছে, তবে সেগুলো সব গালাগালিতে ভরপুর। আপুর একটামাত্র ভিডিও ভাইরাল হলো শুধু, প্রথম আর শেষ বারের জন্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266824/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Aug 2026 18:58:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটু রিল বানাই ? </p>
<p>.</p>
<p>.<br />
সামিরাকে আজ রাতে পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে বিয়ের কথা পাঁকা করার জন্য। পাত্রপক্ষের বেশ কয়েকজনই আসছে ; বিশেষত পাত্রের বড়ো বোন। তিনি আমেরিকা প্রবাসী, সেখানেই বাসা বেধে স্থায়ী হয়ে আছেন এখন। আরও আসছেন পাত্রের ফুফুরা আর খালারা।<br />
সামিরা হিসেব করে দেখেছে, ওপক্ষের দেয়া তালিকা মতে মোট পনেরো জন হয়। কিন্তু নিশ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266824"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266824/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bc4c9c290e9b9de053abf1f251b4f4ad</guid>
				<title>তুলট আমাদের দেশী মঞ্চ। নিঃসন্দেহে তাই ফেইসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম থেকে এটি এগিয়ে থাকে।
তাই তুলট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানালে আশা করছি তারা আমলে নেবেন, ইন শাআল্লাহ। 
গত পোস্টে &quot;আল্লাহ&quot; কিংবা &quot;ইন শাআল্লাহ&quot; শব্দগুলি কেন কমেন্টে লেখা যায় না, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেখানে জানা যায়, তুলটে এর আগে অযাচিত ঘটনা ঘটায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 
তবে, সেটা কি সঠিক সমাধান ছিল ? 
মুসলিম হয়েও যদি আমি আমার প্রভুর নাম না লিখতে পারি, এটা কি আমার জন্য অপমানজনক নয় ? আমার অধিকার আমার মালিকের নাম লিখতে পারাটা। তাই এ বিষয়টা মেনে নেয়া কষ্টকর।
তুলটের প্রতি তাই আহ্বান এ বিষয়ে ভেবে দেখবার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266113/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Aug 2026 00:00:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তুলট আমাদের দেশী মঞ্চ। নিঃসন্দেহে তাই ফেইসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম থেকে এটি এগিয়ে থাকে।<br />
তাই তুলট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানালে আশা করছি তারা আমলে নেবেন, ইন শাআল্লাহ।<br />
গত পোস্টে &#8220;আল্লাহ&#8221; কিংবা &#8220;ইন শাআল্লাহ&#8221; শব্দগুলি কেন কমেন্টে লেখা যায় না, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেখানে জানা যায়, তুলটে এর আগে অযাচিত ঘটনা ঘটায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266113"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266113/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d471f06c1c8ed69ce26d05caa9e06856</guid>
				<title>বুঝতে পারছি না, তুলটে কেন কমেন্ট বক্সে &quot;আল্লাহ &quot;, &quot; ইন শাআল্লাহ &quot; – শব্দগুলো লেখা যাচ্ছে না ! 
অথচ অন্য ধর্মের দেব-দেবীর নাম কি লেখা যায় না ? 
এমন হলে তো তুলট থেকে বেরিয়ে যেতে হবে বলে মনে হচ্ছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265076/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 01:16:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বুঝতে পারছি না, তুলটে কেন কমেন্ট বক্সে &#8220;আল্লাহ &#8220;, &#8221; ইন শাআল্লাহ &#8221; – শব্দগুলো লেখা যাচ্ছে না !<br />
অথচ অন্য ধর্মের দেব-দেবীর নাম কি লেখা যায় না ?<br />
এমন হলে তো তুলট থেকে বেরিয়ে যেতে হবে বলে মনে হচ্ছে। </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5a8330bf9b9aac0d8315ed424c624ae0</guid>
				<title>আবিদাতুর রাহমান changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264916/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Aug 2026 13:58:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">14704100b798502fdb571ad0d1119e9e</guid>
				<title>যেদিন ভিজেছিল চোখজোড়া 

