অন্ধকার মমি ও অন্যান্য

অন্ধকার মমি ও অন্যান্য

স্মৃতি
যা পেয়েছি তা সব থেকে যাবে
বালু কণার গভীরে
জলের শব্দ তরঙ্গে
এমনি এমনি
আরো বহু দিন প্রতীক্ষা করবে
যেভাবে আকাশ সেজে ওঠে

ভয়
এখন শুধু ভয় করে
মনে হয় টেনে নিয়ে যাচ্ছে মন ডুবুরি
উন্মাদের হাসির ভিতর
লুকানো বন্দিশে।
চুপ করে বসে থাকি একা একা
রোদ কেবিনে।
নির্বাসিত স্মৃতি খুলে উড়তেও ভয় করে।
ম্লান আলোর আদলে
ঘুমানো নদীর দিকে বয়ে চলা পথে
ফুটে উঠতে ভয় করে বোকা বুনোফুলে।

আহবান
ঝুপ ক’রে সন্ধ্যা নামা গ্রাম পার হয়ে
আমাকে ভেসে উঠতে দাও
রক্ত প্রলেপে জেগে ওঠা পুরোনো কাছিমের পিঠে
অন্ধকার পথ পাড়ি দিয়ে
বহুদূরে নিয়ে চলো
ফেলে রাখো পুরোনোকালের পণবটার নক্সাতে
যেখানে পিতলের আকাশে
উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি
এখানে এখন মানুষের মুখ বন্ধ
ফুরিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে
আর কিছু নেই
চতুর্দিকে
দলিত মানুষের ছায়া
পরিত্যক্ত ডাঙা জমির মতো স্থির
বধির শ্রেণি বিন্যাসে ঢাকা নতজানু অসংখ্য মানুষ
লাল সাদার বাইরে
গূঢ়তম রহস্যের তরীতে কিছুদিন আটকে রাখো আমাকে
জীবনের অন্তরঙ্গ মানে খুঁজে চলা দূর করো এবার

অন্ধকার মমি
ঘন সবুজের ভিতর ফিরে আসবে তুমি
বৃষ্টির গহিন শব্দের ভিতর তোমাকে দেখবে সহজিয়া দৃষ্টি
তোমাকে লুফে নিবে সহজে
বঞ্চিত মানুষের অহং
যেখানে তুমিই প্রকৃতির অন্ধকার মমি
বীজের গভীরে
তীব্র আকাঙ্ক্ষার অন্তরঙ্গ ধ্বনি
সমস্ত আলোর নদ বয়ে নিয়ে যাবে তোমাকে
প্রেমহীন মানুষেরা তোমার কাছেই খুঁজবে জীবনের মানে

ঘাসের জীবনী
সহজ জীবনের জন্য ফিরে আসো গুহাগাত্রের নির্জনতায়। নৃত্যরত মানুষের ছায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দাও। আলিঙ্গন করো কালিমা। আঁধার। বাঁকানো হরিণের শিং তোমাকে দেখুক। মুছে যাক হলুদ রঙের শিল্পকীর্তি ভরা নিষ্ঠুরতার সমস্ত চিহ্ন। দূরে পড়ে থাক পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ঘাসের জীবনী।

হলুদ পাতা অন্ধকার পাথর
এখন সামনে শুধু অন্ধকার
তবু তোমার বেঁচে থাকা মুহূর্তগুলি আনমনেই ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির মাঝে
কোনো শোক চিহ্ন নেই
আছে আলো ফোটার প্রতীক্ষা
আমি জানি
জলের ভিতর ডুবন্ত পাথর ছুঁয়ে পার হচ্ছো একা একা
হয়তো চোখের গহীনে ভেসে উঠছে লুপ্ত নদী পথ
সেখানে তোমার ভুলে ভরা জীবন জলের দাগের মতোই পড়ে আছে
ওই জীবনও তোমারই
ওই জীবনেরও ছিল নিজস্ব গান
পৃথিবীর সমস্ত হলুদ পাতা
অন্ধকার পাথর ওইরকম জীবনের চিহ্ন ধরে রাখে…

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar