Profile Photo

প্রদীপ্ত দে চৌধুরীOffline

  • Pradiptadey12006024
  • *অভিনয়
    .
    রাস্তার পাশে একটা বড় মাঠ, তা পেরিয়ে একটু ফসলি জমি আর তার পরেই নদী। নদীটা আকারে ছোট, স্রোতের পরিধিও কম। ধীর শান্ত স্থির তার গতি। সেই নদীর তীরে পা জড়সড় করে বসে আছে এক মধ্যবয়স্ক লোক। নদীর পানি ছোট ছোট ঢেউ করে লোকটার পায়ে এসে ছুঁয়ে যায়। কাছে গেলে বোঝা যায়, কাঁদছে লোকটা। খুব মৃদু স্বরে, চাপা কন্ঠে, তবে বড় গভীর সে কান্না। লোকটা চোখ বুজে কাঁদতে থাকে, উষ্ণ জলগুলোর প্রস্রবণে তার চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়।

    শাহেদ বলল, অভিনয়?

    চায়ে সুরুৎ করে চুমুক দিয়ে শেষ করল খলিফা। তারপর একরকম অদ্ভুত শব্দ করে বলল, “করবা? তোমার তো মঞ্চনাটকের প্র‍্যাকটিস আছে, এসে যাও। গোয়েন্দা কাহিনী তো, অনেক মানুষ দরকার। একটা ছোটোখাটো রোল করে ফেল,কিছু পয়সাপাতিও পাবা, আর আমারও মানুষ খোঁজাখুঁজি বন্ধ হবে।”

    শাহেদ কতসময় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মাটির দিকে। তারপর দোকানের জিনিসপত্র মুছতে মুছতে বলে, “খলিফা ভাই, আপনারে একটু কয়দিন পরে জানাই?”

    খলিফা শ্রাগ টানে, ” দুদিনের মধ্যে জানাইও, শুটিঙ চলে তো, বেশি দেরি করলে অইবো না!”

    খলিফা চলে যায়, ডিপার্টমেন্ট স্টোরে বসা শাহেদ অন্যমনস্ক হয়ে যায়। ক্রেতা আসে, সে জিনিস বেচে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার সহস্র চিন্তা চলতে থাকে। দুপুরবেলা সে দোকান বন্ধ করে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে, রাস্তা পেরিয়ে মাঠ, তারপর ছোট ফসলি জমি, তারপর ছোট্ট সুন্দর নদী। শাহেদের প্রিয় জায়গা এটা। নৌকাগুলো ঢিমে তালে চলে, নদীর পানি একটা কলকল শব্দে চারদিকে জুড়িয়ে রাখে- শাহেদ বড় মুগ্ধ চোখে এগুলো দেখতে থাকে। হাঁটুর উপর হাত দুখানার ভার দিয়ে বড় নিঃশব্দে কয়েকটা মুহুর্ত কাটায় সে। আজ নদীর কিনারে পা মেলিয়ে যখন সে বসল, তার মাথায় তখন একটাই শব্দ “অভিনয়!”

    দীর্ঘশ্বাস ফেলল শাহেদ। অভিনয়- চারটে অক্ষরের একটা শব্দ। অথচ এই চারটি অক্ষর মিলিয়ে শব্দটা যখন উচ্চারণ করা হয়, শাহেদের পুরো শরীর বেয়ে তখন অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে যায়। মঞ্চনাটক করতো শাহেদ। কীভাবে যেন এই মঞ্চনাটকের অভিনয় শাহেদের জীবনটা এভাবে জড়িয়ে যায় যে, অভিনয় হয়ে ওঠে শাহেদের ধ্যান জ্ঞান। কীভাবে কত কারুকাজ করে কোন একটা মানুষের চরিত্রে ঢুকে যাওয়া যায়, শাহেদের চিন্তাভাবনা সারাক্ষণ সেদিকে থাকত। দিনের পর দিন কোন এক চরিত্র নিয়ে সে পড়ে থাকতো, সেই চরিত্রের পুরোপুরি সবকিছু তার মধ্যে ফুটে না উঠলে সে নিজেকে রেহাই দিতো না। গভীর রাত অব্দি বড় আয়নায় নিজেকে শান দিতো সে। আর স্বপ্ন দেখতো, একদিন সে সিনেমা করবে। সিনেমার নায়ক হবে সে। তার অভিনয়ের গভীর অনুরাগে মুগ্ধ হবে পুরো জগৎ!

