Profile Photo

Ruhullah Arefin (Dipto)Offline

  • Dipto
  • Profile picture of Ruhullah Arefin (Dipto)

    Ruhullah Arefin (Dipto)

    4 years, 1 month ago

    বয়স কত হলো,এই হিসেব রাখার জন্যও একটা পর্যাপ্ত বয়সের দরকার হয়।
    যেই বয়সে পড়ার টেবিলে থেকে মন থাকতো খেলার মাঠে, তখন বয়সের হিসেব কে রাখে?
    “আমি বড় হয়েছি” এটা কি শুধুই একটা বাক্য?
    বার বার বলার পরেও কি কেউ বুঝতে পারে সে বড় হয়েছে?
    ছোট্ট শিশুকে মা কথায় কথায় বলে তুমি বড় হয়ে গেছো, এখন আর দুষ্টুমি করোনা। শিশুটি তারপরও দুষ্টুমি করেই যায়৷
    আসলে অনুধাবন করার বিষয় বলে বোঝানো যায় না;দরকার একটা অনুভূতির।
    শৈশবে যে মাঠে খেলা করতে করতে বিকেলের পর বিকেল পেরিয়ে গিয়েছে সেই মাঠের কথা ভাববার অবকাশ নেই আর কারোরই। খোলা আকাশের নীচে আজ সেই মাঠও নিজের মতো নেই। এখন আর মাঠে সেই ভাবে খেলা হয়না, কংক্রিটের দেয়ালে দেয়ালে ভরে গেছে সেই মাঠ । যে মাঠে হাজার হাজার মানুষের শৈশব কেটেছে আনন্দ উল্লাসে সেই মাঠের বুকের ক্ষত গুলোর দিকে ফিরে তাকানোর সময় কারোরই নেই আজ।
    কিন্তু আমার মাঝেমধ্যেই মনে পরে সেই মাঠের কথা,যেখানে আমি বড় হয়েছি।
    “আমি বড় হয়েছি” আমার কাছে একটা অনুভূতির নাম। এই নামের সাথে জড়িয়ে আছে আমার স্বত্যা।
    সেই মাঠ থেকে প্রথম শুনেছিলাম পৃথিবীর সবচেয়ে আকাংখিত , প্রচন্ড ভালো লাগার শব্দটি। ” ভালোবাসি” । … আরো কত কি ! জীবনের কঠিনতম বোধ গুলোর মাঝে বারবার এসে ছুঁয়ে দিচ্ছিলো এক অনুভূতি আর এক মলিন চেহারা ।
    যা কিছু ভালো লাগে তাই নিয়ে থাকা । ভাবতে ভালোবাসি। স্বপ্ন দেখি । মেঘের প্রবল বর্ষনে সে স্বপ্ন একসময় ভেসে যায় । তারপর আবারো স্বপ্ন দেখা। এইতো জীবন ! এইতো বেঁচে থাকা !
    এরকম হযবরল জীবনে পরিবর্তন আসে সেই মলিন চেহারায় তাকিয়ে।
    তখনো হয়তো বুঝতে শিখিনি, প্রেম কাকে বলে, অথচ প্রেম আমাকে গ্রাস করে ফেলেছিলো ততক্ষণে।
    মান্না দে’র ” হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে। প্রতিটি মানুষেরই জীবনে প্রেম আসে ।” গানের একটি লাইনও আমার জীবনে মিথ্যে হওয়ার সুযোগ পেলো না৷
    প্রেম এসেছিলো আমারো দুয়ারে । নিরবে, অতি নিরবে ।
    বসন্তের সবটুকু শুভ্রতা আর রং বেরঙের জানা অজানা ফুলের সুবাস নিয়ে ।
    ঘোর অন্ধকার মহাকাশের বিশালতা ঘিরে সে এসেছিলো ; সে এসেছিলো নক্ষত্রের উজ্জ্বল আলো নিয়ে।
    তপ্ত মরুভমির অসহ্য উত্তাপের তৃষিত হৃদয়ে সে এসেছিল একফোটো জল হয়ে।
    বসন্তের নির্মল হাওয়ায় আমার হৃদয় ভেসেছিলো ভালোবাসার প্লাবনে । সেদিন
    একরাশ প্রশান্তির আবেশ ছড়িয়ে পড়েছিল দেহ মনে ।
    সেদিনই বুঝেছি রবীন্দ্রনাথ হয়তো আমারই জন্য লিখে গেছেন –
    “হৃদয় আজি কেমনে গেল খুলি,
    জগৎ আসি সেথা করেছে কোলাকুলি ।”
