-
আজ সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে,ঘরের কোণে শিউলি গাছ সেই আনন্দে এদিকে সেদিক ডালগুলো নাড়িয়ে তা উপভোগ করছে । ফুলগুলোর সে কি আনন্দ!
উঠানে হাঁসের ছানাগুলোর খুনসুটি দেখতে দেখতে মহুয়া হাতের চায়ের কাপে চুমুক দিল। মহুয়া কল্পনাপ্রিয় মেয়েদের মধ্যে একজন । সে ভাবতে লাগল,সেসব মানুষ কতই না ভাগ্যবতী যাদের প্রকৃতির কোলে থাকার সৌভাগ্য হয়।এই যে বৃষ্টির ফোঁটা যখন টিনের চালে পড়ে তখন কি সুন্দর ঝঙ্কার সৃষ্টি হয় তা কি সবাই উপভোগ করতে পারে? ভেজা মাটির গন্ধ,সবুজ নরম ঘাসের ওপর চিক চিক করে বৃষ্টির ফোঁটা,বৃষ্টির পরে বিশাল আকাশে একফালি সূর্যের দেখার সৌভাগ্য কি সবার হয় নাকি! তবে মহুয়া তো এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করছে ।যদিও তা কিছুদিনের জন্য তবে কি সে সৌভাগ্যবতী?ভাবতে ভাবতে মহুয়ার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল ।সৌভাগ্যবতী!
এই কথাটা কি আদ্দ্যোও তার সাথে মানায়?
আজ বড় জানতে ইচ্ছে হচ্ছে,সৌভাগ্যবতীর সত্যিকারের অর্থটা কি। ছোটো থেকে সবাইকে বলতে শুনেছি ,”আমাদের মহুয়া তো অনেক সৌভাগ্যবতী রে,কপাল করে জন্মেছে।” তখন আমিও ভাবতাম ,সত্যিই আমি অনেক ভাগ্য নিয়ে জন্মেছি। না চাইতেই যে সবকিছু পেয়ে যেতাম । বেশি না হোক এই সৌভাগ্য নিয়ে জন্মানোর কথা শুনতে শুনতে আমার মনে কিঞ্চিৎ অহংকারের ছোঁয়া ও লেগেছিল। যদিও সেই অহংকার ভেঙ্গে যেতে বেশি সময় লাগেনি ।
হঠাৎ ছোটোবেলার সই মিনুর কথা মনে হলো,মেয়েটা যেমন সুন্দরী তেমন ই শান্ত। তবুও কেনো যে তাকে সবাই অভাগা বলে ডাকতো তা ঠিক বলতে পারিনা, হয়তো মা ছিলো না তাই। তার বাবা হতদরিদ্র,বিয়েটাও হয় ম্যাট্রিক পাশের আগেই ।শুনেছিলাম স্বামী নাকি কেরানির চাকরী করে ,পয়সা কড়িও তেমন নেই।তবে অনেক ভালো আছে,তার হতভাগী নামটা শ্বশুরবাড়ি গিয়েই ঘুচেছে।
তবে মিনু আর তার মধ্যে কে সৌভাগ্যবতী?
মহুয়া মনের অজান্তেই মিনুর সাথে তার তুলনা করে ফেলল । ভাবতে লাগল,বাবার বাড়িতে যখন ছিল তখন টাকা-পয়সা, বন্ধুবান্ধব,আদর-স্নেহ ভালোবাসা কোনো কিছুরই অভাব ছিল না। স্বামীর বাড়িতে ধন-সম্পদের অভাব নেই কিন্তু ভালোবাসাটা তেমন পাওয়া যায় না। এখানে ভালোবাসার অনেক দাম যা কড়ি দিয়ে কেনা যায় না।একদিন মিনু বলল,তার স্বামী নাকি রোজ অফিস থেকে আসার সময় তার জন্য বেলী ফুলের গাজরা এনে নিজ হাতে পড়িয়ে দেয় । কই ,কখনো তো তাকে কেউ দেয়নি কখনো। তবে কি মিনু আর তার মধ্যে মিনুর ভাগ্যটাই বেশি ভালো? মিনুই তবে সৌভাগ্যবতী! ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলল মহুয়া।
আবার ও ভাবল,ডিভোর্সের কথাটা না তুলে সেদিন একটা সুযোগ দিলেও পারতো মুনীর-কে। কিন্তু আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে তাকে ক্ষমা করা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি মহুয়ার। বাবা-মায়ের হাজার বারণ অমান্য করে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছিল । কিছুদিন বাদে ডিভোর্স টাও হয়ে গেলো । কিন্তু ফলস্বরূপ একরাশ একাকিত্ব তাকে ছেঁকে ধরল।
কথাগুলো ভাবতে গিয়ে দুফোঁটা চোখের জল পড়ল ,মাথাটা ঝিম ধরে আসছে, চারিদিকে অন্ধকার ছাড়া আর কিছু দেখতে পেলো না,মাথা ঘুরে পড়ে গেলো ।বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় এখনো কাতর সে তবে কেনো এই বিচ্ছেদ!
পাশের ঘর থেকে মা ছুটে এলো ,বাবা গিয়ে ডাক্তারকাকাকে ডেকে আনলেন । ডাক্তার কাকা নাড়ি পরীক্ষা করে বললেন শরীর দূর্বল ,খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করে না নাকি ? আমার ঘোর তখন ও কাটেনি । ডাক্তারকাকা ঔষুধ দিয়ে চলে গেলেন ।
আমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে মা-বাবার অবস্থা খারাপ। তাদের বয়স হয়েছে ,এখন আমার তাদের নিয়ে ভাবা উচিত অথচ তারা আমার চিন্তায় অসুস্থ হচ্ছেন। নিজের ওপর নিজের অনেক রাগ হলো । কেনো এতো ভেঙ্গে পড়ছি? আমার মতো মেয়ের কি এটা মানায়?পর্ব-১
স্মৃতির পাতা
লেখা-আয়েশা
প্রথম লেখা ,ভুল-ক্রটি মার্জনা করবেন।6 Comments
Friends
Sumaiya Mustare
@mustare
Mohammed Nazrul Islam
@jaajabor
RH-Ridoy
@rh-ridoy
মিনহাজ লিমন
@minhaz-limon
Rezwan Rafat
@rezwan
Lailatul-Islam-Ruman
@lailatul-islam-ruman
S M Mehedi Hasan
@s-m-mehedi-hasan
Fizulhaque Noman
@fizulhaquenoman
Aafsana-Koly
@aafsana-koly

চমৎকার