ঘাসের দ্বীপের সবুজে

ঘাসের দ্বীপের সবুজে

আমাকে বলতে দাও

পাথর পাথরই হতে চায়
বাঘ হতে চায় বাঘ।

আমাকে বলতে দাও
ফুলকে ফুল আর
গাছকে গাছ।
বলতে দাও
সব সবুজ সবুজ নয়
সমস্ত গোলাপের মুখে রক্ত থাকে না।

আমাকে বলতে দাও
সুজলা সুফলা হয়েছে মলিন।

কাকতাড়ুয়া

মিষ্টি রোদের নরম আলো।
ধানক্ষেতে একটি সুন্দরী মেয়ে দেখা গেলো।
মেয়েটি অস্পষ্ট না।
সবুজ ধানক্ষেত, লালচে রোদ, কাচ কাচ আকাশ।
রিক্তবাহু গাছ — মেয়েটি বেশ।
কাকতাড়ুয়ার সঙ্গে খেলা করছে একটি মেয়ে,
ধানক্ষেতে একটা মেয়ে ঘুরছে।
কাকতাড়ুয়ার সঙ্গে অভিসার।
ধানক্ষেতের ওপর টেলিগ্রাফের তার।
মেয়েটি শ্যাওড়া গাছের পেত্নী নির্ঘাৎ।

কাকতাড়ুয়া ধানের ক্ষেতে কাক তাড়ায়,
কাকতাড়ুয়া দু হাতে নিজের লিঙ্গ মুঠো করে ধরে
হেল্প, হেল্প বলে চিৎকার করে।
হেল্প! হেল্প!
কাকতাড়ুয়া ধানের ক্ষেতে কাক তাড়াতে তাড়াতে
মেয়েটার কাছে এসে নিজের লিঙ্গ মুঠো করে ধরে,
হেল্প, হেল্প বলে সাহায্য চায়।

একঘেয়ে

সেই একঘেয়ে। একঘেয়ে লাগছে। সব কিছু একঘেয়ে লাগছে।

আজ যেমন লাগছে, সেদিনও একঘেয়ে লেগেছিলো।
সকালে ঘুম থেকে ওঠা একঘেয়ে মনে হয়েছিলো।
অফিস একঘেয়ে মনে হয়েছিলো।
রাত্তিতে শুয়ে পড়া একঘেয়ে মনে হয়েছিলো।
ভ্রমরের পাশে এসে গড়িয়ে পড়া একঘেয়ে মনে হয়েছিলো।

সব কিছু একঘেয়ে মনে হচ্ছিলো, সব কিছু অসহ্য মনে হচ্ছিলো।

ধারাবাহিক অরুচিকর একঘেয়ে। আজও যা, কালও তা।
একটা একঘেয়েমি নিয়ে আমার দিন রাত্রি কাটে।

ঘাসের দ্বীপের সবুজে

ইটের খাঁচায় বন্দিনী গোলাপ।
সবুজ জাজিমে ঘাসের প্রলাপ।

আমার বাগান আছে,
ফুল বেচে অনেক টাকা রোজগার করি।
আমার গোলাপ রইলো তোমাদের কাছে,
আমি এখন ফিরে গিয়ে আমার বাগানের
গোলাপগুলির একটু দেখাশোনা করি।

সবুজ জাজিমে ঘাসে ইটের পা-তোলা হলদে ছোপ।
ঘাসের দ্বীপের সবুজে স্বপ্ন দেখতে বসি।
আমি একটা ছোট্ট বাগান করছি।

তোমার বিশ্ব

তোমার মুখখানাও কি একটা ঘড়ি,
ওখানে কি সময় লেখা আছে?
তুমি চোখ ঘুরিয়ে নিয়েছো, মুখ ঘুরিয়েছো,
কিন্তু ছোট্ট রুমালে বারবার কপাল মুছলে কেন।
ঘড়ির কাচটাই মুছলে নাকি,
সময়টাকে আরও ভালোভাবে পড়া যাবে বলে?

তোমার মুখটা সত্যিই আর ঘড়ি নয়,
সেখানে সময় লেখাও নেই।

ভেঙ্গে গেছে ওই ঘড়ি
আর সময়ের সঙ্কেত জানাতে পারবে না।
এবার সব সময়ের জন্য তুমি আমার।
তোমার বিশ্ব এখন আমারময়।

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar