Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • #ছোট_গল্প
    না_বলা_ভালোবাসা।
    লেখনীতেঃ #মেহের_মেহের_সীমা।

    #তৃতীয়_ও_শেষখণ্ড।

    মেহেদী রাগে গজগজ করতে করতে বলেন,সব সময় পন্ডিতী করবে ,এখন তো হলো!
    কতবার করে বললাম, তোমাকে কিছু করতে হবে না, তুমি শুধু আমাকে কিভাবে রান্না করতে হবে তা দেখিয়ে দাও আমিই রান্না করতে পারবো।
    তা কে শুনে কার কথা! মাতব্বরি করে অসুস্থ শরীরে তিনি এসেছে নিজে রান্না করতে!
    এদিকে সাবিহা স্বামীর বকা খেয়ে মুখটা কাচুমাচু করে বলে, আপনি অযথা চিন্তা করছেন আমি এখন ঠিক আছি।
    মেহেদী সাবিহার কথাটা শুনে রেগে বলেন, কতটুকু ঠিক আছো তা তো নিজের চোখে দেখলাম!
    সাবিহা মেহেদীর দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে বিরবির করে বলে, ইস্ মাথাটা ঘুরে ওঠার আর সময় পেল না।
    তার সামনে হুট করে মাথাটা ঘুরে ওঠার দরকার ছিল!
    সাবিহা কে একা কথা বলতে দেখে মেহেদী বলেন,এই তুমি তখন থেকে একলা একলা কি বিরবির করছ?
    সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে বললো, কি আর বলব, আপনি তো কোন কথা বুঝতে চাচ্ছেন না,
    আচ্ছা আপনি বলেন, বাসায় একজন মানুষ এতটাই অসুস্থ যে বিছানায় থেকে উঠতে পারছে না আমি তা দেখেও নিজের সামান্য অসুস্থতার কারণে রুমে শুয়ে বসে থাকবো।
    আর ওদিকে মিশু ভাই জ্বরের মধ্যেও বাহিরের খাবার খাবেন?
    সাবিহার কথা শুনে মেহেদী মনে মনে ভাবছেন, তার ছোট ভাই যে কিনা দুইদিন আগেও সাবিহাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলো সামান্য জ্বরে কি এমন হয় যে কাজ করতে পারবেন না!
    আজকে আমার সেই ভাইয়ের জন্য আমার বৌ সাবিহা নিজের কথা না ভেবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও মিশুর জন্য সুপ তৈরি করতে ব্যস্ত।
    আর তার ভাই এতদিন যেই নূহার উকালতি করছে সে কিনা ওকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে।
    আচ্ছা এটা ওদের কেমন ভালোবাসা?
    ওদিকে
    সাবিহা মেহেদীকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে, এখন আমি এদিকটা সামলাতে পারব। আপনি গিয়ে মিশু ভাইয়ের শরীরটা মুছিয়ে দিন।
    সারারাত যে জ্বর ছিলো দেখুন গিয়ে তার শরীর ঘেমেটেমে আঠা আঠা হয়ে গেছে মনে হয়।
    সাবিহার কথা শুনে মেহেদী গতকাল রাতের কথা ভাবছে, গতকাল রাতে মিশুর জ্বর বেড়ে খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিল।জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ অবস্থা,
    প্রায় ভোররাতে পর্যন্ত ছোট ভাইয়ের হাত পা টিপে দেওয়া, মাথায় পানি ঢালতে মেহেদী ব্যস্ত ছিলেন।
    অবশ্য মেহেদী একা জেগে ছিলেন না তার সাথে সাবিহা ও জেগে ছিলো।
    এবং পানি বালতি সবকিছু এগিয়ে দিচ্ছিলো।
    এই মেয়েটা মেহেদীর পরিবারের বিপদ দেখলে নিজের শরীর খারাপের কথা ভুলে সাহায্য করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
    সাবিহা তার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয় এই পরিবার তো মেহেদীর একার নয়।
    মেহেদী ও সে দুটো দেহ হলেও তাদের আত্মা এক।

    মেহেদী সাবিহার কথামতো কুসুম গরম পানি দিয়ে মিশুর শরীর স্পঞ্জ করে দেয়।
    অন্যদিকে নূহা বেশ ভালো বিপাকে পরেছে।
    কারণ তার ভাবীরা তাকে তার বাবার বাড়িতে রাখতে চাচ্ছে না।সে কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না,
    নূহা তার ভাবীদের উদ্দেশ্য বলল,
    তোমরা আমার সাথে এমন করতে পারো না!
