Profile Photo

Hurefo ReamaOffline

  • Reama
  • Profile picture of Hurefo Reama

    Hurefo Reama

    • 4 years, 6 months ago

    প্র্যাকটিক্যাল ক্লাশে ইকবাল স্যার ব্যাঙ অপারেশনের জন্যে ক্লোরোফরম ব্যবহার করতেন।ক্লোরোফরম দিয়ে তিনি ব্যাঙকে অজ্ঞান করে নিতেন।যে বোতল থেকে ক্লোরোফরম ব্যবহার করতেন, তার গায়ে সাদা কাগজে লেখা থাকত TCM. ড:হবিতুল্লাহ তখন এটার মানে জানতেন না। ক্লোরোফরমের বোতলে টিসিএম লেখা কেন? অনেক ভেবে ভেবে তিন বের করেছিলেন টিসিএমের পূর্ণরুপ। টিসিএমের পূর্ণরুপ হচ্ছে ট্রাইক্লোরোমিথেন। ক্লোরোফরমেরই ভিন্ন নাম। এটা লেখা থাকে হয়ত একারনে যে, এতে ক্লোরোফরম চুরি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কারণ,এটা ব্যবহার করে বদমায়েশরা সহজেই মানুষকে অজ্ঞান করে ফেলতে পারে।
    কাজ শেষ হলে ইকবাল স্যার অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সাথে ক্লোরোফর্মের বোতলটাও শেলফের ভেতরে তালা দিয়ে রাখতেন।
    ড:হবিতুল্লাহ এই ক্লোরোফরমের বোতলটা তার অতি প্রিয় ম্যাপল লিফ ইন্টান্যাশনাল স্কুলের বিজ্ঞান গবেষণাগার থেকে চুরি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। টাকার বিনিময়ে তিনি ইচ্ছে করলে অন্যকোন ভাবে ক্লোরোফরম সংগ্রহ করতে পারতেন।কিন্তু শিশু কিডন্যাপ মিশনের সাথে তিনি অন্য কাউকে জড়াতে চান না। কোন ট্রেসও রাখতে চান না।তিনি স্কুল থেকে চুরি করতে ব্যর্থ হলে তার অতি প্রিয় ছাত্র মকবুলকে আবার ব্যবহরা করবেন। মকবুলকে টাকা দিবেন,বিনিময়ে তার ক্লোরোফরম চাই। কী কাজে এটা ব্যবহার হবে মকবুল কোনদিন জানতে পারবে না। সে আসলে প্রশ্নও করবে না। মেঘনা স্রোতস্বীনীর ভাই কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ড:মোজাম্মেল হককে ব্যবহার করেও তিনি এটা সংগ্রহ করতে পারতেন,কিন্তু তিনি তা করবেন না।
    কিডন্যাপ মিশনের সকল প্রস্তুতি শেষ শুধুমাত্র ক্লোরোফরম ছাড়া। ক্লোরোফরম চুরি করতে পারলেই তিনি ওয়েল অগার্নাইজড দুর্ধর্ষ কোন স্পাইয়ের মতো।
    ড:হবিতুল্লাহ এক সন্ধ্যায় ছদ্মবেশে এসে উঠলেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।নিজের পরিচয় দিলেন ড:স্মিত,অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাইকোলজির প্রফেসর হিসেবে। সাত দিনের সফরে বাংলাদেশ এসেছেন fate নামে একটা সংস্থার হয়ে মাঠ পর্যায়ে কিছু রিসার্চ ওয়ার্ক করতে। হোটেল রুমে শুয়ে শুয়ে ড:হবিতুল্লাহ মনে মনে হাসলেন।নিজের শহরে,নিজের বাড়ির এত কাছে তিনি হোটেলে উঠলেন ছদ্মবেশে শুধুমাত্র এক বোতল ক্লোরোফরম চুরি করার জন্যে। এই ঘটনা যদি কখনও কারো কাছে, মকবুল,বা আছিয়া আন্টি, বা মেঘনা স্রোতস্বীনী,গল্প করে বলা যায়— ওরা কী ভাববে? মনে মনে বলবে,পাগলামি আর কাকে বলে ! কিন্তু পাগলামি ছাড়া তো কোন মহৎ কামই হয় না।
