-
ঝগড়া
সকাল সকাল ঘুমটা ভাংলো মায়ের চিৎকারে, বুড়া ধামড়া ছেলে এত বেলা করে ঘুমাস লজ্জা করেনা এই সমস্ত কথা শুনে প্রতিদিন আমার ঘুমটা ভাংগে, আজো তার ব্যাতিক্রম হলোনা।
মা ডাকলে আমি সাথে সাথে উঠিনা, কিছুক্ষন শুয়ে শুয়ে মায়ের বলা কথা গুলো শুনি, কথা গুলো তিক্ত হলেও মায়ের মুখে শুনতে বড়ই মধুর লাগে। চিল্লাতে চিল্লাতে যখন মা রনেভংগ দিয়ে আমাকে মারতে চলে আসে ঠিক তখনি আমি লাফ মেরে উঠে দৌড়ে পালিয়ে যাই বাথরুমে। মোটামুটি এটা এখন আমার প্রতিদিন সকালের রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে।
বর্তমানে আমি একজন বেকার, লেখা পড়ার পাঠ অনেক আগেই চুকিয়েছি, চাকরির জন্য অনেক জায়গায় চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয়নি, বাংলাদেশে চাকরির বাজার খুব খারাপ।
ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে সোজা বেরিয়ে পরলাম রাস্তায়, ইদানিং রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে ভালোই লাগে, আজব কিসিমের মানুষের দেখা পাওয়া যাই।
কিছুদুর হাটতেই একটা ছোটখাটো জটলা চোখে পরলো, জটলা দেখলেই আমার কেন জানি সেখানে যেতে ইচ্ছে করে, যেখানেই আমি জটলা দেখতে পাই সাথে সাথে সেখানে গিয়ে বুঝার চেষ্টা করি ব্যাপার টা কি, তবে বেশির ভাগ সময় দেখা যাই সামান্য কারনে মানুষ জন জটলা পাকিয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষ জন বোধ হয় খুব জটলাপ্রিয়, অতিথিপ্রিয় সম্বোধনের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষ দের জটলা প্রিয় বলেও সম্বোধন করা যেতে পারে।
অনেক কষ্টে ঠেলাঠুলি করে একেবারে জটলার মধ্যেখানে উপস্থিত হলাম, আশে পাশের মানুষ জনকে দেখে মনে হচ্ছে তারা খুব মজা পাচ্ছে।
দেখা গেলো জটলা টি হচ্ছে একটি ছেলে এবং মেয়েকে ঘিরে খুব সম্ভবত তারা কাপল, বিষয়টি হচ্ছে এই যে ছেলেটি মেয়েটিকে তার বাইকে উঠতে বলছে কিন্তু মেয়েটি উঠতে চাচ্ছেনা এবং মেয়েটি খুব জোরে জোরে চিল্লাচ্ছে। খুব সম্ভবত তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে কারন ঝগড়া হওয়ার পর মেয়েরা এমন চিল্লাপাল্লা করে, মেয়েটি বার বার একটি কথায় বলছে “আসিফ আমি তোমার সাথে যাবোনা তুমি চলে যাও” ছেলেটি অনেক বার বুঝানোর পরেও মেয়েটি কিছুতেই বুঝার চেষ্টা করছেনা, এদিকে যে তাদের ঘিরে এতবড় ভীড় জমে গেছে মেয়েটির সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, আমার মনে ক্ষীন সন্দেহ হলো মেয়েটি মনে হয় এতে মজায় পাচ্ছে।
আস্তে আস্তে ভীর একটু পাতলা হতে থাকলো, মানুষ জন মনে হয় আর মজা পাচ্ছেনা। সবাই যখন চলে যেতে শুরু করেছে আমি মনে মনে ভাবলাম এই সুযোগ এখনি ঝোপ বুঝে কোপ টা মারতে হবে।
আস্তে আস্তে হেলতে দুলতে ছেলেটির সামনে যেয়ে হঠাৎ দেখা হয়েছে এমন ভংগিতে বললাম আরে আসিফ ভাইযে, কি অবস্থা ভালো আছেন, নুসরাত ভাবী কেমন আছে আপনাদের যা মানিয়েছিলো না ভাই চরম একটা কাপল ছিলেন, সবাই প্রশংসা করে, আর এই মেয়েটি কে আপনার বন্ধু নাকি, নুসরাত ভাবী কি জানে? যে আপনি এই মেয়ের সাথে ঘুরছেন, একনাগারে কথা গুলো বলে আমি থামলাম। আসিফ নামের ছেলেটি একরকম হতভম্ব হয়ে গেলো, একেই তার অবস্থা খারাপ এরমধ্যে আবার আমি লাগিয়ে দিয়েছি প্যাচ, ছেলেটি কি বলবে বুঝতে পারলোনা, সে কোনরকমে শুধু বললো কে ভাই আপনি চিনলামনা আপনাকে, আমি ছেলেটিকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বললাম আচ্ছা ভাই আসি হ্যা অনেক কাজ আছে, বলেই হাটা ধরলাম সামনের দিকে।
পিছন থেকে এখন মেয়েটির জোর গলা ভেসে আসছে, কুত্তার বাচ্চা নুসরাত কে, তুই একসাথে কয়টা প্রেম করিস, তোর আজকে খবর আছে হারমজাদা,তোর সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নাই। ঠাস করে একটি চরের আওয়াজ ও পাওয়া গেলো পেছনে তাকিয়ে দেখি মেয়েটি উঠে হাটা ধরেছে আর ছেলেটি গালে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে বসে আছে, মনে হচ্ছে কি যে হচ্ছে সে কিছুই বুঝসেনা।
মনটা আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। মনে মনে খুব একচোট হেসে নিলাম, মাঝে মাঝে মানুষ কে বিভ্রান্ত করতে মজাই লাগে, যাক সারাটাদিন ভালোই কাটবে।
সামনের দিকে হাটা শুরু করলাম, সকালের মিঠা রোদ গায়ে এসে পড়ছে।
দেখি সামনে আবার কোন জটলা পাওয়া যায় নাকি।
লেখাঃ উসমান।2 Comments
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Prithula Zaman
@prithula
Shaikh-Mohidul-Islam
@shaikh-mohidul-islam
Md Tashnim Rahman
@wire-taseen
Reza e Rabbi
@rabbi121
Mesbah-Ahmed
@mesbah-ahmed
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah



কাউকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে আনন্দ পাওয়াটা একরকম পৈশাচিকতা।