    শাহেদ দোকান শেষ করে সেদিন রাতে নিজের রুমে গিয়ে অনবরত হাঁটাহাঁটি করতে থাকে। একসময় খলিফাকে ফোন দিয়ে বলে, খলিফা ভাই আমি রাজি। আগামীকাল চরিত্রটা আমায় বুঝিয়ে দিয়েন।

    পাড়ায় একটা শুটিং এর টিম এসেছে। গোয়েন্দা সিনেমা। একঝাঁক ভর্তি মানুষ। সবাই শহুরে মানুষ। গ্রামে হঠাৎ এসে দু-একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার জায়গাতেই খলিফাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রামে যারা আগে অভিনয়ে কাজ করেছে তাদেরকে দিয়ে কাজটা করিয়ে ফেলতে। শাহেদের দিকে তাকিয়ে খলিফা বলল, তোমার চরিত্রটা হচ্ছে পথচারীর।

    শাহেদ কিছুসময় তাকিয়ে থাকে। তারপর হতাশ কন্ঠে বলে, “পথচারী?”

    খলিফা যোগ করে, “হ্যা, সেটাই। খুব ছোট কিন্তু গুরত্বপূর্ণ। ঘটনা হল, সিনেমার নায়ক মানে গোয়েন্দা অন্যমনস্কভাবে কিছু একটা ভাবতে ভাবতে পথের মধ্যে হঠাৎ তোমার সাথে ধাক্কা খাবে। তুমি মোটামুটি বয়স্ক মানুষ, হাতে একটা লাঠি থাকবে। ধাক্কার কারণে হাত থেকে লাঠি পড়ে যাবে। গোয়ন্দা অপ্রস্তত হয়ে তোমার লাঠি তুলে দিবে। তুমি কাঁপা কন্ঠে বলবে, একটু ধীরে চলো বাবা! গোয়েন্দা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে, তারপর হঠাৎ কিছু একটা মনে চলে আসায় উলটো দিকে দৌড় দিবে। তুমি তখন তাকে বুঝতে না পেরে বলবে, “আজকালকার ছেলেগুলোও না….”
    এইটুকুই!’ ”

    শাহেদ একমনে শুনে যায়। একটা সময় মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করে, “কবে হবে আমার এই শুটিং?”

    “এই ধরো আজকে থেকে তিন দিন পর”, খলিফা বলে।

    সেদিন দুপুরে আবার নদীর ধারে বসে শাহেদ। অভিনয় নিয়ে রঙধনুর মতো যে স্বপ্ন শাহেদের ছিল, তার আশেপাশের আর কারো তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। শাহেদের বিয়ের পর সমস্যাটা আরো প্রকট হল। মঞ্চনাটক ছাড়া শাহেদের আর কোন উপার্জন ছিল না, এতে শাহেদের আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়। নিজের স্ত্রীর সাথে অশান্তি চলে শাহেদের। তবে এসবকিছুর পরেও সে সিনেমার নায়কের অডিশনের জন্য সুযোগ খুঁজে যায়। দিনের দিন কোন এক চরিত্র নিয়ে সে নিজেকে ঝালাই করে যায়। হাজারটা সমস্যার মধ্যেও চোখভরা স্বপ্নগুলো তাকে চাঙা রাখে।