    নিজ শহরেই এক্সাইটিং হোটেল বাস— ভাবতেই ড:হবিতুল্লাহর মনে এক ধরণের শিহরণ খেলে গেল। তিনি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ঢাকা শহরের অদ্ভূদ সুন্দর রুপ দেখতে লাগলেন।
    পরের দিন সকাল দশটায় হোটেলের ট্যাক্সিতে তিনি নিজের অতি প্রিয় অতি চেনা ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এলেন।তিনি এখন ড:স্মিত।দাড়ি আর গোঁফে ঢাকা তার মুখ।দীঘল এলো চুলের উপর সাদা কাউবয় হ্যাট।সোনালি ফ্রেমের গোল কাঁচের চোশমা।
    ড:স্মিত যেন সত্যিকারের এক রহস্য মানব।
    ড্রাইভারকে ওয়েট করতে বলে তিনি দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে গেলেন অফিসের দিকে।চির চেনা প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে।ড: হবিতুল্লাহ যখন ছাত্র ছিলেন, প্রিন্সিপাল ছিলেন অমায়িক ব্যবহারের ড: এ কে খন্দকার। এখন দেখি প্রিন্সিপাল ড:শারমিন সুলতানা।মহিলা প্রিন্সিপাল বেঁকে বসলে তাকে বুঝানো মুশকিল।কারণ,তখন তারা ব্লক মাইন্ডে থাকবেন,যুক্তি বুঝবেন না। fate নামে এক বিখ্যাত আমেরিকান প্রতিষ্ঠান তার স্কুলের সাইন্স ল্যাব দেখবে,এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে,এই সুযোগ তার হাতছাড়া না করারই কথা।
    ড:হবিতুল্লাহ অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন।প্রিন্সিপালের এই অফিসটা এত বছর পরে প্রায় একই রকম আছে ফার্ণিচারের কিছু পরিবর্তন ছাড়া।
    ড:হবিতুল্লাহ চেয়ার টেনে বসতেই ড:শারমিন সুলতান জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকালেন।
    আমি ড:স্মিত। আমি Fate নামে একটা অর্গানাইজেশন থেকে আপনার স্কুলের বিজ্ঞান গবেষণাগার দেখার জন্যে এসেছি।আমার প্রতিষ্ঠান থেকে উন্নত সাইন্স ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে থাকি বিনামূল্যে।আমি কী আপনার স্কুলের ল্যাবটা একটু ঘুরে দেখতে পারি?
    নিশ্চয়ই পারেন।আপনি কী ঢাকার আর কোন স্কুলে গিয়েছেন?
    দেখুন,আমি মাত্র এসেছি। আর আপনার স্কূল সম্পর্কে আগে থেকেই আমরা খোঁজ নিয়ে এসেছি। এটা আমাদের জানার বিষয় যে, বাংলাদেশের উন্নতমানের একটা স্কুলে,ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাইন্স ল্যাব কী অবস্থায় আছে। ছাত্র—ছাত্রীরা কী পর্যায়ের প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান অর্জন করে। আপনার স্কুল দিয়েই শুরু করছি।
    আচ্ছ,ঠিক আছে,কোন সমস্যা নেই।আপনারা সত্যিই বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি ফ্রি দিয়ে থাকেন?
    হ্যাঁ ।
    এটা কী শুধু বাংলাদেশেই দিবেন?
    না। পৃথিবীর যে সব দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার মান অত উন্নত নয়,আমরা সেসব দেশকে সাহায্য করছি।
