Profile Photo

MD Sumsuzzaman SumonOffline

  • Sumon12004055
  • Profile picture of MD Sumsuzzaman Sumon

    MD Sumsuzzaman Sumon

    4 years, 1 month ago

    গল্পঃ ৬ অক্টোবর।
    সবাই যখন নিজেদের মত করে জীবন গুছিয়ে নিয়েছে তখন নির্জন পরে আছে সেই ১৩ বছর আগের ঘটনাতেই। অনেক বন্ধু বান্ধবিদের বিয়ে হয়ে গেছে। অনেকের আবার বাচ্চা আছে। সব বন্ধু বান্ধবিরা মিলে ঠিক করল সবাই দেখা করবে। একটা অনুষ্ঠান করবে। পুনর্মিলন অনুষ্ঠান। নির্জনের ওই ঘটনার পর থেকে সে সবার থেকে একটু দূরে দুরেই থাকে। কারো সাথে তেমন কোন যোগাযোগ রাখে নি। তার এক বন্ধু, সাকিন, তাকে জানায় যে ৬ অক্টোবর একটা পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হইছে। ৬ তারিখে আবার নির্জনের জন্মদিন।
    যথারীতি ৬ তারিখে সবাই সময় মত চলে আশে। সবাই অনেক খুশি। প্রায় ১৩ বছর পর সবাই আবার এক সাথে। আবার কবে দেখা হবে কেউ জানে না। নির্জনের সাথে মোটামুটি সবার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কয়েকজনের সাথে একটু বেশি। তাদের মধ্যে সাকিন, আসিফ, হৃদয়, আরমান, বৃষ্টি, নাবিলা। এদের সাথে অনেক ভালও সম্পর্ক ছিল।
    যখন দেখল নির্জন আশে নি, তখন সবাই বলাবলি করছিল, নির্জন কোথায়, ওকে কি জানানো হয়নি? সাকিন বলল, আমি তো ওকে জানাইছি। আসবে হইত। দেরি হতে পারে।
    পাশ থেকে বৃষ্টি বলল, ছেলেটা একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো। আমাদের সাথে যখন ছিল তখন অনেক হাসিখুসি ছিল, আমাদের পুরা গ্রুপ টাকে সে একাই মাতাই নিয়ে বেড়াতো। আর এখন তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
    আরমান বলল, ওর সাথে যা হইছে সেটা যদি অন্য কারো সাথে হত তাহলে সে এত দিনে সুইসাইড করতো। ও যে এখনো কিভাবে ঠিক আছে আমি অবাক হয়ে যায়।
    নাবিলা বলল, ওকে একটা ফোন করে দেখনা কত দূরে আছে। আসবে কি না?
    আসিফ বলল, আমি ফোন করছিলাম। কাছাকাছি আছে। আসতিছে। তোরা কি ভুলে গেছিস? আজকে কয় তারিখ, আজকে কি?
    সাকিন বলল, আজকে ৬ অক্টোবর। নির্জনের জন্মদিন। আর ওই ঘটনাও।
    আরমান বলল, ভুলেও ওকে ওই বেপারে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করবি না।
    সবাই বলল, ঠিক আছে।
    নির্জন কিছুক্ষণ পর চলে আসলো। নির্জনকে দেখে অনেকেই চিনতে পারে নি। যারা তার সাথে প্রায় যোগাযোগে থাকে তারাই শুধু চিনতে পারে। নির্জনের চুল, দাড়ি অনেক বড় হয়ে গেছে। অনেক বয়স্ক লাগতিছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন ভিতর থেকে সব যৌবনরস শুষে নিছে।
    সবাই বলল, কি খবর সুমন, কেমন আছিস? তোকে তো চেনাই যাচ্ছে না।
    ভালো আছি। তোরা কেমন আছিস?
    আমরা সবাই ভালো আছি। কি অবস্থা ভাই তোর। তোকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কই থাকিস? আর কি অবস্থা তোর এ? চুল দাড়ি সব বড় রাখছিস।
