Profile Photo

ফারদিন ইসলাম উইনমিOffline

  • winme
  • #Unsolved_অরূপ★ (৪)
    তন্ময়ার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া দেখে, অরূপ একটুও বিচলিত হয় না।
    বরং খুশি হয়। চোখ খুলা মাত্র অরূপ নেমে যায়। কিন্তু একটা মেশিন তার বুকের উপর আটকে দেয়।
    আর সাথে সাথে মেশিনটি চালু হয়।
    একটা ধারালো চাকু ঘুরতে ঘুরতে তন্ময়া বুক চিরে ফেলে।তার পর অরূপ হাত দিয়ে ফুসফুস বের করে নেয়।রক্তমাখা ফুসফুস হাতে নিয়ে হাটতে শুরু করে।
    ফুসফুসের গরম রক্ত চুইয়ে চুইয়ে মাটিতে পরতে থাকে।আর অরূপের পুরো হাত রক্তে ভেজা,
    এতো গরম রক্ত স্পর্শ করতে পেরে অনেক ভালই লাগছে তার।কিন্তু সে অন্যভাবে মারতে চাইছিলো।
    আরো অনেক কষ্ট দিয়ে মারতে চাইছিলো
    কপালে তা আর হলোনা।
    তবে এখনো কয়েকজন সদস্য, এ বাড়ির বেঁচে আছে, তাদেরকে খুন করবে মনের আয়েশ মিটিয়ে নিবে। কাউকে বাঁচতে দিবে না।
    সবাই একসাথে কবরে শুয়ে থাকবে আর দূর থেকে সে দেখবে।
    যতবার দেখবে ততবার অজানা ভালো লাগা কাজ করবে মনের ভিতর।
    অরূপ হাটছে তার গন্তব্যস্থানের দিকে,সে ভাবছে সবাই এখন ঘুমিয়ে আছে।
    হঠাৎ পিছন থেকে একটা শব্দ ভেসে আছে “রক্ত”
    এটুকু বলেই চুপ হয়ে যায়।
    অরূপ পিছন দিকে ঘুরে দেখে হেলাল সাহেব দাঁড়িয়ে আছে।
    ঠোটগুলো কাপছে তার, আর এভাবে রক্তমাখা হাতে ফুসফুস দেখতে পেরে হঠাৎ মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এ কথা।
    হেলাল সাহেব যখন দেখতে পেলো রক্ত মাখা হাতে অরূপ দাঁড়িয়ে আছে।
    তখন আর কিছু ভাবতে পারলো না।
    ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
    অরূপ তো মহা খুশি আজ আরো একটা খুন করতে পারবে।আর যত খুন তত খুশি তার মন।
    কিন্তু এভাবে অপ্রস্তুতভাবে খুন করতে তার ভালো লাগছে না।
    এখন পকেটে একটা সুচ নাই তার ইচ্ছা ছিলো।
    সম্পুর্ণ শরীর সুচ ফুটিয়ে রাখবে।
    জিহবা বের করে সেখানেও সুচ ফুটিয়ে দিবে।
    সেই সুচ দিয়ে রক্ত অবিরাম ঝরবে এরকম পরিস্থিতে লাশ ঝুলিয়ে থাকবে কোনো গাছের ডালে।
    টুপ টুপ করে রক্ত মাটিতে পরবে।
    আর সেই রক্ত মাথায় নিয়ে মাথা লাল করে ফেলবে রক্ত দিয়ে।এমন ইচ্ছা ছিলো তার।
    কিন্তু কপাল দেখো আজ হুট করে খুন করতে হচ্ছে।
    কিভাবে খুন করবে এটাই ভাবছে দাঁড়িয়ে থেকে। নাহ তার মনের মতো কিছুই পাচ্ছে না।
    শেষে অজ্ঞান অবস্থায় হেলাল মিয়াকে বাসা থেকে বের করে। একটা বাশ বাগানে টেনে নিয়ে যায়।
    বাশ বাগানে একটা বাশ অনেক কষ্টে কাত করে রশি দিয়ে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে।
    তারপর পকেট থেকে চাকু বের করে অজ্ঞান অবস্থায় হেলালের পেট কেটে ফেলে, আর পেটের নাড়িভুঁড়ি সব বের করে।
    ‘উফ গরম রক্ত’ রক্ত ছোয়া পেলেই আরো উম্মাদ হয়ে যায়।
    কোনোকিছু আর ভাবতে পারে না।
    খুব খেতে ইচ্ছে করে তার, কিন্তু এসব মানুষের খাওয়া উপোযোগি না। তাই নাকের কাছে এনে ঘ্রাণ নিয়ে আবার মাটিতে ছুরে দেয়।
    এভাবে বেশ কিছুক্ষণ রক্ত আর লাশ নিয়ে সময় কাটানোর পর।
    যে বাশ কাত করে মাটির সাথে আটকানো ছিলো তা ছেরে দেয়,আর তাতেই বাশের আগালে ঝুলে পরে হেলাল।
    তার পাশেই নাড়িভুঁড়ি আর তন্ময়ার ফুসফুস ঝুলে দেয়।

