“প্রেম এক দোজখের কুকুর” বইটি থেকে চার্লস বুকোয়স্কির ১১টি কবিতা বাংলায়
“প্রেম এক দোজখের কুকুর” বইটি থেকে চার্লস বুকোয়স্কির ১১টি কবিতা বাংলায়
অনুবাদক : ফরিদ আহম্মেদ
চার্লস বুকোয়স্কি বিরচিত “প্রেম এক দোজখের কুকুর” [Love Is a Dog from Hell] শিরোনামের কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সনে। বুকোয়স্কির তৎকালীন প্রকাশক ‘ব্লাক স্পেরো প্রেস’ কবিতার বইটি প্রকাশ করে। তিন-শতাধিক পৃষ্ঠার কবিতার বইয়ে বুকোয়স্কির দেড়-শতাধিক কবিতা স্থান পেয়েছে। ১৯৭৭ সনের মার্চ মাসে ‘ব্লাক স্পেরো প্রেস’ থেকে প্রকাশিত ‘স্পেরো ৫৪’-এ বুকোয়স্কির আরও একটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়, শিরোনাম, “হয়ত আগামীকাল” (Maybe Tommorrow)। কাব্যগ্রন্থটি যখন প্রকাশিত হয় তখন বুকোয়স্কির বয়স প্রায় ৫৭ বছর। কবিতাগুলি ১৯৭৪-৭৭ কালে রচিত। -ফরিদ আহম্মেদ (অনুবাদক)
sweet music
মধুর সঙ্গীত
ইহা প্রেমকে পেটায় কেননা উহাতে কোন
ক্ষত হয়না: সকাল বেলা
সে রেডিও বাজায়, ব্রাহামস অথবা ইভেস
অথবা স্ট্রাভিনস্কি অথবা মোৎজার্ট। সে ডিম
সেদ্ধ করে উচ্চস্বরে মুহূর্ত গণনায়: ৫৬,
৫৭, ৫৮, … সে ডিমের খোসা ছাড়ায়, ওগুলা
আমার জন্য বিছানায় নিয়া আসে। সকালের নাস্তার পর
সেই একই চেয়ার, আর মার্গী-
-য় সঙ্গীত শ্রবণ। সে নিয়েছে দিনের প্রথম গ্লাস
স্কচ আর ফুঁকছে তৃতীয় সিগারেট। আমি তাকে বলি
আমাকে রেসের মাঠে যেতে হবে। সে এখানে
আছে প্রায় ২ রাত ২ দিন যাবত। “আবার
কবে তোমার দেখা পাব?” আমি সুধাই। সে
জবাব দেয় তা নাকি আমার উপর নির্ভর করে। আমি
মাথা নাড়ি মোৎজার্ট বাজায়।
me
আমি
মহিলারা জানে না কেমনে প্রেম করতে হয়,
সে আমায় বলেছিল।
তুমি জান কি করে প্রেম করতে হয়
কিন্তু মহিলারা চায় শুধু
জোঁক।
আমি এটা জানি কারণ আমি একজন
মহিলা।
হা হা হা, আমি হেসেছিলাম।
অতএব সুজানার সাথে তোমার সম্পর্ক-ছেদে
মনখারাপ কোরো না
কারণ অন্য কারও উপর সে
জোঁক হয়ে বসবে মাত্র।
আমরা কতকটা লম্বা সময় ধরে কথা বলেছিলাম
তারপর তাকে আমি শুভ-বিদায় জানাই
উদ্বিগ্নতা
হাগু দিতে গেলাম আর
একটা ভাল বিয়ার-বোতল তুলে নিলাম
মূলত ভাবছিলাম, সে যাক,
আমি এখনও জীবিত
আর এখনও সামর্থ্যবান দেহের নিষ্ফলা
নির্বাসনে পাঠানোর।
আর কবিতা।
আর যতক্ষণ পর্যন্ত তা ঘটতেছে
আমার সামর্থ্য আছে মোকাবেলার
বিশ্বাসঘাতকতা
একাকীত্ব
নখের গোড়ালির চামড়ার
করতালি
আর আর্থিক অনুচ্ছেদের
অর্থনৈতিক প্রতিবেদন।
এই নিয়া আমি
উইঠা দাঁড়াই
পাছা মুছি
ফ্লাস করি
তারপর ভাবলাম:
ইহা সত্য:
আমি জানি কি কইরা
ভালোবাসতে হয়।
আমি আমার প্যান্ট টাইনা তুললাম আর হাঁটা দিলাম
অন্য রুমটার দিকে।
trapped
ধরা খাওয়া
