Profile Photo

Borhan MahmudOffline

  • borhan.mahmud
  • Profile picture of Borhan Mahmud

    Borhan Mahmud

    3 years, 12 months ago

    বংশ

    -কিরে ভাই? ভাই হইয়া এই কাজটা করতে পারলি তুই?
    -আপা, আমারে মাফ কইরা দে, আপা।
    -শেষমেষ তুই ক্যামনে করলি? তোর কলিজায় কুলাইলো? আকুল কান্নায় ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল শবনম।
    মিজান চোখ নামিয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো। বড় বোন শবনমের দিকে তাকাতে পারছে না অনুতাপের কষ্টে।
    -তুই আমার ভাই হইয়া আমার বুকটা খালী করলি, ভাই?
    মিজান কিছু বলার আগেই ঘরের দরজায় একটা কণ্ঠে দুজনেই চমকে উঠলো।
    -মিজান যেটা করেছে, সেটা এই বংশের মুখ রাখার জন্যেই করেছে, শবনম। মিজানের বাবা সালাম খন্দকারের গলা। তুই কি মনে করছস, এই মিলিটারির বাচ্চা আমার বংশে আমি রাখুম? তার গলায় ক্রোধ বোঝা যাচ্ছে।
    -তাইলে যেইদিন আমারে মিলিটারিরা ধইরা নিয়া গেলো, সেইদিন সামনে খাড়াইলা না ক্যান? বাবার দিকে তাকিয়ে খেঁকিয়ে উঠলো শবনম। পুরা যুদ্ধের সময় তো শান্তি কমিটির হইয়া কাম করলা। নিজের মাইয়ার ইজ্জত বাঁচাইতে পারলা না। ক্যামন বাপ তুমি?
    সালাম খন্দকার কিছুই বলতে পারলেন না এ কথার জবাবে।
    মিজান এতক্ষণ চুপ করে থেকেছিল। এবার সে বলে উঠলো,
    -বাবা, এখন তুমি যাও তো। তুমি মুক্তিযোদ্ধাদের মারাইছ। আরো বহু মানুষের সর্বনাশ করছ। তুমি চোখের সামনে থেইকা যাও।
    সালাম খন্দকার কিছু না বলে রুমের দরজা থেকেই ফিরে গেলেন।
    সাথে সাথেই শবনম ভাইয়ের উপর হামলে পড়লো।
    -ঠিক কইরা বল, আমার পোলারে কি করছস?
    মিজান একটু চুপ থেকে বলল,
    -আপা, মানুষের বাচ্চা এইরকম বয়সে তো মইরাও যায়।
    -না বলে একটা চিৎকার করে বেহুঁশ হয়ে ধড়াম করে বিছানায় পড়ে গেলো শবনম। বোনের পাশে বসে বোনের দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছে মিজান।
    বংশের মান ইজ্জত বলে কথা। এ সন্তানকে এ বংশে প্রতিপালন সম্ভব নয়। বাবাই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো এ বাচ্চাকে খুন করে কোথাও পুঁতে আসার জন্য।
    মিজান অতোটা অমানুষ হতে পারেনি। রাতের অন্ধকারে জেলাসদরে গিয়ে একটা এতিমখানায় রেখে এসেছে সে মিলিটারির বাচ্চাকে।

    সমাপ্ত
    #অনুগল্প
    বোরহান মাহমুদ

    4
    5 Comments
Skip to toolbar