    এটা তো আমারো বাড়ি নাকি?
    তাছাড়া কিছুদিন আগেও না সবসময় বলতে আমি তোমাদের বোনের মত, আমাকে তোমরা কত ভালোবাসো!
    তাহলে আজ কোথায় গেছে আমার প্রতি তোমাদের সেই ভালোবাসা?
    হ্যাঁ বলেছি তো তাতে কি হয়েছে।শুন, নূহা বড় কথা বলার আগে একটা কথা মাথায় রাখবে মেয়েরা বিয়ের পর বাবার বাড়িতে মেহমান হয়ে এলে তা ঠিক আছে।
    কিন্তু সেই মেহমান বেশিদিন থাকলে বাড়ির বোঝা হতে সময় লাগে না।
    তাছাড়া তোমার মতো মেয়ের মুখে ভালোবাসার কথা বেমানান।
    নূহা তার বড় ভাবীর কথা শুনে অবাক হয়ে গেছে!
    নূহা কে হতভম্ব হতে দেখে আরো বলে,আমরা তোমাকে ভালোবাসি তা ঠিক কিন্তু তোমার জন্য তো নিজেদের ক্ষতি করতে পারি না।
    তাছাড়া তুমি কিন্তু তোমার বরের জ্বর দেখে এক মুহুর্ত সময় সেখানে থাকতে চাওনি বরং সাথে এখানে এসে পড়েছিলে।
    নূহা তার বড় ভাবীর কথা শুনে হতবাক!
    এরমধ্যে
    ( নূহার ছোট ভাবী)কেয়া বললো,তুমিও তো তোমার বর কে ভালোবাসতে তবুও তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে এসেছিলে।
    বরের দিক না দেখে নিজের কথাটা কিন্তু প্রথমে ভেবেছ।
    তা শুনে লিজা (নূহার বড় ভাবী)বললো,আর আমরা দুজন তোমার মত হলে কিন্তু তোমার যেদিন জ্বর এসেছিলো‌ ,সেদিনই এখানে থেকে যেতে বলতাম।
    আমি বা কেয়া কিন্তু তা করিনি,নূহা তার বড় ভাবী লিজার কথা শুনে অবাক হয়ে গেছে!
    যে ভাবীরা সব সময় তাকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসি বলে এসেছে তারা দুজন আজ ওকে এখানে থেকে চলে যেতে বলছেন।
    কথাটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। লিজা ও কেয়ার কথা শুনে নূহার মা বলেন,বৌমা মেয়েটা অসুস্থ ওর সাথে এভাবে কথা বলছো কেন?
    লিজা শ্বাশুড়ির কথা শুনে বললো,আম্মা নূহার করোনা টেষ্টের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
    ওর জন্য তো আমরা নিজেদের ক্ষতি করতে পারি না।
    বাসায় কেয়ার এবং আমার বাচ্চারা আছে ।
    তাছাড়া আপনি ও বাবা সুগারের রোগী ।
    আপনার ছেলেরা তো আপনাদের নিয়ে চিন্তিত,
    একা নূহার জন্য তো এতো গুলো মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করতে পারি না!
    হয় ও কোন সরকারি হসপিটালে যাক নাহলে শ্বশুড় বাড়িতে ফিরে যাক।
    কিন্তু সে এখানে থাকতে পারবে না।
    কথাটা বলে লিজা চলে যায়।
    এদিকে নূহার মা নূহাকে বললেন,দেখলি তো প্রত্যেকের নিজ নিজ কর্মের ফল ভোগ করতে হয়।
    তুই নিজের স্বামীকে একা ফেলে এসেছিস তোর স্বামীর করোনা হয়েছে সেই ভয়ে।
    তুই কিন্তু মিশুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলি।
    সামান্য করোনার কাছে তোর ভালোবাসা ফিকে হয়ে গেছে।
    তুই সেদিন স্বার্থপরের মত কাজ করেছিস।
    আজকে দ্যাখ তোর সাথেও তাই হচ্ছে ।
    তোর ভাবীরা ও নিজেদের কথা চিন্তা করে স্বার্থপর হয়েছে
    দেখলি তো কর্মফল?