আমার প্রেমের পোশাক খুইলো না
তুমি হয়ত খুঁইজা পাইবা একটা ম্যানিকুইন;
ম্যানিকুইনটা উলঙ্গ কইর না
হয়ত খুঁইজা পাবা
আমার প্রেম।
অনেক আগে সে (স্ত্রী-লিঙ্গ)
আমায় ভুইলা গেছে।
সে পইরা দেখতেছে একটা নতুন
টুপি
আর তাকে লাগতেছে
ছেনালস্য
ছেনাল।
সে হইল একটা
শিশু
আর একটা ম্যানিকুইন
আর
মৃত্যু।
আমি এটা ঘৃণা
করতে পারি না।
সে কখনও
অপ্রত্যাশিত কিছুই
করে না।
আমি শুধু তার পানে
ধাই।
moaning and groaning
কাতরানি ও গোঙানি
সে (স্ত্রী লিঙ্গ) লেখে: তুমি
কাতরাবে ও গোঙা-
-বে তোমার কবিতায়
যে কেমনে আমি চুদলাম
ঐ ২ জনরে গেল সপ্তাহে।
আমি তোমাকে চিনি।
সে লিখে চলে
বলতে যে আমার ভাব
যন্ত্রটা ঠিকই ছিল-
সে কেবলমাত্র চুদে এসেছে
তৃতীয় জনা
কিন্তু সে জানত আমি
শুনতে চাইনা কে, কেন
বা কিভাবে, সে তার
চিঠির ইতি টানে, << ভালোবাসা। >>
ইঁদুরেরা ও তেলাপোকাগণ
জিগির তোলে আবার।
এই এখানে দৌড়ে এল
মুখে তার বাঁধানো
বুলি, ইহা গাইছে
পুরাতন প্রেমগীতি।
জানালা বন্ধ
কাতরায়
দরোজা বন্ধ
গোঙায়।
An Almost Made Up Poem
একটা প্রায় হয়ে ওঠা কবিতা
আমি দেখেছি তোমাকে ছোট্ট নীল হাতে ঝর্ণায়
পান-রতা, না, তোমার হাত দুটো ছোট্ট ছিলনা
ওগুলো ছিল ছোট, আর সে ঝর্ণা ফ্রান্সে
যেখান থেকে তুমি আমায় লিখেছিলে সেই শেষ চিঠি আর
আমি উত্তর দিয়েছিলাম আর তারপর তোমার কাছ থেকে কখনও শুনতে পাইনি।
তুমি লিখতে ‘ফেরেশতা ও ঈশ্বর’ বিষয়ে
ভূতগ্রস্ত কবিতা, সব বড় অক্ষরে, আর তুমি
চিনতে বিখ্যাত শিল্পীদের আর তাদের প্রায় সকলেই ছিল
তোমার প্রেমিক, আর আমি লিখে পাঠিয়েছিলাম, সব ঠিকাছে,
এগিয়ে যাও, তাদের জীবনে ঢুকে যাও, আমি ঈর্ষান্বিত নই
কারণ আমাদের কখনও দেখাই হয়নি, একবার শুধু আমরা কাছাকাছি হয়েছিলাম
নিউ অরলেয়নসে, এক আধা ব্লকে, কিন্তু দেখা হয়নি কখনো, কখনো
ছোঁয়া হয়নি। তাই তুমি বিখ্যাতদের সাথে গিয়েছিলে আর লিখেছিলে
বিখ্যাতদের নিয়ে, যথারীতি, তুমি যা পেয়েছিলে
তা হল বিখ্যাতরা তটস্থ তাদের
খ্যাতি বিষয়ে – তাদের সাথে বিছানায় শায়িত সুন্দরী
যুবতী নিয়ে নয়, যে তাকে তা দিয়েছে, আর তারপর জেগে উঠলে
ভোরবেলায় বড় অক্ষরে কবিতা লিখতে
‘ফেরেশতা ও ঈশ্বর’ বিষয়ে। আমরা জানি ঈশ্বর মরে গেছে, তারা
আমাদের বলেছে, কিন্তু তোমার কথা শুনে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেলাম। হয়তোবা
বড় হাতের অক্ষরের কারণে। তুমি ছিলে সবচেয়ে ভাল মহিলা কবিদের
মধ্যে অন্যতম আর আমি প্রকাশক, সম্পাদকদের
বলেছিলাম, “তার, তাকে ছাপাও, সে পাগলাটে কিন্তু সে হলো
যাদু। তার অনলে কোন মিথ্যা নাই।” আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
যেমত একজন পুরুষ ভালোবাসে কখনো ছোঁয়া যায়না এমন নারীকে, শুধু
