-
বুড়ো
অরন্য হিল্লোলআক্ষেপ অভিমানে দিন পার করে দাদু
নাতিকেও আর দেখায় না তাহার ডান হাতের জাদু
রাগ করিয়া বন্ধ করে নাতির সাথে আদুরে খেলাধুলা
দুঃখে এই মন সইতে পারে না ছেলেদের অবহেলা।
নাতি বলে – “দাদু, কেন বন্ধ করিয়াছ সব আদরের দুয়ার
তোমার জন্য করিতে পারি এ বাড়ির সব কিছু ছারখার,
একবার শুধু বলিয়া দ্যাখো কে দিয়াছে তোমায় বকা
বুঝিতে কি পারেনি সে এখনো সে যে কত বড় বোকা
শুধু সাহস করিয়া বল প্লিজ দাদু তার নামখানি একবার
উঠতে বসতে সইতে হইবে তাকে জ্বালা শত সহস্রবার
সে কি জানে আমার দাদু হাজারো তপস্যাতেও মেলে না
সে কি দেখিয়াছে আমার দাদু কাহাকেও কষ্ট দিতে জানে না।
এইবারে চোখ মোছ দাদু আর তুমি কষ্টে ক্রন্দন করিয় না
তোমার দুখে ভাসিয়া যায় মোর তোমারে লইয়া স্বপ্নের আলপনা
বল দেখি এইবার কে দিয়াছে তোমায় কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা
দেখাব তাহারে এইবারে হাড়ে হাড়ে কত ধানে কত মিঠা
দাদু কহে ক্রন্দনের সুরে – “দুখের কথা কি আর বলিব হায়,
ছেলেপিলেরা বুঝি হইলো না মানুষ, কষ্টে মোর বুক ফাটিয়া যায়
বলিলাম মেজ ছেলেকে বাজার হইতে ইলিশ মাছ কিনিতে
ত্রিশ বছর আগের ইলিশের দোপিয়াজার স্বাদ পারি কি ভুলিতে
মেজ কে রান্না করে খাইয়েছে ইলিশ তোর দাদি ছোট্ট বেলাতে
কি করিয়া ভুলিয়া যায় তোর মেজ কাকু সেই সবের ইতিহাস
বলে কিনা মোরে ইলিশের মেলা দাম, করে শুধুই মোরে পরিহাস
বলি আমি কি এতই হয়ে গেছি বুড়ো, , , , ,
সবাই শুধু মোরে নিয়ে করে রঙ্গ নাটক
ছোট ছেলেকে বলিলাম ডাকিয়া আনিতে চৌরঙ্গী লেনের ঘটক
তোর ছোট ফুপি করিয়াছে অনার্স পাস দিতে হইবে তাহার বিয়ে
বলে কিনা মেয়েরা এখন নিজেরাই করে প্রেম থাকে তাহাই নিয়ে
ছোট ফুপির বিয়েতে লাগিবে না কোন ঘটক সে একাই একশো
আছে তাহার পছন্দের পাত্র, ঘটক ডাকিলে লোকে করিবে হাস্য
বলি আমি কি এতই হয়ে গেছি বুড়ো, , , , ,
সবাই শুধুই মোরে নিয়ে করে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আর হেলা
তোর বাবাকে বলিয়াছিলাম বুক ব্যাথায় খেতে পাইনি সারাবেলা
অফিস হইতে ফিরিবার পথে আনিতে বলিলাম ঔষধপথ্য
ঔষধ তো সে আনিলই না উল্টে দিল বকা যাহা ছিল অকথ্যঅথচ , , , , , , , , , , , , , , , , !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
কি আর বলিব দুঃখের কথা দাদুভাই , , , , , , !!!!!!!!!!!!
তোর বাবা যখন ছিল বাচ্চা শিশু, আমি যদি না আনিতাম ঔষধ
ডাক্তার পারিত না বাঁচাইতে, আজরাইল তাহাকে করিত বধ
খোদা তালার দরবারে কেঁদে ব্যাকুল মনে তুলিয়াছিলাম দু হাত
তাহারই অদৃশ্য ইশারায় বড় ছেলে দেখিয়াছিল প্রথম প্রভাত
তোর মেজ কাকু যাহা চাইয়াছে, খেয়ে না খেয়ে আনিয়াছি আমি
বুড়ো হয়েছি বলে কি এখন সে করে মোর সাথে শত পাগলামি
তোর ছোট কাকু আর ফুপিকে দিয়াছিলাম ঈদের পোশাক কিনে
তাহারাই এখন করে মোরে তিরস্কার, প্রতি পদে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।বলি আমি কি এতই হয়ে গেছি বুড়ো, , , , ,
নাতি সব শুনে হেসে বলে এবার – “এটাই কি তবে তোমার দুঃখ
জেনে রেখ আমি বাঁচিয়া থাকিতে হইতে হইবে না তোমায় রুক্ষ,
বাবা, বড়, মেজ এবং ছোট কাকু আর ফুপি সবাই দেবে সম্মান
আমায় করিও ভরসা,আর এক বিন্দুও হইবেনা তোমার অপমান।
শুধু দুয়া করো বিধাতার কাছে যেন বড় হই খুবই তাড়াতাড়ি
বড় হইয়া যে করিব তোমার মুখ উজ্জ্বল, থাকিবে না খবরদারী
তোমার জন্য আমিই আনিব ওষুধ পথ্য, আনিব ইলিশ মাছ
আনিব রুই কাতলা আর গরুর মাংস, থাকিবে না কোন বাছ
নাতির কথা শুনিয়া দাদু অঝোরে কাঁদিয়া আবারও দু হাত তুলে
মুনাজাতে বলে – “হে আল্লাহ, আজি সব দুঃখ গিয়েছি ভুলে,
নাতিকে করো তুমি দির্ঘজীবী, দাও তাহাকে শ্রেষ্ঠ যোগ্য সম্মান
আমার কুলাঙ্গার পুত্র আর কন্যেদের দাও উচিৎ অপমান।
যেই কাজ কোনদিন করেনি মোর পুত্রেরা, দিয়াছে শুধুই আঘাত
নাতীকেই করো তাহাদের জন্য যোগ্য শাস্তি, পায় যেন প্রতিঘাত
এক দিন হয়তো থাকিবে না মোর জীবন এই রঙিন দুনিয়ায়
মরিবার পুর্বেই তোমার নিকটে জানাই মোর এই অভিপ্রায়।2 Comments
Friends
Dreamgirl mukta
@mukta13
Cr-Abdullah
@cr-abdullah
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
Rokail Diluk
@diluk
Rashedul Hasan
@rashedul-hasan
Anup Dey
@anup-dey
Anika
@anikaa
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
ডা মো ফরিদ-উজ-জামান খান
@drfaridtgl



কবিতাটি অনেক সুন্দর ও মর্মস্পর্শী । নিঃসঙ্গ প্রবীন জোনাকির মূল্য অধিকাংশ ই দিতে জানে না।