প্রাণীবিতান
১) জিরাফ
ডাক কমে গেলে মানুষ দাড়ি কাটে। আফটার শেভ মাখে। চান করে পরিচ্ছন্ন লিফটে ঢুকে যায়। ফ্লোর এর বোতাম টিপে উঠতে উঠতে তার গলা কলারের ওপরে ঢলঢল করে। ডাক কমে গেলে মানুষের গলা বড় হয়ে যায়।
আর জিরাফ ডাকতে পারে না।
ফলত ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে এই এক প্রাণী মুখস্ত থেকে অনেক দূরে সরে পাতা খায়। ফল খায়। অনেক উঁচু থেকে দেখতে পায় নিম্ন-বুনিয়াদি, সয়াতুঁদগাছ গোলাপি মরচে পড়া সেড! গ্লোসি ও বার্নিশ করা খানিকটা
নক্সা খানিকটা জাফরি কেটে জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে।
জিরাফকে জঙ্গলে জানালা মনে হয়।
২) টিকটিকি
দেওয়াল ঘড়ির গঠন, প্রকৃতি ও কাঁটা দুটির নিয়মানুগ সরণ হেতু দেওয়ালে, দেওয়াল ঘড়ির চারপাশে এক ভেন্ডারওয়াল’স বল কাজ করে। কিছু টিকটিকি দেখা যায়। দেখা যায় একটা টিউব লাইট।
টিউব লাইট জ্বলে শাদা হয়ে আছে। আর টিকটিকগুলো, তাদের পায়ের হাতের স্প্যাচুলা, চাপ দেওয়া-নেওয়ার নেগেটিভ ও পসেটিভ আয়নগুলো। টিকটিকিদের ঘোরায় ফেরায়, যোগ ও বিয়োগ শেখানোর এক নিম্ন-বুনিয়াদি খোলা রাখে, দেওয়াল ঘড়ির চারপাশে। আর
যেহেতু তোমার দেওয়াল শাদা, তোমার টিউব লাইট সাদা, টিকটিকিদের পায়ের পাতাগুলি হাতের পাতাগুলি নরম ফোমের মত,পাফের ন্যায়! তোমার মনে হবে তারা, টিকিটিকিগুলি সারা দেওয়াল জুড়ে পাউডার মাখাচ্ছে!
৩) দোয়েল
দোয়েল সাদা কালো স্বরলিপির এক পাখি। দোয়েল গান গায়, ফলে তা ভূপালী হলে তার এক আরোহণ আছে–স র গ প ধ র্স
এবং তার এক অবরোহণ আছে , র্স ধ প গ র স আমি ভাবি আর রোহিণী , লাজপত নগর সিকান্দারপুর মেট্রো স্টেশনে নেমে যাই !
ইয়ু আর আন্ডার সিসিটিভি সারভেলান্স এই রকম একটা চেতাবনি আমাকে বলে দেয়াল ও দোয়েল অপলক আমাকে লক্ষ্য করছে , গান করছে… এস্ক্যালেটার চড়লে
এস্ক্যালেটার চলে যাওয়ার নিচে বা ওপর সেই আরোহণ বা অবরোহণ। পা দিলে মনে হবে, পিয়ানো মাড়িয়ে ফেলেছি!
৪) শ্যামা পোকা
তবে কি আরও রোগা হয়ে যাব, একটু চেপে এসে এতদূর জামার ভেতর হালকা … যেন ঘাম
মুছে নিলে , হাত মুছে যাবে! এই ওজন হীন আমি ভাবি আর দেওয়াল এ নতুন ক্যালেন্ডার টাঙ্গিয়ে দেব বলে পেরেক পুঁতে দিই।
ফলে, এক শাদা দেওয়াল ও তার প্রতিভাসিত সাদা ধবনি এক লো মুভমেন্ট এ এগিয়ে টিউব লাইট এর সামনে দাঁড়ায় , যেখানে ক্যাথোড শব্দটা ভারি, পড়ে যাবে এমন ! আন্ড্রয়েড শব্দটা ক্লান্ত, জ্বলে না, দপ দপ করে…
রাত হয়, খোলা জানলা দিয়ে ভেজা শারদীয় হাওয়া আসে, বাতাস আসে, আমার মন হয় আবহদপ্তরে ফোন করি…
বলি, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে !
