-
[আগের বার পোস্ট করা লেখাটি এডিট করতে গিয়ে ভুলক্রমে ডিলিট হয়ে যায়। তাই আবার পোস্ট করছি। যাঁরা আগের বার কমেন্ট এবং লাইক দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা !]
আবু আহসানের ২ টা কবিতা নিয়ে কিছু আলাপ।
*****************************আদাবেন ত্রাতালি একবার আবু মুস্তাফিজ হাসানের কবিতার বই “মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার” নিয়ে সুন্দর আলোচনা করছিলেন। আরও নানা বিষয়ের সাথে সাথে কবিতায় দৈনন্দিন মুখের ভাষার ব্যবহার আর নিরাভরণতা (অর্থাৎ, কবিতায় প্রচলিত অলংকার থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টা) নিয়ে আলাপ করছিলেন মনে পড়ে। ত্রাতালির ঐ লেখাটা পড়ার সময় থেকেই মনে হতেছিল যে ঐ আলোচনার পাশাপাশি আবু আহসান (মিশু)-ইনার কবিতাগুলি পাশে রেখে আরো এক দফা আলোচনা এগিয়ে নাওয়া যায়।
মুস্তাফিজ হাসান আর আবু আহসান – এই দুইজনের কবিতা শেষপর্যন্ত দুইরকম হলেও, কোনো একটা দিক দিয়ে তারা যেন কিছু কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, আবার, এইরকম সাবলীল, সুপ্রচলিত , মুখের কথার ভাষায় রচিত কবিতা আশেপাশে খুব কম-ই পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
দুজনের কবিতাতে যেই জিনিসগুলি প্রথমেই চোখে পড়ে সেগুলি হয়ত এইভাবে লিপিবদ্ধ করা যায়:
১) ভণিতা-হীনতা। ভণিতা খারাপ জিনিস নয়। বাংলা কবিতায় যুগ যুগ ধরে ভণিতা চলে আসছে। ভণিতা নামে আলাদা এক অংশই নিবেদিত ছিল কাব্য রচণা কালে। অনেকে এমনও হয়ত ভাবেন যে সাহিত্য হতে হলে কিছু ভণিতা থাকতেই হবে। পাঠক/পাঠিকারা কবিতা পড়ার সময় সেইসব ভণিতা বা ভাণ মেনেও নেন। উদাহরণ, কবিতার ক্ষেত্রে যদি আমি বলি ‘সাধ হয় চলে যাই বহুদূর’ – এখানে আমি মুখের ভাষাকে ইচ্ছা করে যেন একটু বদলে দিলাম একটা কাব্যিক আবহ আনার জন্যে। কিন্তু এই একই বাক্য আমরা সত্যিকার অর্থে কিভাবে উচ্চারণ করব? আমরা বলব “অনেকদুর চলে যাওয়ার ইচ্ছা করতেসে”। এটাকেই আপাতত বলতে চাচ্ছি ভণিতা থাকা আর না থাকা। আলোচ্য কবিদের কবিতায় এই প্রচলিত কিংবা স্বীকৃত ‘ভান’-গুলা নাই।
গত শতকের সত্তর কিংবা আশির দশক, এমনকি কেউ কেউ বলবেন পঞ্চাশের দশক থেকেই , বাংলা কবিদের অনেকে ভণিতা বা ‘কাব্য ভাষা’ বাদ দেবার চেষ্টা করে আসতেছেন। কবিতার জন্য মুখের ভাষাকে একটুখানি ঘুরিয়ে দিব, পেঁচিয়ে দিব, এক শব্দকে আরেক শব্দের আগে বা পরে বসিয়ে দিয়ে একটু কাব্যের দোলা দিব – একটা উদাসীন আবহ নিয়ে আসব – এই বিষয়গুলি অনেক হয়েছে। এখান থেকে যেন মুক্তি চেয়েছে অনেক কবি কিংবা পাঠক। এখন যেন নতুন ঝকঝকে এক ঝাঁক লেখা চাই আমরা, যেখানে কোনো ভান নাই। আমাদের মুখের কথার মতো কথা থাকবে। যেন গদ্য ভাষার মতো কথা।
