-
হাসি প্রদর্শক
সোমা মালাকার তন্দ্রা“হাসতে নাকি জানে না কেউ
কে বলেছে ভাই
এই শোনো না কত হাসির
খবর বলে যাই।”
রোকনুজ্জামানের “হাসি” কবিতাটি হয়তো অনেকেরই জানা। সব শেষ লাইনটি হলো- “তাদের দেখে পেঁচার মুখে কেবল হাসি পায়।” আমি প্রায় ডাক্তারের কাছে যাই, ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখে উপদেশ দিতেন সব সময় হাসিখুশি থাকবেন, কোনো দুঃশ্চিন্তা করবেন না। ডাক্তারের কথা শুনে আমার মনে হয় হাসিখুশি থাকাটা যেন আমার জীবনের বড় ঔষধ। আসলে তাই, বাস্তব জীবনে হাসাহাসি অনেকটা ঔষধের মতো। হাসাহাসি সম্পর্কে বিশ্বের জ্ঞানী-গুনীজন অনেক মত দিয়েছেন। যেমন- দার্শনিক নিৎ সে বলেছেন, মানুষ জীবনে এত যন্ত্রনা ভোগ করে যে, সে বাধ্য হয়েছে হাসির উদ্ভাবন করতে। কবি গ্যাটে বলেছেন, “একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র তার হাসিতে প্রতিফলিত হয়। আর কিছুতেই তা হয়না।” যদি মন্দ লোক প্রাণ খুলে হাসে তাহলে মনে হয় তার ভিতরে মানবতার বাহিরে আর বিশেষ কিছু নেই।
মিসেস উইল কক্স কবিতার ছন্দে লিখেছেন-
“লাভ অ্যান্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড লাফস্ উইথ ইউ
উইপ, অ্যান্ড ইউ উইপ এলোন।”
অর্থঃ “হাসো” এবং পৃথিবী তোমার সাথে হাসবে,
কাঁদো এবং তুমি একাই কাঁদবে।
ভালো এবং মন্দ এই দুইটি শব্দের মধ্যে “হাসাহাসি” শব্দটা অবশ্যই ভালোর মধ্যে পড়ে আর মন্দের কথা বলতে গেলে স্বামী বিবেকানন্দের সাথে বলতে হয়- একটা মানুষ তখনই খারাপ হয় যখন তার সব কাজে মন্দ ভাব প্রকাশ পায়। যেমন, মন্দ খাবার খাওয়া, মন্দ জায়গায় যাওয়া, মন্দ মানুষের সাথে মেশা- তার সব কিছু মন্দের সাথে জড়িত। তখন সে হাসাহাসির মর্ম বোঝে না।
কথায় আছে-
সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।
যখন একটা মানুষ ভাল সঙ্গ পায় তখনই সে ভাল মন-মানসিকতার হয়। ঠিক যেমন কুড়িগ্রাম জেলার, নাগেশ্বরী থানার একটি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের দেয়াল পত্রিকায় একটি লেখা দেখিছিলাম –
আপনার ঔরসজাত বা গর্ভজাত সন্তান
শুধু আপনার নয়
এ সন্তান
এ সমাজ, দেশ, জাতি তথা
সারা বিশ্বের সন্তান-
তাকে সে আঙ্গীকেই
মানুষ করতে হবে।
পৌরনীতিতে বলা আছে, একটি সন্তানের প্রথম বিদ্যালয় হলো তার পরিবার। আর সেই সূত্র ধরেই একজন সন্তানের সব ধরনের বিকাশের জন্য তার মাকে নিতে হয় গুরু দায়িত্ব। আর একজন মা যদি ভাল মনমানসিকতার হয় এবং সেই মা হাসিমুখে সব বাধা মেনে নিতে পারেন তাহলেই সম্ভব এ জাতিকে হাসাহাসির সন্তান উপহার দেওয়া। হাসাহাসির অনেক গল্প করলাম। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ হাসির মধ্যে বেঁচে থাকুক এই কামনায় অবশেষে- হাসিমুখে আশীর্বাদ করুন, পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে যেন নেপোলিয়নের চাওয়া সেই মা হয় এবং প্রতিটি সন্তান যেন হাসি-খুশি হয়।10 Comments
Friends
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Md. Ashraful Islam
@ashrafulku-bd
মীর অনাবিল
@miranabil
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
মোঃ আবু মুনিফ আল মুকিম।
@munifalmukimrocky
mahamuda khaun
@mahamuda
Yusuf Abdullah Harun
@eazylearning
অরিন্দম সাইফুল্লাহ
@arindam-saifullah
আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন
@akteruzzaman



হাসি নিয়ে বেশ জম্পেশ একটা লিখা হয়েছে কিন্তু 🙂 ভালো লাগলো আপনার বিশ্লেষন ধর্মী লেখাটা।