শহরে এমন কিছু ঘটে
শহরে এমন কিছু ঘটে
শহরে এমন কিছু ঘটে- যার ব্যাখ্যা মেটাফিজিক্যাল
তখন হয়ত ভোর- ধারে-কাছে হক সাহেবের বাড়ি,
ঢালু উঠে গিয়ে উঁচু, তারও একটু পর কালো ছোপ একটি বিড়াল
পরকাল থেকে এসে পার হচ্ছে অবৈধ সড়কপথ, শুধু একটা গাড়ি
আর কিছু নয়ত- হয়ত- আরও কিছু, মৃদু অশালীন
ফোন বেজে ফোন কেটে যায়- কথা আর-কথাতে উধাও
শ্বাসরোধ হয়ে, এ শহরে এমন কিছু ঘটে প্রতিদিন
বিড়াল একটু পর বিড়ালের ছায়া- কালো ছোপ- হয়ত সাদাও…
লোকে কেন কনডম কেনে
শুনেছি, লোকে আমার বই কিনছে না, আমিও কিনছি না
কাল দেখি একজন এক প্যাকেট কনডম কিনছেন
নতুন জামাই হেন হাসি তার মুখে, তাই দেখে
আমিও কিনলাম এক প্যাকেট কনডম প্যান্থার আঁকা
দেখি একজন ব্লাউজের মাপ দিচ্ছে দর্জির দোকানে
মনে হল, আমিও না হয় যাই ব্লাউজের মাপ দিতে
কিন্তু দর্জি বলল: আপনার দুধ নাই, স্তনের বিকাশ
স্যার অত তো সহজ না, আপনি বরং পাশের দোকানে
যান, হেথা আন্ডারওয়্যার আছে নানান মাপের
অতঃপর আমি আন্ডারওয়্যার কিনলাম প্যান্থার আঁকা
দেখি আরেকজন, জার্নালিজম করে মনে হল, তিনি
গোলাপ কিনলেন একগুচ্ছ মোটামুটি সস্তা দরেই
আমিও কিনলাম একগুচ্ছ গোলাপ, কিন্তু শুনলাম
এসব গোলাপ নাকি এসেছে শহীদ মিনার থেকে
কি করি, কি করি, দেখি লোকটা গোলাপগুলিকে
খেয়ে ফেলল চিবিয়ে, শহিদী গোলাপ খেয়ে ফেললে লোকটা
আমিও খেলাম সবকটি জ্যান্ত গোলাপ কাঁটাসহ
যদিও শুনলাম যারা আন্ডারওয়্যার কেনে, তারা রাজনীতি করে
আমি তা করি না, তবে আমি হস্তশিল্প হিসাবে কবিতা বানাই
কিন্তু কবিতা, বিশেষত অধুনা নতুন বাংলা কবিতা
যা কোন কাজেই আসে না। এ ছাড়াও যেহেতু আমি
স্তন বিকাশে ব্যর্থ, এবং কস্মিনকালেও আমার দুধ ঝরবে না,
ফলে, আমাকে মা বলে ডাকবার সম্ভাবনা নাই, তাই সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে
আমি কনডম গলিয়ে নিই আলগোছে রাত ভোর হলে।
বাহ! বেশ তো এ আলট্রাথিন আরাম এই ভূত-ভবিষ্যৎহীন খণ্ড-টুকরায়?
এইভাবে আমি আমারই বীর্য সংগ্রহ করি আধুনিক কৃৎকৌশলে
তবে আমি আরও শুনেছি যে বীর্যও রফতানি চলে…
এখন আমি বুঝি লোকে কেন বই কিনছে না
জ্যামিতি
কমলাটা পড়ে আছে ঐ কমলাটা
টেবিলের ওপর পড়ে আছে কমলাটা
কমলার ছায়াখানি কমলা না বটে
কমলা যদিও তার ছায়াটিকে ধরে
বিশ্বজগৎ রাখে বিশ্বের আড়ে,
কেউ কিছু বলছে না এসব ব্যাপারে।
শাণ দিচ্ছে ছুরি নাকি- শাণই ছুরিকে
দিচ্ছে ঘষা-তাপ-চাপ ফিরিয়ে ছুরিকে,
তার ফলে কমলা- এখনো কমলা
টেবিলের পরিধির ভিতরেই বসা
একে যদি পড়ে থাকা বলি কমলাকে
অন্দরমহলে কোয়া- মাদাম বুভোয়া?
কেন তাকে টেনে আনি সাত্রে জানেন,
জানলে জানুক- কমলাই কমলা
ভিতর হয়ত নাই, পুরাটা উপর মহলা!
π
পাই-পয়সা না গো- অথবা যা পাই আমি তোমার নিকট
তাও নহে, এহ পাই ধাঁধা অতি, বড়ো খট্।
রহস্যের যে ধ্বনিতে হস্ উচ্চারি
তারপরই ঢালু বলে নিচে নামতে পারি।
বৃত্ত নয়- ব্যভিচারী? তা বলি কেমনে?
হাঁটে, ছোটে, চম্পট মারে গৃহকোণে
গৃহ কোথা? ত্রিজাহান নিরেখ নিশীথ উদাসীন
পরকাল বসে থাকে বর্তমানকালের অধীন।
ফরিদের জন্যে
যদি নেশা চটকে যায় ফের
সব দোষ তবে ফরিদের!
ও কেন ইতালি গেল? নাভান্নায়?
আবার তো সবোতল মূর্ছনাও গায়!
কে বলেছে যেতে? না গেলে কি হ’ত?
অছিলা ছাড়াই প্রভু হলেম বি-গত?
আমি সবিয়ান- ধুলার সমান- র’নু একা
নেশা ছুটে গেছে- দে, ফরিদ দেখা
ফের বাংলাদেশে- সুশীল সভাতে
পাঁচানি বাজার থেনে একটু তফাতে
বসে গান ধরি:
ওলো, বান্দরী… চান্দের- বিন্দু যে নাই
ক’ এহন- ক্যায়সে বিয়াই…!
ভেজা বেড়াল
বৃষ্টিকাতর গাছ
ঠিক নিচে বেয়াক্কেল এক বিলাই
ভিজছে ভিজছে
ভিজুক
কারোর- সর্বনাশ হলে
এমনকি সর্দিও
কেউ যদি পিছলে নামে দেবীর মজা-ঘাটে
আমার বেশ লাগে
আমার দেশ যেমন–
তেমন তেমন লাগে
আমার দেশ কেমন?
ভেজা বেড়াল যেমন!
[কবিতাগুলি কবির ‘সহজ শোভাদি বাংলা কবিতা’ (মেঘ, ফেব্রুয়ারি ২০১৮) শীর্ষক গ্রন্থের ‘অগণিত গণিত মাধুরী কণা’ অংশ থেকে পুনর্মুদ্রিত হলো]
![]()
4 Comments
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.
মোঃ রাকিবুল হাসান
সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী
জোহান
আপনার লেখা ফেসবুকেও পড়া হয়
বশির আহমদ
অসাধারণ
মোঃ আবু মুনিফ আল মুকিম।
nice . go ahead