২) অনেক অপ্রচলিত শব্দ, যেগুলি আমরা গদ্যে কিংবা মুখের ভাষায় ব্যবহার করি না, অথচ কবিতায় করে থাকি – সেরকম শব্দগুলি একেবারে এড়িয়ে চলা। যেমন ‘করেছিনু’, ‘খেয়েছিনু’, ‘সাধ’ (ইচ্ছা না বলে সাধ বলা), ‘রাত্রি’ (রাত না বলে রাত্রি বলা) – এই ধরণের কাব্যিক শব্দ ইনারা দুজনেই এড়িয়ে গেছেন।
৩) বাংলা কবিতায় অপ্রচলিত, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত সুপ্রচলিত অনেক শব্দ কবিতায় নির্দ্বিধায় নিয়ে আসছেন ইনারা। এই সাহস কিন্তু এখনকার অনেক কবিও করে থাকেন না। ফলে উনাদের ভাষা অত্যন্ত সহজ আর আরাম লাগে পড়তে। (শব্দগুলি পরে উল্লেখ করব)
৪) কবিতার বিষয়-বস্তুতে প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা ইত্যাদি পুরনো প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে অভিনব নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসা। যেমন আবু মুস্তাফিজ – উনার একটা লেখায় দেখলাম পদ্মা ব্রিজের উপর কবি একজন পুলিশকে ইলিশ মাছ খাওয়ার জন্য আহবান করতেছেন। আবার আবু আহসানের কবিতায় মিরপুর বাধ, আশুলিয়া ব্রিজে বন্যা, আরিচাগামী বাস, রিহ্যাব সেন্টার – এইসব প্রসঙ্গ আসতেছে।
অথচ এত এত পরিবর্তন আনার পরেও – উনাদের কবিতাকে কিন্তু কেউ ‘কবিতা হয় নাই’ – এমন বলতে পারবেন না। আমরা পাঠকেরা আমাদের ইনস্টিংক্ট থেকেই বুঝতে পারি যে – এগুলি কবিতা।
কবি আবু সুস্তাফিজের বইয়ের উপরে আদাবেন ত্রাতালির লেখাটা এই মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও। তাই আবু আহসানের কবিতা নিয়েই অগ্রসর হই। প্রথমেই একটি কবিতা, যার শিরোনাম “যে রোগের কথা বলব না” ।
.
যে রোগের কথা বলব না
—————————
বিকেল নয়।
চাতকের ডানায় স্বল্পরাত নামে
শহরের অলক্ষ্যে উঠে আসে সরু চাঁদ
এই জোৎস্না রাত্রি হাওয়ায়, উন্মুক্ত
আমার শরীরে অসংখ্য গোপন রোগ
লকলক তারার মতো
ফুটে আছে অন্ধকার আভায়
তবুও যেন বলছে আমাকে,
কত ভাল মানুষের চোখ হতে
দূরে, দূরে থাকা।
সাদা সাদা দিনে এদেরকে ঢেকে রেখেছি
কালো কাপড়ের ওভারকোটে
ঘেন্নায় চোখ হতে দূরে
হাত পেতে থাকা আলোর অলক্ষ্যে
গোপনে আমার গোপন রোগ
লাজুকভাবে লেপটে আছে
আমার শরীরের সাথেই,
যার সাথে এমন নিবিড় সহবাস
ওগো রোগ প্রিয়তম তুমি
তোমাকে ঝেড়ে ফেলা যাবে?_ _ _
পঞ্চম লাইনে এসে অভাবনীয় ভাবে, হঠাৎ করে, এক লহমায় প্রকাশ পেল “আমার শরীরে অসংখ্য গোপন রোগ”।
নাগরিক একটা ভাবনা যেন। আমাদের অনেকের মাঝেই নানা রোগ , নানা অস্বাভাবিকতা নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াই। হয়ত শারিরীক, হয়ত মানসিক, যেগুলি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আপন। যেগুলি নিয়ে আমরা বিপর্যস্ত থাকি, অথচ খুব কাছের মানুষকেও প্রকাশ করি না। এক লহমায় আমাদের এই গোপন অসহায়ত্ব কত অবলীলায় কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়ে গেছে। খুব ন্যাচারাল ভাবে, যেমনভাবে একটা ফুল নীরবে প্রকাশ পায় – সেইভাবে এই বাক্য কবিতার মধ্যে প্রকাশ পেল।
