Profile Photo

MD Sumsuzzaman SumonOffline

  • Sumon12004055
  • Profile picture of MD Sumsuzzaman Sumon

    MD Sumsuzzaman Sumon

    4 years ago

    গল্পঃ চিৎকার
    শিহাব গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে। তার দুই চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। মুখে পাথর দিয়ে ইচ্ছা মত থেঁতলানো হয়েছে। একটা একটা করে হাতের সবগুল নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। পুরুষাঙ্গে এমন ভাবে আঘাত করা হয়েছে যে যদি বেঁচেও যায় তাহলে কোনোদিন বাবা হতে পারবে না। পা শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছে। সে প্রচণ্ড চিৎকার করতিছে। কিন্তু শোনার কেউ নাই। তাকে এমন জায়গায় নিয়ে আশা হয়েছে যে আশে পাশে কোন বসতি নাই। সে যত জোরে চিৎকার করছে নির্জন তত জোরে তার মুখে আঘাত করছে। শিহাব তাকে বলছে, প্লিজ আমাকে আর কষ্ট দিও না। আমাকে মেরে ফেলো প্লিজ।
    নির্জন বলল, সেও তোকে অনেক অনুরুধ করছিল। কিন্তু তোরা তাকে ছাড়িস নি। তোর সাথের সবাইকে এইখানে নিয়ে এসে ধীরে ধীরে যন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে মেরে ফেলছি। পাশের ঘরেই তাদের রেখে দিছি। লাশ হয়ে পরে আছে।
    আমাকে ছেড়ে দাও নাহলে মেরে ফেলো। আমি আর যন্ত্রণা নিতে পারছি না। প্লিজ আমাকে মেরে ফেলো।
    কেবল তো শুরু। দাড়া আরও কি কি করি।
    নির্জন ধারাল ছুড়ি দিয়ে তার শরীরের চামড়া ছিলতে থাকে। তারপর সেখানে লবন লাগিয়ে দেই। শিহাব গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকার শুনতে ভালো লাগছিল না। সেজন্য সে শিহাবের জিহ্বা কেটে দেয়। তার হাতের শীরা কেটে দেই। মেঝে রক্তে ভেসে যায়। তার গলায় ছুড়ি ধরে বলে, যা তোকে তোর বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দিলাম। সে খুব ধীরে সুস্থে তার গলায় ছুড়ি চালিয়ে দেই। কিছু সময়ের জন্য হাত পা ছোটাছুটি করে। একসময় নিস্তব্ধ হয়ে যায়। আর নির্জনের কাজও শেষ হয়ে যায়।
    এরপর সে পুরো বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে দেয়। গ্যাসের দুইটা সিলিন্ডারের পাইপ খুলে দিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর আগুন লাগিয়ে দেই। পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পরে। সিলিন্ডার ফেটে যায়। সে বাইরে দাড়িয়ে থেকে উপভোগ করতে থাকে।
    [ নির্জন এতোটা নিষ্ঠুর কোন দিন ছিল না। সে একজন ডাক্তার। মানুষ বাঁচানো তার কাজ। সে তার ওয়াইফ, নীলিমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। একজন মানুষকে যতটুকু ভালবাসা সম্ভব ঠিক ততটুকু ভালবাসে। এমন দিন খুব কম গেছে যেদিন নীলিমা তার সাথে ছিল না। এমন কি নীলিমা তার বাবার বাসায় গেলেও তাকে রাতের মধ্যে আবার বাসায় নিয়ে আশে যত রাতই হোক না কেন।
    নীলিমার যখন মাসিক চলে তখন সে তাকে কোন কাজ করতে দিত না। সে বাসার সব কাজ করত। রান্না থেকে শুরু করে ঘর ঝাড়ু দেয়া, ঘর মোছা, কাপড় ধুয়ে দেয়া সব করত। নীলিমা যখনই তাকে সাহায্য করতে চাইত, নির্জন তাকে ধমক দিত। বলত, যাও তো এখান থেকে। দেখছ না আমি কাজ করতিছি। তোমাকে কে আসতে বলছে। যাও তো বিশ্রাম কর। নীলিমা তখন তাকে জড়িয়ে ধরে বলত, আমার জামাইটা এত ভালো কেন? অন্য কেউ হলে কখনই এসব করত না।
    থাক হইছে। আর পাম দিতে হবে না।
    পাম কই দিলাম বাবু। সত্যি বলতিছি তুমি আমার সাথে খুশি কিনা জানি না। কিন্তু আমি তোমাকে আমার জীবনে পেয়ে ধন্য। আমি অনেক খুশি।