    মায়ের কথা শুনে এবং ভাবীদের ব্যাবহার দেখে নূহার খারাপ লাগছে।
    সে মিশুকে ছেড়ে এসেছিলো করোনা হয়েছে সেই ভয়ে।
    এখন কিনা ওর নিজের সেই করোনা হলো।
    হে আল্লাহ এখন সে কি করবে?
    সেদিন স্বার্থপরের মতো চলে আসছিল ঠিক
    এখানে এসে সাত আট দিন ভালোই ছিলো।
    মাঝে মাঝে মিশুর জন্য খারাপ লাগলেও মন ভালো করতে ভার্সিটি যাওয়া বাসায় এসে ভাবীদের সাথে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি করে তার সময় চলে যাচ্ছিল।
    কিন্তু হঠাৎ করে দুইদিন আগে নূহার ভীষণ জ্বর এসেছে।
    নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তা দেখে ওর ভাইয়েরা করোনা হয়েছে সন্দেহ করে বোনের টেষ্ট করান।
    টেষ্টের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে
    ওর করোনা হয়েছে তা জানার পর থেকে দুই ভাবী ওকে এখানে রাখতে চাচ্ছে না।
    নূহা আজ তার ভাবীদের ব্যাবহার দেখে মর্মাহত হয়েছে।
    তার ভালো মন্দ কাজে সব সময় যে ভাবীরা সাপোর্টে দিয়েছেন তারা আজকে ওকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন।
    নূহা আজ বুঝতে পারছে সেদিন মিশুকে ছেড়ে আসার মিশুর কাছে কেমন লেগেছে।
    ইস্ কেন তখন সে বুঝতে পারল না।
    অসুস্থ অবস্থায় নূহা চায় না হসপিটালে থাকতে কিন্তু ওর ভাবীরা ওকে এখানে থাকতে দিবে না,
    নূহার কাছে এই মুহূর্তে মিশুর বাসা ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা নেয়।
    নূহাকে নির্লজ্জের মত এখন মিশুর বাসায় যেতে হবে এটাকেই হয়তো ভাগ্যের খেলা বলে।
    ওদিকে
    মিশু বিছানায় শুয়ে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছে,
    এতদিন যেই ভাই ভাবীর দিকে নজর দেয়নি এই কঠিন সময়ে ওর পাশে দাঁড়িয়েছে তারা।
    সেবা যত্ন করছেন।
    আর সে যে মানুষটিকে সব সময় আগলে রাখত, সংসারের দায়িত্ব থেকে দূরে রেখেছেনষ ।
    নিজের সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন।
    সেই কিনা ওকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে যেতে পারলো?
    অন্যদিকে ওর বড় ভাবী এতো অসুস্থ হয়েও ওর জন্য এটা ওটা রান্না করছে।
    এসব দেখে অতীতের আচরণের জন্য আজ নিজেকে অনেক ছোট মনে হচ্ছে।
    এতদিন ভাবীকে কষ্ট করতে দেখেও ফিরে তাকায়নি, চোখে যে তখন নূহা নামক পর্দায় ঢাকা ছিল।
    নূহাকে শুয়ে বসে কাটাতে দেখেও কখনো বলেনি ভাবীকে হেল্প করতে।
    ছিঃ ছিঃ মায়ের মতো ভাবীকে নূহার কথা ভেবে সে কিনা এতদিন ভাবীর প্রতি অন্যায় করেছে।
    কথাগুলো ভাবছে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।

    মিশু সুস্থ হয়েছে দুদিন হয়েছে।
    সুস্থ হওয়ার পর মিশু আর ভুল করতে চায়নি তাইতো সাবিহার কাছে ক্ষমা চেয়েছে
    এবং বলেছেন,এখন থেকে সময় পেলে সে তার ভাবীকে কাজে সাহায্য করবে।
    কারণ পরিবারের সবার দায়িত্ব আছে ভাবী কেন একা কষ্ট করবে।
    দেরিতে হলেও মিশুর শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে এতেই মেহেদী খুশি।
    মিশু সুস্থ হাওয়ার পর একবারও নূহাকে কল করেনি বরং নূহা কল দিলেও সে রিসিভ করেনি।
    কেন করবে?
    ভালোবাসার মানুষটিকে তার বিপদের সময়ে পাশে দরকার ছিল সেই সময়ে নূহা তাকে একা ফেলে চলে গেছে।
    মিশু ভাবছে আমার অসুস্থতা যার কাছে মূল্যহীন তাকে আমার সুস্থ হওয়ার খবর দেওয়াটা বেমানান।
    কথাগুলো ভেবে মিশু নূহাকে আর কল করেনি।
    তবে আজকাল মিশুর মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
    বাসায় এসে নিজের কাজগুলো নিজে করতে চেষ্টা করেন।
    বন্ধের দিনে ভাবীকে টুকটাক সাহায্য করেন।
    এক সপ্তাহ পর
    নূহা শ্বশুড় বাড়িতে এসেছে আজ পাঁচদিন।
    মিশু নূহার শরীরের অবস্থা দেখে কিছু বলতে পারেনি।
    নূহা ভালো না বাসলে সে তো বেসেছে ।
    তবে নূহাকে কড়াভাবে বলেছেন,যাতে সুস্থ হওয়ার আগে নূহা রুম ছেড়ে বের না হয়।
    তার জন্য বাকিরা অসুস্থ হোক তা মিশু চাচ্ছে না।
    আজকে প্রথম নূহা মিশুর কথা শুনে কষ্ট পেয়েছে।
    যে মানুষটি একদিন শুধু ওর কথা ভাবতো আজ সবার জন্য চিন্তা করছে কিন্তু সেই সবার মধ্যে সেখানে নূহা নেয়।
    এদিকে সাবিহা নূহার অবস্থা দেখে বসে থাকতে পারেনি।
    নূহাকে খাওয়ানো, মাথায় পানি দেওয়া ,তেল মালিশ করা থেকে শুরু করে তার ছোট ছোট কাজগুলো ও করে দিয়েছে।
    তবে মাস্ক পরে।
    নূহা সাবিহাকে তার প্রতি কেয়ার করতে দেখে অবাক হয়ে যায়!
    যেখানে ওর আপন ভাবীরা ওকে এই অবস্থায় বাড়িতে থেকে বের করে দিয়েছে সেখানে সাবিহা তার বড় ভাসুদের বৌ হয়ে মায়ের মত করে সেবা যত্ন করছেন।
    আর নূহা কিনা এই মানুষটার সাথে দিনের পর দিন খারাপ আচরণ করেছে তাকে ছোট করেছেন।
    গল্পের ছলে অপমান অপদস্থ করেছেন।
    এমনকি সাবিহা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকতো তখনও নূহা কাছে গিয়ে বলেনি ভাবী তোমার খারাপ লাগছে?
    আজ কিনা সে মানুষটি ওকে অসুস্থ দেখে এগিয়ে এসেছেন।
    নূহা‌ অতীতের স্মৃতি মনে পড়ে অনুশোচনা ভুগছে।
    অন্যদিকে
    মেহেদী কে অবাক করে দিচ্ছে তার বৌয়ের এইসব কাজকর্ম!
    যেই মেয়েটা কখনো সাবিহার সাথে ভালো আচরণ করেনি।
    যে ভাইয়ের বৌ কিনা আর অসুস্থ ভাইকে ফেলে স্বার্থপরের মত বাবার বেড়াতে চলে গেছে।
    তাকে সুস্থ করতে তার বৌ দিন রাত এক করে দিচ্ছে।
    নূহা এতো কিছু করার পরেও কেন সাবিহা তার সেবা করছে মেহেদী সাবিহাকে কথাটা জিজ্ঞেস করেছিলেন,
    সাবিহা তার স্বামীর প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে বলল ,নূহা আপু যা করেছে তা যদি আমরা করি তাহলে তার আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কী?
