-
গল্প: তৃষ্ণা (২য় পর্ব)।
নিলয় হাসপাতালে আসার কারণ, তাঁর মমতাময়ী মাকে দেখতে আসা। পরিস্থিতি যাইহোক জন্মদাত্রী মাকে দেখতে আসবে না, তা মানাই যায় না।
বাঙ্গালী দের মা ও বাবা এই শব্দে অনেক অনুভূতি বিরাজ করে। এটা বাঙ্গালীর জন্মসূত্রে বাঁধা থাকে।নিলয় সিঁড়ি দিয়ে উঠে ৬০৭ নাম্বার রুমের সামনে, অশ্রুসিক্ত নয়নে দাঁড়িয়ে রইলো। সিঁড়ি দিয়ে উঠে হাপিয়ে গেছে। লিফট ছিলো, তবে তাড়াহুড়ায় মনে ছিলো না। হার্টবিট অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। মায়ের এমন অবস্থার জন্য নিজেকে দোষারোপ করছে নিলয়। সে ভাবছে তাঁর জন্য, তাঁর জন্মদাত্রী মায়ের এই করুণ অবস্থা। হঠাৎ শব্দ শুনে পিছনে ফিরে তাকালো। নিলয়ের মতো লম্বা,স্বাস্থ্য ভালো,ঠোঁটে কালো গোঁফ। গম্ভীর ও দুশ্চিন্তার রেখা কপালে।
তিনি হচ্ছেন নিলয়ের বাবা।
নিলয়- বাবা!?
বাবা- তুই এখানে কেনো?
নিলয়- কেনো বাবা? মায়ের এই সময়ে আমি কাছে থাকবো না?
বাবা- থাকতে পারতি, যদি এই কঠিন পরিস্থিতি না হতো। তুই কি ভুলে গেলি,কি কি করেছিলি? তর জন্য আর কোনো বিপদ হোক সেটা আমি চাই না। আমার মনে হয়, তুই ও হয়তো চাইবি না আমাদের কোনো বিপদ হোক!
নিলয়(অশ্রুসিক্ত চোখে)- হ্যাঁ বাবা। কোন ছেলে চাইবে এরকম পরিস্থিতি হতে।
বাবা(কপাল ভাঁজ করে)- তুই তো ঠিকই পরিস্থিতি
কঠিন করে ফেললি। এটা হাসপাতাল। ভুলে যাবি না! আমি চাইনা এখানে কোনো খারাপ পরিস্থিতি হোক। সুতরাং চলে যা।
নিলয় হতাশ হয়ে, জলে ভেজা চোখে হাসপাতাল থেকে চলে গেলো।
আজ এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার কাহিনীর সাক্ষী হলো নিলয়।হাসপাতালের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলের স্কিনে ১৩টা মিসকল, দেখতে পেলো। নিলয়ের বন্ধু জাহিদ কল করেছিলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময়। ভাবলো সব কিছুর জন্য দায়ী সে। তার মতো এমন সন্তান, এমন স্বামী, এমন পিতা,এমন বন্ধু না থাকাই ভালো এই পৃথিবীর জন্য। কঠিন শাস্তি দিতে হবে নিজেকে। এরকম ভেবে ভেবে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করলো নিলয়। পূনরায় সিঁড়ি দিয়ে উঠে ১২ তলায় অর্থাৎ ছাঁদে চলে আসলো। ছাদের এক পাশে দাঁড়িয়ে রইলো নিলয়। এখন শুধু আকাশ ও পাতালের মধ্যে নিলয় দাঁড়িয়ে আছে। সামনে শুধু মৃত্যু।
সময় ২০১৬ সাল। ৫৭নং গলিতে আড্ডা দিচ্ছে নিলয়। নিলয়ের বন্ধু জাহিদ সহ ৫/৬ জন মিলে আড্ডা দিচ্ছে। ৫৭নাম্বার গলিতে নিলয়রা প্রতিদিন আড্ডা দেয়। নিলয় গ্যাং নামে ওঁরা পরিচিত।
এখানে আড্ডা দেওয়ার অন্য কারণ আছে। হ্যাঁ, ঠিকই ধারণা করেছেন। মেয়! নাম লামিয়া। লামিয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে নিলয়। নিলয় কয়েক বছর আগে ভদ্র ছেলে ছিলো এলাকার। সেই দৃশ্যপট এই কয়েক বছরে পালটে গিয়েছে।
লামিয়া এই গলিতে যাওয়া আসার সময়, নিলয়ের দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে দৃষ্টিপাত করে।
নিলয় ঠিকই বুঝতে পারে। তবে, মেয়েদের বিষয়ে বরফ হলে চলবে না। বরফ হয়ে ফায়দা নেই, হুট করে গলে গেলে বিপদ! সেইজন্য নিজেকে সামলিয়ে নেয়। বন্ধুরা এই নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করে। তা তে নিলয়ের বিন্দুমাত্র সমস্যা হয় না।
এরকম ভাবে প্রতিদিন চলছিলো।১৫দিন পর। একি গলিতে প্রত্যেক দিনের মতো, আড্ডা দিচ্ছে নিলয় গ্যাং। তখন লামিয়া এসে নিলয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রইলো। নিলয় একটু ভ্যাবাচেকা খেয়েছে। তবে সামলিয়ে নিলো, তড়িৎ গতিতে। পুরুষ মানুষ মেয়েদের সামনে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হয়।
লামিয়া- আমার একটা সাহায্য করবেন
নিলয়(কিঞ্চিৎ অবাক হয়ে)- সাহায্য! কি রকম?