এই গোপন রোগগুলি নিয়ে কবি কিন্তু কিছুটা রোমান্টিসিজমেও আচ্ছন্ন আছে। এই রোগগুলি লকলকে ‘তারার’ মতো, নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকে অন্ধকার আভায়। রোগগুলি লাজুকভাবে লেপটে থাকে শরীরের সাথে। অর্থাৎ রোগগুলি কিন্তু কবির কাছে, আমাদের কাছে, খুব প্রেমময়-ও বটে। আমরা তাদের পারি না এড়াতে। এই রোগগুলি আমরা ঢেকে রাখি কালো ওভারকোটে, মানুষের চোখে পড়তে দেই না। মনে পড়ে সুনীলের একটা কবিতায় একবার একটা ফোঁড়ার কথা এসেছিল, যা আমরা জামায় ঢেকে রাখি আর পরম মমতায় মাঝে মাঝে হাত দিয়ে দেখি।
অদ্ভূত এক বিষয়, অথচ বিশ্বাস না করে উপায় নেই। আবার, শেষপর্যন্ত এসে এই অনুধাবন হয় যে, মানুষ, ব্যক্তিগতভাবে, খুব লাজুক এবং একাকী, তারা তাদের রোগ নিয়ে অন্যের সামনে পড়তে চায় না। মাঝে মাঝে এই রোগই যেন আরও বেশি রকমের প্রিয়। সমাজের ভালো মানুষেদের থেকে। ভালো মানুষেদের চোখে আমরা পড়তে চাই না। “তবুও যেন বলছে আমাকে, / কত ভাল মানুষের চোখ হতে / দূরে, দূরে থাকা।”
একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এখানে প্রচলিত বাংলা কবিতার কোনো ছন্দের দোলা নাই। কোনো অস্বাভাবিক ‘আর্টিসটিক’ ধরণের শব্দ কিংবা এক্সপ্রেশন নাই। বরং কবিতার প্রয়োজনে লেখক দু একটা নিজের মতো শব্দবনন্ধ তৈরী করলেন আর অবলীলায় ব্যবহার করে ফেললেন কোনো রকমের অস্বাভাবিকতার জন্ম না দিয়ে। আমরা হোঁচট খাই না। এমন একটা শব্দ, “স্বল্পরাত” ।
আরেকটা কবিতা, “শহরের ল্যাপপোস্টে পাকা কাঁকরোল”
.
শহরের ল্যাপপোস্টে পাকা কাঁকরোল
—————————————-
ইকবাল রোডের দুই সারি বাড়ীর ফাঁকে
কয়েকটা পাকা কাঁকরোল ঝুলে থাকে ইলেকট্রিকের তারে
ভাবি : ওরা কি জ্বলে উঠবে ইলেকট্রন ফিলামেন্টে?অথচ কিই বা প্রয়োজন এই নগন্য গাছের!
প্রয়োজন ইলেকট্রিক তারের
কোটি কোটি ইলেকট্রন সাভার-সদরঘাট ছুটোছুটি করবে
মস্ত মস্ত আলো জ্বালাবার কাজ সব পড়ে আছে ।
তবুও – সাদা কাগজের নিষ্প্রাণ দিনে
কাঁকরোল গাছ এত সখ্যতায় ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে থাকে
এ শহরেই !পাকা কাকরোলগুলো কি জ্বলে উঠবে?
ক্লোরোফিল বাকলে ইলেকট্রন উৎসাহে
ওরা কি জ্বলে উঠবে?হয়তো – না দেখা সন্ধ্যায় কয়েকটা কাঁকরোল জ্বলে ওঠে।
হয়তো – শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয়
শুধুই পাকা কাঁকরোল।_ _ _
প্রথমেই বলতে হয়, এই যে ‘ল্যাম্পপোস্ট’ শব্দটা নিয়ে। এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব সাধারণ একটা উপকরণ, অথচ বাংলা কবিতায় কিন্তু এ ধরণের শব্দ সচরাচর আসে না।
শহরের ল্যাম্পোস্টে পাকা কাঁকরোল ঝুলে আছে – এই দৃশ্যটাও খুব পরিচিত, কিন্তু অবলীলায় কবিতার মধ্যে এভাবে নিয়ে আসতে পেরেছেন কয় জন?