.
&quot; ছি-ছি ! কী নির্লজ্জ। তুমি যা-ই বল আপু, আমি আর বসে থাকতে পারছি না এভাবে , &quot; বলে উঠে দাঁড়াল মৌমিতা। 
মনিরা দ্রুত তাকে টান দিয়ে বসিয়ে দিল ফের। কিন্তু মৌমিতা নাছোড়, সে আবারও দাঁড়িয়ে পড়ল। মনিরা মরিয়া হয়ে জিজ্ঞেস করল, &quot; আরে, কই যাস তুই ! বস এখানে ! &quot;
&quot; না আপু ; এমন কোরো না-তো ! যেতে দাও আমাকে ! &quot;
&quot; মৌমি, কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলা ইসলামে নিষিদ্ধ কিন্তু – &quot;
কিন্তু সে বাক্যটি শেষ করার আগেই মৌমিতা চলে গেছে ততক্ষণে। মনিরা হতাশ হয়ে মাথা নাড়ল বার কয়েক। উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা দিল মৌমিতার গমনপথে। 
গিয়ে দেখতে পেল মৌমিতা তখন তার &quot;উপদেশ&quot;বাণী বর্ষণ করা শুরু করেছে তার শ্রোতাকে উদ্দেশ্য করে , &quot;.... হ্যাঁ-হ্যাঁ, বোরকা নিয়েই তো আপনাদের যত সমস্যা। নিজে কী পরেছেন, চেয়ে দেখেন আগে ! ছেঁড়া ন্যাকড়া, ফুটপাথ থেকে কিনেছেন ; বুঝি না নাকি আমরা ? তার ওপর এক মাস ধরে হয়তো গায়ে পানিই লাগান নাই। গায়ে পারফিউম দিয়েছেন সে গন্ধ ঢাকার জন্য। কিন্তু গায়ে এত গন্ধ যে, পারফিউমের গন্ধ মিলিয়ে গোবরের চেয়েও নিকৃষ্ট দুর্গন্ধ আসছে ; ছি ! &quot;
শ্রোতা ভদ্রমহিলাও অবশ্য কম যান না ; এত কথার পরও তিনি খুব বেশি দমে যাননি। বললেন, &quot; আপনি কী ? হ্যাঁ- আপনি কী ? আমি তো তা-ও পারফিউম মেখেছি, আপনি সেটাও মাখেননি ! আপনার গায়ের ঘামের গন্ধেতো টেকাই যাচ্ছে না ! কয় মাস ধরে বোরকা পরিষ্কার করেননি, কে জানে ! &quot;
&quot; এই মহিলা, এই ! আমি বোরকা প্রতিদিন ধুই, জানেন। আর ঘামের গ– &quot;
তাকে মাঝপথে থামিয়ে টান দিয়ে সরিয়ে নিয়ে এল মনিরা। মৌমিতা তখন রাগে ফোঁস-ফোঁস করছে। মনিরা নরম কণ্ঠে বলল, &quot; খামোখা কতগুলো কথা শুনলি, বল তো ? &quot;
&quot; তুমি জান, কী খারাপ এই মহিলা ? আমাকে নিয়ে এলে কেন ? &quot;
&quot; সে কি আগ বাড়িয়ে তোকে কিছু বলেছে ? &quot;
&quot; আমাকে বলে নাই কিন্তু, আমাদের ইসলামকে নিয়ে কতগুলো কথা বলল ! &quot;
মনিরা আপ্লুত হল বোনের কথায়। অথচ একটা সময় মৌমিতা এমন ছিল না। না, পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে সে সবসময়ই সচেতন ছিল। বরং তার এ কাটা কাটা কথা বলার স্বভাব দিয়ে সে মানুষকে এর আগেও বিব্রত করেছে, বিশেষত পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে। তার পছন্দের সাথে না মিললেই মানুষকে কথার বাণে কুপোকাত করা তার অন্যতম একটা কাজ। 
আর সে স্বভাব কাজে লাগিয়ে দ্বীন মেনে চলা মানুষজনকে সে কষ্ট দিয়েছে সবচেয়ে বেশি। এমনকি নানু-দাদুকেও সে ছাড় দেয়নি। সবশেষ, মনিরা যখন এ পথে হাঁটতে  শুরু করল, তখন তাকে কষ্ট দিয়ে কথা বলাটা হয়ে উঠেছিল তার নিত্যদিনই পছন্দের কাজ। 
কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পালটে যেতে শুরু করল, যখন সে নিরীহ এক ১৪ বছর বয়সী মাদরাসার ছাত্রকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার কথা জানতে পারল। 
মৌমিতার প্রকৃতিই এমন যে, সে যা বিশ্বাস করবে, মন-প্রাণ দিয়ে করবে। এ ঘটনার পর থেকে ধীরে ধীরে তার মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। জিন্স প্যান্ট, ফতুয়া বাদ দিয়ে সে প্রথমে ঢিলেঢালা থ্রিপিসে এল। হাতার ঝুল থ্রি কোয়ার্টার থেকে লং হল, সাথে যুক্ত হল হিজাব। তারপর বোরকা। এখন চলছে কিছুটা স্টাইলিশ নিকাব। মনিরা আশা করছে শীঘ্রই সে পূর্ণ পর্দায় আসবে, ইন শাআল্লাহ। কিন্তু এত এত কিছুর পরও সে মুখের ওপর কথা বলে দেয়াটা ছাড়তে পারেনি পুরোপুরি।মনিরা অনেক বুঝিয়েছে তাকে ; সে নিজেও বুঝেছে কিছুটা, অহেতুক মানুষকে কষ্ট দিয়ে কথা বলা অনেকটা কমিয়েছেও। কিন্তু এখন আবার ইসলাম সম্পর্কে কিছু বললে সে চুপ থাকতে পারে না, সেটা কেউ অজ্ঞতাবশত করলেও।

