-
প্লাটফর্ম

পর্ব-২ঘুম ভাঙল দুপুরের দিকে।
চোখ কচলাতে কচলাতে ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলাম দুইটা বাজে। “আরে, দেরী হয়ে গেছে!” বলেই ওয়াশরুমে ছুটলাম। গোসল সেরে খাবার খেয়ে রুমে আসলাম।
চিন্তার বিষয় হল, কি পোশাক পরা যায়! গত চারবছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, ঢোলা কাপড়চোপড় আর পরি না। চুলে তেল দিয়ে আচড়ানোও হয় না।
বেছে বেছে একটা নীল রঙা শার্ট পরলাম। প্রেমের রঙ লাল হয়, কিন্তু কোথাও নীলের সাথে একটা সম্পর্ক আছে। কালো টাই, আর একটা ক্যাজুয়াল প্যান্ট-জুতা পরে রওনা হয়ে গেলাম।বিকেল চারটা বাজে। এখন যেটা করতে হবে, ফুল কিনতে হবে। অনেকদিন পর দেখা হচ্ছে ফারিনের সাথে। সেই একইভাবে চাঁপা ফুল দিয়ে সম্বর্ধনা জানালে মন্দ হবে না। ফারিনের সাথে হয়তো তার জামাই থাকবে, ইংরেজিতে গট গট করে কথা বলবে। এক/দুটো বাচ্চাও থাকতে পারে। “মাম্মি, মাম্মি!” বলে অস্থির করে তুলবে ফারিনকে!
ফারিন হয়তো সামলে নিয়ে একটু ফুসরত পেয়ে আমার সামনে দাঁড়াবে। জিজ্ঞেস করবে, “শাহেদ, ভালো আছো?” আমি মাথা নাড়াবো। দাঁড়িয়ে থাকবো নিচের দিকে মাথা করে। চার বছরের না বলা কথাগুলো হয়তো গলায় এসে আটকে থাকবে, কিছুই বলতে পারবো না। বলতে পারবো না, কতটা অনুতপ্ত দিন কাটাই সেদিন রাতের ঘটনার জন্য। নিজের অপারগতা কতটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে আমাকে- হয়তো কিছুই বলতে পারবো না। তবু দেখাটা হোক, শেষবারের মতো হলেও, একবার হোক!ফুলের দোকান থেকে স্বর্ণ চাঁপা ফুল নিয়ে রাস্তায় বেরোলাম। ফারিনের ফুলের গন্ধ ঘ্রাণের একটা বিশেষ তত্ত্ব আছে। সেটা হচ্ছে যতটুকু পারা যায় চোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে সবটুকু ঘ্রাণ নিয়ে নেওয়া। তারপর প্রশ্বাস মুখ দিয়ে বের করে নিয়ে শব্দ করে বলা, “আহাহা, অমৃতো!”
ফারিনের সাথে যতদিন দেখা হতো, আমাকে একইভাবে স্বর্ণচাপা ফুলের গন্ধ নিতে বলতো। আমি মানা করতাম সাথে সাথে, “আরে না- মানুষ আছে- ফুলের গন্ধ পাচ্ছি তো এমনি-এভাবে চোখ বন্ধ করে- একই তো গন্ধ পাবো…”
ফারিন কটমট করে তাকিয়ে বলে, “লজ্জা লাগে, না তোমার?”
আমি “হু” করে সায় দিই।
ফারিন হতাশ হয়ে বলে, “তোমার এই লজ্জাকে যদি তুমি গাঙ্গে না ভাসাও, শাহেদের বাচ্চা শাহেদ!” তারপর একটু পরে বসতে বসতে বলে, “তুমি কি জানো শাহেদের বাচ্চা শাহেদ এখন আমার কাছে একটা গালিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে। রাগ উঠলেই যে কাউকে শাহেদের বাচ্চা শাহেদ বলে গালি দিই!”আমি মুখ টিপে হাসি।
ফারিন হাতের আঙুল তুলে বলে, “এই হাসবা না একদম, জানে মেরে ফেলব তাহলে…”গাড়িতে বসে রেলস্টেশন যেতে যেতে স্বর্ণচাপা গুলো নাকের কাছে নিয়ে ঠিক ফারিনের মতো দুইচোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে সমস্ত ঘ্রাণ টেনে নিলাম, কিছুক্ষণ আটকে রাখলাম। তারপর “আহ, অমৃতো!” বলে আটকে রাখা সবটুকু শ্বাস ছেড়ে দিলাম। সেই স্বর্ণ চাপার গন্ধ, সেই অমৃত উচ্চারণ, সেই নির্জীব আমি- এই তিনটে জিনিসকে পূর্ণতা পাইয়ে দিতে পারে, শুধু সেই-ই নেই!
বন্ধ চোখজোড়া খুলতেই দুঁফোটা জল গড়িয়ে পড়ল চোখ থেকে।
(বাকি ৩ পর্ব শীঘ্রই, বিলম্বের জন্য দুঃখিত)
2 Comments
Friends
পৌষী পাল
@poushee-paul
Farhana Hossain
@farhana-hossain
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot


ইষ্টিশনের রেলগাড়িটা/ মাইপা চলে ঘড়ির কাঁটা…