যার বরাবর লেখা যায়, যার ছোট্ট ফটো সংরক্ষণ করা হয়। আমি তোমাকে
আরও বেশী ভালোবাসতে পারতাম যদি আমি একটা ছোট রুমে বসে
সিগারেট রোল করতে করতে শুনতে পেতাম বাথরুম থেকে আসা তোমার পেসাব করার শব্দ,
কিন্তু তা ঘটেনি। তোমার চিঠিগুলো হয়ে উঠেছিল ব্যথাতুর।
তোমার প্রেমিকেরা তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শিশু, আমি প্রত্যুত্তর দিয়েছিলাম, সব
প্রেমিকেরাই বিশ্বাসঘাতক। তাতে কোন কাজ হয়নি। তুমি বলেছিলে
তোমার একটা কান্নার আসন ছিল আর সেটা ছিল একটা সেতুর পাশে আর
সেতুটা ছিল একটা নদীর উপর আর প্রতি রাতে তুমি সেই কান্না
আসনে বসতে আর কাঁদতে সেসব প্রেমিকদের জন্য যারা
তোমাকে আঘাত দিয়েছে ও তোমাকে ভুলে গেছে। আমি তোমাকে প্রত্যুত্তর লিখেছিলাম কিন্তু
তোমার আর জবাব পাইনি। এক বন্ধু আমাকে লিখেছিল তোমার আত্মহত্যার কথা
তা ঘটে যাওয়ার ৩ বা ৪ মাস পর। তোমার সাথে যদি আমার দেখা হত
আমি হয়তো তোমার প্রতি অবিচার করতাম অথবা তুমি
আমার প্রতি। এই সবচেয়ে ভাল হয়েছে যেমত তা হয়েছে।
what they want
তারা কী চায়
ভাল্লেযো লিখছে
একাকীত্ব বিষয়ে যখন অনাহারে
মরছে;
ভ্যান গখের কান প্রত্যাখ্যান করেছিল একজন
বেশ্যা;
র্যাবোঁ হারায়ে গেল আফ্রিকায়
সোনার খোঁজে আর পেল
এক দুরারোগ্য সিফিলিস;
বেথোফেন কালা হয়ে যায়;
পাউন্ড রাস্তা দিয়ে ঠেলে চলে
তার খাঁচা;
চ্যাট্টেরটন নিতেছে ইঁদুরের বিষ;
হেমিঙ্গওয়ের মগজ গড়ায়
কমলার রসের ভিতর;
পাসকাল তার কব্জি কাটছে
বাথটাবে বসে;
আর্টাউডকে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে পাগলের সাথে;
দস্তোয়েভস্কি দাঁড়ায়ে একটা দেয়ালের মুখোমুখি;
ক্রেন ঝাঁপ দিতেছে একটা নৌকার ইঞ্জিন পাখার ভিতর;
লোরকাকে স্প্যানিশ সেনানীরা গুলি করে
রাস্তায়;
বেরিম্যান ব্রিজের উপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে;
বুরোজ গুলি করছে তার স্ত্রীকে;
মেইলার চাকু মারছে নিজেকে।
-এসবই তারা চায়:
একটা নরক গুলজার করা প্রদর্শনী
একটা আলোকিত বিলবোর্ড
নরকের মধ্যখানে।
এসবই তারা চায়,
ঐ এক পাল
নির্বোধ
ভাষাহীন
নিরাপদ
বিষণ্ণ
কার্নিভালের
স্তাবক।

Charles Bukowski, portrait by Italian artist Graziano Origa
how to be a great writer
কিভাবে বড় লেখক হওয়া যায়
তোমাকে চুদতে হবে অনেক অনেক মেয়েলোক
সুন্দরী মেয়েলোক
আর লিখতে হবে কয়েকটা মার্জিত প্রেমের কবিতা।
আর বয়সের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করো না
আর/অথবা তরতাজা-নবাগত প্রতিভা।
শুধু আরও বিয়ার পান কর
আরও আরও বিয়ার
আর সপ্তাহে অন্তত একবার রেসের মাঠে হাজিরা
দাও
আর জেত
যদি সম্ভব হয়।
জিততে শেখা কঠিন
যে কোনো অমার্জিত বুদ্ধু বনে যেতে পারে এক বড় হারু।
আর ভুলো না তোমার ব্রাহামস
আর তোমার বাখ আর তোমার
বিয়ার।
অতিরিক্ত অনুশীলন পরিহার কর।
দুপুর নাগাদ ঘুমাও।
এড়িয়ে চল ক্রেডিট কার্ডস
অথবা সময় মত কোন কিছুর জন্য মূল্য
পরিশোধ করতে।
মনে রাখবে যে এমন কোন বেকুবির কানাকড়ি নেই
যার দাম এই পৃথিবীতে ৫০ ডলারের অধিক
(১৯৭৭ সনে)
আর যদি তোমার ভালোবাসার সামর্থ্য থাকে
ভালোবাসো তোমার নিজেকে প্রথম
কিন্তু সবসময় সচেতন থাকবে সামগ্রিক
পরাজয়ের সম্ভাবনার
সে পরাজয়ের কারণ যতই
সঠিক বা বেঠিক মনে হউকনা কেন-
একটা প্রাতঃকালীন মৃত্যুর স্বাদ নয়কো
খারাপ কিছু।
চার্চ আর শুঁড়িখানা আর যাদুঘরের বাইরে রহো,
আর মাকড়সা সদৃশ হও
ধৈর্যশীল-
সময় প্রত্যেকের জন্যই ক্রুশ,
ইতিবাচক
নির্বাসন
পরাজয়
প্রতারণা
এসব ধাতুমল।
বিয়ারের সাথে থাক।
বিয়ার হল নিরন্তর শোণিত।
এক লাগাতার প্রেমাস্পদ।
একটা বড় টাইপরাইটার জোটাও
আর পাদচারণা যেরূপ উঠা নামা করে
বাইরে তোমার জানালায়
ঐটাকে আঘাত কর
ওটাকে আঘাত কর জোরে
ওটাকে বানাও হেভিওয়েট যুদ্ধ
ওটাকে বানাও ষাঁড়-টা যখন সে প্রথম আক্রমণ হানে
আর স্মরণ রাখবে বৃদ্ধ কুকুরগুলাকে
যারা ভালভাবেই যুদ্ধ চালিয়ে গেছে:
হেমিঙ্গওয়ে, চেলিন, দস্তোয়েভস্কি, হামসুন।
যদি তুমি ভাব তারা উন্মাদ হয়ে যায়নি
ছোট্ট রুমগুলার ভিতর
একদম তোমার মত যেমন ইদানীং তুমি করছ
নারী বিহীন
খাবার বিহীন
আশা বিহীন
তখন তুমি প্রস্তুত নও।
আরও বিয়ার পান কর।
এখনও সময় আছে।
আর যদি তা না থাকে
সেটাও সর্বৈব সঠিক
বটে।
alone with everybody
সবার সাথে একা একা
মাংস ঢেকে রাখে হাড়
আর তারা একটা মনকে রাখে
এর ভিতর আর
কখনও-সখনও একটা আত্মা,
আর মহিলাটি ফুলদানি
ভাঙ্গে দেয়ালে আছড়ে
আর লোকটা মাল টানে অতি
মাত্রায়
এবং কেউই কাউকে খুঁজে
পায় না
কিন্তু তারা তাকিয়ে
রয়
তাকিয়ে আছে
হামাগুড়িতে ঢুকছে ও বের হতেছে
বিছানায় ও বিছানা থেকে।
মাংস ঢেকে রাখে
হাড় আর সে
মাংস অনুসন্ধান করে
মাংসেরও অধিক
কিছু।
কোন সম্ভাবনাই নাই
একদম:
আমরা সকলে ধরা খাওয়া
এক অভিন্ন নিয়তির
ফাঁদে।
কেউ কাউকে খুঁজে পায়নাকো
কভু।
নগর আবর্জনার স্তূপে ভরে ওঠে
আস্তাকুড় ভরে ওঠে
পাগলাগারদ ভরে ওঠে
হাসপাতাল ভরে ওঠে
গোরস্থান ভরে ওঠে
আর কিছুই
ভরে না।
defeat
পরাজয়
রেডিওতে ব্রুকনার শুনতে শুনতে
ভাবতেছিলাম কেন আমি আধা পাগল হলাম না
আমার সর্বশেষ প্রেমিকার সাথে
সর্বশেষ সম্পর্কচ্ছেদে
ভাবতেছিলাম কেন আমি মাতাল হয়ে ঘুরছিলাম না
রাস্তায়
ভাবতেছিলাম কেন আমি রইছি না শোয়ার ঘরে
অন্ধকারে
নিদারুণ আঁধারে
আলোড়নে
বানচাল হতেছি না আধা-চিন্তায়।
আমি ধরে নিয়েছি
যে শেষ পর্যন্ত
গড় মানুষের মত:
আমি অতীব অধিক সংখ্যক নারীদের চিনেছি
আর চিন্তা করার বদলে
ভাবতেছিলাম ইদানীং কে তাকে চুদছে?