মনিরা তাকে বলল এবার, &quot; ইসলামকে নিয়ে বলেছে যখন, তখন তুই সে বিষয়েই বলতি তাকে বুঝিয়ে ? &quot;
&quot; বুঝিয়ে বলতাম ! সে কী কী বলেছে জান, সেগুলো কি সহ্য করার মতো ? &quot;
&quot; না, তা না। কিন্তু তবুও তাকে ব্যাক্তিগতভাবে এভাবে বলতে পারিস না তুই। &quot;
&quot; সে এভাবেই শোনার যোগ্য। &quot;
&quot; একদমই না। মৌমিতা, তুই না কাউকে কষ্ট দিয়ে কথা বলবি না, বলেছিস –&quot;
&quot; কিন্তু সে তো ইসলামের শত্রু, আপু ! &#039;&#039;
&quot; যা-ই হোক সে, তবুও তুই বলতে পারিস না। সে যদি হাশরের দিনে তোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় ? &quot;

মৌমিতা চোখে-মুখে সহসা ভয়ের ছাপ দেখা গেল। মুখে কিছু বলল না সে। মনিরা এ সুযোগে তাকে আরও নরম ভাষায় খানিকক্ষণ বোঝাল।
আর মিনিট দশেক পর তাকে খুশি করে দিয়ে মৌমিতা রাজি হয়ে গেল সে নারীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে। 

__________________

জেরিনের বিস্ময়ের রেশ এখনও কাটেনি। সে ভাবতে পারেনি যে, তার মুখে এতগুলো কথা শুনেও একটি মেয়ে উল্টো এসে ক্ষমা চাইবে। হ্যাঁ, মেয়েটিই এসে যেচে পড়ে তার সাথে তর্ক করেছে অবশ্যই, কিন্তু তার কথাগুলোর বিপরীতে সে-ও শুরু থেকে অপমানজনক অনেক কিছু শুনিয়ে দিয়েছে তাকে। এমন তর্ক অনেকের সাথেই তার হয়েছে ; সাধারণ পোশাক পরা মানুষ থেকে শুরু করে দুয়েকজন বোরকা পরা মানুষের সাথেও। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ এসে ক্ষমা চায়নি তার কাছে। সেসব মানুষের কারও কারও সাথে জেরিন নিজেও আগ বাড়িয়ে তর্কে জড়িয়েছিল। কিন্তু না কেউ তার কাছে ক্ষমা চেয়েছে এ পর্যন্ত, না চেয়েছে সে কারও কাছে।