লামিয়া(এক মূহুর্ত দ্বিধাবোধ করে)- আসলে কিভাবে বলবো! ভেবে পাচ্ছি না।
নিলয়(নিজেকে সামলিয়ে)- ভেবে পাচ্ছেন না, ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন নাই।
লামিয়া(অবাক হয়ে)- এভাবে বলছেন কেনো?
নিলয়- তো! কিভাবে বলবো?
লামিয়া(লজ্জিত হয়ে)- সাহায্য চাওয়া কি
দোষের কিছু?
নিলয়- জী না। দোষের কিছু না। তবে আপনার মতো মেয়েদের সাহায্য করার জন্য, হাজারো ছেলে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কাছ থেকে সাহায্য চাইতে পারেন।
লামিয়া(বিষ্ময়কর দৃষ্টি দিয়ে)- ঠিক আছে।
তারপর লামিয়া সেখান থেকে চলে গেলো। নিলয়ের বন্ধু জাহিদ- আরে দুস্ত, এটা কি করলি? একটা মেয়ে সাহায্য চাইতে আসলো। আর তুই ফিরিয়ে দিলি।
নিলয়- আরে ব্যাটা, মেয়েদের মন আমি ভালোই বুঝি। একবার সাহায্য করলে, স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে, ফিরেও তাকাবে না।
জাহিদ- মেয়েটা কে অন্য মেয়েদের মতো মনে হচ্ছে না।
নিলয়- হুহ্। তুই মনে হয় মেয়েদের নিয়ে পিএইচডি করছোস!
জাহিদ- আরে না ব্যাটা!
নিলয়- পুরুষ মানুষদের শক্ত হতে হয়। মোমবাতি মতো গললে হবে না।
জাহিদ(আত্নসমর্পণের অনুকরণ করে)- ঠিক আছে, ঠিক আছে। তর কথাই ঠিক।এখন আর আমার সামনে কবি,সাহিত্যিক দের মতো কথা বলতে হবে না। এইগুলা আমাদের কানে মাছির মতো ভনভন শব্দ করে। আমাদের তারচেয়ে ছুরি, বন্ধু,বোমাবাজির শব্দ শুনা মানায়।
নিলয়- সেইজন্য-ই তো! আমাদের কে মেয়েদের কাছ থেকে হাজার হাত দূরে থাকতে হবে।
জাহিদ- ঠিক আছে, দূরেই না হয় থাকলাম।
নিলয়- এইবার ঠিক লাইনের কথা বললি দুস্ত।তারপর, নিলয় গলির রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের আড্ডাখানার সামনেই লামিয়া দের বাসা। মনে মনে নিলয় লামিয়াকে পছন্দ করে। তবে, সাহস হয় নি। পুরুষদের এই একটা জায়গায় সাহসের প্রচুর অভাব থাকে।
মনে মনে নিলয় এই কথা গুলো ভাবছে।(২য় পর্ব সমাপ্ত। ৩য় পর্ব থেকে রোমাঞ্চিত মুহূর্ত আসবে। সাথেই থাকুন।)
12 Comments

ইশতিয়াক জিন্দানী রিশাত
সাদা কাগজের কালো কালি।
আমার নাম ইশতিয়াক জিন্দানী রিশাত। আমার জন্ম ১৯৯৮ সালের ১৩ই নভেম্বর শুক্রবার। জন্ম থেকে নিশ্বাসের স্বাদ নিচ্ছি সিলেট জেলায়। অর্থাৎ আমার জন্ম বাংলাদেশের সিলেট জেলার, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার, মল্লিকপুর গ্রামে। আমার পিতা রিয়াজ উদ্দীন ইসকা। একজন সাংবাদিক ও লেখক। জেনেটিক ভাবেই আমার রক্তে লেখালেখির পোকা রয়েছে। প্রতিদিন আমার গল্পের সাগরে সাঁতরাতে হয়। নানান গল্প খেলা করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে।
অনেক জ্ঞানীরা লেখকদের বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত করেছেন। লেখক ২প্রকার। ১ছাগল লেখক, এবং ২পাগল লেখক। ছাগল লেখক টাকার জন্য লেখে, এবং পাগল লেখে ভালো লেখার জন্য লেখে। আমি হচ্ছি পাগল লেখক। মানুষ পড়বে, এবং বলবে লেখা টা ভালো। এতেই তৃপ্তি। তবে, মানুষজন বলে লেখকদের না-কি তৃপ্তি নেই। তাঁদের তৃষ্ণা বৃদ্ধি পেতেই থাকে।
দেখা যাক আমার তৃষ্ণা কত টুকু বৃদ্ধি পায়।
তুলট এর মাধ্যমে নিজের লেখালেখির প্রতিভা আরও বিকশিত হবে।
আশাকরি, মগজের আরও বিস্তার হবে,এই তুলটের মসৃণ পথে।
ধন্যবাদ।


লেখাটা বেশ ছিলো! পুরুষদের চরিত্রের ব্যাপারে অনায়াসে সত্য কিছু কথা উঠে এসেছে গল্পে অবলীলায়, সত্য প্রকাশে আপনার সাহস নিসঙ্কোচ। আপনার এমন সত্য প্রকাশের সাধনা অব্যাহত থাকুক- এই প্রার্থনা!