    দোকানের কাজ শেষ করে জীবনের প্রৌঢ় পর্যায়ে পা দেওয়া শাহেদ সেদিন রাতে তার খাতা নিয়ে বসে। ছয়বছর হয়ে গেছে শাহেদ অভিনয় ছেড়েছে। এই খাতায় সে চরিত্রগুলোর বর্ণনা লিখে রাখতো, তারপর নিজের মতো করে সেগুলোকে আয়ত্ত্ব করবার জন্য প্র‍্যাকটিস করতো। শাহেদ ভাবেনি, এই খাতাটা তার আবারও খুলবার প্রয়োজন হবে।

    খাতায় গটগট করে লিখল, তার চরিত্রটা হচ্ছে একজন বুড়ো মানুষের। তার মানে নুইয়ে নুইয়ে হাঁটতে হবে। কথা বলতে হবে একটু ধীরে ধীরে। দুই লাইনই মাত্র বলতে হবে, তবে সেটা একদম নিখুঁত হওয়া চাই। ছয়বছরে আয়নাটা ঘোলাটে হয়ে গেছে, শাহেদ আয়নায় দাঁড়িয়ে একজন বুড়ো মানুষকে নিজের ভেতরে ফুটিয়ে তুলবার চেষ্টা করে।

    পরদিন খুব ভোরে উঠে ধ্যানে বসল শাহেদ। কল্পনা করতে থাকে একজন বুড়ো মানুষ হাঁটছেন। এক পা দু পা, হাতটা একটু কাঁপছে, চোখ দুটো বিচ্ছিন্ন ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে…..একটু বেলা হতেই শুটিং টিমের সাথে দেখা করল শাহেদ। কস্টিউমের ব্যাপারটা জেনে নিল, তার সাথে কাজের ব্যাপারটাও খলিফার সাহায্যে নিশ্চিত করে আসল। ফেরার সময় সেদিন আর দোকানে বসল না শাহেদ। একটা কর্পোরেট অফিসের সামনে চলে গেল সে। সেখানে অনেক মানুষ, তাকে এখন যে জিনিসটা করতে হবে সেটা হচ্ছে ধাক্কা খেতে হবে। ব্যাপারটা একদম নিখুত হওয়া চাই। শাহেদ অন্যমনস্ক হওয়ার ভঙ্গি করে নানাজনের সাথে ধাক্কা খায়, বোঝার চেষ্টা করে কৃত্রিমতা আসছে কিনা। একটা ছোট্ট স্ক্রিন টাইমের জন্য শাহেদ পুরো তিনদিন একটানা নিজেকে নিয়ে কাজ করে গেল, দোকানেও বসল না তিনদিন।

    শুটিং এর ঠিক আগের রাতে শাহেদ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, মধ্যরাতে হঠাৎ করে কোথা থেকে প্রচন্ড জোরে কোন বাচ্চার চিৎকার শুনতে পায় সে। ধড়মড়িয়ে ওঠে শাহেদ, ঘেমে নেয়ে যায়। পানি খায় ঢকঢক করে। শাহেদ জানে কেন সে এই চিৎকার শুনছে। সারারাত আর ঘুমাতে পারে না। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকে।
    রাতের হলুদ রঙা গোল চাঁদটার দিকে তাকাতে তাকাতে শাহেদের মনে পড়ে ছয় বছর আগের সেই ঘটনাগুলোর কথা। শাহেদের ছোট্ট ছেলেটার তখন নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। হাসপাতালে ছুটোছুটি করছে সে। অক্সিজেন নিয়ে আর ট্রিটমেন্ট করতে করতে কিছুটা স্ট্যাবল হয় ছোট্ট ছেলেটা। তবু ঘরঘর করা শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়না।
    হাসপাতালে বসে ছিল শাহেদ, তখনই তার কাছে ফোনটা আসে। তার প্রোফাইল চেক করে সিনেমার নায়কের জন্য অডিশনে ডেকেছে তাকে। পরের দিনই রিপোর্ট করতে হবে। এক মুহুর্তের জন্য শাহেদের মনে হল, সে যেন হাওয়ায় ভাসছে। যে স্বপ্নটা সে এতদিন দেখেছিল, তবে কি অবশেষে সেটা হতে চলেছে! পরক্ষণেই তার হুশ ফেরে, তার ছেলে অসুস্থ- এই অবস্থায় সে কিভাবে যাবে! সারাদিন সারারাত অনেক ভাবে শাহেদ, তারপর ভাবে যেহেতু ছেলেটা মোটামুটি স্থির আছে, অডিশনটা করেই ফিরে আসলেই তো হবে।

