Profile Photo

Hasan Zahid হাসান জাহিদOffline

  • HZWriter
  • মাধবী
    -হাসান জাহিদ

    রাস্তার পাশের আবর্জনার স্তূপনিঃসৃত দুর্গন্ধ, কোলাহল, গাড়ির শব্দ, দাবদাহ, চিৎকার-খিস্তি প্রভৃতি থেকে অন্তত তিনযুগ পেছনে ছিলাম আমি।
    আমার পেছুবার কারণ, রাস্তার পাশে যানবাহনের জন্য অপেক্ষমাণ মেয়েটি। তার লাল ওড়না ও কপালে বসা চুল স্থির। কোথাও হাওয়া নেই। তার ঘর্মাক্ত মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না; রৌদ্রকরোজ্জ্বল দুপুরে তাকে যেন দোকানে সাজানো ম্যানিকিনের মতো লাগছিল–এমনি সোনারঙা ঔজ্জ্বল্য তার অবয়বে।

    …মেয়েটিকে দেখার আগে আমি গুনগুন করে সুর ভাঁজছিলাম, আর কোনো একটি মেয়েকে দেখে সেই গানের আবহ মিলিয়ে নিয়ে একটি সিল্যূঅ্যাট তৈরির প্রচেষ্টা-রত থাকার অভ্যেস তৈরি হয়ে গিয়েছিল আমার।

    রিকশায় ওঠার পর থেকে রোড ডিভাইডারের পাংশু বর্ণের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ দেখতে পাচ্ছিলাম না। দুইপাশে আবদ্ধ-তাতানো দালানকোঠা, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, দোকান, নোংরা ফুটপাথ, ব্যানার-সাইনবোর্ড, টেলিফোন-বিদ্যুৎ তারের জঞ্জাল, হকার-ভিক্ষুক আর মনুষ্য কর্মকান্ড ঘেরা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর কীর্তি দেখে আমার উপলব্ধি হলো, আমি যেন সুকুমার রায়ের হিজিবিজি রাজ্যে এসে পড়েছি।

    মাথার ওপর গনগনে সূর্য। রাস্তা থেকে তাতানো গরম উঠছিল, কিন্তু‘ আমার গুনগুনানি থামেনি। ভেতরে চলছিল সুর। সেই সুর হাজারো শব্দের মাঝেও আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করছিল।

    আমি সুরের সাথে কাউকে মেলাতে চাই।
    সিগন্যালে এসে রিকশা থামল। কীসের সিগন্যাল, জানি না। সিগন্যাল, জ্যাম, ট্রাফিক পুলিসের তৎপরতা, গাড়ির উদ্ধত নাক, ড্রাইভারের খিস্তি, হেলপারের চিৎকার প্রভৃতিতে সিগন্যালের মাহাত্ম হারিয়ে গেছে।

    রিকশা থেমে ছিল।
    আমি কামনা করছিলাম, সুরটা মেলাতে পারি, এমন একটা মুখ দেখার। হঠাৎ কেউ আমার সামনে হাত পাতল। তাকিয়ে দেখলাম এক বুড়ি। মনে মনে মহাকবি শার্ল বোদলেয়ারকে ডাকলাম, আর বললাম, ‘বুড়ি বেশ্যার শহীদ স্তন।’
    আমার চোখে খারাপ দৃষ্টি দেখে বুড়ি যৌবনের শরমে-মরমে পিছিয়ে গিয়ে কী যেন বলল বিড়বিড়িয়ে। বলুক। পরম পবিত্র আত্মা মানবজাতিকে দিয়েছেন মুখ–যাতে সে খেতে পারে, সুর ভাঁজতে পারে, কুৎসা রটনা করতে পারে, অশ্রাব্য বাক্য প্রয়োগ করতে পারে, এমনকি খেয়ে ফেলতে পারে।