৫) খরগোশ
খরগোশ এক ধরণের শাদা আর নরম প্রানী। লাফালে ফার ওড়ে। সমানের পায়ে একটি ডিউ-ক্ল থাকে যা ঘাস থেকে শিশির ফেলে দ্যায়।
ফলে খরগোশের মাংসে জল বেশি হয়, ফ্যাট তুলতুলে মত। প্রোটিন তুলতুলে মত।
যারা বডি বিল্ডিং করেন না, খরগোশ কোলে তুলে নিতে পারেন এত হালকা, স্মুদিং, আগেই বলেছি খরগোশ নরম প্রানী মলমের মত গর্ত টিপে দিলে বেরিয়ে আসে।
৬) ফড়িং
ঝুঁকে আসার ভেতর এক নিবিড়তা কাজ করে এক পর্যবেক্ষ, স্পষ্ট পরিশালীত ও স্বচ্ছ বুকের ওপর মাথা ঝুঁকে এলে বুকের ভেতর আমি ডিএনএ দেখতে পাই। সামান্য গামছা নিংড়ে জল ফেলে গ্যাছে এমন ভিজে ও পেঁচানো এক জিনোম চিত্র বেয়ে হেমন্তের বিকেলে বংশানুরা আকাশ প্রদীপ জ্বেলে দিচ্ছে। এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্ম পর্যন্ত বুকের কাছে ঘাড় ঝুঁকে এলে আমি বুঝতে পারি, মানুষ ফাঁকা কিছু রাখতে চায় না ! বাড়ি বানায়, লিংটন তোলে ছাদ করে ও একটা স্পাইরাল সিঁড়ি নামিয়ে দেয়। হেমন্তের বিকেলে,
মানুষ ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে, মানুষ ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে। মানুষ ঘুরে ঘুরে নিচে নামলে সে একটু হাওয়া দেয়।
৭) গন্ধগোকুল
ঠাকুর প্রনামের মধ্যে এক গন্ধ থাকে। কোন এক ক্রিমের গন্ধ, মূলত শীত-প্রসাধনের শেষে যা
আঙুলকে ম্যারিনেট করে রাখে উষ্ণতা-ভিত্তিক লো-ডিগ্রীতে বা ঠাণ্ডায় আর
একদিন সেই ডিগ্রীর ভেতর, ঠাণ্ডার ভেতর, সান লাইট কলোনির গলির ভেতর বৃষ্টি পড়ে, যা
গলি ও তৎসংলগ্ন মানুষ গুলোতে কিছুটা ময়শ্চার বাড়ায় , খানিকটা মরচে ফেলে আর
আমায় চিন্নাপ্পা মন্দিরের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়!
আঙুল জড়ো করে প্রনামের সময় আমি বুঝতে পারি, একটু আগে ক্রিম মেখেছিলাম–মৃদু
তার গন্ধ নাকের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে!
৮) মশা
রোদের ভেতর দিয়ে মানুষ হেঁটে এলে একটু সিদ্ধ হয়, রোদের ভেতর দিয়ে এগিয়ে আসা মানুষের তাই অল্প স্বাদ হয় অল্প ব্যঞ্জন।
এই ভাবে দালানের কোনা, সিঁড়ির প্রথম দুই ধাপ, বারন্দার রেলিং যেটুকু গ্রীস্মে এসেছে, জানলার ফাঁক দিয়ে ফোটন কনা এসে লেগেছে শাদা কুলার এ।
অল্প স্বাদ হয়, অল্প ব্যঞ্জন। মশা হয়। মশা ওড়ে, সারাটা গরম কাল শুধু দুইটি মশা এমব্রয়ডারি তুলে নিখুঁত উড়ে ফেরে আমার ঘরে, এসে বসে! আমার আলোয় রাখা গ্রীষ্মে রাখা হাত, আবছা ঘাম আবছা সবুজ হয়ে ফুটে ওঠা শিরা ও ধমনী মশা দুইটি এসে বসে।
আমি দেখি, চামড়ায় বিবাহ এসেছে।
![]()