বাংলাদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা

বাংলাদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা

সাম্প্রতিক সময়ে পত্রপত্রিকা ও সোশাল মিডিয়া জুড়ে বাংলাদেশে যে জ্ঞান-বিজ্ঞান বা বিদ্যা চর্চার নিয়ে প্রচুর লেখা দেখেছি। বাংলাদেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার সুবাদে আমার মনে হয়েছে যে অনেকেই পশ্চিমা পদ্ধতিতে বিদ্যার চর্চার সাথে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে চর্চা হচ্ছে, তার যে পার্থক্য আছে, তা বুঝতে পারেন না। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক জ্ঞান চর্চা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। যে বিষয়টাতে বাংলাভাষীদের সবচেয়ে দখল, “বাংলা ভাষা”, সে বিষয়েও জ্ঞান চর্চা সেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক নয়।

তাই বাংলাদেশ জ্ঞান বা বিদ্যা চর্চা যে হচ্ছে তার উদাহরণ খুঁজতে গেলে তা বাংলাদেশের  বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর ভেতরে খোজার পাশাপাশি বাইরেও অনুসন্ধান করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীরত অবস্থাতেই কাজ করেছেন। কিন্তু আরেকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আহমদ ছফা অবস্থান করেছেন বাইরে।

হুমায়ূন আজাদ ও আহমদ ছফা দুজনের কাজই বাংলাদেশের সমাজ ও চিন্তার কাঠামো পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে তাদের কোন অবস্থান নেই।  তাদের লেখা কোন পিয়ার রিভিউ জার্নাল প্রকাশ করেনি। প্রকাশ করেনি কোন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রকাশক। তাতে বাংলাদেশের কিছু যায় আসে নি। নানা কারণে তারা পরিচিতি পেয়েছেন ও তাদের চিন্তা ও প্রভাবকে অন্যদের মধ্যে বিস্তৃত করতে পেরেছেন।

তাই বাংলাদেশে জ্ঞান চর্চা অনুসন্ধানের জন্য প্রথাগত মানদণ্ডের বাইরে চিন্তা করতে হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা কাঠামোতে আসুক বা না আসুক, বিবেচ্য প্রশ্ন হলো আদৌ বাংলাদেশে কোন ধরণের গবেষণা বা চিন্তার বিকাশ ঘটছে কিনা ও তাতে বাংলাদেশের কোন ভাবে উপকৃত হচ্ছে বা প্রভাবিত হচ্ছে কিনা।

পর্ব ২
আমি যারা বাংলাদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান বা বিদ্যা চর্চার বিকাশ দেখতে চান তাদেরকে তিনটি ভূমিকা পালনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলবো। প্রথমত: নিজে বাংলাদেশে ও বাংলা ভাষাতে নতুন কাজ করে উদাহরণ সৃষ্টি করা, দ্বিতীয়ত: অপরের কাজ যথাযথ মর্যাদার সাথে পাঠ ও প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টা ও তৃতীয়ত: গুরুত্বপূর্ণ কাজ খুঁজে পেলে তার যথাযথ প্রচার। এই তিনটা কাজ করতে পারলেই আমার অনুমান যে অনেক সমস্যাই মিটে যাবে। বাকি অপূর্ণতাগুলো মিটবে সময়ের ধারাবাহিকতাতে।

বাংলাদেশে ও বাংলা ভাষাতে নতুন কাজ করে উদাহরণ সৃষ্টির ব্যাপারটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। এই বিষয়টা আসলে আত্ম-জিজ্ঞাসার মতো। আগে তো করে দেখাতে হবে, তার পরে দাবি রাখা যাবে কৃতিত্বের। এই নতুন কাজের মধ্যে আছে নতুন চিন্তা, সমাজ, অর্থনৈতিক ভাবনা, বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও নানা ধরনের গবেষণা। এই কাজগুলো প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে জার্নাল বা অনলাইন প্লাটফর্মগুলো। 

তবে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝা দরকার। বাংলাতে কাজ প্রকাশ না করলে সে কাজের অবদান ও প্রভাব বাংলাদেশের ভিতরে খুবই কম হয়ে থাকার কথা। যেমন পার্শ্ববর্তী দেশের অনেকেই ইংরেজিতে লিখে ও গবেষণা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন হয়েছেন। কিন্তু দেশের ভিতরে মানুষের চিন্তা ও ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের কাজের প্রভাব নেই বলেই মনে হয়। তুলনাতে দেখা যাবে যে জাপান-চীন-কোরিয়ার এরকম কারো নাম আমাদের জানা নেই। কিন্তু তাদের দেশের ভিতরে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে। তা না হলে সে দেশগুলোর এরকম পরিবর্তন হলো কি করে? 

