Profile Photo

MD Sumsuzzaman SumonOffline

  • Sumon12004055
  • Profile picture of MD Sumsuzzaman Sumon

    MD Sumsuzzaman Sumon

    4 years ago

    গল্পঃ সাইকো
    একটু দূরেই নির্জনের স্টুডেন্ট ফারহান যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। বুকে, পেটে সজোরে লাথি মারা হয়েছে। মারার সাথে সাথে সে মেঝেতে লুটিয়ে পরে।
    ফারহান নির্জনের স্টুডেন্ট। তাকে বাসায় গিয়ে পড়ায়। নির্জন মেডিকেলের স্টুডেন্ট। ৩য় বর্ষ। নির্জন বলতে গেলে একজন সাইকো। ফেসবুক থেকে সে এই টিউশন টা পায়। মোটামুটি ২ মাস সে খুব ভালভাবে ফারহানকে পড়ায়। তারপর আজকে………
    ফারহানের বাসায় যাওয়ার পর কলিংবেল বাজালে ফারহান দরজা খুলে দিল। নির্জন ভিতরে ঢুকল। পড়ার টেবিলে বসার পর জিজ্ঞেস করল, বাসায় আর কেউ নাই?
    না ভাইয়া। আব্বু আম্মু একটু মার্কেটে গেছে।
    ওহ আচ্ছা। কখন গেছে?
    আপনি আসার একটু আগে।
    তাহলে তো মোটামুটি অনেক দেড়ি হবে। মাস তো পার হল। বেতনের কথা বলতে বলছিলাম, বলছো?
    জি ভাইয়া। আব্বু কালকে দিবে বলছে।
    আচ্ছা ঠিক আছে। বই বের কর। কি কি আজকে রুটিনে?
    ভাইয়া কেমিস্ট্রি, বায়োলজি।
    বায়োলজি বের করো।
    জি ভাইয়া। আজকে নার্ভাস সিস্টেম পরানোর কথা।
    আচ্ছা। ঠিক আছে শোন। আমাদের পুরো শরীর জুড়ে নিউরন আছে। নিউরন মুলত দুইটি কাজ করে। প্রথমত সে উদ্দিপনা বহন করে ব্রেইনে নিয়ে যায়। তারপর আবার ব্রেইন থেকে আবার সেই অঙ্গে উদ্দিপনা নিয়ে আশে। একটা সংবেদী, আরেকটা চেষ্টীয়। ধর আমি তোমাকে তোমার পেটে আঘাত করলাম। সেই উদ্দিপনা তোমার ব্রেইনে চলে যাবে। তারপর সেখান থেকে আরেকটা উদ্দিপনা পেটে আসবে। তখন তুমি বেথা অনুভব করবা। আর যদি ব্রেইন তাকে কেটে দেয়া হয় তাহলে কিন্তু আর বেথা অনুভব হবে না। আচ্ছা তুমি দাড়াও।
    ফারহান দাঁড়ানোর সাথে সাথে নির্জন তার পেটে প্রচণ্ড জোরে লাথি মারল। তারপর তার বুকে ঘুষি মারল। ফারহান মেঝেতে পরে গিয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার দিয়ে উঠল। সে ফারহানকে জিজ্ঞেস করল,
    বেথা পাচ্ছো?
    ফারহান কোন কথা বলতে পারে না। সে বেথায় কুঁকড়াচ্ছে।
    নির্জন তাকে মেঝে থেকে উঠিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিল। তারপর রান্না ঘরে গেলো। গিয়ে ধারালো চাকু, আর মাংস কাটা চাপাতি নিয়ে আসলো। নির্জনের হাতে এগুলো দেখে সে আরও ভয় পেয়ে গেলো। তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। চিৎকার করার চেষ্টা করছে কিন্তু গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না।
    ফারহানের এই অবস্থা দেখে সে হেসে উঠলো। ফারহান উঠে দৌড়াতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই নির্জন চাপাতি দিয়ে তার পায়ে আঘাত করল। ফারহান পরে গেলো। ধারালো ছুরি দিয়ে ফারহানের দুই পায়ের রগ কেটে দিল।
    এরপর তাকে আবার চেয়ারে বসালো। এরপর তার ডান হাতের আঙ্গুল গুলো টেবিলের উপর রাখলো। চাপাতি দিয়ে একটা একটা করে সব গুলো আঙ্গুল কেটে ফেলল। ফারহান বেথায় যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেলো। চিৎকার করতে যেন না পারে সেজন্য ফারহানের মুখে কাপড় গুজে দেয়। শক্ত করে তার মুখ বেঁধে দেয়। নির্জন তার পকেট থেকে রুমাল বের করল। একটা আঙ্গুল রুমালে মুড়ে নিয়ে পকেটে রেখে দিল।
    সে ধারালো ছুরি ফারহানের চোখের মধ্যে গেঁথে দিল। মুখের মধ্যে গুঁজে থাকা কাপড় বের করল। হাত দিয়ে জিহ্বা বের করে ছুরি দিয়ে কেটে দিল। ফারহান হাত ছুটাছুটি করছে। নির্জনের বিরক্ত লাগছিল। সেজন্য হাতের রগ কেটে দেয়। পুরো মেঝে রক্তে লালা হয়ে যায়। এরপর তার গলাটা একটু উঁচু করে ধরে খুব ধীরে সুস্থে ছুরি চালায়। গলগল করে রক্ত পরতে থাকে। বুক চিরে আর হৃদপিণ্ড বের করে। বের করে দেখে কোনটা কোন ধমনি, শিরা, হার্ট চেম্বার। নির্জন মনে মনে ভাবে, নাহ আজকে একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো। মজা পেলাম না। তারপর সে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো।
    বাসায় যাওয়ার পর আঙ্গুল একটা কাঁচের পাত্রে ফরমালিনের মধ্যে ডুবিয়ে সোকেজে রেখে দেয়। গুনে দেখে ৪৭ টি আঙ্গুল তার সংগ্রহে আছে। এরপর টিভি চালু করে। খবরের চ্যানেল চালু করে। হেড লাইন আসছে, আরেকটি নৃশংস খুন।
    রাতে সে বসে বসে ফেসবুকে টিউশন গ্রুপ খুলনা তে পোস্ট দেখতে থাকে। একটা পোস্টে লেখা দেখে, দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্ট পরানোর জন্য একজন মেডিকেল পড়ুয়া টিচার লাগবে।
    সে পোস্টে কমেন্ট করে,
    Interested
    3rd year, khulan medical college.

    6
    2 Comments
    • শুভেচ্ছা

    • গল্পের মাঝে শুধুই বর্বরতা ও বীভৎসতা ফুটে উঠছে। অবশ্য প্রচলিত সাইকিক গল্পে আমরা এমনটাই দেখতে পাই। তবে গল্প বুননে অনান্য উপাদানের সংমিশ্রণ গল্পকে আরো বেশি রসালো করে তোলে। শুভ কামনা রইল।

Skip to toolbar