-
প্রথম পর্ব
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
একটি সুন্দর মুহুর্ত, ভবিষ্যতের কথা রাখা ও দেয়ার হয়ে যেতে পারে এমন করেই বিলীন। অথবা কর্মব্যস্ত আত্নকেন্দ্রিক কোন ভাবনাও হয়ে যেতে পারে মুহুর্তের মাঝেই অর্থহীন। কে জানে, আমাদের কোন হেয়ালিপনায় পৃথিবী কোন মুহুর্ত বেছে নিচ্ছে সব কিছু ধ্বংশের । এমনটায় অপেক্ষমান পৃথিবির বিজ্ঞানীরা, আর তাদের সাথে সাথে প্রস্তুত এর সাথে জড়িত মানুষজন। কিন্তু সম্পুর্ন গোপনে। যদিও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কোন গোপন বিষয় নয়, এটা ভয়াবহ আলোচিত বিষয় গুলোর মাঝে নিঃসন্দেহে অপ্রতিদ্ধন্দী। কি হতে পারে, আর কি এরই মাঝে ঘটে গেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে?
“আমরা একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহে অনিয়ন্ত্রিত এক বিরাট পরীক্ষানিরীক্ষার মাঝামাঝিতে রয়েছি।”
মনে মনে একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। দুনিয়ার বুকে সব কিছু রয়ে গেল, যেমন আছে এই প্রকৃতি, তার সৌন্দর্য্য তার যাবতীয় সম্পদ। শুধু সেখানে নেই কোন মানুষের উপস্থিতি। সবুজ ঘাসের বুকে আর কোন অবোধ শিশু প্রজাপতির পিছু ছুটবে না!! অস্তমান সুর্যের গাঢ় রক্তিমে কোন মানব মানবী হাতে হাত রেখে হাটবে না!!! সন্দেহ নাই আঁতকে ওঠার মতো বিষয়। এই প্রকৃতি এই বিশ্বজগত মনুষ্যবিহীন হয়ে যাবে!! কি ভয়ংকর কথা।
কিন্তু মানুষ প্রকৃতির অংশ। প্রকৃতির স্বপ্রাণ সজীব অংশ ‘মানুষ’। প্রকৃতির, যে সচেতন অংশ চিন্তা করার ক্ষমতা আছে বলে প্রকৃতিকে রক্ষা, তার লালন পালনের ভার হাতে তুলে নেয় — প্রকৃতির সেই সচেতন অংশই হলো মানুষ। সে হিসাবে মানুষ নিজেই তো প্রকৃতি। পুনরুৎপাদনের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ নিজেই বিনির্মাণ করে তার প্রকৃতির।
ফরাসি নৃতাত্বিক সমাজবিদ ক্লদ লেভি স্ট্রস। কার্ল মার্ক্সের অনুসারী এই সমাজ বিজ্ঞানী বেঁচেছিলেন প্রায় ১০০ বছর। লেভি-স্ট্রসের ১৯৫৫ সালে লেখা অটোবায়োগ্রাফি “Tristes Tropiques.” বাংলা করলে দাঁড়ায় মন ভার করা বিষয়-আশয়’র একটা রিভিউতে ক্লদ লেভি স্ট্রস লিখেছেন “The world began without the human race and will certainly end without it,” …মনুষ্য প্রজাতি ব্যতিরেকেই বিশ্বজগত তার যাত্রা শুরু করেছিল, এবং নিশ্চিত ভাবেই তার সমাপ্তি ঘটবে এটা (মনুষ্য প্রজাতি) ছাড়াই।
আরও কিছু মন্তব্য এমন, “What else has man done except blithely break down billions of structures and reduce them to a state in which they are no longer capable of integration?” “কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে লক্ষ-কোটি কাঠামোকে ভেঙেচুড়ে পুনরায় একীভুতকরণের সম্ভাবনারহিত অবস্থায় নিয়ে আসা ছাড়া, আর কোন কাজটা মানুষ করেছে? ”
১৯৩৫ সালের দিকে ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন ক্লদ লেভি স্ট্রস। আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের শেকড়ের খোঁজে সে সময় আমাজনের গভীর অরণ্যে বেশ কয়েকটি নৃতাত্বিক অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত আমাজনের রেইন ফরেষ্টএ তিনি যে সব ভ্রমন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তা নিয়েই লিখা তার এই আত্মজীবনী। ‘বিশ্বজগতে মানুষ এমন কোন সুবিধাজনক অবস্থায় নাই, তার অস্তিত্বের কোন ধরনের উল্লেখযোগ্য চিহ্ন রেখে যাওয়া ব্যাতিরেকেই মানুষ একদিন দুনিয়া থেকে নির্মুল হয়ে যাবে… এই ছিল ক্লদ লেভি স্ট্রসের বিশ্ববীক্ষা।
দুনিয়া থেকে মানুষ নির্মুল হয়ে যাবে কিনা, এ আশঙ্কা সম্ভবতঃ নতুন কোন চিন্তা নয়। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে আনবিক বোমার ধ্বংশাত্মক ক্ষমতা আর তার পরে পরাশক্তি সমুহের ঠান্ডাস্নায়ুযুদ্ধের কালে এই বোধ বেশ তীব্র ভাবেই সামনে এসেছিল, মুর্খ মুঢ় মানব সন্তানেরা সত্যি সত্যি তাদের আত্মধ্বংশ ডেকে আনবে কিনা।
সামগ্রিক বিচারে এই আশঙ্কাও হয়তো চরম ছিল না, অন্ততঃ যুদ্ধ এলাকার বাইরের মানুষেরা ভাগ্যের কৃপা দাক্ষিণ্যে নিজদের নিরাপদ ভাবতে পারতো। অথবা শক্তিমত্তার ভারসাম্যে এগিয়ে থাকলে বিপদ এড়ানো গেলেও যেতে পারত। নির্মুল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক কোন পিছিয়ে থাকা জনপদ, মুছে যাক কোন শক্তিহীন দুর্বল জনগোষ্ঠীর নাম পৃথিবীর বুক থেকে। বিজয়ীদের জন্যই তো এ জগত সংসার, কে না জানে বীরভোগ্যা বসুন্ধরা।
দ্বিতীয় পর্ব – আসছে…1 Comment
It’s not how much you have but how much you enjoy that's makes happiness.
সৃষ্টি

সৃষ্টি
গল্পকার, চিত্রনাট্যকার ও ভিডিও সম্পাদক
ফিল্মমেকার
Friends
Poly Alam
@butterflywords
মামুনুর রশিদ
@mamun01722525933gmail-com
TANVIR MAHATAB AHMED KHAN
@tmaksolemn
Zakaria Ahmod
@zakariaahmod20gmail-com
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
সৌরভ রায়
@sourav_roy
Md. Arif Hossain
@arifhossain
মোঃ তালাল উদ্দিন
@talal3944


খুব গুরত্বপূর্ণ একটা বিষয় তুলে ধরেছেন! বৈশ্বিক উত্তাপ এখনি আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেছে! যুদ্ধের কু-ফল ভুগতে শুরু করেছে গোটা বিশ্ব! তবুও আমরা কতটুকু সচেতন হয়েছি! মৃত্যু নিশ্চিত, তাই সেটাকে সুনিশ্চিত করতেই উঠে-পড়ে লেগেছি!