    দ্বিধাগ্রস্ত শাহেদ পরদিন তার স্ত্রী আর একজন আত্মীয়কে রেখে বাসে চড়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাসে চড়তে চড়তে অজানা ভয় কাজ করে শাহেদের মনে, সে কি স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে, নিজের জন্য ছেলেটাকে রেখে এসেছে- এটা কি ঠিক করেছে সে!
    সবকিছু ঝেড়ে ফেলে অডিশনে পৌঁছে অপেক্ষা করতে থাকে। সিরিয়াল এগুতে থাকে। আর একজন বাদে তার ডাক পড়বে- এমন সময় কল আসে শাহেদের। তার ছেলেটার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। শাহেদ হতবম্ব হয়ে যায়, কি করবে বুঝতে পারে না। দাঁড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ। হঠাৎ ডাক আসে, শাহেদ আলী, ভেতরে আসুন!

    ২.

    শাহেদ একটা ফুটপাতের একপাশে দাড়িয়ে আছে। ডিরেক্টর তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কোথা থেকে হেঁটে যেতে হবে। সিনেমার নায়ককেও ডিরেক্টর বুঝিয়ে দিলেন।
    শাহেদ বৃদ্ধের কস্টিউম পরে দাঁড়িয়ে আছে। আজকে সেই দিন যেদিনটার জন্য তার এতো এতো দিনের অপেক্ষা ছিল। আজকে সেই দিন, যে দিনটার জন্য স্বপ্নালু মন দিন গুনছিল। আজকের দিনটার প্রতিটা মুহুর্ত সে টেনে টেনে বড় করতে চায়।
    অবশেষে এল সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত নির্দেশ, “লাইট, ক্যামেরা, একশন!”
    শাহেদের হঠাৎ মনে হল ধক করে সবকিছু যেন স্থির হয়ে গেছে। সে হেঁটে চলছে, অথচ চারদিক খুব স্থির, প্রচন্ড ধীর। নায়ক অন্যমনস্কভাবে সামনে আসছে তার সামনে, বৃদ্ধ সাজা শাহেদ কাঁপা কাঁপা পায়ে এগুচ্ছে। একসময় ধাক্কা, তারপর শাহেদের ধীর কন্ঠে বলা, ” একটু দেখে চল বাবা..” তারপর নায়কের লাঠি তুলে দেওয়া…দিতে দিতেই নায়কের কিছু একটা মনে আসায় পেছনে ঘুরে ছুটে চলা…অকৃত্রিম হাসি দিয়ে শাহেদের বলা, “আজকালকার ছেলেগুলোও না….” – খুব সাধারণ একটা স্ক্রিনপ্লে, কিন্তু এত নিখুঁতভাবে হল যে সেটের সবাই একরকম হা করে তাকিয়ে থাকল। ডিরেক্টর “কাট!” বলতেই হাততালির রো পড়ে গেল চারদিকে।
    শাহেদ তাকায় চারপাশে। মানুষ বাহবা দিচ্ছে- এতো ছোট সময়ের একটা অভিনয়ে বাহবা দিতে পারে কেউ সেটা শাহেদের ধারণার মধ্যে ছিল না। পেছন থেকে খলিফা কাঁধ চাপড়ে বলে, “ফাটায় দিছো ভাই!”
    শাহেদ আলী মলিন মুখে হাসে, কি বলবে বুঝতে পারে না।