লেখক বলতেছেন যে এটা খুব নগন্য একটা ঘটনা , অন্তত সাভার -সদরঘাটে প্রতিদিন যে কোটি কোটি ইলেকট্রন ছুটাছুটি করছে (আমাদের আধুনিক যান্ত্রিক জীবনের প্রয়োজনে) – সেই তুলনায় একটা পাকা কাঁকরোল গাছ যে ইলেকট্রিকের তারে জড়িয়ে আছে – এই ঘটোনা অতি নগন্য একটা বিষয় । অথচ তারপরেও এই ঘটনাটি বর্তমান আছে। আবার এই ঘটনাটি লেখকের, (তথা মানুষের) দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিচ্ছে।লেখক আবার খুব রূপকথাময় অবাস্তবতাকেও ধারণ করেছেন, অথবা প্রকাশ করেছেন। আমরা যখন দেখি না, তখন সন্ধ্যাবেলায় “হয়তো – না দেখা সন্ধ্যায় কয়েকটা কাঁকরোল জ্বলে ওঠে”। বাস্তবতাকে অতিক্রম করে যাওয়াটা লেখাটাকে কবিতা করে তোলে।
একটা সাহিত্য সুলভ অতিশয়োক্তি (অর্থাৎ, ‘অতিশয় উক্তি’ বা ইচ্ছাকৃতভাবে একটু বাড়িয়ে বলা) উনার এই লেখায় আছে। “হয়তো – শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয় / শুধুই পাকা কাঁকরোল।” যেন, পাকা কাকরোলে ভরে উঠেছে শহরের সব ল্যাম্পপোস্ট। শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে বাল্ব না, শুধুই পাকা কাকরোলে ভরে আছে আমাদের পুরা শহর।
আগের কবিদের থেকে একটা মজার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। শহীদ কাদরী অথবা শামসুর রহমানের অতিশয়োক্তির পাশাপাশি যদি আমরা এই অতিশয়োক্তিটাকে পাশে রেখে দেখি তাইলে বলতে হবে শামসুর আর কাদরীর অতিশয়োক্তির পিছনে একটা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বা ক্লাইম্যাক্স ছিল। কিভাবে?
“আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার” (জেমসের গাওয়া শামসুর রাহমানের রচনা থেকে)
“ভয় নেই / আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী / গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে / মার্চপাস্ট করে চলে যাবে / এবং স্যালুট করবে / কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।” (শহীদ কাদরীর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’)
দুটা ক্ষেত্রেই অতিশয়োক্তি দিয়ে প্রিয়তমার কাছে ভালোবাসার তীব্রতা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে অতিশয়োক্তির একটা লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে, একটা ক্লাইম্যাক্স আছে।
অথচ “শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয় / শুধুই পাকা কাঁকরোল।” – এখানে অতিশয়োক্তি এসেছে , কিন্তু কোনো ক্লাইম্যাক্স নাই। কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নাই, কেবলমাত্র কবির নিজের একটা খায়েশ, একটা লক্ষ্যহীন কল্পনা, যেটা পাঠকের মনেও ছড়িয়ে যায়।
এই যে এন্টি-ক্লাইম্যাক্স বা উদ্দেশ্যহীনতা, এটা যেন নগর-বাসী আমাদের আধুনিক বিষন্নতার সাথে, এবসার্ড ভাবনা বা সত্ত্বার সাথে মিলে মিশে যায়। উদ্দেশ্যহীনতা। যেমনভাবে এলিয়ট উনার ‘লাভ সং অফ জে আলফ্রেড প্রুদ্রক’ কবিতায় দেখছিলেন, বিষণ্ণ সন্ধ্যাবেলায় নগরের বয়ষ্ক মানুষেরা জানালা থেকে কোনো কারণ ছাড়া রাস্তার দিকে ঝুকে ঝুকে আছেন।
কবি জনাব আবু মুস্তাফিজের কিছু কবিতা অথবা, উনার উপরে লেখাটা শেয়ার করতে পারলে ভালো লাগত। তবে আপাতত এতটুকুই।
এই কথাগুলি বললাম বাংলা সাহিত্যে নতুন ধরণের কবিতার সন্ধান লাভের আশায়। এই কবিতাগুলি থেকে কি কোনোরকমের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে? পাঠক/পাঠিকা সেটা বলবেন। ধন্যবাদ।
— — —
[@adabentatali এবং @sharbanam-gupta, এই লেখাটা দেইখেন। আপনারা কিংবা অন্য কেউ যে কোনো মতামত দিতে চাইলে অবশ্যই স্বাগত! ]
14 Comments-
-
বাল্বের বদলে শুধু পাকা কাঁকরোল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন না হতেও পারে। হয়ত কেউ ভাবতে পারে, নগর যা যা হঠিয়ে নগর হয়ে উঠেছে, তার অনুষংগ ( প্রকৃতি) ভূতের মত ফিরে এসেছে?
