Profile Photo

Md Joynul AbedhinOffline

  • J.A.Sagor
  • Profile picture of Md Joynul Abedhin

    Md Joynul Abedhin

    3 years, 8 months ago

    উপন্যাসঃ শারদ বিষুব
    পর্ব-১
    ঘুম থেকে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে চোখ কচলে কল পাড়ে গেল কেয়া। সকাল বেলা মেজাজ খারাপ হল। একটাই টয়লেট – ভাবী গিয়েছে মনে হয়। বেশি সকালে নারীরা ছাড়া কেউ ওঠে না। সকাল ৮ টার মধ্যেই সবাই বেড়িয়ে যাবে। কামরাঙ্গীড়গীর চরের বাসা, ভাড়া নয় নিজেদের কিন্তু দারিদ্র্য দাঁত চেপে বসে আছে এ বাড়িতে। সকাল বেলা একবার বাড়ির দিকে তাকিয়ে হতাশ হয় কেয়া। তিন তিনটা ভাই, ছোট দুই বোন, পক্ষাঘাতগ্রস্থ বাবা আর ডায়বেটিস রোগী মা, ভাবলে কেয়ার মাথা ঝম ঝম করে। সব খরচের খাতায়, আয়ের কোন পথ যেন জানা নেই কারো। বড় ভাই মিতুল রাজনীতি করে জীবন কাটিয়ে দিল বলা যায়, মেজ ভাই টুটুল ভবঘুরে ছোট তিতুল আকাবুকি করে বেড়ায়, মাথা ভর্তি দর্শন। কেয়া জানে বাড়িতে সে যতক্ষন আছে, এসব চিন্তা করে মাথা চিন চিন করবে একটু পরেই। ভাল লাগেনা। যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে বেরুতে হবে। বাসা থেকে না বেরুনো পর্যন্ত ভাল লাগবেনা। টয়লেট থেকে ভাবী বেরুলে কেয়া দ্রুত ঢুকে গেল। যেতে যেতে বললো- আজ কি রান্না হচ্ছে ভাবী?
    আর রান্না, শাঁক আর ডাল তবে তোর প্রিয় মাছ ভর্তা হবে।
    রুমে ফিরে কেয়া দেখল মোবাইলে ম্যাসেজ এসেছে। রুবেল ভাইয়ের ম্যাসেজ- কল দিও।
    রেডি হয়ে বাবার রুমে গেল কেয়া। আজ বেশ ক বছর ধরে বাবা বিছানায়। বাবার রুম এড়াতে চায় কেয়া কিন্তু মাঝে মাঝে ভীষণ মনে পড়ে । বাবার আদরের তুলনা হয়না, কি আদরই না করেছেন বাবা। নিজেকে মনে হত রাজকন্যা । বাবা বিছানা নেয়ার পর থেকে সেই যে ঘুর্নিপাক শুরু হল তা আর যেন থামছেই না, সংসার যেন দিন দিন তলিয়ে যাচ্ছে। বাবা চোখ বন্ধ করে আছে। তবু আছে তো, এই বা কম কি? অন্তত চোখের দেখা তো হচ্ছে। ক দিন পর এই দেখাও তো হবেনা। বাবার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে ইচ্ছে হল কেয়ার। কিন্তু নিজেকে বড় ঘেন্না হয়, তার অপবিত্র হাত দিয়ে বাবাকে স্পর্শ করতে চায়না সে। বাবার কপালের কাছে গিয়ে হাত কাপতে লাগল, কেয়ার চোখে পানি আসল। টপ টপ করে পানি গড়িয়ে গেল। এই বাবা- বুকে আগলে রাখতেন, পৃথিবীর কোন ঝড় ঝাপটা যাতে সন্তানকে সইতে না হয় তার জন্য কি চেষ্টা। সবার চেয়ে বড় মেয়ে কেয়াকে যে বেশি আদর করতেন তা বাড়ির সবাই জানে। এটা নিয়ে কেয়ার গর্বের শেষ ছিলনা। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কেয়া বাবার রুম থেকে বেড়িয়ে এল। রান্নাঘরে মা মাছ ভর্তা করছেন। বড় ভাবী ডাল চেখে দেখছেন।
    মা বললেন-আর একটু অপেক্ষা কর শাঁক হোক।
    নিজের প্লেটে ভাত নিতে নিতে কেয়া বললো- আমার হাতে সময় নেই মা।
    ভাবী বললেন- ফিরতে কি রাত হবে রে?
    -কেন বল তো ভাবী? নিউ মার্কেট যাবে নাকি?
    -কি যে বলিস? এমনি রাস্তায় কোথাও ফুচকা খেতাম, সারাদিনে ঐ টুকুই তো বিনোদন।
    -দেখি তবে। চেষ্টা করবো।