তাই আজকের এ ঘটনায় সে ভীষণ রকম অবাক যে হবে, এতে বিস্ময়ের কিছু ছিল না। 
কতই বা হবে মেয়েটির বয়স ? তার মৃত বোনটা বেঁচে থাকলে হয়তো এই মেয়েটির মতোই হতো। অরিন, তার মিষ্টি বোনটা ! 
মাম্মা-বাবাইয়ের শেষ বারের মতো হওয়া ঝগড়ার মাঝে থামাতে গিয়ে ওর পড়ে যাওয়া, মাম্মার ওকে খেয়াল না করেই বাবাইয়ের উদ্দেশ্যে ছুরি ছুড়ে মারা, সেটা গিয়ে ওর গলায় বিঁধে যাওয়া আর তারপর ওর করুণতম মৃত্যু.... 
বাবাই আর মাম্মার জেল... ,তার ভেঙে পড়া পরিবারের এক সদস্য বনে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের তীব্র অবজ্ঞা, সবশেষে তার মাদকাসক্ত হয়ে যাওয়া — সব একে একে মনে পড়তে লাগল জেরিনের। তার জীবনে শেষ ক&#039;টা বছর যে একজন সহমর্মির বড়ো অভাব ছিল... , ভীষণ অভাব.... 
বহুদিন বাদে তাই একজনের নম্র কণ্ঠের ক্ষমাপ্রার্থনা চোখ ভিজিয়ে দিল তার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264868/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Aug 2026 08:17:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যেদিন ভিজেছিল চোখজোড়া </p>
<p>.<br />
&#8221; ছি-ছি ! কী নির্লজ্জ। তুমি যা-ই বল আপু, আমি আর বসে থাকতে পারছি না এভাবে , &#8221; বলে উঠে দাঁড়াল মৌমিতা।<br />
মনিরা দ্রুত তাকে টান দিয়ে বসিয়ে দিল ফের। কিন্তু মৌমিতা নাছোড়, সে আবারও দাঁড়িয়ে পড়ল। মনিরা মরিয়া হয়ে জিজ্ঞেস করল, &#8221; আরে, কই যাস তুই ! বস এখানে ! &#8221;<br />
&#8221; না আপু ; এমন কোরো না-তো ! যেতে দাও আমাকে ! &#8221;<br />
&#8221; মৌমি, কাউকে আঘ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264868"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264868/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7126f314615c9136d697e8c12d0c145a</guid>
				<title>পথযাত্রা 

.
(১).

&quot; বাবা, আমাকে যেতে দাও। প্লিজ বাবা, আজ গেলে আর যাব না। আমি কথা দিয়েছি, বাবা। মেয়েটা বসে থাকবে, &quot; দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে করুণ স্বরে বলতে লাগল রাফিয়া। কিন্তু ওপাশ থেকে কিছুমাত্র সাড়া পাওয়া গেল না।

রাফিয়া এবার রাফানকে ডাকতে শুরু করল, &quot; রাফান, তুই একটু খুলে দে-না ভাই। খুব জরুরী ওখানে যাওয়া। &quot;
এবারও সাড়া পেল না সে। মরিয়া হয়ে জোরে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করল রাফিয়া আর ডাকতে লাগল রাফানকে। 
বেশ কিছুক্ষণ পর রাফানের কণ্ঠ শোনা গেল, &quot; আপু ধাক্কাচ্ছিস ? দরজা বাইরে থেকে আটকানো কেন ! &quot;
রাফিয়া ম্রিয়মান স্বরে বলল, &quot; সেটা পরে বলব। তুই একটু দরজাটা খুলে দে আগে। &quot;
রাফান খুলে দিল দরজা। রাফান কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলে উঠল, &quot; পরে বলি সব ? এখন দেরি হয়ে যাচ্ছে – &quot;
&quot; আচ্ছা, যা, &quot; সরে গিয়ে তাকে পথ করে দিল রাফান।

রাফিয়া তাড়াহুড়ো করে বোরকা-নিকাবে নিজেকে পুরোপুরি আবৃত করে নিল। মোবাইলটা দরকার ছিল, কিন্তু বাবা সেটা আটকে রেখেছে। উপায় না পেয়ে মোবাইল ছাড়াই বের হল সে, গোপন জায়গা থেকে টাকাগুলো বের করে নিয়ে। সন্তর্পণে যখন বের হচ্ছিল সে, হঠাৎই চোখে অশ্রু জমতে শুরু করেছিল। সিড়ি দিয়ে নামতে কষ্ট হচ্ছিল দৃশ্যমান পথ ঝাপসা হয়ে যাওয়ায়।

