Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • নেশা
    পর্বঃ ২
    লেখনীতেঃমেহের মেহের সীমা।
    মারুফ খান চোখের সামনে ছেলের এমন অধঃপতন মানতে পারলেন না, ছেলের কর্মকাণ্ড দেখে তার রাগে শরীর জ্বলছে। মেয়েটাকে সমাজের কথার চাবুকাঘাত থেকে রক্ষা করতেই তো রাজের সাথে তিনি বিয়ে দিয়েছেন।
    যাতে রাজ তার ভালোবাসা দিয়ে মেয়েটি ভালো রাখতে পারে, কারণ রাজের উপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিল, সোশ্যাল (ফেসবুক)মিডিয়াতে ছেলের সাথে যুক্ত রয়েছেন, কখনো দেখেন তার ছেলে রাস্তার টোকাই কে বুকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলে আপটেড দিচ্ছে,তো কখনো কোনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দ্বিধা করছে না।
    একজন গায়ক হওয়া সত্ত্বেও রাজের কোনো অহংকার নেই, তার সাহসী কর্মকান্ড ও গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে সোশাল মিডিয়া প্রায় সরগরম থাকত যা দেখে মারুফ খান ছেলেকে নিয়ে গর্ববোধ করে এসেছেন এতদিন। সেই সুবাদেই তো নিশ্চিন্তে ছেলের কাঁধে মেয়েটার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন।
    কিন্তু এখন এসব কি দেখছেন?
    রাজ কিনা তার দেওয়া দায়িত্ব পালন করা তো দূরের কথা পালনের চেষ্টা করতেও চাচ্ছে না। মেয়েটিকে এভাবে অপমান অপদস্থ করল, ধাক্কা মেরে ফেলে দিতেও পর্যন্ত দ্বিধা করেনি!
    তাহলে এতদিন তার ছেলের সম্পর্ক সোশ্যাল মিডিয়াতে যা দেখাত তা সব মিথ্যা।লোক দেখানো বা স্বস্তায় জনপ্রিয়তা অর্জন করার লক্ষ্যয় এগুলো করেছে। সরল সোজা মানুষকে মিষ্টি কথা বলে ঠকিয়েছে জনপ্রিয়তার লোভে।
    কথাগুলো ভাবতেই মারুফ খানের মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছে, এতটাই রেগে গিয়েছেন সোজা ছেলের সামনে গিয়ে রেগে সজরে ছেলের বাম গালে চর বসিয়ে দিলেন!
    মূহুর্তের মধ্যেই আশেপাশের পরিবেশের নীরব হয়ে গেছে”
    এদিকে রাজ বাবার হাতে চর খেয়ে যতটা না হতভম্ব হয়েছে তার থেকে বেশি জেগেছে ক্রোধ।যে রাজের জন্য হাজার হাজার ভক্ত জীবন দিতে প্রস্তুত।আর তাকে কিনা সামান্য একটা গাইয়া মেয়ের জন্য তার বাবা চর মেরেছে।
    এই রাজ কে তা কি মারুফ খান ভুলে গেছে!যার ফেসবুক ও ইউটিউব এ লাখ লাখ ফলোয়ার।
    যার গানে কিনা হাজার হাজার মেয়ে দিওয়ানা হয়ে যায় তাকে অপমান করা?
    না আর এক মুহূর্তও এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে মারুফ খানের সঙ্গে আজ তার করুক্ষেত্র লেগে যাবে।
    এতে তার মম ভীষণ কষ্ট পাবে, তা ভেবে হনহনিয়ে বাহিরের দিকে চলে গেল রাজ।
    কানিজ হতভম্ব হয়ে গেছে, মারুফের সাথে রাগ করে রাজ কে বাহিরের দিকে যেতে দেখে কয়েকবার রাজ বলে ডেকে ছিলেন।
    বাবার প্রতি ছেলের অভিমান এতটাই বেশি ছিল যে মায়ের ডাক শুনেনি।আর ছেলের অভিমান হবে না কেন!
    যে ছেলের গায়ে তারা দুজন বিশেষ করে সে ছোট থেকে কখনো হাত তুলেন নি এমনকি কখনো বকাঝকা করেনি সেই ছেলের গায়ে হাত তুলছেন তার স্বামী তাও কিনা বাহিরের একটা মেয়ের জন্য!
    কিছুক্ষণ আগে যাও মেয়েটার মুখ দেখে কানিজ এর মায়া লেগেছিল কিছুটা কিন্তু এখন রাগ উঠছে ।
    এই মেয়ের জন্য তার স্বামী কিনা তাদের ছেলের গায়ে তুলেছেন কথাটা ভেবে কানিজ রেগে হুংকার দিয়ে বলল,কি হচ্ছে এসব আমার বাড়িতে?
    মারুফ কে এই মেয়ে?
    মারুফ খান নিজের ছেলেকে চর মেরে মেয়েটার কাছে গিয়ে তাকে মেঝেতে থেকে তুলে গেষ্ট রুমের দিকে যেতে নিয়েছেন হুট করে
    স্ত্রীর হুংকার শুনে দাঁড়িয়ে যান, এরপর তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা সুরে বলেন, ওকে এই মেয়ে বলে ডাকবে না কানিজ,ওর সুন্দর একটা নাম আছে।
    ওর নাম উম্মে রেশমী। তুমি ওকে রেশমী বা বৌমা বলে ডাকবে।
    বৌমা মাই ফুট, মারুফ তোমার সাহস হল কি করে আমাকে না জানিয়ে ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার!