    এবার নিজেকে আড়াল করে নেয়।
    আযিযের বেশে তার বাসা (কোয়ার্টার) চলে যায়।
    রাত মানেই ভয়ংকর অরূপ আর দিনে পুলিশ অফিসার আযিয।
    এই ভাবে আপাতত জীবন গুছিয়ে নিয়েছে কয়েকটা দিনের জন্য।
    বিজ্ঞান উন্নত হওয়ার ফলে তার মুখে আযিযের মতো চামড়া, আর কন্ঠ পাল্টাতে কোনো সমস্যা হয় না।
    আর তাকে কেউ বুঝতেও পারে না।
    সম্পুর্ণ অন্য এক আযিয। আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি,আযিযের আসল রুপ।
    যদিও আযিয হওয়ার ইচ্ছা ছিলো না।
    কিন্তু হেলালের ফ্যামিলি খুন করার জন্য,কিছুদিন এ আযিয পরিচয়ে থাকতে হবে।
    বাসায় গিয়ে নিজেকে ফ্রেস করে লম্বা একটা ঘুম দেয়।
    আজ তার খুব আনন্দ হচ্ছে।ঘুম ভাঙ্গে ফোনের রিংটোনের শব্দে
    ঘুম ঘুম ভাবে ফোনটা কানে নিয়ে বলে “হ্যালো”
    তারপর ফোনের ওপাশে কি যেনো শুনে চমকে যায় সে
    আর বিছানা থেকা উঠে বসে পরে আর বলে
    “কিভাবে সম্ভব ”
    তারপর ফোনটা কেটে দিয়ে তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে আযিয বাইক নিয়ে বেড়িয়ে পরে।
    বাইকের গতি ছারিয়েছে ঘন্টায় ১০০ + কিন্তু সেদিকে কোনো হুশ নেই।
    বাইক এসে দাড় করায় তার বাড়ির সামনে তারপর ছুটে যায়, বাশবাগানের দিকে। সেখানে হেলাল সাহেবকে বাশের উপরে ঝুলে থাকতে দেখে।
    চিৎকার দিয়ে উঠে বাবা বলে। তারপর আর কথা বলতে পারে না।
    ঠোট কাপতে শুরু করে।দুচোখের কোনা দিয়ে জল গরতে শুরু করে।
    কিন্তু মনে মনে খুশি সে।এটা তো লোক দেখানো তাই এতো নাটক করতে হচ্ছে।
    বাশ বাগানে মাটিতে বসে পরে আর অপলক দৃষ্টি বাবার ঝুলানো লাশ দেখতে থাকে
    সবাই লাশ কি দেখবে,আযিযের চোখের জল দেখছে।
    হঠাৎ আযিযের মনে পরে তন্ময়ার কথা,তন্ম তন্ম বলে একটু উচু স্বরে ডাকতে থাকে।
    কিন্তু এ কথা যেনো কেউ শুনেনি এমন আচরণ করে সবাই।
    অরূপ তো খুব ভালো করেই জানে তন্ময়া এখন চির নিদ্রায় কিন্তু আযিয ছদ্মবেশ ধারন করা তা তাকে এমন আচরণ করতে হচ্ছে।
    বাশ বাগান থেকে ধিরে ধিরে বাসায় আসে।তারপর তন্ময়ার রুমের দিকে যেতে থাকে।
    তন্ময়ার রুমে গিয়ে দেখে একটা রক্তাক্ত চাদর আর রক্তাক্ত শরীর বিছানার উপর শুয়ে আছে।
    কেউ মাথা পর্যন্ত চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছে অরূপ আর কাছে যায়নি।
    দরজার পাশে দাঁড়িয়ে একভাবে দেখছে সেই রক্তাক্ত বিছানা।
    অরুপের পরিকল্পনা অনুযায়ি এখন তার মা কে খুন করবে।
    আর এখন খুন না করলে সে হয়তো ধরা পরবে।
    তাই সব ব্যববস্থা করেই এসেছে।
    কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পাশের ঘরে প্রবেশ করে সেখানে দেখে অনেক মহিলা এক সাথে বসে মোমেনা বেগমের মাথায় পানি ঢালছে।
    আর নানান বিষয় কথা বলছে।
    খুব ধিরে ধিরে বলছে।
    আযিযকে আসতে দেখে সবাই চুপ হয়ে একজন মাথায় পানি ঢালতে থাকে।
    স্বামী আর মেয়ের লাশ এভাবে দেখে মোমেনা বেগম নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি।
    আযিয মায়ের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে তার