_________________

রাফিয়া একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মা-বাবা, এক ভাইকে নিয়ে তার জীবন। ক্ষুদ্র এ জীবনটারও যে এক অন্যরকম মূল্য আছে, সেটা রাফিয়া বুঝেছিল মাসছয়েক আগে এক দ্বীনী হালাকায় গিয়ে। 
রাফিয়া স্টাইলিশ হিজাব পরলেও সলাত সে পড়ত না। কোনো দিন পড়েছে কিনা মনে করতে পারত না। সেই তাকে একদিন পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া আন্টি নিয়ে গিয়েছিল সে হালাকায়। আন্টির বাসার ওপর তলায় সেটার আয়োজন করা হয়েছিল। রাফিয়া এসবের সাথে মোটেও পরিচিত ছিল না ; অবশ্য তার আগ্রহও ছিল না। বলা যায়, কোনো কিছুই তাকে আগ্রহী করে তুলতে পারেনি তেমন করে। পড়াশোনায় সে মোটামুটি নিম্ন মানের, যেখানে তার এক বছরের ছোট রাফান রীতিমতো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। খাওয়া-দাওয়ার প্রতিও সে অত বাছ-বিচার করে না। গয়নাগাটির তার নেই কোনো রকম লোভ ; এক্ষেত্রে সে কেবল পরিপাটি হয়ে থাকাতেই স্বচ্ছন্দ। 
জীবন সম্পর্কে অনাগ্রহী সে রাফিয়া ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে উঠল এর পর থেকে। ধীরে ধীরে দ্বীনের সম্পর্কে সিরিয়াস হয়ে ওঠা অন্যদের মতো রাফিয়া পূর্ণ পর্দার পথে হাঁটতে শুরু করল। স্বাভাবিকভাবে বাধাও পেল তখন। বাবা তাকে বুঝিয়ে, শাসন করেও দমাতে পারলেন না। মা তার অন্য সব বিষয়ের মতো এ বিষয়েও অনেকটা নির্লিপ্ত রইলেন। রাফান আদর্শ ছোট ভাইয়ের মতো বাবার বকাঝকার সময় তার পাশে দাঁড়াল ; কিন্তু তাকে সাহায্য করল না অন্য কোনোভাবে।

এসবের পরও রাফিয়া হালাকায় যাচ্ছিল। একদিন বাবা যখন সেটা আবিষ্কার করলেন, তখন তিনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে, রাফিয়ার অধঃপতনের পেছনে এটাই দায়ী। তখন থেকে তাকে যথাসাধ্য শাসন করতে শুরু করলেন। এতেও যখন সে দমল না, তখন আজ নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে তাকে আটকে রাখলেন। 
কিন্তু রাফিয়া গতকাল মেয়েটাকে কথা দিয়েছিল যে, সে আজ তার জমানো টাকাগুলো নিয়ে যাবে। মেয়েটা ১৫ বছর বয়সী। বাবা রিকশা চালক। ঘরে আরও চার ভাই-বোন আছে তার। তার মা কিছুদিন আগে বাথরুমে পিছলে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলেছেন। তড়িঘড়ি করে অপারেশন করতে হয়েছে তাঁর। সেজন্য বেশ কিছু টাকা ধার করতে হয়েছে মেয়েটির বাবাকে। এছাড়াও অপারেশন পরবর্তী খরচপত্র আছে কিছু। সে টাকা যোগাড় করতে না পেরে তার বাবা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছেন। মেয়েটি তাই বাধ্য হয়ে উস্তাযার কাছে এ বিষয়ে হালাকার সকলকে জানিয়েছেন। সেটা শুনে রাফিয়া মেয়েটির বাসায় গিয়েছিল নিজ থেকেই মেয়েটির মাকে দেখতে। জীর্ণশীর্ণ ঘরে ভাড়া থাকে ওরা। তিন রুমের বাসা। রংচটা বাসাটায় গেলে এমনিতেই মন খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। তার ওপর অসুস্থ একজন মানুষকে সে দেখেছে, রাফিয়ার মন এত বেশি বিষন্ন হয়ে গিয়েছিল যে, সে বাসায় এসে আর কথাই বলেনি কারও সাথে। 

আজ শুক্রবার বলে বাবা বাসায়। যখন তিনি মায়ের কাছ থেকে শুনলেন যে, রাফিয়া আজ হালাকায় যাবে, সাথে সাথে ভীষণভাবে রেগে গিয়ে তাকে অন্ধকার স্টোররুমটায় আটকে রাখলেন। কিন্তু আজ যে তার ভীষণ প্রয়োজন ছিল যাওয়ার... 
কিন্তু এতসবের পর এখন মনে হচ্ছে যে, আর না যাওয়াই উচিৎ হবে। কারণ বাবা-মাকে অসন্তুষ্ট করাও অন্যায়। 

(২).

&quot;তুমি এসো না আর। &quot;
মায়ের কঠোর কথায় থমকে গেল রাফিয়া। সে হতভম্ব চোখে তাকাল মায়ের দিকে। মা আবার বললেন, &quot; যেহেতু বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে তোমার বাবার অনুমতির প্রয়োজন পড়েনি, সেহেতু বাসায়ও আসার দরকার নেই। নিজ ইচ্ছায় বাইরে গেছ, বাইরেই থাক। &quot;
রাফিয়ার একটি বাজে স্বভাব হচ্ছে, অল্পতেই তার চোখে পানি চলে আসে। সে টলটলে অশ্রু নিয়ে বলল, &quot; আর যাব না মা। আমার ভুল হয়ে গেছে।... &quot;
&quot; ভুল ? আচ্ছা, ভুলকে কিভাবে ঠিক করা যায়, ভাব, &quot; বলে দরজা লাগিয়ে দিলেন মা।