    -শোন, তোর ভাই বললো- জাফরের সাথে নাকি কাল দেখা হয়েছে।
    -বাব্বা, জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে বুঝি।
    -তাছাড়া আর কি, একটু সাবধানে থাকিস।
    -আমার আর ক্ষতি করবে? আর কিছু বাকি আছে বলে মনে হয়না।
    -তারপরেও
    -আচ্ছা।
    বাসা থেকে বেড়িয়ে লেগুনা স্ট্যান্ডের দিকে এগুচ্ছে কেয়া। ফাঁকা একটা জায়গায় দাড়িয়ে আগে রুবেল ভাইকে কল করা দরকার। প্রথম কল মিস হল। একটু অপেক্ষা করে আবার ফোন দিল কেয়া।
    -হ্যালো রুবেল ভাই।
    -হুম কেয়া, কই তুমি?
    -ভাই বাসা থেকে বেরুলাম
    -আচ্ছা শোন, প্রথম ক্লায়েন্ট ধানমন্ডির কিন্তু তিনি বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেছে। তুমি কি বাসায় যাবা?
    -রুবেল ভাই, বাসায় যাওয়ার ক্লায়েন্ট আমাকে না দেয়ার জন্য বলেছিলাম আপনাকে। এই কদিন আগেই কি কাণ্ডই না হল। এরপরেও কেন ভাই এসব আমাকে দেন।
    -আচ্ছা, কেয়া, তুমি তো সবই জান, ভাল ভাল ক্লায়েন্টরা নিজেদের বাসা ফাঁকা থাকলে বাসাতেই সার্ভিস নিতে পছন্দ করে, হোটেলে যেতে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা , এখন কি করবে বল?
    -লোকটা কেমন? জানেন?
    -আগে কখনো আমাদের সার্ভিস নেয়নি, অন লাইনে আমাদের খোঁজ পেয়েছে?
    -এ ধরণের ক্লায়েন্ট ঝামেলা করে রুবেল ভাই, প্লিজ আপনি অন্য কাউকে পাঠান, আমি পারবনা।
    -কিন্তু উনি তোমাকে পছন্দ করেছেন?
    -তাহলে আপনার ফ্ল্যাটে আসতে বলেন। দেখি কতখানি পছন্দ করে। এই বার দুই নম্বরে কে আছে সেটা বলেন।
    -দুই নম্বরে যে আছে, সে সময় দিয়েছে দুপুরের দিকে,১২ টার পর।
    -ওমা, এতক্ষন আমি তাহলে কি করবো?’’
    -তুমি চাইলে আমার ফ্ল্যাটে আসতে পারো।
    বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরত যাবার উপায় নেই। লেগুনা করে মোহাম্মদপুর সেখান থেকে কলাবাগানের ফ্ল্যাট। কোম্পানিঘাটে আসতেই জাফরকে দেখল কেয়া। আজ যে কেয়াকে এত নীচে নামতে হয়েছে তার জন্য যাকে দোষ দেয়া যায় সে জাফর। চায়ের কাপ হাতে সিগারেট ফুঁকছে। কেয়াকে দেখে দ্রুত এগিয়ে এল। কেয়া জানে জাফরকে এড়ানোর উপায় নেই।
    -কেমন আছো? জাফর পথ আগলে দাড়িয়ে আছে।
    -এই আছি আর কি? রাস্তা থেকে সরে এল কেয়া। জাফর কিছুক্ষণ কথা বলবেই।
    -কই যাও?
    -কাজে যাই?
    -ঐ লাইনে এখনও আছো?
    -তাছাড়া উপায়?
    -ও
    -আমি যাই, আমার হাতে সময় নেই। পা বাড়াতে চাইলো কেয়া। জাফর আবার পথ আগলে দাড়াল।
    -তোমাকে কিছু বলার আছে,কেয়া।
    -পরে সময় পেলে শুনবো,এখন যাই- বলে জাফরকে কাটিয়ে মোড়ের এক লেগুনায় গিয়ে বসল কেয়া। জাফর তাকিয়ে আছে, আজ কেন জানি জাফরকে শান্ত দেখাচ্ছে। শুকিয়ে গেছে অনেক। এক সময়ে তার ভালবাসার মানুষ যার জন্য জীবনের এত ক্ষতি করতেও বাঁধেনি। কিন্তু আজকের জাফর এত শান্ত কেন? জাফর কি বলতে চায়? আচ্ছা, রাগ করে নিজের এত বড় ক্ষতি করে ঠিক করলাম? জাফর যদি আবার ফিরিয়ে নিতে চায় সে পথ নিজেই তো বন্ধ করে রেখেছি। এই প্রথম বারের মত কেয়ার তোলপাড় শুরু হল।

    7
    2 Comments
Skip to toolbar