    একটু মুচকি হেসে বলল, আল্লাহ যেমন রাখছে, তেমনই আছি।
    আমরা ভাবছিলাম তুই হইত আসবি না। খুবই ভালো লাগতিছে, তুই আসছিস। আমরা অনেক খুশি। বাসার সবাই কেমন আছে?
    আলহামদুলিল্লাহ্‌ সবাই ভালো আছে। সবাই আসছে?
    হুম সবাই আসছে।
    ও আসছে?
    কার কথা বলতিছিস?
    ওহ সরি। আমার কি যে হইছে? ভুলতে পারতিছি না।
    যা হইছে ভুলে যা বন্ধু।
    It’s been 13 long years, I still can’t forget her. কোন ভাবেই পারতিছি না। { নির্জনের চোখ দিয়ে তখন পানি পরছিল}
    সবাই নির্জনের কাছে এসে বলল, কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করব।
    হুম বল।
    আমরা তোর কাছ থেকে পুরা ঘটনা শুনতে চাই। সবাই বলে তুই ওকে মেরে ফেলছিস। আমরা বিশ্বাস করি না এটা। তোর মুখ থেকে শুনতে চাই। বল প্লিজ।
    আসিফ বলল, আমি মানা করছিলাম তোদের। এই বিষয় নিয়ে কোন কথা হবে না। তারপরও কেন?
    নির্জন আসিফকে থামিয়ে দিয়ে বলল, শুনবি?
    হুম শুনবো। আমরা শুনতে চাই।
    ঠিক আছে শোন তাহলে, শুরু থেকে বলি,
    “ জীবনে চলার পথে অনেক মেয়ে দেখছি, কিন্তু কাউকে দেখে মনে হয় নি এদের কারো সাথে সারাজীবন চলা সম্ভব। কিন্তু নীলিমা ছিল একদম অন্য রকম। তাকে দেখলে মনে হত আমি তার সাথে সারাজীবন কাটাতে পারব। প্রথম প্রথম তার সাথে এমনি বন্ধুর মত কথা বলতাম। একসময় গিয়ে তাকে সবকিছু বলে দেয়। আমি কখনো ভাবিনি যে সে আমার কোথায় সাড়া দিবে। তারপর আমাদের দুইজনের একসাথে পথচলা শুরু হল। ও আমাকে প্রচণ্ড বেশি ভালবাসত। আমার খেয়াল রাখত একদম আমার মায়ের মত। আমি যখন তার সাথে থাকতাম তখন মনে হত, আমি যেন আমার মায়ের কাছে আছি। আমাকে খুবই আগলে রাখত। আমি তাকে মাঝে মধ্যেই বলতাম, তুমি আমাকে এত ভালবাস কেন? আমাকে এত আগলে রাখ কেন? তোমার জীবনে আরও ভালো কেউ আসতে পারত। সে আমাকে বলত, হইত আসত। কিন্তু তোমার মত কেউ আসত না। নির্জন একটা কথা বলি? আমাকে যেন কখনও ছেড়ে যাবা না। আমার মৃত্যুর শেষ সময় পর্যন্ত আমি তোমাকে আমার পাশে চাই। আমার মৃত্যুর যেন তোমার হাতেই হয়। আমি বলতাম, কি সব বল এগুলা? পাগলের মত কথা বল। সে বলে, আমি পাগলের মত কথা বলি নি নির্জন। আমি যদি তোমার হাতে মরি তাহলে অনেক শান্তি পাব।
    আমার কিছু হলেই সে অনেক কান্না কাটি করতো। একবার পরে গিয়ে আমার হাতে সামান্য একটু কেটে গেছিল। সেজন্য তার কি কান্না? আমি যখন বাসা থেকে কোন কাজে বের হতাম তখন সে আমার সাথে থাকত। আমি মাঝে মাঝেই বলতাম, আমার সাথে সবসময় থাক কেন? সে বলত, তোমার উপর আমার কোন ভরসা নাই। আবার কি জানি কি করে বসবা। নিজের তো একটুকুও যত্ন নাও না। আমি তাকে ধমক দিয়ে বলছিলাম, আমার সাথে আইভাবে সব জায়গায় যাওয়া যাবে না। সে আমার ধমকে কান্না করে দেয়, আর আমেকে জড়িয়ে ধরে বলে, আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তোমার সাথে আইভাবেই থাকি