গোলাপ থাকে না কাঁটা থাকে
গোলাপ থাকে না কাঁটা থাকে
গোলাপ থেকে অজস্র পাখি ঝরছে কাঁটায়
যেন তুমি ঘুমুতে গিয়েছো তোমার হাতে
যেভাবে ডানার ক্লান্তি
গোলাপ থেকে অজস্র কাঁটায় ঝরে—
ফ্রাউ,
ঘুম নেই বলে—
পুরনো দিন দিয়ে গেলে
দেখালে বোতামের আঁধারেও বেঁচে থাকে কেউবা।
অতুল করের দেখা আঙুল পেলো কী না
এই যাত্রা তার হিসেব নিলোনা
গোলাপ থেকে অজস্র গান ঝরছে কাঁটায়
যেন তুমি শুকিয়ে গিয়েছো তোমার হাতে
যেভাবে গীতলতার রঙ
গোলাপ থেকে অজস্র কাঁটায় ঝরে—
ফ্রাউ,
সুর নেই বলে—
পুরনো ব্যথা দিয়ে গেলে
দেখালে পত্রমিতালির স্মৃতি নিয়েও বেঁচে থাকে কেউবা।
সোনালী ঘোড়ার শহর
এইসব ভিজে ওঠা মেলট্রেন
গতিহীন রেলওয়ে—
সিগারেট-রঙ কুয়াশায় উড়ে উড়ে ছোটে
বেমালা পানকৌড়ি—
শাপলাবীজ ঠোঁটে নিয়ে আসে
আহা!
জেরক্স রৌদ্রশালবনে—
প্রশ্নাতীত লেখপাতা ফেলে রেখে..
নগরের মানে শ্বেত পাথর নয়
ধাতব পাত ও অনেক ঝিনুকে
এদিকে বিদীর্ণ ভেস্পার গতি কাঁধে নিয়ে
হোমা পাখির ছায়া অধীরে লুকিয়ে নামে
বেমালা সরালিরা—
শালুক ঠোঁটে করে নিয়ে এসে
এক ও অযুত আমিগ্রাম ভেবে
ব্যান্ডেজে মুড়ে দিচ্ছে সোনালী ঘোড়ার শহর
এক মহান নারসিসিস্ট এর জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি
অসুবিধা হলে
হে মহান নারসিসিস্ট, কাঁদো তুমি
সকালতক, তোমার অস্তগত স্মৃতির এপিটাফ ধরে
লীডসের সবুজাভ সভ্যতার রাতে
এখানে লীডসে কোনো ভূমিকম্প নেই বলে
এইখানে অনিদ্র কাঁদছে একটা তারার ছেলেবেলা
অধীত জানালার স্বচ্ছতা মেখে ঘুমিয়ে থাকো বালিশ।
আমি পাহাড়তলি হয়ে এডেন উপত্যকায় তোমার ঘ্রাণেন্দ্রিয় উপচানো
কাকভোর মাখিয়ে নিচ্ছি চোখের পাতায়।
অথচ তোমাকে প্রিয়তম, আমি মিলিনিয়াম পার্ক নির্মানসালেই দা দিয়ে ফালি ফালি করে কবিতায় কবর রচে দিয়েছিলাম।
দূরদেশ, টিভিযন্ত্র বন্ধ, তবু বুকের মেট্রোওয়েভে নিষুতি রাতের একটানা গান শুনায় সবুজ-সভ্যতা, ওকে,
তুমি, আমি ও আমরা মিলেই একজন
এ শীতালু অন্ধতায়
আমরাই একে অন্যের হত্যাকারীকে ভালোবাসি আজ।
চতুর্দশপদী অ-কবিতা
ভূমিতল থেকে অংকুর দু’চোখ মেলে নিমীলনে
অপেক্ষা পুড়িয়ে, নির্মোহ বায়ুলীন— আলো উর্মিলে
অববাহিকায় সভ্যতার, রক্ত-শিলা ফুঁড়ে— উপলে
অতোটা শক্তি-সঞ্চার কে করে বীজশিশুর মনে?
রশ্মিবিদ্ধঃ সূর্য অরুণিমা পদচিহ্ন-ভাষা জেনে
মর্মমাধুরীতে সে— সবুজ প্রাণের খোলস খোলে।
এরা রক্তদ্রোণ— কী লোহিতাভ ধ্যানে, মেঘকৌশলে
জাদু— হৃদস্পন্দনের দিশা আনে প্রাণ-অক্সিজেনে!
আগুনে-মেশিনে যত রূপান্তর— মিহি আসবাব
মহীরুহ মেনে নিলো, অবয়ব মেটামর্ফোসিসে
কী মনীষা মানুষের; সুখ-উপযোগের সন্ধানে।
কাল ও ভূগোলের মানচিত্রে— প্রতিবর্গ হিসাব
নির্ণয়ে ভুল করে হে ভবিষ্যৎ— ভুগবে সিরোসিসে!
কৃতজ্ঞ করো মানুষ— থেকে যাও, বৃক্ষ-অন্তঃপ্রাণে।
অর্জুন
মালবেরিরা মুলজান নদীর পাড়ে—
দেখো থোকায়থোকায় ফেটে ফেটে যাচ্ছে
ㅤㅤㅤㅤ —মেষচোখী রোদে
লজ্জার সাইকেলে হিম এই শহরে
ব্যায়ামের শব্দে
যারা মাংসল বেজে যেতে যেতে একদিন
গাণ্ডিবে মেখে নিয়েছিলো মুমূর্ষা
হুংকারের হুলিয়া ঝুলিয়ে জানিয়েছিলো—
‘সামনে বিপজ্জনক বাঁক’!
রক্তদ্রোনের দিন আজো
ক্লিশে সব স্মৃতি কর্পোরেশন
ম্লান মালবেরিদের বন,
আততায়ী হেরে গেলে—
সেসব বেরিদের বর্ণ আজ মনে নেই।
![]()