ভূমিতে টান
প্রথমে আমি
প্রথমে আমি দোজখে যেতে চাই,তারপর না হয় বেহেশ্তে—পুরাটাই অন্ধকার, মাঝে শুধু ছোপছোপ আলো। খানিক আলো পুরা অন্ধকারকে মূর্ত করে। অন্ধকারকে আরো উজ্জ্বল করে। পুরাটাই আলো, মাঝে শুধু ছোপছোপ অন্ধকার। অন্ধকার আলোকে ঢাকে না এমনকি আলোর প্রকাশে অন্ধকার কোন ছাপ রাখতে পারে না। হিরাক্লিটাস যখন বলেন—একই নদীতে দুইবার অবগাহন করা যায় না তখন বুঝে নিতে হয়—ইহা দ্বারা হিরাক্লিটাস বহুগামিতাকে সাপ
ওই দ্যাখা যায় ওই পীনোন্নত স্তন
এইখানে শুয়ে আছে মৃত মানুষেরা
দুই ঠ্যাঙ উঁচু, নিতম্ব উল্টানো
হায় খুলি তাদেরই, নদির পানিরা
জানে গড়ায়, কোথায় বা, কচুরিপানা
মুখ লুকায়, নৌকা তবু ক্ষণিক টাল
সামলায়ে, স্রোত উপেখিয়া নিজ কথিত
স্বপ্নাদেশে হুলস্থুল আয়োজন পালের
নিমজ্জিত হাহাকার, মাঝির চিৎকার
হায় দোকান কেবল বিনিময় হায়
সঙ্গম তবু রতি তৃপ্ত অজ্ঞানে ধায়’।
৭ বৈশাখ ১৪১৯ বাঙলা
মিথস্ক্রিয়া ও রাষ্ট্রের সমকামিতা
একটা চুম্বন গড়ায়ে পিছলে যায় আমাদের ঠোঁটের গিরিখাঁদ দিয়া—চুম্বনটা যদিও অভিবাসি য্যামন ‘ইসলাম’ শরণার্থি হবে না অভিবাসি, মসজিদগুলি জানে না—হয়তো জানতে জানে না—
দূরকল্পনায় তুমি ভর করে থাকো আমাতে—
চুম্বন ঘিরে শুয়ে থাকি আমরা, ইতিহাস দলিতমথিত।
২৪ বৈশাখ ১৪২৩ বাঙলা
ভূমিতে টান
কোথাও কেউ নাই, বাতাশেও নাই আকাশেও নাই
কোন মুখ, মানুষের মুখ
যারা আমারে নিয়া কোনদিন করিবে না খ্যালা
আমার স্তন ভাঙিবে না নিজ হাতে
শুধু যৌনতা খাইবে না
করিমেররহিমের চা দোকানে
অনেকদিনপর অনেকদূর হেঁটে গিয়ে যাই হারায়ে আমি
যেখানে উপত্যকার পিঠ ছুঁয়ে নারীর শরির জাগিবে না
জাগাবে না কোন সাহিত্য, লেখক আর ইতরশিল্পের দল
দেখিবো না নিজ চোখে নিজ স্তনের বহিঃপ্রকাশের ভারছল
নিজেকে ছুঁড়ে দিবো না, নিজেকে ছিঁড়ে দিবো না
নিজেকে ফেঁড়েফেঁড়ে ফসিলে প্রত্নতত্ত্ব বা যাদুঘর
ঘৃণা করেছি ,বমি করেছি
হাতপা গুটিয়ে নিয়েছি
আর কুন্ডলিপাকায়ে নিজের নাভির ভিতর গ্রথিত হইতে গিয়ে
আবার আমি কুকড়েমুকড়ে উঠেছি, নুনহাতে মুখ ঢেকেছি –
এ্যাইসব খ্যালা আমাকে দিয়ে অনেক হয়েছে—
অনেককক
হাতের রেখায় সন্তানের দাগ মুছে আমিও হইতে চাই হন্তারক।
প্যারাডকস
সে আজান দিতো প্রতিসোমবার
যেন বা সে ফিরে আছে, আমার অঞ্চলে
প্রতিবৃহস্পতি সেজদায় ন্যায়, আমার অধর
যেন বা দ্রবিভূত এ্যাই আমি—
আজান দিতে চায়, অনেকে—কিন্তু আমি আর মসজিদে ঢুকি না।
সকল শুণ্যতা কোন না কোন শূণ্যতাকে ধারণ করেই ধারক হয়ে উঠে—আমি শিখেছি রোদে গলে যাওয়া পচা পৃথিবির কুসুম ফাটিয়ে—
[এই পোস্টে কবির নিজস্ব বানান রীতি বজায় রাখা হলো]
![]()