    আমি জানি, একটু এগুলেই পৌঁছে যাব প্রশস্ত সড়কটায়, যার একদিকে রয়েছে চওড়া ফুটপাথ, তারপর উঁচু পাঁচিল। এবং পাঁচিলের ওপারে ততোধিক উচ্চতার বৃক্ষরাজি। সবুজ বৃক্ষ, অরণ্যানী, নীল আকাশ দেখলে আমার সুরের মুর্ছনা তরঙ্গায়িত হয়। নীল আকাশ দেখলেও হয়, তবে এখন দেখতে ইচ্ছে করছে না। ওপরে তাকালে মধ্যাহ্নের কড়া মেজাজের গনগনে সূর্য আমার চোখ ঝলসে দেবে।

    রিকশা চলল।
    সেই চওড়া ফুটপাথে, পাঁচিলের পটভূমিকায় লাল ওড়না, সাদা জামা আর হালকা নীল সালোয়ারের মেয়েটিকে দেখলাম। আমার মাঝে প্রথম প্রেমের অনুভূতি খেলল। আমার ভেতরের সুরটা মিলে গেল মেয়েটির অবয়ব ও কাঠামোর সাথে, এবং…।

    ফিরে গেলাম তিনযুগ আগে।
    এক বিয়েবাড়িতে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল রঙ্গন ঝোপের পাশে। তার মুখে বিয়েবাড়ির লাল-নীল-হলুদ-সবুজ-বেগুনি-সাদা রঙের অসংখ্য ক্ষুদ্র বাতির বর্ণিল আলোছায়া খেলছিল। নেপথ্যে একটা গান বাজছিল তখন–‘মাধবী ফুটেছে ওই, তারা সব ওঠেছে ওই। আমি কি তোমার নই।’
    মনে মনে বলেছিলাম–সত্যিই কি আমি তোমার নই! ওগো মেয়ে, এত রূপ নিয়ে, এখানে এই রঙ্গন ঝোপের ধারে, তুমি কোন্ রং-তামাশায় মেতেছো?
    আমি কিছু একটা হারিয়েছি–এমন ভঙ্গিতে ঘাসের বুকে তাকাতে তাকাতে মেয়েটিকে ছাড়িয়ে একটু দূরে গিয়ে ফের ফিরে এলাম মেয়েটির কাছে। মেয়েটি তেম্নি দাঁড়িয়ে ছিল।
    মেয়েটিই বলল, ‘কিছু খুঁজছেন কি?’
    বললাম, ‘হ্যাঁ, লাইটার।’
    ‘ও, আচ্ছা।’
    ‘কিছু যদি না মনে করেন,’ আমি দাঁড়িয়ে পড়ে কাল্পনিক লাইটার খোঁজায় ইস্তফা দিয়ে মেয়েটিকে শুধোলাম, ‘কোনো সমস্যা? না, মানে এখানে একা দাঁড়িয়ে আছেন…।’
    মেয়েটি সামান্য হাসল, বলল, ‘আমার মাইগ্রেন আছে। ভিড়ে-শব্দে মাথা ধরেছে। তাই একটু ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে আছি।’
    আমি হেসে বললাম, ‘খেয়েদেয়ে বাসায় চলে যান। সাথে কে আছে?’
    ‘আমার দুই বান্ধবী, তাদের একজনের বোনের আজ বিয়ে।’
    ‘কী অবাক কান্ড!’ বললাম আমি, ‘আপনি পাত্রীপক্ষের? মানে নীলার বোনের বান্ধবী? আর নীলা কে হয় আমার জানেন?’
    ‘আমি কী করে জানব?’ মেয়েটির কন্ঠে সামান্য বিরক্তি।
    ‘নীলা আমার ছাত্রী। মানে ওকে আমি পড়াতাম।’ নাছোড়বান্দার মতো বললাম।
    ‘ও, আচ্ছা।’
    ‘আমার নাম হাসান।’
    মেয়েটি ঘাড় নাড়ল। আমি তখন সাহস করে বললাম, ‘আপনি নীলার বোনের বান্ধবী, আর নীলা আমার ছাত্রী, অনেকটা সেই সুবাদেই আপনার নামটা জানতে চাচ্ছি।’
