-
(সাম্প্রতিক বিবেচনা-১)
গত লেখায় বলেছিলাম “বাংলাদেশের বেশীরভাগ প্রগতিশীল-মুক্তমনা-চিন্তাশীল মানুষ এদেশের সমাজব্যবস্থাকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। যার দরুন সকল সমস্যাকে তারা ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক করেন।”আজ তা নিয়েই একটু কথা বলি। সাম্প্রতিক সময়ে দুইজন শিক্ষকের অবমাননার ঘটনা আমরা দেখেছি। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তার চেয়েও লজ্জাজনক এর প্রতিবাদের ভাষা। সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যবশত দুইজনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।তাই এই ঘটনায় যে ধর্মকে হাতিয়ার করা হবেনা এটাই অস্বাভাবিক ছিল। দেশের নামকরা মিডিয়া এ খবর প্রচার করেছে “হিন্দু শিক্ষকের অবমাননা” বলে যেখানে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য ছিল এটি সমগ্র শিক্ষকের অবমাননা।তবে যেহেতু এতে ‘ধর্ম’ নামের মশলা ব্যাবহার হয়েছে তাই এর স্বাদ/বিস্বাদও তৎক্ষণাৎ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চার শ্রেণীর মানুষের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলাম। প্রথম শ্রেণী ভিকটিমের পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশী। তাদের ভাষ্য মতে এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা বেশকিছু উগ্রবাদী পরিকল্পনামাফিক এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তাই তারা রাষ্ট্রের কাছে এর উপযুক্ত বিচার দাবি করেন। দ্বিতীয় শ্রেণি হচ্ছে বেশ কিছু সাধারন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের দাবি এটি ইসলামী মৌলবাদীদের পরিকল্পিত ঘটনা। তাই তারা এদেশে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। তৃতীয় শ্রেণি বেশ কিছু সাধারন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের বেশিরভাগই এ ঘটনায় হিন্দু শিক্ষকের অবমাননা হওয়ায় বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। কেউবা বলছেন এমন শিক্ষক অবমাননা তো হরহামেশাই ঘটে। মাদ্রাসা শিক্ষকেরাও অবমাননা শিকার হন। এ আর এমন কি !এর জন্য রাষ্ট্র দায়ী। রাষ্ট্রে সঠিক আইন নেই বলে আজ এই অবস্থা। আর চতুর্থ শ্রেণি হচ্ছে দেশের তথাকথিত প্রগতিশীল, চিন্তাশীল ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়। তারা এখানে স্পষ্টত ইসলামী মৌলবাদী ও উগ্রবাদীদের কালো হাত খুঁজে পেয়েছেন। এবং এ কালো হাত ধ্বংস করার জন্য মৌন মিছিলে যোগ দিয়েছেন। হাতে অদৃশ্য এক মোমবাতি। রাষ্ট্রের কাছে তাদের একটাই আকাঙ্ক্ষা রাষ্ট্র যেন এসকল মৌলবাদীদের ও ইসলামপন্থীদের ধ্বংস করে। এরমধ্যেও এক বিশেষ শ্রেণী আছে যারা এই ঘটনাটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে না দেখে প্রকৃত অর্থেই সমগ্র শিক্ষকের সম্মান হানি রুখতে প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু তাদের প্রতিবাদ রাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কারন যে রাষ্ট্রে শিক্ষাগুরুদের তাদের নিজ শিক্ষার্থীর মারের হাত থেকে বাঁচতে রাস্তায় নামতে হয় সে রাষ্ট্র যে কতখানি উচ্ছন্নে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই রাষ্ট্র এখন জয় বাংলা, উন্নয়ন ও পদ্মা সেতুতেই উন্মত্ত। কাজী কাদের নেওয়াজ সেই কবে লিখেছিলেন –
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”
আজতো বাদশাহ্ আলমগীর নেই তাই ভাবি এই পরিস্থিতিতে কাজী সাহেব কী লিখতেন ?
(বিঃদ্রঃ আমি নিতান্তই মূর্খ, তাই আপনিও এক মূর্খ হয়ে আরেক মূর্খকে জ্ঞান দিতে আসবেন না। সকল শিক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।)4 Comments
Friends
Kazi Fahim hossin
@fahim6542
মোঃ আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব।
@dhrubo-abbas
মীর অনাবিল
@miranabil
Mahbub Al Hasan
@mahbubkfdj
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম
@shiyam
আহান খান
@ukm39186laoia-com
ishan_syed
@put23009laoia-com
রাহেনা বেগম
@rahena-begum
ইরা
@egq95618laoia-com



ধিক্কার জানাই এমন হীনমনাদের।