দ্বিতীয়ত: গুরুত্বপূর্ণ অপরের কাজ পাঠ ও তার গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টা। বিদ্যার যারা ভোক্তা অর্থাৎ পাঠক, বিশেষ করে বোদ্ধা পাঠকদের কিছুটা হলেও উদারতা থাকতে হবে। মানুষের যেমন ত্রুটি থাকে তেমনি থেকে লেখক, চিন্তক,গবেষকদের কাজেও। ত্রুটিটাকে যখন বড় করে দেখা হয় তখন অবদান চাপা পড়ে। ফুটবলার ম্যারাডোনার কথা ভাবুন। তার তো ত্রুটির শেষ নেই। কিন্তু তাই বলে তো অস্বীকার করা যাবে না যে ফুটবল মাঠে তার চেয়ে সেরা নৈপুণ্য কেউ উপহার দিতে পারেন নি।

আমার মনে হয়েছে কাজের গুরুত্ব অনুধাবনের চর্চাটা বাংলাদেশে নেই। থাকলেও তা বেশ সীমিত। এই নিয়ে কাউকে দোষ দেবার উপায় নেই কারণ এটা অনেকাংশে স্বভাবে পরিণত। এর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রচারের অভাবের বিষয়টা যা আমি তৃতীয় করনীয় হিসাবে উপরে উল্লেখ করেছি। বোদ্ধা বিশেষজ্ঞ পাঠক নতুন কাজের ভালো মন্দ অনুধাবন করেন, কিন্তু কতদূর ভালো তা বোঝেন না বা সেভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। এর একটা সহজ উদাহরণ হলো জীবনানন্দ দাশ। আমার কাছে খুবই হতাশা জনক মনে হয় যে তাকে এখনো রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা ভাষার সেরা কবি বলা হয়। এটা তাকে অপমানের মতো। যেমন ম্যারাডোনাকে আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় বলাকে, যে আসলে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের প্রথম দুই একজনের মধ্যে। আমরা যারা ইংরেজি সাহিত্যের দুই একটা কবিতা পড়েছি তারা জানি যে, জীবনানন্দ দাশ ইংরেজি ভাষার কবি ইয়েটস, কিটস ও অন্যান্যদের কাছে ধার করেছেন। কিন্তু তাদের তিনি অতিক্রম করে বহুদূর চলে গেছেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই। যেমন, অনেকে বনলতা সেনের সাথে এডগার অ্যালেন পোর `টু হেলেন` কবিতার মিল পান। মিল আছে সত্যি কিন্তু এটাও বুঝতে হবে যে বনলতা সেনের তুলনাতে `টু হেলেন` কবিতাটা অনেক দুর্বল।

জীবনানন্দ দাশকেই যেখানে আমরা মূল্যায়ন করতে কার্পণ্য করি সেখানে অন্যদের কি অবস্থা সহজেই অনুমেয়। লেখকদের মধ্যে এজন্য হয়তো বিকল্প পথ অনুসন্ধানের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ইংরেজিতে লিখছেন বা লেখার ইংরেজি অনুবাদের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘটনাচক্রে যদি একটা-দুইটা আন্তর্জাতিক পুরষ্কার জুটে যায় রবীন্দ্রনাথের মতো, তবে যদি নিজের দেশের লোক লেখাগুলোর গুরুত্ব কিছুটা বুঝে?

রবীন্দ্রনাথের মতোই এরকম বাইরে থেকে খ্যাতি আমদানির ঘটনা ঘটেছে সত্যেন বসুর ক্ষেত্রে। সত্যেন বসু আইনস্টাইনের কাছে তার কোয়ান্টাম মেকানিক্স  বিষয়ক প্রবন্ধটা পাঠিয়েছিলেন ও আইনস্টাইন সে লেখা প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই থেকে আমাদের কাছে তিনি খ্যাতিমান। সম্প্রতি সেই প্রবন্ধটা আমার স্কুল জীবনের বন্ধু রেজওয়ান সিদ্দিকী বাংলাতে অনুবাদ করেছে ও তা প্রকাশের অপেক্ষাতে আছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স সে সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের নতুনতম শাখা ছিলো। তাই সে কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী ভিন ভাষার ও ভিন দেশের দ্বারস্থ না হয়ে উপায় ছিলো না। এখন ধরা যাক যে সত্যেন বসু আমাদের সময়ে কাজ করছেন ও তার লেখাটা কোন দেশীয় গবেষণা পত্রিকাতে ইংরেজি ভাষাতেই প্রকাশ করলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পি এইচ ডি ডিগ্রী ধারির অভাব নেই। তারা পদার্থ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন ও এরকম লেখার মর্ম বুঝতে সক্ষম। কিন্তু সত্যেন বসু কোন দেশীয় গবেষণা পত্রিকাতে ইংরেজিতে লেখাটা প্রকাশ করলেও তারা গুরুত্ব দিতেন না, যেহেতু এই চর্চাটা নেই। বাংলাতে প্রকাশিত হলে তো আরো না।