    fate নামে এরকম কোন আন্তর্জাতিক অগার্নাইজেশনের নাম তো আগে শুনিনি।
    হ্যাঁ।আপনি ঠিক বলেছেন। আমাদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র দুই বছর হলো কার্যক্রম শুরু করেছে।
    আচ্ছা,ঠিক আছে,আপনি যান ল্যাব ঘুরে দেখে আশুন। চলে যাওয়ার আগে চা খেয়ে যাবেন।
    ড:শারমিন সুলতানা বিজ্ঞানের শিক্ষক ইকবাল সরকারকে ডেকে বললেন,ড:স্মিত এসেছেন আমেরিকার একটা অগার্নাইজেশন থেকে আমাদের বিজ্ঞান ল্যাবকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে। উনাকে ল্যবটা ঘুরিয়ে দেখান।আমি সাথে আসতে পারতাম,কিন্তু আমার একটু জরুরী কাজ আছে।দেখানো হলে,উনাকে অবশ্যই চা খাওয়ার জন্যে নিয়ে আসবেন।.. ড:স্মিত উনার সাথে যান,উনি আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষক ইকবাল সরকার।
    ইকবাল সরকার স্যার যে এখনো স্কুলে আছেন,এটা ড:হবিতুল্লাহর জানা ছিল না।ইচ্ছে হলো তিনি স্যার বলে তাকে বুকে জাপটে ধরেন। কিন্তু তিনি নিজের আবেগ ইচ্ছেকে দমন করলেন। এখন তিনি ড:স্মিত। এসেছেন ক্লোরোফরম চুরি করতে।
    বৃদ্ধ ইকবাল স্যারের পেছনে পেছনে ড:হবিতুল্লাহ হেঁটে যেতে লাগলেন তার অতি চেনা বিজ্ঞান ল্যাবের দিকে।
    মি:স্মিত, এটাই হচ্ছে আমাদের বিজ্ঞান ল্যাব। শুনেছি,আপনাদের দেশের ল্যাব অনেক উন্নত। ওরকম উন্নত ল্যাব কী আমাদের দেশে সম্ভব?
    কেন সম্ভব নয়? আমরা তো এসেছি সাহায্য করতে।
    সত্যি সাহায্য করবেন?
    হ্যাঁ। আমরা তাই করে থাকি।
    ইকবাল স্যার যন্ত্রপাতি দেখাতে লাগলেন। আমাদের এখানে ভালো মাইক্রোস্কোপ নেই। দেখতেই পারছেন এটা দিয়ে ভাল কিছু দেখানো যায় না। আমার প্রথম দাবি একটা উন্নত মাইক্রোস্কোপ দিবেন।
    ঠিক আছে মি: ইকবাল সরকার। আপনাদের অনেক কিছুই তো নেই দেখছি।অনেক কিছুই আপনাদের দিতে হবে দেখছি। আপনাদের কেমিক্যালের কী অবস্থা? একটু দেখান তো !
    ইকবাল স্যার শেল্ফ খুলে দিলেন।সাঁ করে ড:হবিতুল্লাহর চোখ চলে গেল TCM লেখা বোতলের দিকে। বেশ কয়েকটা বোতল আছে ক্লোরোফরমের। এই সুযোগে একটা নিতে হবে কোটের পকেটে। ইকবাল স্যারকে ড:হবিতুল্লাহ বললেন,মি:ইকবাল, এভাবে তো ভাল ধারণা পাওয়া যাবে না, কেমিক্যালের রেজিস্টারটা একটু দেখান তো।
    ইকবাল স্যার রেজিস্টার আনতে গেলেন টেবিলের উপর থেকে।এই ফাঁকে বিদ্যুৎ গতিতে ড:হবিতুল্লাহ ক্লোরোফরমের একটা বোতল কোটের পকেটে ঢুকিয়ে ফেললেন।

    9
    13 Comments

Friends

Profile Photo
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Profile Photo
Lokman Hossain
@lokman20
Profile Photo
Jabed A Emon
@jabedaemongmail-com
Profile Photo
Fahmida-Nazneen
@fahmida-nazneen
Profile Photo
Tanvir Ala
@tanvirala
Profile Photo
taifmahboob
@taifmahboob
Profile Photo
Rahul-Islam
@rahul-islam
Skip to toolbar