    আমিও অনেক খুশি রে। আমি তোমাকে ভালোমত সময় দিতে পারি না। সবসময় হাসপাতাল, ক্লিনিকে থাকি। তোমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে পারি না।
    চুপ। তুমি আমাকে যতটুকু সময় দাও আমার মনে হয় আমার জীবনের সব থেকে সুন্দর মুহূর্ত।
    অনেক হইছে। এখন আপনি যান। বিশ্রাম করেন। আমি রান্নাটা শেষ করি।
    নির্জনের অনেক রাগ। কিন্তু যখনই নীলিমার কাছে যায় তখন আর রেগে থাকতে পারে না। মাঝে মাঝে নীলিমা ইচ্ছা করে তাকে রাগিয়ে দেই। তখন নীলিমা তার কাছে গিয়ে বলে, ওলে আমার বাচ্চাটা রাগ করছে?
    দূরে যাও। আমাকে টাচ করবা না। আর আমি বাচ্চা?
    বাচ্চাই তো। তুমি আমার লক্ষ্মী বাচ্চা। এত রাগ করলে হয়?
    আমার সাথে কথা বলবা না।
    তোমার পছন্দের খাবার রান্না করছি।
    আমি খাব না।
    কি রান্না করছি শুনবা না?
    না।
    সত্যি?
    কি রান্না করছো?
    এইবার লাইনে আসছ। তোমার পছন্দের বিরিয়ানি।
    তুমি খুব খারাপ। কই ভাবলাম আজকে রেগে মেগে ফায়ার হয়ে থাকব। ইচ্ছা মত তোমাকে কথা শুনাবো।
    আমাকে কথা শুনাবা? এত সাহস?
    হইছে এইবার তুমি আবার রাগ কর না।
    হুম। ঠিক আছে রাগ করব না।
    অনেক সুন্দর খুনসুটিতেই দিন যাচ্ছিল। একদিন নীলিমা একটা কাজে বাসা থেকে বের হয়। নির্জন থেকে হাসপাতালে। বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিহাব সাথে তার বন্ধুরা নীলিমাকে রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। খুব দ্রুত আকস্মিক ঘটনার জন্য সে কিছু করতে পারে নি। চিৎকার করতে পারে নি। তার আগেই তাকে অজ্ঞান করা হয়। নির্জন যখন নীলিমাকে কোথাও খুজে পেল না তখন সে পুলিশে ডাইরি করল। নির্জন মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পরে। ২ দিন পর, নির্জন যখন হাসপাতালে ডিউটি করছিল তখন একটা লাশ আশে। সে যখন লাশ দেখে তখন সে দেখে তার ওয়াইফ একটা সাদা কাপড়ে মোড়ানো। নির্জন খুব শক্ত। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে কিন্তু তার গলা একদম কঠিন। সে জিজ্ঞেস করল, কিভাবে কি হল? যারা তাকে নিয়ে আসছিল তারা বলল, রাতে কারা যেন তাকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
    ময়নাতদন্ত করা হল। নীলিমাকে অসংখ্য বার রেপ করা হয়েছে। তার সারা শরীর জখম করা হয়েছে। হাতের নখ তোলা হয়েছে। যৌনাজ্ঞে অনেক আঘাত করা হয়েছে। খুব কষ্ট দিয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। নির্জন ভেঙ্গে পরার মত ছেলে না। তারপরেও সে খুব বাজে ভাবে ভেঙ্গে পরে। পুলিশ অনেক দিন সময় নিয়ে শিহাব, তার দলবলদের ধরে। কিন্তু ছাড়া পেয়ে যায়। কারণ উপরে মামা খালু বসে আছে। পুলিশ তাদের কি করবে। নির্জন ঠিক করে নেই সে এত সহজে তাদের ছাড় দিবে না। তাদের এক এক করে সবাইকে খুজে বের করে। অনেক প্ল্যানিং করে। আর আজকে সে তার কাজ শেষ করল। তাদের এক এক করে সবাইকে অসম্ভব রকম যন্ত্রণা দিয়ে মেরে ফেলেছে। নির্জনের প্রতিশোধ নেয়া এখনও শেষ হয় নি। তাদের মাথার উপরে যে মামা খালু বসে আছে তাদের খুজে বের করে তাদেরও এইভাবে শেষ করতে হবে। নির্জন আবার বেরিয়ে পরে তার পরবর্তী শিকারের জন্য।

    5
    3 Comments
    • বীভৎস বর্ননা। পড়তে পড়তে বারবার শিউরে উঠছিলাম। তবে গল্পের প্রথম দিকটাতে একটু সংশোধনের প্রয়োজন আছে বোধহয়। লেখক নিজেই নির্জন চরিত্রের মাঝে ঢুকে গিয়ে এমনভাবে লিখেছে যেন মনে হচ্ছে নির্জন কাউকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে। ভুল হলে মার্জনা করবেন।

    • শুভেচ্ছা

    • ভালো লাগলো।

Skip to toolbar