-
হাসপাতালে জয়েনিং এর কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরে তরী। ফেরার পথে ওয়ারী রেইনভিউ চার্চের সামনে তিয়াশকে নামিয়ে দেয়। তিয়াশ একবার চেয়েছিল ফাদারের সাথে পরিচয় করাতে, কিন্তু তরী পরে কখনো বলে কাটিয়ে দিয়েছে। আসলে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে যেতে খুব আগ্রহ দেখাতে পারেনি তরী। ফাদার উইলিনটনকে দেখেই একরকম দৌঁড়ে যায় তিয়াশ।
ফাদার : মাই চাইল্ড! কতদিন পর তোমাকে দেখলাম! তুমি সত্যিই ফিরে এসেছো? একা কেন? আমার মামনি কই?
তিয়াশ: আরে ফাদার! এতগুলো প্রশ্ন একসাথে করে কেউ! আর আমি ফিরবো না কেন বলো তো? তুমি ছাড়া আমার কে আছে?
ফাদার : তা আমার মামনি কই?
তিয়াশ : কেন আমাকে দেখে খুশি হওনি তুমি?
ফাদার : কি বলে পাগল ছেলে!
তিয়াশ: এখন চলো তো বাড়ি যাই!
তিয়াশের মুখে তরীর গল্প শুনতে শুনতে ফাদার উইলিনটনও তরীকে দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিয়াশকে ভীষণ ভালোবাসেন ফাদার। তিয়াশের জীবনে এমন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী কেউ আসলে তিনিও নিশ্চিন্ত হতে পারেন! কিন্তু তিয়াশের এড়িয়ে যাওয়াতে আর কথা না বাড়ালেন না তিনি।এদিকে ড্রাইভিং সিট থেকে সবই শুনছিল তরী। একটা ছোট দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্টিয়ারিং এ মনোযোগ দেয় সে। তিয়াশ যা চায় তা কেবল তখনই সম্ভব, যখন তিয়াশ আল্লাহকে বিশ্বাস করতে পারবে। ড্রাইভিং টা নেহাত মন্দ পারে না বলে বাড়তি টাকা খরচ করে ডাইভার রাখতে নারাজ সে। বাড়ির সামনে এসে রীতিমত অবাক হয়ে গেল তরী!
কমলাপুরের ৩ তলা বাড়িটা যেন ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে। বাগান থেকে রজনীগন্ধা,শিউলি, বকুল আর বেলী ফুলের গন্ধ ম ম করছে! ব্যালকনি থেকে নানা রঙের নয়নতারা উঁকি দিচ্ছে। এক গুচ্ছ বাগানবিলাস যেন ব্যালকুনি বেয়ে নিচতলায় নেমে এসেছে রূপাঞ্জলের মত করে তরীকে নিয়ে যেতে! এতগুলো দিন পর বাড়ি ফিরে তার শখের বাগান এতটা পরিপাটি দেখবে ভাবতে পারেনি তরী!
গাড়ির দরজা খুলতেই আলী চাচা এগিয়ে এলেন।
চাচা: আম্মা, কেমন আছেন? আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি ত?
তরী: আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো আছি, আলী চাচা। কোনো অসুবিধা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। তিয়াশ সাথে ছিল ওয়ারী পর্যন্ত।এখন ত আরও ভালো হয়ে গেছে মন! কি করেছো বাগানটা! চোখ যেন ফিরানো যাচ্ছে না! মাশাআল্লাহ!
চাচা: কি যে বলেন আম্মা! আমার আম্মার প্রিয় বাগানের যত্ন করবো না? তা তিয়াশ বাবাকে নিয়ে আসলে তারও আমার আম্মার বাগান দেখার সুযোগ হত।
তরী: সে কখনো আনবো ক্ষণ, চাচা। এখন বলো ত, বাইরেই থাকবো আমি?
চাচা: আয় হায়! বেমালুম ভুলে গেছি আম্মা!চলেন আম্মা, বাড়ির ভেতরে চলেন।
আলী চাচা তরীদের বাড়ির অনেক পুরানো কেয়ারটেকার। একদম তরীর বাবার আমলের। তরীকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন আলী চাচা। বছর পাঁচেক আগে তরী যখন টরেন্টো চলে যায়, তখন থেকে বাড়ি-ঘর দেখে রাখেন আলী চাচা।
ড্রয়িং রুমে পা দিতেই বুকের মধ্যে হু হু করে উঠলো তরীর। এই বাড়ির আনাচে কানাচে কত স্মৃতি আর গল্প লুকিয়ে আছে। চশমার ফাঁক দিয়ে চোখ মুছে ফেলে তরী। আলী চাচার নজর এড়ায় না।
চাচা: আম্মা, বড় আম্মার কথা মনে পড়ছে?
তরী মুচকি হেসে জবাব দেয়:
টেবিলে রুই মাছ ভুনা, মসুর ডাল আর ভাত দেও, আলী চাচা। কতদিন তোমার হাতের রান্না খাইনা।
ধরে আসা গলায় এটুকু বলেই কোনমতে ঘরের দিকে পা বাড়ায় তরী। সে কাউকে তার চোখের পানি দেখাতে চায়না।
পিছনে দাঁড়িয়ে আলী চাচা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে, হাসিখুশি চঞ্চল মেয়েটা কিভাবে এমন পাথর হয়ে গেল! সময় কত কিই না পাল্টে দিতে পারে!~রুম ১২০
পর্ব ৩4 Comments
Friends
Sourav-Roy
@sourav-roy
সাইমূম ইভান
@syed-symoom-anjum-evan
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
সা দি য়া (নন্দিনী)
@nandini
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
Motiur Rahman Mizan
@dressed-human
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
আয়েশা সিমা
@ayesha-sima
মেহেদী মাহমুদ চৌধুরী
@mehedi_mahmud_chowdhuri


গল্পের তরী এগিয়ে চলুক! পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম!