প্রসঙ্গ ঝিনুক ও অন্যান্য

প্রসঙ্গ ঝিনুক ও অন্যান্য

প্রসঙ্গ ঝিনুক

চৌকিতে কথা বসেছে। একটু জল চায়।
আদর চায়। পুরাতনী গানের এখন সময়।
খোলার বিপরীতে অনেক বন্ধ দরজা আমার অভ্যেস। তাড়াহুড়ো আমার ছেলেবেলা। ঢেউ রাখলে ধূসর টেবিলে। চকমকি যতোটা জমেছে, ততো উজ্জ্বলে আগুন থাকে না।সময়সীমার বাইরে পর্দার আগমনী। এই টুকরো টুকরো সনাতন ক্ষেতে কাগজের নড়াচড়ার গল্প শোনা যায়। খিদের ঠিকঠাক একটা ভোরবেলা চাই। আয়নারা মাঝে মাঝেই পাখিদের ঘরে ঢুকে পড়ে। আর প্রেতআলো, আমি বাঁশির মতো জেগে থাকি। অভিনয় শেষে পালন করি বাড়তি এক ঝিনুকের দায়িত্ব

গণতন্ত্র

একটা বেড়াল থাবা খুঁজে পাচ্ছে না।
পতাকার খুঁটিতে বাঁদর বসে আছে।
বস্তুত তার কোনও মাটি নেই।
তামাশা শেষে ফিরে গেছে লোকজন

খুঁটি বেয়ে
বাঁদর উঠছে
নামতে পারছে না
সে জানে তার কোনও মাটি নেই
রগড় দেখতে দাঁড়িয়ে পড়ছে কেউ
পতাকা আব্রু ঢাকতে পারছে না বাঁদরের

সংখ্যাসাপ

আত্মহত্যা আর আত্মরক্ষার
এক চুলচেরা ফারাক আমি লক্ষ্য করি
এখানে সংখ্যা কথা কয়
নিয়ম বানায়
আমরা তন্নতন্ন গণতন্ত্র পুষি
বিপন্ন প্রজাতির মাছচাষ করি
ছবির দেওয়াল বরপুত্রে ভরে ওঠে

আর বিশ্বাস আমি কিরায়ায় দিয়েছি
বিশ্বাস আমার বিছানায়
রাতে উঠে আসা মেয়েছেলে
যার স্তন যোনি উরু এমনকি চোখের কোটরও
সংখ্যা খেয়েছে
সুমহান মূলত ভুঁইফোড় এক স্থিতাবস্থা
যেভাবে স্নানের পর অসুখ
শক্ত ও ঠাণ্ডা হতে থাকে

নিয়তিভোজ

এই তুলো উঁচানো রাস্তাই তোমার নিয়তি।
তেমন কিছু হয়নি ভেবে তুমি নিয়মভঙ্গ
সেলাই করছো রোজ। পাশবালিশের দায়িত্ব
বাড়ছে। প্রমাণসাপেক্ষ তোমার ডাকনাম।
ছদ্মবেশে ঠিকঠাক মুচকি পরানো তোমার কাজ। প্রেমিকাবন্দরে হাঁফ ধরা উটগুলো,
তোমার ছিটকিনিতে তখন অল্প মেয়াদ। অথচ
রোদকলমের ডালপালায় তুমি ধনধান্য বিছিয়ে দিয়েছো। ফিরিয়ে দিয়েছো মাদারীখেলার কয়েন। এখন তুমি নিটোল ডানার মতো রুগ্ণ ও ফ্যাঁসফেঁসে। সাদা পায়রারা তোমায় সন্দেহ করছে। সড়ক সংযোগে শীত বুনছে তোমার না ফোটা আরামদরজা।

বেনাগরিক

তাহলে সেই ঘোড়ার প্রসঙ্গই এসে পড়লো
টুটিফাটা সূর্যবোঝাই ডালপালা
হড়কে যাওয়ার আগে হরফের রফতানি
তোমার সিন্দুকে রাখা চুপ
আততায়ী দৌড়ের পর
জানাজার শিলান্যাস করে গেছে কেউ
স্যাঁতলানো মাছের শব্দে তোমার বমি পায়
ধারাবিবরণী পায়

কবুতর থেকে শ্বেতপত্র ভেসে এলে
মানুষ থেকে ধর্ম ছাড়াতে ছাড়াতে তুমি ক্লান্ত
তোমার স্বপ্নে
পরিচয়হীন মুখোশেরা আসে
ওদের কোনও ভূখণ্ড নেই
চোখের গুমটিতে
অদ্ভুত এক রাষ্ট্র বসে আছে

উৎসব

যে কোনও ক্ষয়ই আমার পরমহংস
চিৎকারের ডোরাকাটা আগুন
পাশবালিশ যখন
যখন চেপে বসেছে আমায়
আর স্বেচ্ছাসেবকের মতো দৌড়ে যাচ্ছে ঘৃণা

এই মাতৃপীঠে আমি এক ক্রীতদাস
বিক্রীতি নিয়ে বসে আছি
বিকৃতি নিয়ে চেয়ে আছি
তোমাদের ধর্মে এবার
অনেক জিরাফ
আর দুর্গোৎসব পুড়িয়ে অনেকদূর
জমিয়েছো হাত
জিভের পলাতকে রেখেছো আজন্ম খিদের ছুরি
দেখে নাও

আমি এখনও কতো দাউদাউ
জ্বলে উঠতে পারি

মড়ক

পেশাদার ভক্তির মোড়ক খুলে যায়। নিরাময়হীন মানুষ এখন ছাইয়ের মতো চকচকে। আয়নার বিপরীতে আয়না দাঁড়িয়ে।
লজ্জা থেকে হাত খসে পড়ে। ঝনঝন শব্দ হয়
লৌকিকের। এই সর্বদলীয় মড়ক আমায় ক্লান্ত করে। বরফযাপনের এই উৎসবে দেখি, পাখি নেই। প্রতিক্রিয়া নেই।

পাথরের বিগ্রহ বৃষ্টি হতে চায়। শ্বেতপত্রে খুলে ফেলে জ্বর।

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar