-
চলে যায় বসন্তের দিন।
প্রচন্ড জর নিয়ে ভর্তি হয়েছি হাসপাতালে, কড়া এক গন্ধে আমার ঘুম ভেংগেছে। সম্ভবত গতকাল সারারাত জ্ঞান ছিলোনা। অবশ্য তার যুক্তিযুক্ত কারন আছে, কাল রাতে খুব জোর বৃষ্টি হচ্ছিলো, ঢাকা শহরে এমন বৃষ্টি খুব একটা দেখা যায়না। আমি বৃষ্টিপ্রেমি মানুষনা। বৃষ্টি হলে আমি খুব জোর জানালা বেয়ে চেয়ে থাকি, ইট পাথরের দেয়াল বেয়ে বৃষ্টির পানি পরছে, ম্যানহোলের পানি বৃষ্টির পানি সব মিশে একাকার এমন পরিবেশে বৃষ্টিতে ভেজার কোনো মানে হয়না। তবুও কাল কোনো এক অজ্ঞাত কারনে আমার মধ্যে অদ্ভুত খেয়াল চেপে বসে, বলা যেতে পারে একপ্রকার উত্তেজনা অনুভব করছিলাম, ভেবে দেখলাম সব কিছুর অভিজ্ঞতা থাকা ভালো, এই অভিজ্ঞতাও নেওয়া যাক। ইট পাথরের শহরে বৃষ্টিতে ভিজতে কেমন লাগে তা পরখ করার জন্য, নেমে পরলাম বৃষ্টিতে।
বৃষ্টিতে নেমেই মনে হলো খুব বড় ভুল হয়ে গেছে, পানি অসম্ভব ঠান্ডা, ঠান্ডা পানির কণা গুলো শড়িরে ছুচের মত বিধছে। যেকোনো সাধারন মানুষ এই সময় দৌড়ে আশ্রয় খোজার চেষ্টা করবে, আতংক নিয়ে ছুটাছুটি করবে মাথার ওপর একটা আশ্রয় পাওয়ার জন্য। তবে আমি সাধারন মানুষনা, আমি কঠিন চিজ, যাকে বলে hard material। অন্তত আমার পরিচিতজনদের তাই ভাবনা। আমি শরীরে বিধে যাওয়া, ঠান্ডা পানির কণা গুলোকে একপ্রকার অগ্রাহ্য করে হাটতে শুরু করলাম। কতক্ষন হেটেছি মনে নেই, কখন হাসপাতালে এসেছি তাও মনে পরছেনা, সব কিছু ধোয়া ধোয়া। প্রকৃতি অবহেলা সহ্য করেনা, তাকে অবহেলা করলে সেও তা ফিরিয়ে দেয়, আমাকেও দিয়েছে।আমি খুব সম্ভবত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আশে পাশের পরিবেশ অন্তত তাই বলছে, সরকারি হাসপাতাল গুলোতে প্রায় সময় দেখা যায়, রুগির চেয়ে তাদের আত্মীয় সজনদের সংখ্যা বেশি, রুগির বিছানার বেশির ভাগ এরাই দখল করে থাকে। দিনের পর দিন চলে যায়, তবু তাদের হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার নামগন্ধ থাকেনা। সকালের নাস্তা দেওয়া হয়েছে, একপ্যাকেট মোটা পাউরুটি, তার সাথে একচামচ থকথকে একটি পদার্থ ( খুব সম্ভবত জেলি) সাথে দুটো রুগ্ন কলা। অতি সামান্য খাবার তবু খেয়াল করলে দেখা যাবে, কেও কেও এই অতি সামান্য খাবার পরম আগ্রহে খাচ্ছে।
ভাইজান আপনি মনে হয় খাইবেননা, কিছু যদি মনে না করেন আমি লইয়া যায়, আমার পুলাপানে খাবে, তারা সারারাত কিছু খায়নায়। মাঝ বয়েসি একলোক, এসে আমাকে বললো কথাগুলো। আমি তার দিকে তাকিয়ে হ্যা সুচক ভাবে মাথা নাড়াতেই, সে আর কোনো কথা বললোনা, খাবার গুলো নিয়েই চলে গেলো পাশের বিছানায়। তার ছোট্ট ছেলে খুব আগ্রহের সাথে খাবার গুলো গলাধঃকরণ করতে করতে আমার দিকে তাকিয়ে, মিষ্টি একটি হাসি উপহার দিলো, ছেলেটির চোখ আনন্দে চকচক করছে। কত সামান্য খাবার অথচ, এটুকুতেই সে সন্তুষ্ট, অথচ এমনও মানুষ পাওয়া যাবে যাদের কাড়ি কাড়ি আছে, তারপরেও মন ভরছেনা তাদের আরো চাই। দুনিয়াটা বড়ই আজিব।
এই যে ইয়াংম্যান, তোমার জ্ঞান ফিরেছে, তুমি তো ভয়ংকর দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলে, ভেবেছিলাম তোমাকে হয়তো আর বাচাতে পারবোনা, ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি ঢুকে গিয়েছিলো। নিউমোনিউয়াও হতে পারতো, ভাগ্য কে ধন্যবাদ দাও এ যাত্রায় বেচে গেছো। তোমার নাম কি? একনাগাড়ে কথা গুলো বললেন সকালের ডিউটিতে আসা ডাক্তার। সুদর্শন চেহারার ডাক্তার, এমন ডাক্তার খুব একটা দেখা যায়না তাও আবার সরকারি হাসপাতালে, বেপারটা খুবি বেমানান। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার হবে বদখত চেহারার, যেনো রুগি দেখলেই ভয় পেয়ে যায়। উনি যদি ডাক্তার না হতেন অনায়াসে ফিল্মের হিরো হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যেতো। ফিল্মের জগতে এমন সুদর্শন চেহারার মানুষের দাম আছে। দিনের শুরু হলো বেমানান জিনিস দেখে, সারাদিন কেমিন কাটবে কে জানে।
আমি আস্তে আস্তে বললাম, আমার নাম উসমান।
শুধু উসমান?