রাফিয়া এবার নিজেকে আর আটকে রাখতে পারল না, ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল সে। দাঁড়িয়ে রইল অসহায়ের মতো। রাফান এলো এক সময় কোচিং করে ; তার অনুরোধেও মা ঢুকতে দিলেন না। 
হঠাৎ সে বাবাকে দেখতে পেল ; তিনি আসছেন বাসার দিকে। তাকে দেখতেই দাঁড়িয়ে পড়লেন। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থেকেই বললেন, &quot; আচ্ছা, তাহলে বাইরে গেছই ? তো কখন এলে ? &quot;
রাফিয়া ভয়ে ভয়ে বলল, &quot; আধা ঘণ্টা হতে পারে। &quot;
&quot; বাইরে কেন ? &quot; বলেই বাবা নিজেকে যেন শোনালেন, &quot; হুম, তোমার জন্য বাইরে থাকাই ভালো। থাক তাহলে – &quot;
রাফিয়া ক্ষমা চাইতে গেল , &quot; আর যাব না বাবা তোমাকে না বলে। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে – &quot;
&quot; ভুল করেছ ? বাবার কথা অমান্য করে যাওয়া কি তোমার ইসলাম তোমাকে শেখায় ? &quot;
রাফিয়া কিছু বলল না, যদিও তার বলতে ইচ্ছে হল, &quot; আমি কিছু করলে, সেটা আমার দোষ। এখানে ইসলামকে কেন টান বাবা ? &quot;

বাবা ভেতরে চলে গেলেন তাকে রেখেই। দরজা আটকে দিলেন ভেতর থেকে। তিনি ঢুকতেই রাফিয়া শুনতে পেল মায়ের কণ্ঠস্বর , &quot; তোমার মেয়ে কি বাইরে ? &quot;
বাবার গম্ভীর স্বর কানে এলো তারপর, &quot; হুম। &quot;
মায়ের কথা আবার শুনতে পেল সে, &quot; দু&#039;দিন পর পর নতুন নতুন কান্ড দেখতে হয় তার। ভালোই। &quot;
মায়ের এ তীব্র শ্লেষে আবারও কেঁদে ফেলল রাফিয়া। যখনই সে কিছু একটা ভুলচুক করে ফেলে, তখন মা বাবার কাছে তাকে &quot;তোমার মেয়ে&quot; বলে সম্বোধন করেন। যদিও তিনি কখনোই রাফানকে &quot;তোমার ছেলে&quot; বলেননি বাবার কাছে। এ নিয়ে কতবার যে কষ্ট পেয়েছে রাফিয়া... 

তার মগ্নতা ভাঙলো বাবার কথায়, &quot; আমার মেয়ে যখন করেছে, তখন আমাকেই সামলাতে দাও। তুমি এর মধ্যে এসো না। &quot; 
কিছুক্ষণ থেমে বাবা আবার বললেন, &quot; আর ওকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছ তুমি নিশ্চয়ই। কেন ? &quot;
&quot; বাহ্ , ভালোই সম্মান দিচ্ছ ! মেয়েকে পালার জন্য এনেছ ; মেয়ে বড়ো হতেই এখন পর হয়ে গেলাম ! &quot; মায়ের এ কথায় প্রচন্ড অবাক হলো রাফিয়া।
তবে সাথে সাথেই শুনতে পেল বাবার কথা, &quot; তুমি কি আদৌ দেখেছ আমার মেয়েকে ? ওকে তো কাজের মেয়ে সাজেদাই বড়ো করল। তুমি ব্যস্ত রইলে কেবল তোমার ছেলেকে নিয়ে। আসলে এ বিয়েতে আমার কোনো লাভই দেখি না আমি। আর... জেনে রেখ, তুমি যে সম্পত্তির লোভে আমাকে বিয়ে করেছ, আমি সেটা ভুলে যাইনি। &quot;
বলে বিদ্রুপের অট্টহাসি হেসে উঠলেন বাবা, &quot; যে নারী সম্পদের লোভে তার সন্তানকে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে অন্য পুরুষকে ভোলায়, তাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, ভাবলেও হাসি আসে ! &quot;

রাফিয়া থরথর করে কাঁপতে লাগল এত ভয়ঙ্কর সত্য আজ একসাথে উন্মোচিত হওয়ায়। তারিন খান তার মা না হলে তার মা কে ? কোথায় তার মা ? 