    মায়ের ঘন চুলে হাত বুলাতে থাকে। আর “মা মা” বলে করুন স্বরে ডাকতে থাকে।
    যখন কোনো সারা পায় না তখন চলে আসে বাইরে।
    বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে আকাশ দেখে
    যদিও সে আকাশ দেখছে না অপেক্ষা করছে ১০ মিনিটের তারপর তার মা মারা যাবে।
    এমনটাই ব্যবস্থা করেছে।
    তার মাকে খুন এখন করতে চায়নি কিন্তু আযিয ছদ্মবেশ অরূপ খুব ভালো করেই জানে
    মা তার সন্তানকে কখনো ভুল চিনতে পারে না।
    খুব সহজেই বুঝে যাবে এটা তার আযিয না।
    আযিয নামে অন্য কেউ,আর অরূপ ধরা পরতে চায় না।
    তাই তার মায়ের চুলে হাত বুলানোর সময় একটা ছোটো ধারালো চিপ মাথার চামড়ার সাথে আটকে দেয়।
    ১০ মিনিট পর ঐ চিপ থেকে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ বের হবে।
    আর হঠাৎ করে অনেক বিদ্যুৎ ব্রেনে আঘাত পাওয়াতে, ব্রেন অকেজো হয়ে যাবে।
    তাতে নিশ্বাস নেওয়া সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
    ফুসফুস বন্ধ হয়ে যাবে।
    ব্রেন কোনোকিছু আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
    সম্পুর্ণ অকেজো হয়ে যায় শেষমেশ হার্ট এটাক নামে মৃত্যু হয়।
    সব হবে একটু পরে।
    হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময় দেখছে,প্রত্যেকটা মিনিট তার কাছে অনেক সময় মনে হতে থাকে।
    এর মাঝে কিছু পুলিশ এসে লাশ নামাতে থাকে
    আযিযকে দেখে কয়েক জন কাছে আসতে থাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য,
    হঠাৎ ঘরের ভিতর থেকে চিৎকার শুনতে পেরে সবাই ঘরে যায়, আর দেখে মোমেনা বেগম ছোটফট করছে কখনো মাথায়, আবার কখনো বুকে হাত দিচ্ছে।
    চোখগুলো উলটে গেছে।
    মাথার চুল টেনে ছিরতে থাকে,
    আযিয কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে থাকে
    ” মা মা কি হয়েছে তুমি এমন করছা কেন?
    মাথায় হাত বুলানোর ফাকে চিপ সরিয়ে নেয়
    আরো একটা রহস্যময় খুন, কেনো এমন আচরণ করলো, মাথার চুল টানাটানি করার মানে কি?
    এরকম হাজার প্রশ্ন সবাই আপন করতে থাকে
    প্রশ্নের শেষ নেই
    আযিয মনে মনে এখন অনেক খুশি
    আজ রাতে কয়েকজনকে খুন করলে তার কাজ শেষ,পুলিশ ৩ টা লাশ ময়না তদন্তে নিয়ে যায়
    আশেপাশে মানুষের ভির কমে যেতে থাকে
    দিনশেষে রাত নেমে আসে।
    মিযান বেলাল সাহেব এই দুই জন ছাড়া আর কেউ থাকে না পুরো বাসা জুরে,
    আর আযিয মনে মনে রাতের অপেক্ষায় করছে।
    রাত হলেই শুরু হবে তার মৃত্যুর খেলা
    আর রক্ত, অরূপ নামে হিংস্র সত্তা বেরিয়ে আসবে রাতে।
    আজ রাতে মনের মতো খুন করবে,দুজনকে।
    মিযানের চোখ তুলে ফেলে তার চোখের ফাকা অংশে মাছ ধরা হুক লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে দিয়ে
    পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেলে একটা করে সুচ ঢুকিয়ে রাখবে এরকম অনেক কিছু মনে মনে ভেবে আছে।
    আর বেলালকে সে আরো খারাপ ভাবে হত্যা করবে এতোটাই বিভৎস করবে তা ভাবতেই মন খুশিতে ভরে উঠে।
    .
    চলবে

    #উইনমি*

Skip to toolbar