প্লিজ? আমি তাকে আর না করতে পারি নি। সব কিছু খুব ভালমত চলতিছিল। সে বাসায় যাবে। তার আব্বু আম্মু তাকে নিয়ে যাবে। বাসায় যাওয়ার আগের দিন আমাকে বিকেলে ডেকে বলল, আমি কয়েকদিনের জন্য বাসায় যাব। তোমাকে এখানে একা রেখে যাব না ভাবতিছি। তোমাকে কোন বিশ্বাস নাই। নিজের কোন খেয়াল রাখবা না, আমাকে শুধু মিথ্যা কথা বলবা। আমি বললাম, তোমার মাথা ছুঁয়ে বললাম, আমি তোমার সব কথা শুনবো। তুমি যা যা বলবা তাই তাই করব। সে আমাকে বলল, যা বললা মনে থাকে যেন।
    সে পরদিন তার বাবা মার সাথে চলে গেলো। সে যে বাসে যাচ্ছিল সেই বাসটা মারাত্মক ভাবে এক্সিডেন্ট করে। তার বাবা মা মারা যায়। সেও খুব খারাপ ভাবে আহত হয়। আমার মনে হচ্ছিল, আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেছে। প্রায় ৬ দিন তার কোন জ্ঞান ছিল না। তারপর যখনই তার জ্ঞান ফিরছিল তখনি সে চিৎকার করতিছিল। তার খুব বেথা হচ্ছিল। সে বেথা নিতে পারছিল না। আমিও তার চিৎকার জড়িত কান্না নিতে পারছিলাম না। সেজন্য তাকে সব সময় ঘুম পারিয়ে রাখা হত।
    ৬ অক্টোবর। আমি তার পাশে বসে আছি। সে আমাকে কাছে ডাকল। আমাকে বলল, বাবু মাফ করে দিও প্লিজ। তোমার সাথে সারাজীবন থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারলাম কই? যখনই আমার ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে তখনই প্রচণ্ড বেথা হচ্ছে। আমি আর বেথা নিতে পারছিনা বাবু। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
    আমি বললাম, আমি তোমাকে এই কষ্ট থেকে মুক্ত করে দেই? আমি আমার পুরো জীবনে এত বেশি কাউকে ভালবাসি নি।
    সে মুচকি হেসে বলল, আমি খুব খুশি হব। আমাকে এই কষ্ট থেকে মুক্ত করে দাও প্লিজ। আমি তোমাকে বলছিলাম, আমার মৃত্যু যেন তোমার হাতেই হয়। তোমার হাতে যদি আমি মরে যায় তাহলে আমি অনেক শান্তি পাব।
    আমি তার স্যালাইন এর মধ্যে টক্সিন পুশ করে দেই।
    একজন বলল, তার মানে তুই নীলিমাকে………..
    বিনা কোন কিছু অনুভব করে, বিনা কোন চোখের পলক ফেলে, সে আমার সামনে জীবন্ত লাশ হয়ে পরে ছিল। আর যখনই কিছু সময়ের জন্য তার জ্ঞান ফিরছিল, সবাই জানে সে কি রকম বেথার মধ্যে দিয়ে, কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। সেই কষ্টের মদ্ধেও সে আমাকে বার বার বলছিল, আমি যেন আমার নিজের যত্ন নেই, নিজের খেয়াল রাখি। কারন সেও জানত সে আর কোন দিন আমার খেয়াল রাখতে পারবে না। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি তোমাকে এই কষ্ট থেকে মুক্ত করে দিব? সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছিল। তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল, শ্বাস চলছিল না। আমি তার পাশে দাড়িয়ে তাকে দেখছিলাম। আর তখন আমার অনুভব করলাম, আসলে ভালবাসার শেষ মঞ্জিল মৃত্যু। I KILLED HER OUT OF LOVE.

    5
    3 Comments
Skip to toolbar