    ‘জানলেন তো আমি নীলার বোনের বান্ধবী, তারপর নাম দিয়ে আবার কী হবে?’
    ‘কিছু তো হতে পারে। দেখব শুধু আপনার এই অপূর্ব সুন্দর ভঙ্গিমায় বিয়ের আসরে বাগানের কিনারায় দাঁড়ানোর সাথে নামের মিল খুঁজে পাই কিনা।’ বললাম, এবং আগ্রহভরে তাকালাম।
    ‘আপনি শিক্ষক না কবি?’
    ‘শিক্ষক। তবে সব মানুষই কোনো না কোনো সময় কবি হয়ে যায়।’
    ‘আপনি কবি হয়ে গেছেন!’
    ‘হয়েছি, ওই গানটার জন্য। ওই যে বাজছে–গানটায় কেমন মাদকতা আছে। ‘মাধবী ফুটেছে ওই…।’
    ‘বাব্বা! এখন দেখি গায়কও হয়ে গেছেন!’
    ‘হতে পারলে ধন্য হতাম, তবে গান করি আমি।’
    ‘তার মানে!’ মেয়েটি বিস্মিত হয়ে বলল, ‘গায়ক হতে পারলে ধন্য হতেন, আবার বলছেন গান করেন–কেমন হেঁয়ালি মনে হচ্ছে।’
    আমি তখন নিচুস্বরে গাইলাম– ‘মাধবী ফুটেছে ওই…।’
    ‘ভালোই তো গাইলেন। কিন্তু‘…।’
    ‘কিন্তু হলো, গান গাই তবে প্রকৃত গায়ক নিজকে মনে করছি না এখনও। গায়ক হতে গেলে সাধক হতে হয়। তাই…।’
    ‘ও আচ্ছা।’ মেয়েটি এবার খিলখিল করে হেসে উঠে বলল, ‘আমার নাম সোনালি।’
    ‘ঠিক, একদম ঠিক।’ আমি বললাম, ‘আপনার কাঁচা হলুদের মতো রঙের সাথে আর আজকের এই স্বর্ণালি রাতের সাথে নামটা মিলে গেছে।’
    ‘কিন্তু‘ কালো রাত কেমন করে সোনালি হলো!’
    ‘হবে না! বিয়ের বাসর তো হাজারো ঝালরে আর বাতির রঙে সোনালি হয়ে আছে। আর বিয়ের পর্ব মানেই তো মানুষের জীবনের একটি সোনালি অধ্যায়।’
    ‘বাব্বা! আপনি দেখছি দার্শনিকও বটে। যাক বাবা, এবার আমি একটু নড়ি। ঠাঁই দাঁড়িয়ে থেকে পা ধরে গেছে।’
    ‘আর মাইগ্রেন? ওটা গেছে?’
    ‘না, আরো বেড়েছে। আচ্ছা চলি।’

    আর…আমি কেমন উত্তাল হয়ে উঠলাম, আর বলেই ফেললাম, ‘আর দেখা হবে না?’
    ‘কেন দেখা করতে চান?’
    ‘না, এমনি।’
    ‘দেখা হবে না।’
    ‘হবে না!’ আমার মুখটা কেমন দেখতে হয়েছিল, জানিনা। বোধহয় বিয়ের খাবারের এঁটো বাসনপত্রের মতো।
    সেদিকে তাকিয়ে মেয়েটি বলল, ‘ঠিক আছে, দেখা হবে।’
    আমার মুখ এবার দুইশ’ ওয়াটের বাল্বের মতো উজ্জ্বল হলো। বললাম, ‘কবে আবার দেখা হবে?’
    মেয়েটা ঘাড় হেঁট করে বলল, ‘নী-নীলার কাছে জেনে নেবেন।’ বলেই মেয়েটা কেমন এঁকেবেঁকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে গেল।
    তখন আমি পকেটে অস্তিত্বমান লাইটার বের করে সিগারেট ধরালাম। অস্ফুটে বললাম, ‘সোনালি, ওগো সোনার মেয়ে।’

