Profile Photo

Rahman anisurOffline

  • anisur1969
  • Profile picture of Rahman anisur

    Rahman anisur

    3 years, 9 months ago

    রূপ কথা নয়
    ১৫ই আগষ্ঠ,১৯৭৫ সালের সেদিনের সেই সকালের লোম হর্ষক নির্মম ঘটনা এখনো আমাকে পীড়া দেয়।
    আনিছুর রহমান
    ১৫/০৮/২০২২.
    আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল মামাদের বাড়ি। সাটিয়াকোলা গ্রামের মধ্য দিয়ে কাঁচা সড়ক চলে গেছে বেঙ্গল মিট বটতলায় মুল পাকা রাস্তায়। রাস্তায় পূর্বপাশে আমাদের আর পশ্চিম পাশে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের একসময়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মরহুম আব্দুর রহমান প্রামানিক অর্থাৎ আমাদের মামা বাড়ি। প্রতিদিন ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে মামা বাড়ি অন্যান্য সদস্য সহ বাড়ির বড় উঠানে মাদুর পেতে আমরা এক সাথে পড়তে বসতাম। মামা বাড়িতে লজিং মাষ্টার ছিলেন তখনকার কাশিনাথপুর আব্দুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শরীর চর্চা শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক (ফিজিক্যাল স্যার)। আমাদের গ্রামের মরহুম নইম উদ্দিন ভাই মামা বাড়িতে এম,আর ডিলার এর খাতা পত্র দেখাশুনা করতেন আর মাঝে মধ্যে আমাদের পড়াতেন। তিনি ভালো ইংরেজী ও অংক জানতেন। সবুরন,সাহাতন,আঞ্জিলা,মঞ্জিলা,ছাত্তার মরহুম
    ফজলুল হক,রফিক,গোলজার,আজিজল মামাতো ভাই সহ একত্রে ফিজিক্যাল স্যার আর নইম ভাইয়ের কাছে রোজ লেখাপড়া করতাম।
    ১৫ই আগষ্ঠ ভোর বেলা মামা বাড়ি উঠানে বসে সবাই পড়ছি। হঠাৎ আমাদের এক মামা মরহুম মজিবুর প্রামানিক তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুব ভক্ত ছিলেন। আমার মেঝ মামার সাথে বঙ্গবন্ধুর নামের মিল থাকায় তিনি বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালোবাসতেন।
    ফিজিক্যাল স্যার উঠানে টিনের ঘরে চেয়ার টেবিলে বসে ছিলেন। মেঝ মামা নিয়মিত আকাশবাণী ও বাংলাদেশ বেতারের খবর শুনতেন।
    মেঝ মামা এসে স্যারকে বললেন, মাষ্টার মশাই খবর শুনেছেন কি? স্যার বললেন, না কিছু শুনি নি। মামা বললেন,গতকাল ভোর আনুমানিক ৪-৫টার দিকে সেনাবাহিনীর বিপদগামী একদল সেনা অফিসার বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমন করে স্বপরিবারে তাদের কে হত্যা করেছে। খবরটি শুনে উপস্হিত সবাই হত বিহ্বল হয়ে পড়লেন। আমরা যারা পাশে মাদুরের উপর বসে পড়ছিলাম তারা একটু ভয় পেয়ে গেলাম। আমার সমস্ত শরীর ভয়ে ছম ছম করে উঠল। আমার বয়স তখন আনুমানিক ১০-১২ বছর হবে। স্যার বললেন, আজ তোমাদের সবার ছুটি। কালকে আবার পড়বে সবাই। ফিজিক্যাল স্যার বললেন, আনিছ তোমাদের রেডিওটি নিয়ে আসো আমি খবর শুনব। আমি দৌড়ে গিয়ে বাবাকে বলে রেডিও নিয়ে আসলাম।
    রেডিও তে কিছু ক্ষণ পর পর নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারের নিহত হওয়ার ঘোষনা করছে। আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল করেছে বলে ঘোষনা করছে। আমার কানে আজও সেই ঘোষণা ১৫ই আগষ্ট মাস আসলে এখনো ভেসে বেড়ায়। আমি এখনো ভুলতে পারিনি সেদিনের সেই লোম হর্ষক হত্যা কান্ডের ইতিহাস।

    অপারেশন শেষ করে মেজর ডালিম ঢাকা বেতার কেন্দ্র দখল করেন এবং নিজেই বেতারে প্রচার করছেন ‘স্বৈরাচারী শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে।’ সকাল ৭টায় ঢাকা বেতারে ফারুক হোসেইনের নিয়মিত সংবাদ পাঠে জানা গেল খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট অতিপ্রতুষ্যে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম-বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে দেশবাসী হতবিহ্বল ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। বিক্ষিপ্ত কিছু প্রতিবাদ হলেও কার্যকর কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি- এটা সত্য ও বাস্তবতা। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমেদ-এর নেতৃত্বে তারই অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠিত হলে দেশের সাধারণ জনগণ এমনকি রাজনৈতিক কর্মীরাও হন দিকবিভ্রান্ত। কোনো গুপ্ত আততায়ী গোপনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি। ঘাতকরা রাষ্ট্র পরিচালিত বেতার ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার দায় স্বীকার করে; তাদের সদম্ভ অপতৎপরতা ছিল অতিদৃশ্যমান।

    ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ দখলদার রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ‘ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫’ জারি করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ১৫ অগাস্টে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তির পথ করে দেয়। শুরু হয় রাষ্ট্রীয় জীবনের এক কালো অধ্যায়, আত্মস্বীকৃত খুনীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারের সম্মুখীন না করার এক নজীরবিহীন অপসংস্কৃতি। পরবর্তীতে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করে খুনের সাথে জড়িত প্রায় সকলকে বিদেশের কূটনৈতিক মিশনে চাকুরি প্রদান করে পুরস্কৃত করেন। আত্মস্বীকৃত ঘাতকদের পুরস্কৃত করার এমন নজীরও বিশ্বে বিরল।
    ছবি সংগৃহীত।

    5
    2 Comments
Skip to toolbar