    তাছাড়া আমার জানামতে তুমি আর রাজ তো তোমার কোন বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলে?
    মারুফ খান তার স্ত্রীর কথা শুনে বললেন,হ্যাঁ গিয়েছিলাম।
    আমার বন্ধু রাশেদের মেয়ের বিয়েতে।
    কানিজ মারুফ খানের কথা শুনে বলে কোন রাশেদ?
    আর রাশেদের মেয়ের বিয়ের সাথে এই মেয়ের সম্পর্ক কী?
    মারুফ খান তার স্ত্রীর কথা শুনে বলে,কোন রাশেদ মানে?
    আমার গ্রামের রাশেদ,আর রেশমী রাশেদের মেয়ে।
    আসলে হয়েছে কি কানিজ, রেশমীর বিয়েতে গিয়ে আমি তো হতবাক।
    এতো সুন্দর পুতুলের মত মেয়েকে আগে দেখলে তো অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়ার সুযোগ দিতাম না।
    কানিজ চোখ গরম করে তার স্বামীকে বললো, ফালতু কথা রেখে এই মেয়ে এখানে কেন তাই বল?
    আরে বাবা বলছি তো!
    তো আমরা পৌঁছানোর পর দেখি সবাই রেশমী কে যা নয় তাই বলছে,কেউ কেউ তো রেশমী কে মারতে পর্যন্ত গিয়েছে।
    অনেক কষ্টে সবাইকে থামিয়ে জানতে চাইলাম কি এমন হয়েছে যে সবাই এতটুকু একটা মেয়েকে মারতে পিছুপা হচ্ছে না।
    তখন ওখানে থাকা কয়েকজন বললেন, কোনো অপয়া অলক্ষীর জায়গা তাদের গ্রামে হবে না।
    আমি তো তাদের আচরণ দেখে হতভম্ব!!
    তাদের আচরণ দেখে চুপ থাকতে পারিনি,
    আমি তাদের কথার প্রতিবাদ করতে গেলে তারা বলেন, যেই মেয়ে বিয়ের আগে জামাই কে খেয়ে ফেলেছে তার মতো মেয়ের এই গ্রামে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
    বেশ কিছুক্ষণ সবার সাথে বাকবিতন্ডা শেষে তাদের কথা শুনে যা বুঝতে পারছি,তা হচ্ছে বরযাত্রী আসার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় বর এবং বরের বাবা মারা গেছে।
    এতে গ্রামের মানুষ রেশমী কে দোষ দিচ্ছে ভাবতে পারছো কানিজ কিছু মানুষ কতটা খারাপ ও নির্দয় হলে বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে এমন করতে পারে?
    জন্ম মৃত্যু বিয়ে তো আল্লাহর হাতে তা জেনেও কেন রেশমী কে অপদস্থ করছে,এই দুর্ঘটনার সাথে তো রেশমীর পরিবারের হাত নেই। তাহলে তারা কেন গ্রাম ছাড়বে?
    আমি তা বলায় গ্রামের মানুষ এক জোট হয়ে তাদের পরিবারের কাছে শর্ত জুড়ে দিলেন,হয় রেশমী এবং তার পরিবার গ্রাম ছাড়া হবে না হলে আজকের মধ্যেই রেশমীর বিয়ে দিতে হবে।
    এমন পরিস্থিতি দেখে তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,এই ফুলকে আমি ঝরে পরতে দিব না।
    তাকে আমাদের ছেলের জীবনের সঙ্গী করে আনব।
    তাই রাজ ও রেশমীর বিয়ে দিয়েছি।
    কানিজ সবকিছু শুনে চিৎকার করে বলে, তুমি ভাবলে কি করে এমন অলক্ষী মেয়েকে আমার বাড়িতে জায়গা দিব!
    ছেলের বৌ তো পরের বিষয় ।
    কোনো চাষা ভোষার মেয়ে আমার ছেলের বৌ হতে পারে না।
    এই মুহূর্তে এই মেয়েকে বাড়িতে থেকে বের কর।
    মারুফ তার স্ত্রীর কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেন,আহ কানিজ!
    তুমি কি অবুঝ?
    একজন শিক্ষিত মেয়ে হয়েও তুমি গ্রামের ঐ খারাপ লোকদের মত আচরণ করছো?
    মারুফ তুমি ভুলে যাচ্ছ বাড়িটা আমার,তাই আমাকে ভাষা শেখাতে এসো না আর এখানে কে থাকবে না থাকবে তার সিদ্ধান্ত একমাত্র আমি নিব যেহেতু বাড়িটি আমার।কথাটা বলেই কানিজ রেশমীর হাত ধরে টানতে টানতে নিচে নিয়ে এসেছে।
    টানাহেঁচড়ার কারণে মেয়েটার কয়েকবার পড়ে ব্যথা পেয়েছে সেদিকে কানিজের নজর নেই।
    এদিকে মারুফ খান বারবার অনুরোধ করছে রেশমীর হাত ছেড়ে দিতে কিন্তু কানিজ যেনো আজকে পণ করেছে সে মারুফের কথা শুনবে না।
    রেশমী কে টেনেহিঁচড়ে গেটের বাহিরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চিৎকার করে বললো, চাষার বাচ্চা, দূর হু এখান থেকে।
    #চলবে

    5
    1 Comment
Skip to toolbar