    ***
    তারপর প্রেম, সংলাপ। বেড়ানো, আশা-আকাঙ্ক্ষার গল্প। কত কী…। তারপর একদিন ভেঙে গেল মিলনমেলা। আমি সামান্য বেতনের চাকরি করি, থাকি মেসে আর খাইদাই, চলি কোনোক্রমে।

    মেলেনি। ওদের সাথে মেলেনি।
    সব জানতে পেরে সোনালির অভিভাবক ওকে গৃহবন্দি করে পাত্র খুঁজতে লেগে গেলেন। পাত্র তারা পেয়েছিলেন। সোনালি অর্ধেক গররাজি, অর্ধেক নিমরাজি। তবে সে কোনো এক নিরালা দুপুরে পালিয়ে এসে আমার সাথে দেখা করেছিল মেসে। আমি তখন কাঁচা আমের ডাল দিয়ে ভাত খাচ্ছিলাম।
    সোনালি বলল, ‘আমার হাত-পা বাঁধা।’
    বললাম, ‘চলো, পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করি।’
    সোনালি আঁৎকে উঠে বলল, ‘সেটা সম্ভব নয়।’
    আমি খেপে উঠলাম: কেন সম্ভব নয়, সোনালি! রেগে গেল সোনালি–‘এটা কি ছেলেখেলা নাকি! তুমি বরং ভালো একটা চাকরি যুগিয়ে বাবা’র মন জয় করো, ততদিন আমি ঠেকিয়ে রাখি।’

    স্তম্ভিত হয়ে গেলাম আমি। সোনালি শর্ত দিল!
    আমাকে স্তম্ভিত করে, অচেনা সংবিত্তির ঘেরাটোপে আটকে দিয়ে সোনালি সেদিন চলে গেল।

    আমার ভালো চাকরি হয়নি, এমনকি প্রেমানলে পুড়ে চলতি চাকরিটাও চলে যেতে বসেছিল। সোনালি আসেনি আমার জীবনে।

    যে এসেছিল তার নাম রূপালি। সোনা পাইনি, রূপা পেলাম। তাই বা মন্দ কী? অনেকে তো পুড়ে পুড়ে তামাটে হয়ে শেষে তামাও পায় না। সেই হিসাবে আমি ভাগ্যবান বটে।

    …শুরু করলাম সংসারজীবন। হা হতোস্মি! ম্যান প্রোপোজেস, বাট গড ডিসপোজেস…। আমার টিউশ্যনির সামান্য টাকা আর প্রাইভেট অ্যাড ফার্মের বেতনের টাকায় রূপালি অষহিষ্ণু হতে হতে শেষে কুঞ্চন রূপ ধারণ করল। রূপালি নদীতে কৃষ্ণ কালো ঝড় উঠল।
    বিয়ে আর দাম্পত্য জীবনের সলিল সমাধি রচিত হলো।

    তারপর…। কত বছর, অনেকগুলো বসন্ত পার হয়ে গেল। মাধবী আর ফোটেনি, তারারাও অভিমান করে মেঘের কোলে মুখ লুকলো।

