কফি দিবসের কবিতা
প্রেম নেই
চমনবাগ কেমন?
রাসুলের দুঃখের ভারের কাছে জেনে নাও
প্রস্ফুটন কেমন?
আনুনাকির সম্ভাবনায় ঘুরে আসি সমস্ত যমজাঙ্গাল
ডেলিরিয়াম নদী কেমন?
ভেজিটেরিয়ান ভ্যাম্পায়ারের করুণাগুচ্ছ
মানুষের স্মৃতির ভিতর
অসংখ্য ইসমত, লামাসু ও বৃষ্টিভার পাগলের পিছে পিছে ঘুরে বেড়ায়
যদি তোমার দেশে দুফোঁটা চোখের পানি ফেলে আসি
সাইবার বুলিং বলবে
অযোগাযোগ
শ্লেটে মাতৃত্ব লিখতে ভিসা লাগে না
স্পার্ম কমে আসা দুপুরগুলো বরং ঘুমাক চকের গুড়ায়
নিজস্ব বলে হয় কিছু,
যখন মৃত সারেঙ দরিয়ায় আঁকড়ে থাকে ফুয়েলের কন্টেইনার!
এসিড বৃষ্টির আকাশে শ্লেটে ফুটে আছে
প্রতিবন্ধী শিশুর ইশারালিপি
পুনর্বাসন
কুস্তির আখরায় নিজেকে প্রস্তুত করো
আখরার ধুলোবালি হয়ে তেলের শিসি হয়ে
লক্ষ করো প্রতিটি দাহমুদ্রা, জগৎচূড়ার কৌশল
লক্ষ করো ভাটার টানে ভেসে যাওয়া
ঘুমন্ত বাঘ ও হরিণপালের জন্য ক্রিপ্টো মার্ক্সিস্টের সমবেদনা
ইনভার্টেট কমার বাইরে নিজেকে প্রস্তুত করো
যেন তোমার ঘাতক চাহনিতে জাতিবাদ, লিবিডো ও পূর্বজনম
একইসাথে উঁকি দেয় রাজনৈতিক পুনর্বাসনের দিনগুলোয়
বাঁচা
আরও কিছুদিন কালাশনিকভ এঁকে মুছে ফেলব আমি
ঋণে জব্দ মাছের হ্যাচারির চালে যেমন
ভোঁদড়ের ছানারা ঘুরে বেড়ায়
পাহাড়ে আদিবাসী ভাষাটি যেমন অপেক্ষায় থাকে
রাষ্ট্রের স্বীকৃতির, নইলে নিশ্চিহ্নে যাবে
শয়তানের মনের ভিতর দশ দিকপালের উঁকি এড়িয়ে
আরও কিছু বর্ণিকাভঙ্গ বাতাসে ছড়িয়ে দিব
যেমন মিডিয়া ট্রায়াল চেয়ে আছে
মাতাল জলহস্তী ও সোশ্যাল লিঞ্চের দিকে
তিতির দম্পতির একে অন্যকে খাইয়ে দেয়ার মতো
সহজ নয় কেন এ জীবন!
শাখী
অসমাপিকায় যত চলা তোমার
তার সন্ধ্যারতি জুড়ে আমি থমথমে মুকুর হয়ে ভেসে চলেছি
গান্ধর্বলোকে একেই বলে
জোড়া মাথার খুলিতে জলমুখর পায়রা?
চিতাবাঘসম্ভব চাঁদের হাড়ের পাশে
তুমি আমার একমাত্র সুস্থতা
শ্রুতি, ঝিনুকের নৌকায় ঘুমিয়ে পড়ো
মারা গেলে আমাদের তো আলাদা কবরেই রাখা হবে
ঋক্ষহার
দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ফারসি যখন ম্রিয়মান,
সিপাহী বিদ্রোহের মশাল ফিকে হয়ে গেছে,
ব্রাহ্ম সমাজের নকশি খিরকি গলে ক্রমশঃ আসছে
লাল সাহেবদের অপরাহ্ণ ও বাইজিরিক্ত বাবু কালচার,
মনিকর্ণিকার ঘাটে তখন
স্বদেশীভীতু এক দেওবন্দী পবনের সাথে
শ্মশানফিরতা এক কলিঙ্গ প্রতাপের
হলো অংশত গোধূলির বিনিময়…
এই উর্দু কবিতার অন্ত্যমিলে, তার শৈবলিনী চোখে
আমরাই বুনেছি অতীতের মৃত্যু, জাতীয়তাবাদ!
ঝড়ে মরা পাখির ঝাঁক আকাশে ঋক্ষহার হয়ে ঝোলে
কফি দিবসের কবিতা
ই এন টি’র বৈদ্য মশায় তুলশিপাতা-আদা-লবঙ্গ বিস্তারিত নেবুচা খেতে বললেন।
আমি তো দু’বেলা কফি উইথ ননভেজ স্ন্যাকস নেই,
নাহলে বাইসেক্সুয়াল দীর্ঘ কবিতা লিখতে পারি না, মেঘ ডাকে
প্রেসক্রিপশনে যেন মৃত্যুর সমনজারি থেকে বাঁচাচ্ছেন আমায়… এভাবে
বৈদ্য মশায় চা শ্রমিকদের দুর্দশায় গণ ভ্যাসেকটমির যশোগান গাইলেন!
এতক্ষণ কাচুমাচু ছিলেন যে নারী রিপ্রেজেনটেটিভ, নিয়তির এককোণে
তিনিও এম ডি ডাক্তারের মিত্রপক্ষ হয়ে কুরুক্ষেত্রে নামলেন এবার—
.
শুনেছি জে কে রাওলিং কফিশপে বসে হ্যারি পটার সিরিজ লিখেছিলেন,
তা আমরা কি চাঁদে গুপি-বাঘার ফেলে আসা মৌরচাং কুড়িয়ে এনে
কফিহাউসে ঘনিয়ে তুলতে পারব সেক্সিষ্ট ড্রাকুলাদের?
দেখুন, মহামতি লাঁকাও কফি খেতেন ফ্রয়েডের নাট্যশীর্ষে,
আবার ক্যাথিড্রাল থেকে বিতাড়িত যাজক যে কিনা জাহাজের
জঞ্জাল ভাঙত পরে, তার এ্যালিগেশন জুড়েও লাঁকা কফি সাঁটিয়েছেন,
আর কে না জানে, শাখির অপ্রেমে দুনিয়ার তাবৎ পুষ্প ও ব্লুজ মিউজিক
বন্দুকের নলে মরুবৃষ্টি হয়ে ঝরে হুবারা বাস্টার্ড পাখিকে বাঁচাতে!
এরপর, প্রেসক্রিপশন জুড়ে
ওষুধের মুখপাত্র, এম ডি ডাক্তার ও আমি মরা গুবরেপোকা হয়ে পড়ে রই,
গ্রেগর সামসার অনন্ত প্রেতাত্মা হয়ে যেন বা!
অর্ধনমিত রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে
প্রিয়তমা, তোমায় কফি খেতে ডাকতে পারি?
![]()