না বাবা, মার দেওয়া আরেকটা নাম আছে তবে সেটা আমি ব্যাবহার করিনা।
ডাক্তারের ভুরু কুচকে গেলো, খুব সম্ভবত আম্র কথাটা তিনি সাভাবিক ভাবে নিতে পারেননি, এদেশের ৯৯% মানুষ তার বাবা, মার দেওয়া নাম ব্যাবহার করে থাকে, সেখানে কেও যদি বলে সে তার বাবা, মার দেওয়া নাম ব্যাবহার করেনা অসাভাবিক লাগার কথা।
আপনাকে কাল রাতে রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, ফুটপাতের ওপর সংগাহীন ভাবে পরেছিলেন, রাস্তায় কি করছিলেন এই ঝড় বৃষ্টির মদ্ধ্যে?
আমি অনেকটা ভাবলেশ হীন গলায় বললাম, পরখ করছিলাম।
ডাক্তারের ভ্রু আবার কুচকে গেলো, খুব সম্ভবত ইনি খুব ঘন ঘন ভ্রু কুচকান। পরখ করছিলেন মানে বুঝলামনা।
ইট পাথরের শহরের বৃষ্টিতে ভিজতে কেমন লাগে তাই পরখ করছিলাম, কবি সাহিত্যিক রা বৃষ্টিতে ভিজার যে বর্ননা দিয়েছেন তার বেশির ভাগই, সবুজ পরিবেশে, কিংবা গ্রাম বাংলার মধ্যে, ইট পাথরে ঘেরা, ঘিঞ্জি জায়গায়, বৃষ্টিতে ভেজার অনুভুতি কেমন তা তারা বলেননি। আমি সেটাই পরখ করতে গিয়েছিলাম। আপনিও একবার চেষ্টা নিতে পারেন, প্রথম প্রথম খুব ঠান্ডা লাগবে, তবে গা সওয়া হয়ে গেলে দেখবেন আরাম আর আরাম।
ডাক্তার আমার কথা শুনে অবাক চোখে চেয়ে রইলেন, সম্ভবত উনার ডাক্তারি মাথায়, আমার কাজকর্ম স্রেফ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই মনে হলোনা। স্পষ্ট শুনতে পেলাম উনি বিড়বিড় করে বললেন, mad man, mad man।মোটামুটি ৩-৪ দিন হাসপাতালে থেকেই, হাফিয়ে উঠেছিলাম, এক জায়গায় বেশিদিন থাকতে আমার ভালো লাগেনা, নিজেকে কেমন খাচায় আটকে থাকা পাখির মত মনে হয়। তার উপরে হাসপাতালের মত জায়গায়, এতদিন থাকা অসম্ভব। ৫ম দিনের দিন কাওকে কিছু না বলে বিছানা থেকে উঠে, হাটা ধরলাম, কোথায় যাবো তা এখনো ঠিক করিনি হাটতে থাকবো, ক্লান্ত লাগলে, কাছে পিঠে কোনো পার্ক দেখলে ঢুকে পরে, পার্কের বেঞ্চি তে শুয়ে পরলেই হবে।
বাংলাবাজার সরনির ফুটপাত ধরে এগুচ্ছি, রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম, এই রাস্তা আমি কখোনো ফাকা দেখিনি, সবসময় জ্যাম লেগেই আছে। সাথে চৈত্র মাসের কাটফাটা গরম, যদিও এখন চৈত্র মাস না তবুও কেনো এত গরম পরেছে কেনো কে জানে, অবশ্য আমাদের পৃথিবির জলবায়ু যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে তাতে, এখন গরম পরা খুব সাভাবিক। আমার পরনে নীল পাঞ্জাবি, ঘামে লেপ্টে গেছে শরীরের সাথে, গলা শুকিয়ে কাঠ, মুখের লালা পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে। যদি ঠান্ডা একগ্লাস পানি খাওয়া যেতো। কিছু দুরেই একলোক ভ্যানে করে আখের রস বিক্রি করছে, অসংখ্য মাছি সেই ভ্যান ঘিরে ভনভন করে উড়ে বেড়াচ্ছে। ভ্যানকে ঘিরে মোটামুটি ছোটো খাটো এক ধরনের জটলা তৈরি হয়েছে, এরা সবাই প্রচন্ড তৃষ্ণায় তৃষিত। গরমে এদের ব্যাবসা ভালো যায়, প্রতি গ্লাস ২০ টাকা, উপাদান খুবি সামান্য, একচিমটি লবন, আর কুচি কুচি বরফ, অথচ এই একগ্লাস শরবত মানুষ কত তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে, শরবতের গ্লাস হাতে পাওয়া মাত্রই মানুষ গুলোর চোখ চকচক করে উঠছে, যেনো বহু মুল্যবান কোনো বস্তু হাতে এসে পরেছে। যেকোনো ফোটোগ্রাফার লুফে নিবে এই দৃশ্য। বলা যায়না হয়ত বড়ধরনের পুরষ্কার ও পেয়ে যেতে পারে।
তাদের আখের রস খাওয়া এবং প্রচন্ড পিপাসার কারনেই আমারো একগ্লাস আখের রস খেতে ইচ্ছে করলো, কিন্তু মুশকিল হলো পকেটে একপয়সাও নেই, উনি নিশ্চয় আমাকে বিনে পয়সায় খাওয়াবেননা, আমি তেমন কেওনা যে আমাকে বিনে পয়সায় সে আখের রস খাওয়াবে। দেখা যাক চেষ্টা করে খেতে পারি নাকি।
কত করে গ্লাস?