আমার ধারণা
সে এই এখন অন্য কোন গোবেচারা শুয়োরের বাচ্চাকে
আরও বেশি জ্বালাতন দিতেছে।
রেডিওতে ব্রুকনার শুনতে শুনতে
লাগতেছে খুব প্রশান্তিময়।
এত সংখ্যক মহিলারা পার হয়ে গেল।
আমি শেষপর্যন্ত একা
একা না হয়েও।
আমি গ্রুমবাচের রং-তুলিটা তুলে নিলাম
আর ওটার শক্ত ধারাল প্রান্ত দিয়ে আঙ্গুলের নখ পরিষ্কার করতে থাকলাম।
আমি একটা দেয়াল-কোটর লক্ষ্য করলাম।
দেখ, আমি জিতেছি।
462-0614
৪৬২-০৬১৪
আমি অনেক ফোন কল পাই ইদানীং।
ওগুলা সব একই রকম।
“আপনি কি চার্লস বুকোয়স্কি,
লেখক?”
“হ্যাঁ,” আমি তাদের বলি।
আর তারা আমাকে বলে
যে তারা বুঝতে পারে আমার
লেখা,
আর তাদের কেউ কেউ লেখক
অথবা লেখক হতে চায়
আর তাদের আছে একঘেয়ে ও
বীভৎস চাকরী
আর তারা মোকাবেলায় অপারগ ঘর
অ্যাপার্টমেন্ট
দেয়ালাদি
রাতগুলা-
তারা চায় কাউকে কথা বলার
জন্য,
আর তারা বিশ্বাস করতে পারে না
যে আমি তাদেরকে সাহায্য করতে অপারগ
যে আমি এধরণের কথা জানি না।
তারা বিশ্বাস করতে পারে না
যে ইদানীং প্রায়ই
আমি আমার ঘরে দৌড়াদৌড়ি করি
আঁকড়ে ধরি আমার নাড়ি-ভুঁড়ি
আর বলি
“যিশু যিশু যিশু, আর
না!”
তারা বিশ্বাস করতে পারেনা
যে প্রেমহীন জনতা
রাস্তাগুলা
একাকীত্ব
দেয়ালসমূহ
আমারও বটে।
আর আমি যখন ফোনটা ছেড়ে দেই
তারা ভাবে আমি আড়াল করছি আমার
গোপন কথা।
আমি লেখি না আমার
জ্ঞান প্রসূত।
যখন ফোনটা বাজে
আমারও ইচ্ছা করে শুনতে কথা
যা হয়ত সহজ করতে পারত
এসবের কতক।
এজন্যই আমার নম্বরটা
তালিকাভুক্ত করেছি।
the crunch
কচকচানি
খুবই বেশি
খুবই ছোট
খুবই মোটা
খুবই পাতলা
বা কেউ না।
হাসির রোল অথবা
কান্না
বিদ্বেষপরায়ণগণ
প্রেমীগণ
বুড়া আঙ্গুলের চ্যাপ্টা
পিঠের মত মুখাবয়বের
আগন্তুক
সৈনিকেরা দৌড়চ্ছে
রক্ত পথে
উঁচিয়ে ধরছে মদের বোতল
বেয়োনেট মারছে আর চুদছে
কুমারীদের।
অথবা এম. মনরোর আলোকচিত্র সহ
একটা সস্তা ঘরে একজন বুড়া লোক।
আছে একাকীত্ব এই পৃথিবীতে তা এত মহৎ
যে তুমি তা দেখতে পাবে ঘড়ির কাটাগুলার
শ্লথ নড়নচড়নে।
লোকেরা এত ক্লান্ত
নুলো
হয় ভালোবাসায় অথবা ভালবাসাহীনতায়।
লোকেরা পরস্পরের প্রতি মোটেই ভাল নয়
প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রতি
ধনীগণ ধনীগণের প্রতি ভাল নয়
গরীবেরা গরীবদের প্রতি ভাল নয়।
আমরা ভয়ে আছি।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে বলে
যে আমরা সবাই হতে পারি
ইয়া-পাছা বিজয়ী।
এটা আমাদেরকে বলে নাই
ইতর জীবনের কথা
বা আত্মহত্যার।
অথবা একজন লোকের আতংক
চুলকাচ্ছে একই জায়গায়
একাকী
অস্পৃষ্ট
অনুক্ত
একটা গাছে পানি দিতেছে।
লোকেরা পরস্পরের প্রতি মোটেই ভাল নয়।
লোকেরা পরস্পরের প্রতি মোটেই ভাল নয়।
লোকেরা পরস্পরের প্রতি মোটেই ভাল নয়।
আমার মনে হয় কখনই তারা তা হবেনা।