এবার সত্যেন বসু কি লিখেছেন তা একটু খতিয়ে দেখি। তিনি প্রথম প্যারাতেই লিখেছেন যে, পদার্থ বিজ্ঞানের একটি সূত্র নির্ণয়নে পূর্ববর্তী সবাই ভুল করেছেন। এমনকি আইনস্টাইন পর্যন্ত সে ত্রুটি থেকে মুক্ত নন। তাই তিনি একটি নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব করছেন। এরকম ভাবে একটা লেখা শুরু হলে, পাঠকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত আদৌ সত্যেন বসু তা করতে পেরেছেন কিনা খুঁজে দেখা। আইনস্টাইন তাই করেছেন। আইনস্টাইন ও সত্যেন বসু দু’জনেই জানেন যে, সত্যেন বসুর লেখাটা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী কিন্তু সেই উচ্চাভিলাষ নেতিবাচক কিছু নয়। আইনস্টাইন সত্যেন বসুর কাজ প্রচারের ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রবন্ধের শেষে তার একটা ছোট মূল্যায়নও দিয়েছিলেন।

কিন্তু আগেই বলেছি যে বাংলাদেশিদের মধ্যে এভাবে পাঠের চর্চাটা নেই। উচ্চাভিলাষী কাজ হয়তো অনেকেই করে থাকেন, তবে সেগুলোকে সেভাবে মূল্যায়িত করে হয় না, মানে লেখার উচ্চাভিলাষটা বোদ্ধা পাঠক ধরতে পারেন না। তাই সে কাজগুলোর সঙ্গে অন্যদের ও নতুন প্রজন্মের পরিচিত হবার সুযোগ ঘটে না। সে কাজগুলোর তাই হয়তো যাকে বলে আঁতুড়েই মৃত্যু ঘটে। বিদ্যার চর্চাকে একের পর এক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে হয়ে ওঠে না।

তাই আসুন এই তিনের চর্চা শুরু করা যাক।

পরবর্তী পর্বে আরো কিছু বিষয়ে আলোচনা করবো। আমি লেখাগুলো শুরুর আগে মোহাম্মদ আজম, সৈয়দ ইফতেখার আহমেদ, সৈয়দ নিজার ও মাসুদুল হকের সাথে নানা সময়ে কথা বলে উপকৃত হয়েছি। এছাড়া যারা আগের পর্ব প্রকাশের পরে তাদের মতামত জানিয়েছিলেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

পর্ব ৩
এই পর্বে আমি আরো কিছু বিষয়ের উপরে আলোকপাত করবো যা আগে করা হয়নি। আগের পর্বে করা কিছু মন্তব্যের ভিত্তিতেও আমার মতামত এখানে প্রকাশ করছি।

প্রথমে আন্তর্জাতিকতার প্রসঙ্গ। আমি বাংলাদেশের ভিতরে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারের কথা বলছি। তার মানে এই নয় যে আন্তর্জাতিকতা পরিহার করতে হবে। বর্তমান সময়ে যখন সারা পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযুক্ত ও বাংলাদেশের বহু গবেষক (আমি নিজে সহ) দেশের ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থান করছেন, সেখানে আন্তর্জাতিকতা পরিহারের পরামর্শ দেয়া অঙ্গহানির পরামর্শের সমতুল্য। আমি বরং সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলছি, কমাতে নয়। আমি বলছি যে বাংলাদেশে ও বাংলা ভাষায় জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কিত যে কাজগুলো হচ্ছে তার গুরুত্ব নিজেরাই বিবেচনা করে দেখতে। সে কাজগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গুরুত্ব থাকুক বা না থাকুক। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে তো আরো ভালো। আমি আরো বলছি যে, একটি নবীন দেশ হিসাবে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে অনেক দুর্বলতা থাকতে পারে। কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে ভুলটাকে বড় না করে দেখে বরং অবদানকে বড় করে দেখার প্রবণতা তৈরি করা দরকার।

