-
২০১৯ সাল থেকে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে পুরো বিশ^ নাকাল। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুণতে হচ্ছে ব্যাপক লোকসান। স্বশরীরের শিক্ষা প্রদান দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। পৃথিবীব্যাপী সার্বিক পরিষেবা সংকোচিত হয়ে গেছে। করোনাকালীন এহেন পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে জরুরী সেবা প্রদান কর্মসূচী জারি রাখা সম্ভব হয়েছে । করোনাকালীন মহামারির সময়েও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখেছে অনলাইন মাধ্যমে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়ই মানুষের ডিজিটাল উপস্থিতি বৃদ্ধি ব্যাপকহারে বেড়েছে। ডিজিটাল তথ্যায়ন সেবা ও এর উপর গণমানুষের নির্ভরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রন্থাগারের অধিকাংশ পরিষেবা যথাঃ রেফারেন্স সেবা, সার্কুলেশন সেবা ইত্যাদী স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে এবং ডিজিটাল আর্কাইভে রিমোট একসেসের মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। গ্রন্থাগারের ডিজিটাল আর্কাইভের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে গ্রন্থাগার উপকরণসমূহকে ডিজিটাইজেশন করতে হচ্ছে। ডিজিটাইজ করতে উন্নত প্রযুক্তির স্ক্যানার, কম্পিউটার এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এডিটিং সফটওয়ার ও ডিজিটাল প্রিজারভিং সফটওয়ার ব্যবহার করতে হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব অত্যাসন্ন। এই বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য যথাঃ আইওটি, এডভান্স রোবটিক্স ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রভাব গ্রন্থাগারেও পরবে। সেক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের পাঠ্যোপকরণসমূহ ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরী করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশী বেড়ে যাবে এবং গ্রন্থাগার পরিষেবাও ডিজিটাল পন্থায়ই বিতরণ করতে হবে। ফলে ক্রমশঃ প্রকাশনা শিল্পের কপিরাইট একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে সন্নিহিত হচ্ছে। প্রসঙ্গতই বর্তমান সময়ে গ্রন্থাগারে ব্যাপকহারে উপকরণসমূহ ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। ডিজিটাইজ করার সময় অবশ্যই যে বিষয়টিকে একজন গ্রন্থাগারিককে সাবধানতার সহিত আমলে নিতে হয় যে কোনভাবেই কপিরাইট আইন ভঙ্গ না হয়। গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করার জন্য যেসব গ্রন্থের রিপ্রিন্ট নেই এবং কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই পুনরুৎপাদন করতে পারবে। তবে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি কিন্তু কোন রিপ্রিন্ট নেই সেগুলোও গ্রন্থাগারে পুনরুৎপাদন করে সংরক্ষণ করতে পারবে। কোন গ্রন্থের রিপ্রিন্ট ও কপিরাইট থাকার পরও গ্রন্থাগার যদি ডিজিটাইজ করে তবে তা দোষের হবে না যতক্ষণ না অনলাইনে সার্বজনীন না করে দেয়া হয়, পূর্ণ গ্রন্থের কপি সরবরাহ করা না হয় এবং ফেয়ার ইউজ ছাড়া অন্যকোথাও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না হয়। অরিজোন স্টেট ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরী ডিজিটাইজ পাঠ্যোপকরণ সমন্ধে বলে যে, You may occasionally encounter the idea that libraries should “just digitize everything in the library and put it online!” Alas, this would constitute infringement if the works are protected by copyright and permission was not obtained. Materials in the public domain may be digitized without permission or restrictions. বাংলাদেশের বিভিন্ন খোলা বাজার যথাঃ নিউ মার্কেট, ঢাকা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশী-বিদেশী কিছু উচ্চমানের বই বিশেষত কম্পিউটার সায়েন্স, মেডিক্যাল, এপ্লাইড ফিজিক্স বা ম্যাথ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন কন্টেন্ট যা দেশে উৎপাদিত নয় অথবা সহজলভ্য নয় এমন প্রকাশনার কপি বিক্রি হতে দেখা যায় যা স্পষ্টতই আইনের লঙ্ঘন। আইন লঙ্ঘন করে কপি বিক্রি করার প্রবণতার মূল কারণ হলো এসব প্রকাশনার উচ্চ মূল্য যা উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের বহন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা এবং আইন ও অধিকার সমন্ধে সচেতনহীনতা। সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের প্রকাশনাগুলো সাধারণত উন্নত দেশগুলোতে উৎপাদিত হয় যার মূল্য নির্ধারিত হয় ২০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত। অথচ আমাদের দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা সেগুলো বাংলাদেশী মূল্য ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ক্রয় করতে পারে।
4 Comments

m.rashiduzzaman
researcher, writer and content editor
who reads, he leads
Friends
Jabed A Emon
@jabedaemongmail-com
অনিন্দিতা দেব
@aninditadebanibd-6122021
রফিকুল ইসলাম বাঁধন
@rafiqulislambadhon
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Kazi-Salauddin
@kazi-salauddin
Sheikh-Abdullah-Noor
@sheikh-abdullah-noor
Arif-Arian
@arif-arian
MD. Osman Ghani
@osmanghani
Arfadul islam Arman
@arfadulislamarman00


এইতো সুযোগ। লেখো তুলটে, মনের যতো কথা। অভিনন্দন।