আমি তাদেরকে তা হতেও বলি না।
কিন্তু কখনও কখনও আমি এই নিয়ে
ভাবি।
তসবি দুলবে
মেঘেরা মেঘ হবে
আর কোন্ আইসক্রিম থেকে খানিকটা উঠিয়ে নেয়ার মত খুনি
শিশুদের শিরোচ্ছেদ করবে।
খুবই বেশি
খুবই ছোট
খুবই মোটা
খুবই পাতলা
বা কেউ না
প্রেমীদের চেয়ে বিদ্বেষপরায়ণেরা অধিক
লোকেরা পরস্পরের প্রতি ভালো না।
তারা যদি তা হতো হয়ত
আমাদের মৃত্যু এত বেদনার হত না।
এরমধ্যে আমি যুবতী মেয়েদের দেখি
দৈব ফুলের
বোঁটাগুলা।
অবশ্যই কোন পথ আছে।
নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় অবশ্যই কোন পথ আছে আমরা যা এখনও
ভাবি নাই।
কে আমার ভিতর এই মস্তিষ্ক রেখেছে?
ইহা কাঁদে
ইহা দাবী তোলে
ইহা বলে যে একটা সম্ভাবনা আছে।
ইহা কখনোই বলবে না
<< না। >>
©অনুবাদক: ফরিদ আহম্মেদ।
[আমেরিকার প্রয়াত কবি চার্লস বুকোয়স্কি অধুনা বিশ্ব সাহিত্যে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। উনার সহজ সরল কথার বুনন থেকে স্ফুরিত হয়ে ওঠা তুমুল নাগরিক কবিতা পাঠকমাত্রকেই আচ্ছন্ন করে আর আকর্ষিত করে থাকে। অনুবাদক জনাব ফরিদ আহম্মেদের সফল অনুবাদে এই এক গুচ্ছ কবিতা আমাদের কাছে যথার্থ ও মূল্যবান মনে হয়েছে , কারণ এখানে অনুবাদ করার সময় অনুবাদক যেন অধুনা ঢাকা শহরের চলতি ভাষা (street language)দক্ষতার সাথে ব্যবহার করেছেন, যা কিনা কবিতাগুলির অন্তর্নিহিত প্রাণ আরও সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। রচনাটি প্রথমে ফেইসবুকে অনুবাদকের নিজস্ব নিউজফিডে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে ‘জুলেখা সিরাপ’ (https://www.facebook.com/groups/julekhasyrup) গ্রুপ সহ অন্যান্য স্থানে শেয়ার করা হয়। অনুবাদকের সম্মতিক্রমে তুলটে এটি পুনঃপ্রকাশিত হলো। অনুবাদকের নিজস্ব বানান রীতি এখানে বজায় রাখা হয়েছে। -তুলট ডেস্ক ]
Pagetop Image https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/d/db/Charles_Bukowski_et_Black_Sparrow_Press.jpg Tintin1994, CC BY-SA 4.0 https://creativecommons.org/licenses/by-sa/4.0, via Wikimedia Commons
Second Image: https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Bukowski-by-origa_Whithout.jpg Bukowski-by-origa.jpg: Origafoundationderivative work: –MGuf (d), CC BY-SA 3.0 <https://creativecommons.org/licenses/by-sa/3.0>, via Wikimedia Commons
![]()
5 Comments
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.
রাহুল চন্দ্র দাস
বেশ।
অয়ন আবদুল্লাহ
আরো সাবলিল অনুবাদ আশা করি। শুভম।।
Shomik Adhikary Nandon
অনবদ্য!
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
Excellent
শোয়েব ইবনে শাহীন
বাহ ! চমৎকার অনুবাদ।