(৩).

তারিন খান, যিনি তার সৎ মা, তিনি সেদিনই চলে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে তাকে দেখতে পেয়ে পাঁচ মিনিট ধরে প্রচন্ড ঘৃণাসূচক কথা বলে গিয়েছিলেন সেদিন। 

সেই থেকে রাফিয়া কেঁদে চলেছে। বাবার হয়তো তার এ হাল দেখে রাগ ভেঙে গেছে। তিনি রাফিয়াকে সেদিন থেকে বুঝিয়ে চলেছেন নানান কথায় ; এমনকি তাকে হালাকায় যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন। 
রাফিয়ার বারবার প্রশ্নের উত্তরে বিরক্ত হয়ে মায়ের পরিচয়ও দিয়েছেন। তারিন খান তার বাবাকে বিয়ের আগে মাকে বিচ্ছিন্ন করিয়েছিলেন। মা-ও আর কোনোদিন যোগ করেননি তাদের কারও সাথে। তার বিয়েও হয়ে যায় সে বছরেই। 

রাফিয়া সবচেয়ে বেশি কেঁদেছে এটা ভেবে যে, রাফানকে নিজের ভাই ভেবে এতদিন সে তার সামনে পর্দা করেনি। কতটা গুনাহ সে কামিয়েছে এতে...
বাবার কাছে সে এ সম্পর্কেও জেনেছে। রাফানের আসল নাম আইমান ইমতিয়াজ আহমেদ। তার বাবার নাম ইমতিয়াজ আহমেদ। রাফানের ছয় মাস বয়সে তারিন খান ইমতিয়াজ আহমেদকে তালাক দিয়েছিলেন। এর পাঁচ মাস পর বাবার সাথে তার বিয়ে হয়।
পরে তার নাম থেকে &quot;ইমতিয়াজ&quot; -কে ছেটে ফেলে বাবার রাশেদ নামটির সাথে মিলিয়ে সেখানে &quot;রাফান&quot; রাখা হয়। অথচ রাফিয়া শুনেছে যে, সন্তানের বাবার নাম কখনো মুছে ফেলা জায়েয নেই।

_____________

রাফিয়া জানে না তার ভবিষ্যৎ কী। তার সৎ মা ফিরে এসেছেন নিজ থেকেই। রাফিয়ার সাথে স্বাভাবিক ব্যবহারও করেছেন প্রথম দিকে। বাবাও আর কিছু বলেননি তাকে এ নিয়ে। 

তিনি আসার পর থেকে তার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে আইমানকে নিয়ে, যাকে সে এতদিন আদরের ছোট ভাই রাফান হিসেবে জানত। আইমান সব জানার পর হয়তো নিজেও খুব কষ্ট পেয়েছে। তাকে অন্তত অন্যদের মতো নয় বলেই ভাবতে চায় রাফিয়া। তাছাড়া, নানান কথার আভাসে বোঝা যাচ্ছিল যে, আইমান এখানে ফিরে আসতে ইচ্ছুক ছিল না। 
তবুও যখন আইমান প্রথম তার ঘরে এসেছিল, অবাক হয়েছিল রাফিয়া। সে বাবার ভয়ে দরজা লাগিয়ে রাখতে পারেনি। আইমান যাওয়ার পর নিজেকে তিরষ্কার করেছে সে ভীষণ এ নিয়ে। 
আইমান আসার সাথে সাথে সে নিজেকে পাতলা কম্ফোর্টারটা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঢেকে ফেলেছিল। আইমান বিস্মিত হয়েছিল তাতে, রাফিয়া বুঝতে পারছিল। সে অস্ফুটে বলেছিল, &quot; আমার সাথেও তাহলে পর্দা করতে হবে ? &quot;
বলে বিষন্ন কণ্ঠে ফের বলেছিল, &quot; ভেবেছিলাম, সব কিছুর পরও আমার একটা বোন আছে। কিন্তু..... না, আমি কষ্ট পাচ্ছি না। যাদের কারণে আজ এ অবস্থা, তাদের আল্লাহ দেখে নিক। আমি তো-মাকে বড়ো বোন বলেই মানব। আর কখনো এখানে আসতে না হোক, দোয়া কোরো, আপু। &quot;

আইমান এর কিছুক্ষণ পরই যে এ বাসা থেকে একেবারে চলে গেছে, সেটা বাসার সবাই বুঝতে পেরেছিল পরদিন। সে তার কাঁধ ব্যাগে করে তার পড়াশোনা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র কোনো এক ফাঁকে খুঁজে বের করে সেসবই কেবল সাথে নিয়ে গিয়েছে। 

