-
বিভ্রান্ত।
আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯ টার মধ্যেই ঘুম ভেংগে যায়।
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ১২ টা বাজে, এতো দেরি যে কেনো হলো বুঝতে পারছিনা। কাল রাতে কি দেরি করে ঘুমিয়েছিলাম, কই মনে পরছেনাতো, ঝিম মেরে বসে আছি বিছানাই আর চিন্তা করছি কেনো দেরি হলো, চিন্তা করতে আমার খুব ভালো লাগে, সবসময় কোনো না কোনো চিন্তাই ডুবে থাকি।
খুব মন দিয়ে চিন্তা করছি এমন সময় পেটটা মোচড় দিয়ে উঠলো, বুঝলাম খুব খিধে পেয়েছে। বালিশের পাশ থেকে মানিব্যাগ টা বের করে দেখি মাত্র ১৭ টাকা আছে, মনে মনে হিসাব করতে লাগলাম, একটা লাড্ডু ৫ টাকা, একগ্লাস পানি২ টাকা, একটা চা, ৫ টাকা, আর একটা সিগারেট। বাহ একদম কাটাই কাটাই ১৭ টাকা হয়েছে, কিন্তু আজ যদি সব টাকা শেষ হয়ে যায় কাল কি খাবো। ধুরো এত চিন্তা করে লাভ আছে, আজকের টা হোক তারপর কালকের ব্যাবস্থা করা যাবে, নিজেই নিজেকে বোঝালাম। যেভাবে পেট মোচড় দিচ্ছে বেশি দেরি করা যাবেনা, কোনোরকম মুখ ধুয়ে নিচে চলে এলাম, দুলাল মামুর চায়ের দোকানে। মামুকে ঝটপট চা বানাতে বলে, দোকানের সামনে ঝোলানো পলিথিন থেকে একটা লাড্ডু নিয়ে চিবুতে লাগলাম, লাড্ডু টা কেমন যেনো চিমসে মেরে গেছে, খেয়ে মজা পাচ্ছিনা, কিন্তু কি আর করা পকেটে আর টাকাও নেই যে অন্য কিছু খাবো। বাসি লাড্ডুটা চিবুতে চিবুতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি হঠাৎ একটা দৃশ্য চোখে পরলো, একটি ১৪-১৫ বছরের স্কুলের বালিকা, দুই পাশে করা বেণি দোলাতে দোলাতে হেটে চলেছে আর একটু পর পর পেছনে তাকিয়ে হাসছে। হাসিটা আমার চেনা, এই বয়সের বালিকারা যখন প্রেমে পরে তখন এমন করে হাসি দেই, এই হাসির মধ্যে একধরনের পবিত্রতা আছে।
বালিকাটির হাসি আমার কাছে খুব ভালো লাগলো, এমন পবিত্র হাসি, চারুলতার মুখে দেখা যায় প্রাই সময়, বিশেষ করে যখন সে আমার সাথে দেখা করতে আসে, এই মেয়েটি আমাকে খুব ভালোবাসে, বুঝতে পারি। আমিও হয়তো একটু একটু বাসি কিন্তু কখোনো প্রকাশ করিনা, আমার দারা চারুলতার মতো মেয়েকে কখোনো খুশি রাখা সম্ভব না।
সেই বালিকার দৃষ্টি অনুসরণ করে পেছনে তাকাতেই বুঝতে পারলাম মেয়েটি কেনো হাসছিলো, রোগা,পাতলা একটি লম্বা ছেলে, খুব সম্ভবত সে, সেই বালিকার স্কুলেই পরে, তাদের গায়ে একই ধরনের পোশাক দেখা যাচ্ছে।
তাদের এমন প্রেমময় মুহুর্ত দেখছি হঠাৎ মাথায় শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেলো, অনেকদিন পর কাওকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পেয়েছি। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আমার খুব ভালো লাগে।
