-
চেয়ারে বসে একদৃষ্টিতে কি যেন দেখে চলেছে তন্বী। সেই দৃষ্টি শুষ্ক,শান্ত কিন্তু বেশ থমথমে। তরী সব জেনে গেল কি না এই আশংকা কাটছে না
তার। যদি সব জেনে গিয়েও থাকে তারপরও কি তরীর ক্ষতি সে করতে পারবে? যতই মন থেকে পছন্দ না করুক, এতগুলো দিন একসাথে চলাফেরা। দ্বিধা দ্বন্দে ছারখার হয়ে যাচ্ছে তন্বীর দুই চোখ। সেই চোখ ভয়ানক ক্রোধে বারবার জ্বলে উঠছে আগুনের মত। এই ক্রোধ কার উপরে সেটা বুঝতে না পারলেও তরী যে তার সামনে দাঁড়িয়ে তা সে বেশ বুঝতে পারছে। ধীরে ধীরে তরীর দিকে তাকায় সে। ততক্ষণে স্ক্লেরার বর্ণ সাদায় পরিণত করে নেয়। সে দেখে তরী এক হাতে মুখের উপর বই ধরে পড়ছে, অন্য হাতে চশমার নিচ দিয়ে চোখ মুছছে। আনমনেই একটা স্বস্তির শ্বাস নেয় তন্বী। যাক চোখের রঙবদলটা তাহলে তরী দেখতে পায়নি। রুমের এই মাথা থেকে ওমাথা হেঁটে বই পড়া তরীর বহুদিনের অভ্যাস। এ নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেয় ভেবে নিজের ভাবনায় মন দেয় সে।-তরী এই তরী?
তিয়াশের ডাকে স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবে ফিরে আসে তরী। চশমা ঠিক করার বাহানায় দ্রুত চোখের পানি মুছে নেয়। মনের মধ্যে যে ঝড় চলছে তা কিছুতেই কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবেনা।
তিয়াশের সাথে তরীর পরিচয় টরেন্টোতে। তিয়াশের যখন চার বছর বয়স, তখন একটা সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মা দুজনই মারা যায়। তিয়াশের চাচা সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়ে তাকে একটা চার্চে পাঠিয়ে দেয়। স্মরণশক্তি ভালো বুঝতে পেরে ফাদার উইলিনটন তিয়াশকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। তারপর ভালো রেজাল্ট করে স্কলারশিপে টরেন্টো এসে তিয়াশ নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকে। তরীর সাথেই এফসিপিএস পাশ করে বাংলাদেশে এসেছে কিছুদিন আগে। জীবনের বাকি সময়টুকু ফাদার উইলিনটনের সাথেই কাটাতে চায় সে। তরীকে প্রচন্ড পছন্দ করে তিয়াশ। তরীর থেকে স্রষ্টা আর সৃষ্টি সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারে সে। তরীর যুক্তি প্রমাণে নিজের বিশ্বাসের ভিত নড়ে ওঠে তিয়াশের। তরী একজন আপাদমস্তক মুসলিম নারী। তরীর একনিষ্ঠতা, যুক্তিবিদ্যা, মেধা সবকিছুই তিয়াশকে মুগ্ধ করে। টরেন্টোতে পড়াকালীন সময়ে এমন একজন রিডিং পার্টনার পাওয়াটা তিয়াশের কাছে অনেককিছু ছিল। যদিও তরীকে রাজি করাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তার। টানা ১ বছর ঘ্যানঘ্যান করার পর তরী তার সাথে পড়তে রাজি হয়। তাও কোনো নির্জন লাইব্রেরিতে বসে না, জনবহুল পার্কে! তরীর রক্ষণশীলতাকে শ্রদ্ধা করে তিয়াশ। এত লক্ষ্য যাকে করে সে চশমার আড়ালে চোখ মুছলেও বুঝে যায় তিয়াশ। শুধু আজ না। গত ৫ বছর ধরেই তিয়াশ লক্ষ্য করেছে তরীর এই অন্যমনস্ক থাকাটা। তরীও বোঝে তিয়াশ তাকে পছন্দ করে। তার বিশ্বাস, তিয়াশ একদিন আল্লাহকে অনুধাবন করে শান্তির দীক্ষা নেবে। সেদিনের অপেক্ষা করবে সে। তিয়াশ কিছু বলার আগেই তরী প্রসঙ্গ ঘুরাতে বলে ওঠে, হাসপাতাল টা বেশ পরিপাটি দেখাচ্ছে। দেশে থাকাকালীন যখন আসতাম এখানে তখন বেশ এলোমেলো ছিল। তোর কেমন লাগছে রে এতদিন পর দেশে এসে? এই মেয়েটার কথা ঘুরানোর ক্ষমতা অদ্ভুত রকমের! তিয়াশ জানে তরী নিজে থেকে কিছু বলতে চাচ্ছে না মানে তাকে দিয়ে সেই কথা কখনো বলানোও সম্ভব না। কি এত কষ্ট তরীর? কেন এত হাসিখুশি মেয়েটা এমন আনমনা হয়ে যায়? এই রহস্যের ভাগ তাকে কি কখনো দেবে তরী?~রুম নাম্বার ১২০
পর্ব ২তুলি
4 Comments
Friends
Sourav-Roy
@sourav-roy
সাইমূম ইভান
@syed-symoom-anjum-evan
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
সা দি য়া (নন্দিনী)
@nandini
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
Motiur Rahman Mizan
@dressed-human
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
আয়েশা সিমা
@ayesha-sima
মেহেদী মাহমুদ চৌধুরী
@mehedi_mahmud_chowdhuri


গল্পের প্রথম পর্ব খুঁজতে গিয়ে দেখি ৯ মাস আগে লেখা। ভালো লাগলো এত দিন পর আবার লেখা শুরু করেছেন দেখে। আরো লিখুন, গল্পের সাথেই আছি!