আর সেদিন থেকেই পালটে গেছে তার সৎ মায়ের ব্যবহার। তার সাথে, কয়েক দিন পর যখন জানা গেল যে, আইমান আসলে কোনোভাবে তার বাবার ঠিকানা বের করে তারই কাছে গিয়েছে, তখনই তার ওপর কথার অত্যাচার বেড়েছে তারিন খানের। 
বাবা আর তার ঝগড়ার মাঝে রাশেদ হাসান যখন চিৎকার করে করে এ তথ্যগুলো সরবরাহ করছিলেন যে, রাফান তার বাবার ঠিকানা বের করেছে তারিন খানেরই মোবাইল থেকে। সেখানে সেই ব্যাক্তির বহুবার ফোন করেছেন ছেলের খবর জানতে। তারিন না জানালেও কি হবে, সে ঠিকই তার বাবার সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছে। ভদ্রলোক তারিন খানের মতো স্বার্থপর নয়, তাই এখনো পুত্রশোকে বিয়ে করেননি — রাফিয়া তার সামনে পর্দার অন্য পাশ উন্মোচিত হয়ে যাওয়ার পর হতবাক হয়ে গিয়েছিল। 

তিনি এখন উঠে পড়ে লেগেছেন, তার পরিচিত এক শিল্পপতির ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবার জন্য। বাবার সাথে এ নিয়ে দফায় দফায় ঝগড়া হচ্ছে তার। বাবার মতে সেই ছেলে চরম লম্পট আর ড্রাগ এডিক্টেড।
সৎ মায়ের কথানুযায়ী, তিনি রাফিয়ার সাথে একই বাসায় সহাবস্থান করতে পারছেন না। 

[ টীকা : মা-বাবাকে অভিশাপ দেয়া সন্তানের জন্য জায়িয নেই। ]

(৪).

রাফিয়ার ডায়েরিটা তার টেবিলের ওপর রাখা ছিল সযত্নে কলম চাপা দিয়ে। সেটার শেষ পৃষ্ঠায় অগোছালো হাতের লেখা দেখা যাচ্ছে —
বাবা, কেন যেন মনে হচ্ছে আমি আর হয়তো পৃথিবীতে বেশিদিন থাকব না। আমার যত ভুল হয়েছে, আমি সেসবের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে মাফ করে দিও বাবা। আর আমার মৃত্যু সত্যিই হলে আমার হালাকার উস্তাযাকে জানিও কোনো মহিলাকে দিয়ে, তিনি পুরুষদের সামনে আসেন না। আর মাকে জানিও সম্ভব হলে। তিনি হয়তো আসতেও পারেন।... 
কোনো রকম ঘোষণা দিও না মৃত্যুর। আর আমাকে দ্রুত সময়ে, সম্ভব হলে এক ঘন্টার মধ্যে দাফন করে দিও। কোনো পুরুষ মানুষকে আমায় দেখতে দিও না ; আমার চাচা আর যদি মামা থাকেন, তাদের ছাড়া। কবরে রাখার সময়ও শুধু তোমরাই ধরতে পারবে। মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে কথা বোলো এ বিষয়ে ; শুনেছি তিনি খুব ভালো মানুষ। আমার এ শেষ অনুরোধগুলো রেখ বাবা।


সিজদায় পাওয়া গিয়েছিল রাফিয়াকে সেদিন। সে তখন অন্য পথের যাত্রী।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264202/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 20:24:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পথযাত্রা </p>
<p>.<br />
(১).</p>
<p>&#8221; বাবা, আমাকে যেতে দাও। প্লিজ বাবা, আজ গেলে আর যাব না। আমি কথা দিয়েছি, বাবা। মেয়েটা বসে থাকবে, &#8221; দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে করুণ স্বরে বলতে লাগল রাফিয়া। কিন্তু ওপাশ থেকে কিছুমাত্র সাড়া পাওয়া গেল না।</p>
<p>রাফিয়া এবার রাফানকে ডাকতে শুরু করল, &#8221; রাফান, তুই একটু খুলে দে-না ভাই। খুব জরুরী ওখানে যাওয়া। &#8221;<br />
এবারও সাড়া পেল না সে। মরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264202"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264202/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">af053840dcb859a2b03b2b1da1b904e5</guid>
				<title>আবিদাতুর রাহমান changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264156/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 19:32:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>