চারশো বছরের শহর

চারশো বছরের শহর

তানহা

জলে ছড়ানো বাঁশির মধ্য থেকে বাজিয়ে বাজিয়ে
পাতালবাঁশিটি নিলে, স্বল্প গোধূলির শুশ্রূষায়।
প্রতিটি হৃদয়ে ঝরছে রক্ত, ক্রিমসন ফুলের ছাই,
অরণ্য ফুরালে বাঘছাল খুলে রেখো চৈত্রে, খিড়কি
পাতাবাহারের আলোয়, আহ্লাদে… অবস্তুর মতো।
চৌষট্টি যোগিনী তবে কী, রাতের করতালি ছাড়া?
জাহাজ ডুবির গল্পে, পোষা পায়রাবাকশো উড়ে
যেতে পারে মানুষের হাজারো দুয়ারসহ? শত
অক্ষৌহিণী নত কেতকীর বোধ হতে সহজ না,
বেশ্যার সামান্য ফলে চিরসত্য করে তোল মোরে,
নরম পাথর তুমি হয়ে ওঠো তানহার মন,
রক্তশূন্যতায় লালমেঘ হয়ে সুঁইরথে ঝুলো।
বন্ধ ডাকঘরসারি— গুলিখাওয়া ডাকপায়রার
ছড়ানো পালক! টুকে নাও বাহাই ধর্মের কথা—
শূন্যতা সহিংস নয় শুধু, পাশে থাকাও শূন্যতা।
ছায়ায়… প্রচ্ছায়া থেকে না ফিরলে বিপ্লব নিষ্ফলা!
উড়ন্ত ড্রাগন হতে পারে বাঁশি পূর্ণ নালিশের?
অন্ধত্ব যোগাযোগের একমাত্র শ্মশানপুষ্প না,
সরল রাক্ষস, তার শিমুল তাহার শ্রুতিমূল
ক্রমশ অস্পষ্ট হতে থাকলে ঘটে পতন, গ্রিসের!
অল্টার ইগোর মতো তামাম বাদুড় ঝোলে, ঝড়ে
উড়ন্ত তাঁবুর পাশে লড়াই ইরেজ করছে কারা,
দূর থেকে! তোমার অপ্রেমে রাত্রি ত্রিভঙ্গ মুরারি—
বেঁচে থাকার মতোন দুঃসহ, আনন্দের কী আর?
নিষ্ফল মোনাজাতের এ দুনিয়ায়… জেনো আমিও
এক বুরবাক, চাঁদে তবু আন্তিগোনে ডাকছে কেন?
মনীষা নৈঃশব্দ্যে ভরা, মনীষা কী কাজে আসে ট্রেনে
যখন হৃদয় কাটা পড়ে? শ্রমণমাত্র রোমিও

চারশো বছরের শহর

ননসেন্স রাইম যেন,
তোমার শহরে আমি কোথাও নেই!

যদিও এরন বুশনেল গায়ে আগুন ধরিয়ে
হাসতে হাসতে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে টানা দুরভিসন্ধি

দ্বিখণ্ডিত ইজতেমায় জলে-ভেসে-আসা সন্ধিপত্রের মতো
তুরাগ এসে মিশছে ঢালাই কারখানার সাথে

লেডিস ক্লাবের মধ্যরাত্রি ফ্লাই ওভারে পেরিয়ে যাচ্ছে
ফুরিয়ে যাওয়া কবিদের গে-স্বভাব, নির্বাচিত সংকলন

তবু তোমার শহরে আমি কোথাও নেই

নিজেকে তন্নতন্ন করে খুঁজেছি অবিজ্ঞাপনের আলোয়,
তোমার পশ্চিমা এ্যালশেশিয়ানের খাবারের থালায়,
নেতার ছবির পাশে ঘুমানো জটা-সাধুর চৈত্রে,

কোত্থাও নেই আমি

জি ডি ছাড়াই পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেলের হারানো লাইসেন্সের নবায়ন বা
ক্রসম্যাচিং না করেই কিডনি প্রতিস্থাপন হয়তো-বা সম্ভব,

তবু তোমার শহরে তোমার দৃষ্টিতে
আমি কোথাও নেই

যেভাবে রূপপুর প্রকল্পের আঁধারে বসে জাল বুনছেন
এক বৃদ্ধা মাকড়সা

পর্ণ

চির ধরা পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসছে একটা নীল জ্বরের সাপ
তার হিসহিস শব্দে কেঁপে উঠছে
বাস্তবতা ও না-বাস্তবতার মাঝামাঝি বাঘের কঙ্কাল-ছড়ানো-পথ

বর্ষাদুপুর ঘনিয়ে উঠছে তার চোখ থেকে ড্রিল মেশিনের চোখে

শরীরের বাইরে কোন সত্য নেই, মুর্দাফরাশও নেই

তুমি কি জানো এ বালিমূর্তি আমার রহস্যের মিছিল?

পরম্পরা

পুরনো আইনের সাথে সাথে টাইপরাইটাররা কবেই হয়েছে উধাও!

তবু খটখট আওয়াজ শোনা যায় কলোনির চিঠিতে, গ্রহণের রাতে

ভোরে গিয়ে দেখি,
ময়দানজুড়ে পড়ে আছে দু’তিনটে তারা, তোমার নাচ
আর নূপুরের চোরাবালিতে ডুবে মরা টাইপরাইটারের ছেলে

ঘনায়মান কাঁচি

কোন পদচ্ছাপ রইল না আমার
কোন পদচ্ছাপ রইবে না তোমারও

আমরা সমুদ্র-বিষয়ক এনট্রপি ছাড়া ফ্রিদাকে ভালবাসি নি
কাঁটাতার ও গহন ফোয়ারার বাইরে ক্লাউনকে ভালবাসি নি
অহল্যার আলোয় বীভৎস যৌনতাকে ভালবাসি নি

অথচ তিলোত্তমা ইতিহাসের জন্য খরস্রোতা নদীতে দিয়েছি বাঁধ!

এই আষাঢ়স্য দুপুর আগলিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন
একলা রবীন্দ্রনাথ

Loading

1 Comment

  1. অন্যরকম সুন্দর…

Leave a Reply

Skip to toolbar