Profile Photo

Md. Mynuddin HawladerOffline

  • mynuddin
  • Profile picture of Md. Mynuddin Hawlader

    Md. Mynuddin Hawlader

    3 years, 8 months ago

    ক্ষনিকা (গল্পের অংশ বিশেষ)
    মো: মাঈনউদ্দিন।
    <——– পর
    বাড়ির উঠনে যে পায়ের আওয়াজ গুলি কচি কোমল ছিল আজ তার আওয়াজ অনেক ভারি অনেক গম্ভির হইয়া উঠিয়াছে। যে গাছপালা সজিব ও নবীন ছিল তাহারা আজ গেরুয়া ও ঝরোয়া হইয়া উঠিয়াছে। যে দিঘির জল নিটোল ও ঘোলাটে ছিল তাহা আজ স্বচ্ছ ও টলটলে হইয়া উঠিয়াছে। ওদের আগমনে বাড়ির আকাশ বাতাস ও প্রকৃতির মাঝে অন্যরকম একটা উচ্ছাস বিরাজ করিতেছে। কিন্তু বাড়ির সিমানায় যে তালগাছটি নাফিজা দেখিয়া গিয়াছিল তাহা আজ প্রায় মৃত। এইগাছটিই একমাত্র দেখার যা নাফিজা সুদুর ঢাকাহইতে দেখিবার পন্য পরান উদ্বেলিত হইয়া থাকিত। কিন্তু আসিয়া দেখিবার মত এতটুকু সময় সুযোগ কিছুই হইতোনা। কিন্তু এইবার অজস্র সময় ও অফুরন্ত সুযোগ লইয়া ওরা আসিয়াছে কিন্তু গাছটি মৃতপ্রায়। বাড়ির সবার খোজখবর হইলো একে একে সেইছোটবেলার ফুপাতো ভাই ফুপাতো বোন, মামাত ভাই মামাত বোন সবার সাথেই পরিচয় হইলো কিন্তু নাফিজা যেন কোন আত্বিয়ের পরিচয়েই তৃপ্ত হইতে পারিতেছিলনা। মনে মনে কোন এক অনাত্বিয়কে খুজিতে ছিল। অনেক বছরের কথা বিষ বছর কোন কিছুর ব্যপক পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট সময় এই বিষটা বছর। তাই আজ তাহাকে চেনা দুইশ কিলোমিটার মরুভুমির অপরসিমানায় টিকটিকে লোকটির চেহার চেনার মতই অসম্ভব। হয়তো অবয়ব দেখিয়া কল্পনা করিয়া তাহাকে আঁকিয়া লইতে হইবে। ইহা ছাড়া আর কোন ভাবেই সম্ভব নয়। হয়তো সে আর সে সময়কার হেলাদোলা, স্বরল সুকনো, পিঞ্জরদৃষ্ট বাবুটি নেই হয়তো সে সময় তাহাকে আরো দৃর, আরো কঠোর ও গম্ভির শ্বাষক হিসেবে প্রতিষ্ঠত করিয়াছে কিন্তু তেমন কোন লক্ষন নিলিমা কাহারো মধ্যে দেখিতে পাইলোনা।
    রাত্রি হইলো বিবাহপুর্ব মজমা বেশ জম্পেস বেশ ফলপ্রসূ হইতে লাগিল। বিবাহের আলোচনার ফলাফলের দিকে ওর ভ্রুক্ষেপ নাই সোজা ভাষায় বলিয়া দিল অনেক করেছি এবার তোমরা যা করবে আমি তাতেই রাজি, শুধু পাগল ছাগল আইনোনা। নিলিমার কথাটিতে সবাই সন্তুষ্ট হইলো আর প্রাণের গভির থেকে থেঙ্কইউ বলিল। বাহিরের আকাশখানি অজশ্র বাতিখচিত সামিয়ানার মত মাথার উপর টানানো হইল। চাদ যেন নীলিমার প্রসস্ত কপালে একটি সোনার টিপের মত লাগিয়া আছে। মাঝে মাঝে কোথাহইতে প্রশস্ত আলোর রেখা আকাশের বুকখানিকে এফোরওফোর করিয়া উল্কাপিন্ডের মত বাহির হইয়া যাইতেছে। তাহারি তলে বসিয়া নিলীমা অপনার মনে পৃথিবীটাকে দেখিতেছে। কি অবারিত তার বুক কি অপার সৌন্দর্যভরা তার তনু। মিটিমিটি তারকারাজী যেন কত জনমের কথা বার বার বলিতে চাহিয়াও পারেনা। পোকামকরগুলো রাতে নিরন্তর বংষিবাদকের মত ডাকিতে থাকে নিলীমা তাদের সাথে সুরে সুর মিলাইয়া মাঝে মাঝে গুনগুনিয়ে গানগায় “আমি এসেছি এসেছি তোমার পরানে চোখদুটি খোল প্রিয়, তোমার যেমন ইচ্ছে তেমন করেই আমাকে সাজা দিও তবু চোখদুটি খোল প্রিয়”। মাঝে মাঝে বিমানের লাইটের আলো মনে হয় তাহার পরানের কথাগুলি লোডকরিয়া বহিয়া নিয়া যায়। কিন্তু কোথায় নিবে কারকাছে পৌছাইবে নিলীমা সুধু এটুকুই জানেনা। হঠাৎকরিয়া একটা ঝরোবাতাস আসিল দক্ষিনের বাতাস বেশ আবেশি দেহের সকল শিরা উপশিরা গুলোতে লাগিয়া দেহটা শিতল করিয়া দিল। হঠাৎকরে দক্ষিনা বাতাতে কেযেন আসিয়া গ্রামখানি ঘুরে দেখার জন্য নীলিমার মনটাকে অস্থির আর প্রবল করিয়া চলিয়া গেল তাই হালকা অন্ধকারে পিছনের দরজাদিয়া ও বাহির হইলো। শহরের মেয়ে কোনদিন এমন নিস্তব্দ অন্ধকারাচ্ছন্য রাস্তায় একা চলেনাই কিন্তু কি যেন এক অদ্ভুত সাহসের অনুভুতিতে বের হইলো। ওর মনে হইল কে যেন কোথা হইতে ওকে ডাকিতেছে, হাসিতেছে, তাহার সাথে হাসিবার তাহার হাতখানি ধরিবার অদ্ভুত অনুভুতি ওকে নিশিথ বিপদসংঙ্কুল রাস্তায় নামাইয়া আনিল। পূর্নতিথিয়ার চাদ একেবারে ঝলমলে সোনালী আলোয়ে ভরপুর। মাঝে মাঝে শাখাচ্যুত চন্দ্রালোক এস এস পাইপের দোলনার কার্নিশে পরিয়া হিরার মত চকচক করিয়া ওঠে। চোখে দেখিলে হঠাৎ করিয়া ভ্রোম হয় যেন সপ্তরাজার সম্পদ পাইলাম। এখানে ওখানে ছোট ছোট ডোবাগুলোর ভিতরে দক্ষিন হাওয়ার মৃদু তরঙ্গে একটি চাদ লক্ষচাদে রুপান্তর করিয়া দিতেছে। মেঠোরাস্তার দুইপাশ্বে রাত্রীর পোকামাকর স্বাদরগীতের মত চি..চি..ঝি..ঝি শব্দে আওয়াজ করিতেলাগিল। নিলীমার মানসপটে যদি রাস্তাখানিরে দেখিতে পাইতাম তাহলে হয়তো মনেহইতো কোন এক স্বর্গপুরের চিত্রশিল্পি সোনালী, কালো, সবুজ ইত্যাদি নানান রকম অনুজ্জল রঙ্গেিএকটি গ্রামের ছবি আকিয়া রাখিয়াছে যার যায়গায় যায়গায় তোরন লাগানো। এমনি একটি গ্রামিন গেরুয়া-সোনালী রংয়ের রাস্তার উপরদিয়া নিলীমা বাহির হইলো। চাদনীরাত বাগানের হালকা অন্ধকারের দিকে তাকাইলে মনেহয় চাদের আলো আর অন্ধকার জোরাজুরি করিয়া রস্তাহইতে অন্ধকারকে জোর করিয়া ঢেলিয়া বাগানের সাথে চেপে রেখেছে আর তারি ফাকদিয়া নিলীমা হাটিয়া হাটিয়া জাইতেছে আর কিছু কিছু জায়গায় অন্ধকার আলোকে চাপিয়া রাখিয়াছে যার ছায়া নিলীমার গায়ে পরিতেছে। বহুবছর আগে আসিলেও এই গায়ের কয়েকজনের বাড়ি নিলীো চিনিত আর সেই সময়ের মতই রাস্তাঘাট অপবির্তীত রহিয়াছে তাই খুব সহজেই শাহজল কাকার বাড়ি পৌছিল। শাহাজল কাকা নাই সে মারাগিয়াছে আট দশ বছর হইলো কাকা ছাড়া আর কেউ নিলিমাকে চিনিতোনা। জিনু, রিনা, রিঙ্কু কেউ তাকে চিনেনা তবে পোশাক আসাক আর চেহারা দেখিয়া বুঝিয়াছিল যে সে হাওলাদার বাড়ির কেউ কারন এইরকম সম্ভ্রান্ত ছাপ এই গায়ে তাহাদের ছাড়া আর কারো ভিতরে পাওয়া যায়না।
    (সংখেপিত)

    8
    8 Comments
Skip to toolbar