    স্বপ্নের অপ্সরী স্বপ্নেই ডানা মেলে থাকে। একে একে বসন্তেরা চলে যায়। কোকিলের কুহুতান হারিয়ে যায় হিংস্র দাড়কাকের মুখগহ্বরে। নতুন করে ভাবতে বসেছিলাম কোনো রমণীর মুখচ্ছবি।
    মনে হয়, এইতো সেদিন…ওরা ছিল। এখন নেই।
    মাথা ঝেড়ে যখন হিসাব কষলাম, তখন দেখি মাঝখানে ফুরুৎ করে চলে গেছে তিনটি যুগ। যখন পরিচয় হয়েছিল সোনালির সাথে, আর রূপালি এসেছিল বর্ষার ভরা রূপ ধরে, তখন দাড়িগোঁফে ছিল চকচকে তৈলাক্ত ঝলক। এখন তা বিবর্ণ, ধূসর। কালো ঢেউয়ে সূর্যের ঝিকিমিকি, সাদা আঁচড়ের মতো চুলদাড়িতে উঁকি দেয় সাদা কাশবন।
    তবু আমি গুনগুনিয়ে গান করি–রিকশায় বসে, টিউশ্যনিতে যাওয়া-আসার পথে।

    আমি সেই স্মৃতিগুলো খুঁজি। একটি মেয়ে রঙ্গন ঝোপের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল অপূর্ব গ্রীবা বাঁকিয়ে। আমার প্রথম প্রেম। স্বপ্ন, জীবন।

    …তারপর সব চুরমার হয়ে গেল। মাঝখানে রূপালি ফিতার মতো যে নদীটি বয়ে গিয়েছিল আমার জীবনের বাঁকে, সে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে।
    এতকিছু, এতকিছু–এত পতন, অধঃপতন। আমি ভুলতে পারি না মাধবীলতাকে, আকাশের তারাগুলোকে।

    ***
    আমি রিকশা থামিয়ে তড়াক করে নেমে লাল ওড়না জড়ানো মেয়েটির দিকে তাকালাম। ঠিক সেইরকম বিয়েবাড়ির মতো! আর সূর্যটা যেন আজদাহা এক ফ্লাডলাইট। আর পাঁচিলটা বিয়েবাড়ির সীমানা প্রাচীর। মেয়েটি যেন সোনালি।
    বললাম, ‘কেমন আছেন?’
    মেয়েটি অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বলল, ‘আপনাকে তো চিনতে পারছি না!’
    বললাম, ‘আপনি কি সোনালি, মানে আপনার নাম সোনালি?’
    ‘না তো!’ মেয়েটির চোখে সামান্য ভীতি।
    ‘সরি,’ আমি আবার বললাম, ‘ঠিক সোনালির মতো দেখতে আপনি।’
    ‘হতে পারে।’ মেয়েটির গম্ভীর স্বর।

    বললাম, ‘ইয়ে, আচ্ছা। মানে…।’
    মেয়েটি এবার বলল, ‘বললাম তো, আমার নাম সোনালি না। আপনি তবু দাঁড়িয়ে আছেন কেন?’
    ‘সরি।’ বললাম।
    মেয়েটা বিড়বিড় করে কিছু বলল। তারপর একটা বাস থামতেই তাতে উঠে গেল। বাসটা চলে গেলে সেদিকে কিছুটা সময় তাকিয়ে থাকলাম।

    ***
    আমি জানতাম মেয়েটার নাম সোনালি নয়; দৈবক্রমে নাম সোনালি হলেও সে আমার কেউ নয়। আমি তার কেউ নয়।
    কিছু অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আজকাল আমি করে থাকি। সেটা আমার অভিনয় হলেও তো মেয়েটা তা জানত না। বলতে পারত, ‘আমার নাম না-ই বা হলো সোনালি। আপনি আমাকে সোনালি বলেই ডাকবেন।’

    কিন্তু আমি জানি, এমন বলবে না কোনো মেয়ে।
    কেননা, আমার খোঁচা-খোঁচা বিবাগী শশ্রুতে রূপালি আভা। চুলে মেহেদিজনিত কারণে সোনালি ছোপ।

    তবু আমি সুর ভাঁজি, কোনো নন্দিনীকে দেখলে গুনগুনিয়ে মনের মাঝে একটা আবেশ তৈরির প্রয়াস নিই–মাধবী ফুটুক আর না ফুটুক। তারারা উঠুক আর না-ই উঠুক।

    (রচনা তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬)

    7
    9 Comments
Skip to toolbar