Profile Photo

অনিক ভট্টাচার্য্যOffline

  • Cholechi-Udoyer-Pathdhore
  • “সুখ পাখি”
    অনিক ভট্টাচার্য্য

    রাজু আজ অফিস গেলো না, এর জন্য ছুটিও নিলো না, সারাবছর রোদ, ঝড়, বৃষ্টিতে কেউ কোনদিন অফিসে ছুটি বা ফাঁকি নিতে দেখেনি, প্রচন্ড অসুখেও এমন‌ও দিন গেছে যে ছুটি নেয়নি তার ওপর একটানা ওভারটাইম করে গেছে, কিন্তু প্রতিবছর ২৩শে সেপ্টেম্বর সে অফিসে আসবেনা, দুনিয়ার যায় হোক, এদিন ও অন্যজগতে চলে যায়, অফিসে দীর্ঘদিন থাকার ফলে বস সহ প্রত্যেকে জানে তাই শুরু শুরুতে জানতে চাইলেও এখন আর জানতে চাই না, যে সারাবছর ফাঁকি না দিয়ে কাজ করে চলেছে যার ডায়েরীতে ফাঁকি দেওয়াটা নেই সে যদি একদিন না আসে তাতে ক্ষতি কি? তাঁর থেকেই বোঝায় যায় দিনটির গুরুত্ব কতখানি রাজুর কাছে, আজ‌ও তার ব্যতিক্রম হলোনা, সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে সাদা শার্ট,কালো প্যান্ট এটি চয়নিকার খুব প্রিয়, চয়নিকা বলতো এমন পোশাকে তাকে অর্থাৎ রাজুকে খুব দারুন লাগে, তাই যখন‌ই তাদের দেখা হতো , রাজু সাদা শার্ট কালো প্যান্ট আর চয়নিকা সাদা সেলোয়ার পরতো, বিশেষ করে ২৩শে সেপ্টেম্বর এ দিনটি রাজুর জন্য খুব স্প্যশাল, আজকের দিনে চয়নিকার জন্মদিন, কাকতালীয় ভাবে আজকেই চয়নিকার সাথে প্রথম দেখা বাস স্ট্যন্ড এ, দুজনেই এক‌ই অফিসে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলো কিন্তু তখনো কেউ কাউকে চেনেনা, ইন্টারভিউ তে রাজু সুযোগ পেলেও চয়নিকা বাদ পরে যায়, খুব কান্না করছিলো অফিসের বাইরে, রাজু বের হতেই চোখে পরে, অফিসের বাইরে বসে বসে কাঁদতে সামনে যেতেই জিজ্ঞেস করে , এর পর আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব হয়, এর কিছুদিন পর আরেকটি অফিসে চয়নিকার ইন্টারভিউ হয়, এবার চয়নিকার সাথে রাজু যায়, বারবার সাহস জোগাতে থাকে, এবার চয়নিকার চাকরিটা হয়ে যায়, চাকরি পেয়ে চয়নিকা খুব খুশি, প্রায় ১৫/২০ টা ইন্টারভিউর পর‌ও হয়নি, এবার হয়ে গেলো, মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা মরা ,দুটো বোন, এর দায়িত্ব একা কাঁধের উপর মা ও অসুস্থ তাই চাকরি টা খুব দরকার ছিলো, চয়নিকা এর জন্য মনে করে রাজুর সৌভাগ্য আর মোটিভেশন কাজ করেছে, এর পর থেকে রাজু আর চয়নিকা আরো কাছে আসতে থাকে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, প্রতিবছর এ দিনটি রাজুর জন্য খুব স্প্যাশাল, দুনিয়ার যত্তো কাজ থাক আজকের দিনে রাজু তৈরী হয়ে ঠিক সকাল ১১টাই “অবন্তিকা পার্কে” সাদা অর্কিড নিয়ে রাজু আসবেই , এটা আজ দীর্ঘ ৪/৫ বছরের অভ্যেস ,সাদা অর্কিড চয়নিকার খুব প্রিয়, এটা পেলে খুব খুশি হতো, কিন্তু কোন কিছু চাইতো না, শুধু রাজুর বুকে মাথা রেখে চুপচাপ বসে থাকতো,আজ‌ও ব্যতিক্রম হলো না, চয়নিকার প্রিয় সাদা অর্কিড নিয়ে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে “অবন্তিকা পার্কে” এলো, সব ঠিকঠাক শুধু আজ চয়নিকা নেই, পরে আছে সেই পার্কের ব্যঞ্চ যেখানে চয়নিকা রাজুর বুকে মাথা রেখে চুপচাপ বসে থাকতো, আর মাঝে মাঝে সাদা অর্কিড এনে রাজু সারপ্রাইজ দিতো,সাদা অর্কিড পেয়ে খুব খুশি হয়ে যেতো, সেদিন‌ও ছিলো ২৩শে সেপ্টেম্বর, চয়নিকার জন্মদিন, রাজুর প্রমোশন হলো আগের দিন কিন্তু বলেনি ভেবেছে সেদিন বলবে, আর বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেবে, পার্কে এসে সময় মতো অপেক্ষা করতে করতে , প্রায় এক প্রকার অধৈর্য্য হয়ে গেলো ঠিক তখনই পকেটের ফোন টা বেজে উঠলো হাতে নিয়ে দেখলো, “সুখ পাখি” চয়নিকাকে রাজু ভালোবেসে “সুখ পাখি”ডাকতো, ফোন তুলতেই একটা অচেনা গলা, হাসপাতাল থেকে ফোন, গাড়ি দুর্ঘটনায় একজন মেয়ে মারা গেছে, তার চেহারা দুর্ঘটনায় এতোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চেনার উপায় নেই, হাতের মোবাইল টা পেয়ে ফোন করেছে হাসপাতাল থেকে সর্বশেষ নম্বরটি ছিলো রাজুর, ফোন পেয়ে পাগলের মতো ছুটে গেলেও বিশ্বাস করেনি দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিটি তার “সুখ পাখি” অন্য কেউ হয়তো ফোনটি চুরি করেছে, আর রাজুর নম্বর সেভ নেই তাই হয়তো কল করতে পারছেনা, ও কোথাও গেছে , ঠিক আসবে, সেদিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই অফিস সেরে সোজা অবন্তিকা পার্কের সেই ব্যঞ্চিতে বসে অপেক্ষা করে, রাজু, আর জন্মদিনে প্রিয় অর্কিড ফুল নিয়ে , সাদা শার্ট ,কালো প্যান্ট পরে এক‌ই জায়গায় অপেক্ষা করে ঠিক সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত সময় আসে আর যায়, শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাও গিয়ে ফিরে আবার আসে, কিন্তু আসেনা খালি রাজুর আদরের “সুখ পাখি”

    5
    3 Comments

Friends

Profile Photo
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
Profile Photo
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Profile Photo
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
Profile Photo
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
Profile Photo
charumannan
@charumannan
Profile Photo
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Profile Photo
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Profile Photo
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen
Skip to toolbar