আবু আহসানের গদ্যস্বভাব আমাদেরকে সমর সেনের কবিতা স্মরণ করাচ্ছে।
অলসো, ল্যাম্পপোস্ট শব্দটা কি সত্যিই দুর্লভ? … জীবনানন্দেই হয়ত পাব আমরা খোঁজ করলে।
-
ভালো বলছেন আদাবেন তাতালি। হ্যাঁ – কবিতাটিতে কাঁকরোলের উল্লেখ উদ্দেশ্যহীন না-ও হতে পারে। আপনি, কবিতাটিতে নগর বনাম প্রকৃতি – এই বিষয়ের সম্ভাবনা নিয়ে যা বলছেন, তা অতি মধুর – এবং এটা থাকতেই পারে। যথার্থই চিহ্নিত করসেন।
আমি যেই ইন্টারপ্রিটেশন করে গেলাম তা একরৈখিক। কেবলমাত্রই আলোচনার সুবিধার জন্যে। পাঠক মাত্রই নিজের মতো করে বুঝে নিতে পারেন। আলাদাভাবে ডালপালা ছড়াতে পারেন। কবিতার মজাই তো এটা।
‘ল্যাম্পপোস্ট’ নিয়ে খারাপ বলেন নাই। বাংলা কবিতায় খুব বেশি বিরল না হলেও, খুব একটা প্রচলিত শব্দ – তেমন বলা যাবে না। জীবনানন্দে পাওয়া যেতে পারে, তারপর পঞ্চাশ থেকে শুরু করে পরের কবিদের কবিতায় পাওয়া যেতে পারে। (সুনীল, শামসুর, কাদরী যেমন এইসব শব্দ ব্যবহারের দিকে আলাদা একটা প্রবণতা দেখাইছেন) । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ওভার-অল ভাবে, আমি বলব, এখনও , এই বর্তমানে, নিজের লেখা একটা কবিতায় ‘ল্যাম্পপোস্ট’ ধরণের শব্দ ব্যবহারের সাহসই বা কতজনের আছে।
‘সাহস’ বলতেসি, কারণ, আমরা অনেকে যখন কবিতা লিখি, একটা পূর্বনির্ধারিত টেক্সট-স্ট্রিমের দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে কবিতা লিখি। আমরা ভাবি – এই এই শব্দ কাব্যিক, এই এই শব্দ কাব্যিক না। ফলে ‘কাব্যিক’ শব্দের বাইরে গিয়ে কবিতা লেখাটা সহজ হয় না অনেকের পক্ষেই। ‘ল্যাম্পপোস্ট’ শব্দটা, আমি বলব, আমাদের ‘কাব্যিক’ শব্দ ভাণ্ডারের মধ্যে নাই। ফলে, এর ব্যবহার করতে গেলে সাহস লাগে।
সমর সেনের উল্লেখ অনেক কৌতূহল জাগাতেছে। সময় সুযোগ মতো আপনি কিছু উদাহরণ দিলে ভালো লাগবে খুব। আবারও ধন্যবাদ আপনের বিস্তারিত মন্তব্যের জন্যে !
-
এমনকি বাংলাদেশে, আবার ধরা যাক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরা বা অন্যন্য রাজ্যে যত বাংলা কবিতা লেখা হচ্ছে, নানারকম আবেশ, বা দর্শণ ফলো করে, তাদের মধ্যেও, আমি বলব ৮৫ ভাগের উপরে কবিতায় আপনি ল্যাম্পপোস্ট ধরণের ‘দৈনন্দিন’ শব্দ পাবেন না সহজে। ‘কাব্যিক আবেশ’ সরিয়ে দিয়ে নতুন নতুন আবেশ আসছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগের মধ্যেই ল্যাম্পপোস্টের মতো “দৈনন্দিন বাস্তব উপকরণের নাম” ব্যবহারের সুযোগ, উপায় কিংবা স্টাইল-টি নেই।
-
-
Friends
Foyzur Khan
@foyzur-khan
নাদিরা মোস্তারী শিখা
@nadiramostarishikha
Md Ramjan Ali
@mdramjanali
সালমান সাদিক
@salmansadique
TOUHIDUL ISLAM
@touhidulislam
Rajib M Sarker
@sarkerr-rrajiv
তুবা
@zariyaat
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম
@shiyam
Prasun Kumar Dey
@prasunkumardey



দারুণ