পূর্বের পর্বে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করার জন্য। এমন ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য অনেক সময় লেগে যাবে। যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা বদলের পরামর্শ না দিয়ে আগে আসুন নিজকে বদল করা চেষ্টা করতে পারি কিনা। যে তিনটা করণীয়ের কথা উল্লেখ পূর্বে করেছি, সেগুলো সে লক্ষ্যেই। আমাদের নিজেদের আচরণের পরিবর্তন থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন শুরু হতে পারে।

পিয়ার রিভিউয়ের কথা কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। যেকোনো নতুন কাজেরই যাচাই বাচাই ও পর্যালোচনা দরকার। পিয়ার রিভিউ জার্নালের ক্ষেত্রে প্রকাশের আগে তা হয়ে থাকে। আবার আজকাল পিয়ার রিভিউয়ের বাইরে প্রকাশ করাও সহজ হয়ে পড়েছে। সে রকম প্রকাশনার গুরুত্ব বিবেচনা প্রকাশের পরেও ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ার রিভিউ এমনকি কোন সম্পাদনার মধ্য দিয়ে যায়নি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ `বিট-কয়েন পেপার` যা থেকে ব্লক চেইন প্রযুক্তির সূচনা। আরেকটি উদাহরণ হলো, গ্রিগরি পেরেলমানের গাণিতিক কাজগুলো যার জন্য তিনি মিলেনিয়াম পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি তার গবেষণা প্রবন্ধগুলো আর্কাইভ নামক একটি অনলাইন প্লাটফর্মে সরাসরি আপলোড করেছিলেন। পরবর্তীতে সে লেখাগুলো অন্যান্য গণিতবিদরা যাচাই বাচাই করে দেখেছিলেন। তবু পিয়ার রিভিউতে একেবারে প্রকাশ না করতে পারাটাও কোন কাজের কথা নয়। পিয়ার রিভিউতে প্রকাশ হলে যারা বিশেষজ্ঞ নন, তারা সে কাজগুলো ও ব্যক্তির উপরে আস্থা রাখতে পারেন। এ কারণেই হয়তো আজকাল কিছু দেশে পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য অনুদান পেয়ে থাকে। উপরে আলোচনার ভিত্তিতে তাই আমি মনে করি পিয়ার রিভিউ এবং অন্যান্য প্রকাশনা পাশাপাশি চলতে পারে। যারা জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করছেন, তাদের শুধু মনে রাখা প্রয়োজন যে, পিয়ার রিভিউ জার্নালগুলো গবেষণা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম, কিন্তু আরো মাধ্যম আছে।

আমি যে তিনটি করনীয়ের কথা উল্লেখ করেছি তার সাথে জড়িত আছে, রেফারেন্স প্রদান করার বিষয়টা। এই বিষয়টা আমি আগেও একটা পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম। জ্ঞান বিজ্ঞান কে অগ্রসর করার জন্য বারবার নতুন করে শুরু করার দরকার নেই। পূর্বের কাজকে ভিত্তি ধরেই নতুন কিছু করা যেতে পারেন। যেমন, আমি তিন করণীয়ের কথা উল্লেখ করেছি, তার ভিত্তিতে অন্য কেউ আলোচনা এগিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে এই পোস্টগুলোকে রেফারেন্স হিসাবে উল্লেখ করে শুরু করাই বাঞ্ছনীয়। এছাড়া অন্যের সাথে কথা বলে বা আলোচনা করেও নতুন কাজ শুরু হতে পারে। তার স্বীকৃতি দেবারও প্রয়োজন আছে। যেমন আমি আমার আগের পর্বে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছিলাম। এই পর্বের শুরুতেও অন্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করেছি আমার চিন্তাতে।

বাংলাদেশে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা বিষয়ক আমার আলোচনার এখানে সমাপ্তি  টানছি। যারা আগের পর্বগুলোতে তাদের মতামত জানিয়েছিলেন, তাদেরকে আমার ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এই পোস্টগুলোতে আপনাদের সাড়া দেখে আমি অভিভূত!

এই লেখাটির সূত্র লেখকের নিজস্ব ফেসবুক দেয়াল। প্রকাশিত হয় ২০-২২ ডিসেম্বর, ২০২০ সময়কালে

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar