দেওদীন

দেওদীন

১.
তোমাকে তুমি বলা যায়
তোমাকে তুমি বলা যায় না
এক ঝাঁক টিয়া আকাশে ডানা মেলছে
ঠা ঘরে সারি সারি বরফের স্তূপ
লাল এবং কফি রঙ আকাশের সানুদেশে
এখানে একজন বাতাসের ঢেউ
এখানে একজন নৌকার ছৈ
কেউ কাউকে স্পর্শ করেনি
তবু নরম ঠোঁট ছুঁয়েছে নাভিমূল
তেত্রিশ কোটি দেবতার ত্রিশূল তোমার চোখে
হাওরের গহ্বর, উন্মুক্ত তলোয়ার!
হেন মরুভূমির দেশে
কেন অকারণ জেগে ওঠো ইট-কাঠ?
আমার পাঁজরের অস্থি
সকল বিরতিহীন ফিরতিট্রেন?
কেন এক নামে বার বার ডাক’ বহুজনে?
আদিম পুরাণের মাতৃগর্ভে যা কিছু ছিল ভস্ম
তার স্পর্শে রাত্রি জেগে ওঠে
এ আমার নিদারুণ পুষ্পময় ভ্রমণ তোমাতে…

২.
ইট-কাঠের স্বপ্নে বিভোর হয়ে
জ্বলজ্যান্ত আগ্নেয়গিরির দেখা
মহুয়ার বনে শত শত সর্পগন্ধা
ইস্কাপনের বিবি
তুমি সাপ এবং ময়ূর হয়ে এলে আমার ঘরে
বিছানায় সূর্যমুখী টানটান শুয়ে থাকে
সময়ের চক্রযান
সেই যানে চড়ে তুমি হও উদগত
আমি অলঙ্কার তোমার
দেওদীন ভরা বর্ষায় কদমের দেখা নেই
তুমি এক উন্মুক্ত তলোয়ার
কেটে টুকরো করো
নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়া
ফুলের পাপড়িকে
গর্ভকেশর ছাড়িয়ে
অচেনা সব পথ-ঘাট
হারানোর হাতছানি
তুমি তবু আলো মুখ করে
বসে থাকো জলের দ্রাঘিমায়…

৩.
তুমি এক দেওদীন
কারবেলের আধারে, চারদিকে শুনশান
প্রাচীরের গায়ে শ্যাওলার স্তূপ
আকাশমণিতে ছেয়ে গেছে চূড়া
তোমার বুকের মধ্যে ঘুমন্ত ড্রাগন
বাইবেলে বর্ণিত জাদুকরের লাঠি
ছুঁয়ে আছে তোমার দুচোখ,
দেওদীন খুলে ফেলো পোশাকের আবরণ
শরীর থেকে গম রঙের ত্বক
ভেতরে জ্বলছে সাতটি তারার তিমির
দেওদীন তুমি চোখ খোলো
হাতে নাও ধারালো তলোয়ার
কেটে টুকরো করো সমাধির পর সমাধি
বাতাসে মড়কের গন্ধ
ইট-কাঠ, সুরকির স্তূপ
দেওদীন তুমি পাখি হও
ছিঁড়ে ফেলো সবুজের আচ্ছাদন
গোপন কোনো অলঙ্কারের মতো
বেজে ওঠো নির্জন রাতে
নিজেরই শরীর হয়ে।

৪.
আকাশ ছেয়ে মেঘ জমেছে
তোমার বুকের মধ্যে মেঘের ছায়া
এই রাত, কালো কাঠের শরীর
মূর্তির মতো ঘিরে আছে
তুমি নীরব হয়ে শুয়ে থাকো
আমিও তোমার শয্যায়
দুজনের শরীর থেকে লালজল
মিশে যায় মোহনায়
কত গাঙচিল, সোনালি ডানার চিল
কত পদ্ম, হিজলের না-ফোটা কোরক
দেওদীন এই রাত শেষ হয়ে যাবে
তুমিও চলে যাবে সীমানার ঐপারে
কাঁটাতার গাঁথা আছে নিলয়ের মাঝখানে
দেওদীন তুমি ঘুমিয়ে থাকো
কাকাতুয়া, শালিখের আর্তনাদ
ছিঁড়ে খাও পাঁজরের হাড়
আকাশ ছেয়ে আছে কালো মেঘে
দরজায় তুমি, জানালায় সরষে ফুল
তোমার না-জানা কথকতা বুকে বিঁধে আছে
দেওদীন আমাকে খুলে নাও তোমার ইপ্সিত জলে

Loading

জন্ম ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫, মাদারীপুর শহরে নানাবাড়িতে। শৈশব হতেই ঢাকায় বেড়ে ওঠা। তিনি নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। লিটল ম্যাগাজিনে লেখা শুরু করেছেন ২০০০ সালের পর থেকে। বিশেষত কবিতা, গল্প ও নৃবৈজ্ঞানিক লেখালেখি করেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: হারানো দোকান এল দরাদো (জনান্তিক, ফেব্রুয়ারি, ২০০৯), একজন আঙুল শুধু হেঁটে বেড়ায় (সংবেদ, ফেব্রুয়ারি, ২০১০) আর কারনেশন ফুটলো থরে থরে ( শুদ্ধস্বর ২০১৩), একটু একটু করে বোবা হয়ে যাচ্ছ তুমি (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, ফেব্রুয়ারী, ২০১৫), বারুদ লোবানের গন্ধ (চৈতন্য, ফেব্রুয়ারি ২০১৭), জলে ডোবা চাঁদ (ঐহিক প্রকাশনী, কলকাতা, জানুয়ারী ২০২০)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ :পেন্ডুলাম ও শিশুর দোলনা (শুদ্ধস্বর, ফেব্রুয়ারি ২০১১), জৌলুসী বেওয়া (দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৬) উপন্যাস : অন্তর্গত করবী (দেশ পাবলিকেশন্স, ফেব্রুয়ারী ২০২১), কেউ জানতে চায় নি (দেশ পাবলিকেশন্স, ফেব্রুয়ারী ২০২২ )। । এছাড়া পিয়াস মজিদের সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন নির্বাচিত কবিতা: শামীম কবীর (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, ফেব্রুয়ারি, ২০১০)। তিনি কিছুদিন নৃবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। লিটল ম্যাগাজিন, ওয়েব ম্যাগাজিন, জার্নাল ও দৈনিক পত্রিকায় লেখেন।

7 Comments

  1. শক্ত কথার আড়ালে অনেক চিন্তার খোরাক,বেশ ভাল। ঝাঁঝালো পংক্তির জন্য ধন্যবাদ।

  2. দারুণ! শুভেচ্ছা!

  3. Thanks to all ..

  4. Thanks সুন্দর লেখার জন্য।

  5. Thats a fine poem

  6. Thanks a lot Shajib .

  7. খুব সুন্দর লিখেছেন। পাঠকের শুভেচ্ছা ও ভালবাসা রইল। ধন্যবাদ এত সুন্দর কবিতাটি জন্য।

Leave a Reply

Skip to toolbar