    শুটিং এর আরো টুকিটাকি কিছু কাজ করে প্যাক করে দেওয়া হয়। বিকেলে নাম ডাকা হয় টাকা দেওয়ার জন্য। একজন একজন করে আসে। একটা সময় জোরে ডাকা হয়, “শাহেদ আলী!”
    কিন্তু শাহেদ আলীকে তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না কোথাও। ম্যানেজার ঠোট উলটে বলে, “লোকটা গেল কোথায়, ভালো করেছিলো তো, টাকা নিবে না-”

    ৩.
    গ্রাম পেরিয়ে মাঠ, মাঠের পর সবুজ জমি, তারপর ছোট্ট নদী, সেই নদীর ধারে বসে মধ্যবয়স্ক একজন লোক অঝোর ধারায় কান্না করছে। লোকটার নাম শাহেদ আলী।

    শাহেদের ছেলে মারা গিয়েছিল। অডিশন দিয়ে ঝড়ের বেগে বাড়ি ফিরতে বাসে উঠে সে। অর্ধেক রাস্তায় গিয়ে আরেকটা ফোন আসে। ওপার থেকে ছেলের সংবাদটা জানায় কেউ। শাহেদ স্তম্ভিত হয়ে যায়, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। নিজেকে অপরাধী মনে হয় তার। মনে হতে থাকে, অভিনয়ের নেশায় ছেলেকে সে মেরে ফেলেছে। বাস থেকে নেমে সেই নদীর ধারে বসে থাকে সে, বাড়ি ফেরার সাহস তার হয়না। ঘন্টা খানেক বসে থেকে হঠাৎই চিৎকার করে কান্না শুরু করে শাহেদ।

    আজ ছয় বছর পরে ঠিক একই নদীর ধারে বসে সে অঝোরে কান্না করে যাচ্ছে। কিন্তু দুই ঘটনার কি অমিল! ছয়বছরের আগের সেই শাহেদ নিজেকে অপরাধী ভেবে কাঁদছিল আর আজকের শাহেদ দিনের পর দিন নিজের মনের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে স্বপ্নপূরণের সেই আকুন্ঠ অনুভূতি পেয়ে কান্না করছে।

    মধ্যবয়স্ক লোকটার শিশুদের মতো কান্না দেখে ভারী হয়ে ওঠে ছোট্ট নদীটা, পাশের সবুজ মাঠটা, আর হুহু করে বয়ে যাওয়া শীতল বাতাসটা। তবু শাহেদকে তারা থামায় না। তারা চায়, একটু কাঁদুক লোকটা,আরেকটু কাঁদুক। দিনের পর দিন পাথর করে ফেলা মনটাকে ওই চোখের উষ্ণ জলগুলো গলিয়ে ফেলুক।

    কাঁদতে থাকুক শাহেদ আলী। কাঁদতে থাকুক রঙধনুর মতো স্বপ্ন দেখা মানুষটা।

    5
    4 Comments
    • মানুষ সুখেও দুঃখেও কাঁদে। শাহেদের কান্না তার অস্তিত্বের প্রকাশ। অভিনন্দন কথক।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন নিন! আপনার এই লেখাটি আজ 23 May 2021 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • অভিনন্দন! গল্পকার আপনার গল্পটি অসাধারণ। বহুদিন বাদে অনিন্দ্য সুন্দর লেখা উপহার দিলেন। অসংখ্য ধন্যবাদ ও অজস্র ভালবাসা জানাই।

    • দারুন একটি গল্প। শাহেদের হারানোর শোক তার প্রাপ্তি থেকে ঘুচে যাক। প্রীতি ও শুভেচ্ছা লেখক।

Friends

Skip to toolbar