    ফুল সহ এক ঠাঁইতে থাকা কাদার মতো,
    মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ানো অথবা পাখির কলকাকলীর মতো সেই মধুর দিনগুলো ছিল স্বর্গীয় ভালোবাসায় ভরপুর ।
    সেই প্রথম শুনেছিলাম পৃথিবীর সবচেয়ে আকাংখিত , প্রচন্ড ভালো লাগার শব্দটি। ” ভালোবাসি” ।
    বলেছিলাম – আমিও যে তোমায় ভালোবাসি ।
    -কতটুকু ?
    -যতটুকু হলে তোমাকে পাওয়া যায় ।
    – তাহলে বলোনি কেন এতদিন ? কেন রেখেছিলে লুকিয়ে ?
    – যদি তুমি প্রত্যাখ্যান করো সেই ভয়ে ।
    – বোকা ছেলে । এতদিন ধরে দেখ!
    তুমি কি কখনোই বুঝতে পারোনি আমার মনের কথা !
    – তুমিও তো আমার হৃদয়ের কথা বুঝতে পারোনি । শুধু তোমার হাসিমুখ দেখব বলে, শুধু তোমার সেই নিষ্পাপ চাহনি দেখার জন্য ছুটে আসি তা কি তুমি বুঝনি?
    তুমি কি বঝনি,একটি ছেলে প্রতিদিন খুব ভোরে দাঁড়িয়ে থাকে কেন রাস্তার মোড়ে?
    কেনই বা দেখা হয় প্রতিদিন তোমার সাথে?
    – শুধু আজকের দিনটির জন্য কতদিন অপেক্ষায় রয়েছিলাম। বারবার যে আমি শুধু তোমাকেই চেয়েছি ।
    চুপ করে ছিলাম । নিজেকে খুব হালকা মনে হচ্ছিল৷ বহুদিন পর ঝেড়ে কাশছিলাম আর কাঁদছিলাম। সুখের কান্না।
    গভীর ভালো লাগা আর ভালোবাসায় ছিলাম আচ্ছন্ন । সে আমার চোখে চোখ রাখল । এ এক অন্য রকম চাহনী । যে চাহনীতে সবকিছুই বদলে যায় । আমিও ওর কাজল কালো মায়াবী আঁখিতে মুগ্ধ বিস্বয় নিয়ে চেয়ে রইলাম । কত কথাই যেন সে চোখে জমে রয়েছে । দুচোখ তার নোনা জলে ডুবে গেছে। কত কিছুই না ও দুটি চোখ বলতে চায় । মনে হচ্ছিল আমি সারাটি জীবন সেই মায়া ভরা চোখের দিকে চেয়ে কাটিয়ে দিতে পারব । সেই থেকেই ভেসেছিলাম ভালোবাসার স্বপ্ন সুখের ভেলায় । হৃদয়ের কত আকুলতা , না বলা কথা , কিছু জমানো ব্যথা বিনিময় আর ভালোবাসার রঙ্গীন সব জাল বোনা । সেই ভালোবাসার জাল অনেকদুর বিস্তৃত হয়েছিলো । অনেক দুর ।
    “তোমাকেই যেন ভালোবেসেছি শত রূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”
    অনেকতো হল বয়স তো কম হলো না…..
    আমার অভিধানে এখনো বিচ্ছেদ শব্দটা খুঁজে পাই না কেন?
    দুরত্ব যতই বাড়ছে, ভালোবাসার ততোই ছানাপোনা হচ্ছে। তাদের লালন পালন করার দায়িত্ব কি শুধুই আমার?
    অভিমান হতেই পারে, ভালোবাসি বলেই তো অভিমান করি।
    অভিমান তো তুমিও করো, আমি কি মুখ ফিড়িয়ে নেই?
    এখন তো সমান সমান হলো__ ১৪০
    ভার্চুয়াল এই দুনিয়ায় নাহয় তুমিই এগিয়ে থাকলে।
    আজ আর কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ো না…..
    আমার চৌকাঠ, আমার জানালা ;
    আমার সিংহাসন, আমার বারামখানা।
    সবকিছুই খোলা আছে।
    ফিরে এসো, শুধু ফিরে এসো আরেকটি বার।
    বৈশাখ -১৩
    রাহেলি মহলের পাচিলে বসে আছি;
    যদি মনে লয়,উঁকি মারতে পারো৷
    শুভ প্রিয়তমা দিবস।

    5
    2 Comments
Skip to toolbar