    তাছাড়া এই সময়ে আপুর কাছে থাকলে সে নিজের ভুল গুলো বুঝতে পারবে।
    এমনকি হয়তো ভবিষ্যৎ নিজেকে শুধরে নিতে পারেন।
    কিন্তু এই সময়ে আমরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে কখনো তার ভুলগুলো উপলব্ধি করতে পারবে না।
    তাছাড়া নূহা আপু আমার দেবরের বৌ হলেও আমি তো তাকে বোনের মত মনে করি।
    একবোন কি কখনো অন্য বোনের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
    সাবিহার কথা শুনে মেহেদী আল্লাহ্ কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
    এমন পবিত্র মনের একজনকে তার জীবনে সহধর্মিণী রূপে দেওয়ার জন্য।
    মেহেদী গর্ববোধ করে সাবিহাকে নিয়ে।
    একমাস পর
    সাবিহা ও মেহেদী জীবনে ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো ডানা মেলে আকাশে উড়তে শুরু করেছে।
    এখন তাদের বাড়ি সুখের জোয়ারে ভাসছে।
    সাবিহা মা হতে যাচ্ছে এই খবরটি শুনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের আনন্দ চোখে পড়ার মতো।
    মেহেদী যে এই পর্যন্ত কতবার সাবিহা কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাকে বাবা হওয়ার সুখ অনুভব করার সুযোগ দেওয়ায়।
    তাছাড়া এখন বাড়ির হাওয়া বদলে গেছে , এখন সাবিহা কে একা একা সব কাজ করতে হয় না।
    আজ তাকে কাজে সাহায্য করার মানুষের অভাব নেয়।
    এগুলো সম্ভব হয়েছে একমাত্র মিশুর জন্য।
    নূহা সুস্থ হওয়ার পর থেকে মিশু নূহাকে বলে দিয়েছে এখন থেকে নূহাকে তার ভাবীর মতো করে সংসারে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।
    আর সংসারের কাজগুলো ভাগ করে নিতে হবে।
    তাছাড়া ভাবীকে দিয়ে ভারী কোন কাজ করানো যাবে না।
    সেদিকে নূহাকে খেয়াল রাখতে হবে।
    আজকে ভাবী রান্না করলে আগামীকাল নূহা করবে।
    আর বন্ধের দিনে ভাইয়া ও ভাবীর ছুটি থাকবে তাড়া যেখানে খুশি ঘুরতে যেতে পারবেন।
    এদিন সংসারে দায়িত্ব নূহা ও মিশু সামলাবে।
    মেহেদী মিশুর কথা শুনে বলেছিলেন, নূহা হয়তো এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।
    আমাদের উচিত ওকে ক্ষমা করে দেওয়া।
    আর তোদের তো এখনই ঘোরাফেরার সময়।
    সেজন্য সপ্তাহে একদিন তুই ও নূহা ঘোরাঘুরি করবি বা কোথাও বেড়াতে যাবি।
    বরাবরের মতো এদিকটা আমরা সামলে নিবো।
    ভাইয়ের কথা শুনে সেদিন মিশু বলেছে, ভাইয়া নূহাকে ক্ষমা না করলে আজকে তাকে এখানে দেখতে না।
    তাছাড়া আমি এসব রাগ করে বলিনি।
    আমরা বিয়ের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ঘুরতে বা বেড়াতে গিয়েছি কিন্তু তুমি দায়িত্বে বেড়াজালে আবদ্ধ থাকায় যেতে পারোনি।তখন হয়তো এগুলো বুঝতে পারিনি।
    কিন্তু এখন তোমার ভাই দায়িত্ব বুঝতে চাচ্ছে এবং তা পালন করতে চেষ্টা করছে।
    আচ্ছা ভাইয়া আমাকে দায়িত্ববান একজন মানুষ হতে তুমি আমার পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করবে না?
    ছোট ভাইয়ের কথা শুনে মেহেদীর চোখে পানি চলে এসেছে।
    মেহেদী মিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে হ্যাঁ বলেন।
    সে দৃশ্য দেখে মেহেদীর বাবার চোখে পানি মুখে হাসি।
    সে তো সব সময় এমন একটি পরিবারের স্বপ্ন দেখেছেন যা ধীরে ধীরে পূরণের দিকে যাচ্ছে।
    মেহেদীর বাবা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললেন, তোদের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি না বলা ভালোবাসার ভান্ডার রয়েছে।
    তোদের এই ভালোবাসা যেন চিরকাল থাকে সেই দোয়া করি।
    তোদের এমন সুখে দেখে এখন মরেও শান্তি পাবো।
    ওদিকে সাবিহা মনে মনে বলছে, এমন পরিবারের একজন সদস্য হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আল্লাহ্ আমাদের ভালোবাসার বন্ধন যেন সারাজীবন এভাবেই অটুট থাকে।
    সমাপ্ত

    4
    4 Comments
Skip to toolbar