লাড্ডু টা তাড়াতাড়ি শেষ করে, উঠে দাড়ালাম মাথায় সব সাজিয়ে নিয়েছি।
গুটি গুটি পায়ে হেটে হেটে বালিকার পাশে গিয়ে তার সাথে তাল মিলিয়ে হাটতে লাগলাম।
তুমি কিন্তু অনেক সুন্দর, কত সুন্দর করে বেণি দুলিয়ে হাটছো, তোমার বেণি দুলানো দেখে আমি কেমন যেনো ঘোরের মধ্যে পরে গেছি, একবারে কথা গুলো বলে চুপ করে গেলাম, এখন বালিকার রিয়েকশন দেখার পালা। চোখে মুখে একরাশ বিরক্তি ফুটে উঠলো বালিকার, তারপর সেই কমন ডায়লোগ টি ঝেড়ে দিলো, আপনি কি আমাকে চিনেন, হুদাই আইসা বকবক করতাসেন, ফাউল লোক কোথাকার, নিজের বয়স দেখেছেন,যত্তসব। মনটা খুশিতে ভরে উঠলো, যাক তাকে রাগাতে পেরেছি, এবার তাকে একয়া বড়সড় ধাক্কা দিতে হবে, এমন ধাক্কা যাতে তার চোখমুখ দেখার মত হয়ে যায়। মুখের মধ্যে কিছুটা গম্ভির ভাব এনে, খুব সিরিয়াস ভংগিতে বললাম, তুমি যে রাস্তায় দাড়িতে দাঁড়িয়ে প্রেম করছো, তোমার বাবা, জানে, আর যে ছেলেটির সাথে লাইন মারছো সে কে জানো, জানো বলো? এরকম ভাবে কথা বলায় বালিকা একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে, ভয়ে ভয়ে বললো না ভাইয়া, আসলে ওই ছেলেটা আমাদের স্কুলে পড়ে, প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর সে আমার পিছে পিছে আসে। আমি বালিকার কথা কেড়ে নিয়ে বললাম তোমার পিছে পিছে আসে বলে তুমিও লাইন মারা শুরু করে দিলে বাহ বাহ খুব ভালো। এবার মেয়েটি একটু জোরের সাথে বললো কিন্তু আপনি কে ওকে চিনেন। চিনেন মানে আমার একমাত্র আপন ভাই ও, আজ বাসায় আসুক তারপর ওর মজা দেখাচ্ছি, আর তোমার বাসায় জানানোর ব্যাবস্থা করছি থামো, এটুকু বলেই সোজা হাটা ধরলাম, মেয়েটি খুব ভালোভাবেই বিভ্রান্ত হয়েছে, কেমন যেনো উদিগ্ন সরে পেছন থেকে বলেই যাচ্ছে, ভাইয়া শোনেন, প্লিজ আমার ভাসায় বলবেননা, প্লিজ আমাকে মেরেই ফেলবে। বালিকাটির জন্য মায়া লাগছে আহারে বেচারি, হয়তো আর কোনোদিন সেই ছেলেটির দিকে ঘুরেও তাকাবেনা, আর বেচারা ছেলেটিও হয়তো জানতে পারবেনা কেনো সেই মেয়ে তারে আর পাত্তা দিচ্ছেনা। এসব চিন্তা করেই মনটা আনন্দে ভরে উঠলো, অনেকদিন পর কাওকে বিভ্রান্ত করে কেমন যেনো পৈচাশিক আনন্দ পাচ্ছিলাম।
আজকে সারাদিন হাটবো, হাটতে খুব ইচ্ছে করছে, দেখি আবার কাওকে বিভ্রান্ত করতে পারি কিনা।
লেখাঃ উসমান।4 Comments
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Prithula Zaman
@prithula
Shaikh-Mohidul-Islam
@shaikh-mohidul-islam
Md Tashnim Rahman
@wire-taseen
Reza e Rabbi
@rabbi121
Mesbah-Ahmed
@mesbah-ahmed
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah


হিমুর কথা মনে পড়ে গেল!
মজার গল্প তবে বানানের দিকে খেয়াল রেখেন লেখকবন্ধু। শুভেচ্ছা নেবেন!