২০ ট্যাকা।
গ্লাস কি পরিষ্কার আছে, দেখে তো মনে হচ্ছে ময়লা, ভালো করে ধোওনি।
গেলাস ভালো করে ধুয়া আছে ভাইজান, আপনি লইবেন, একগেলাস খাইয়া দেখেন, পরম শান্তি, দিল ঠান্ডা হয়া যাইবো।
দেখি দাও একগ্লাস, খেয়ে দেখি দিল ঠান্ডা হয় নাকি।
ভাইজান যে কি বলেননা, দিল ঠান্ডা হইবোনা মানি, হয়তে বাধ্য, না হইলে আমার নাম কালাম না।
গলা বেয়ে শরবত টা নামতেই, সব যেনো ঠান্ডা হয়ে গেলো, লোকটা ভুল বলেনি দিল আসলেই ঠান্ডা হয়েছে।
আরেক গ্লাস দেও, দিল ঠান্ডা হয়েছে, heart cool.
দিতাসি ভাই, কইসিলামনা দিল ঠান্ডা হইবো, হাসিতে কালামের মুখ ২ ইঞ্চি বেশি চোড়া হয়ে গেছে।
শোনো কালাম আমার কাছে একটা পয়সাও নাই, এই আখের শরবতের টাকা আমি তোমাকে দিতে পারবোনা, এখন বাকিটা তোমার বিবেচনা, তুমি চাইলে আমারে ক্ষমা দিতে পারো, নাহলে কষে দুটো চড় দিয়ে শরবতের দামের শোধ তুলতে পারো।
কি যে কন ভাইজান, আপনেরে আমার পছন্দ হয়সে, আপনারে চড় দিমু ক্যান, আপনের ট্যাকা দেওন লাগবোনা, আপনার উপর আমার দিলখোশ হয়েছে, এই কালামের যার ওপর দিলখোশ হয়, কালাম সারাজীবন তারে ভালোবাসে। আইজ থেইকা আপনের জন্য শরবত ফিরি, যখনি আপনের গলা শুকাইয়া যাইবো, আপনি আমার কাছে চইলা আসবেন, আমি আপনার দিল ঠান্ডা কইরা দিবো।
আমি একসাথে স্তম্ভিত ও হতভম্ব, কোথায় দুটো প্রমান সাইজের থাবড়া আর extra ভাবে কিছু গালাগালি আশা করেছিলাম, এখন তো দেখা যাচ্ছে বিষয় উলটা, অন্য কেও হলে বিনয়ে গলে যেতো এতক্ষন, কিন্তু আমি তো অন্য কেও না আমি তো আমি। আমি আচ্ছা বলেই সোজা হাটা ধরলাম, এমন ভাব যেনো তার এই সামান্য বিনয়ে আমার কিছু যায় আসেনা।রমনা পার্কের একটা বেঞ্চি দখল করে শুয়ে আছি, চোখে মুখে প্রচন্ড রোদের তীব্র আলো এসে পরছে, তাতে অবশ্য আমার যে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে তা নয়, যেকোনো জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার অভ্যেস আমার আছে। মানুষ মাত্রই সে মানিয়ে নিবে, মানিয়ে নেওয়ার ধর্ম সে জন্মলগ্ন থেকেই পেয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে আমি আমার তৈরি করা ছোট্ট জগতে ঢুকার চেষ্টা করছি, হচ্ছেনা। আমার সেই জগতে ঢুকতে খুব একটা সমস্যা হয়না, একটু চোখ বন্ধ করে ভাবলেই ঢুকে পরা যায়, অতি সামান্য জগত, একটা টলটলে পানির পুকুর, আর বিশাল বড় একটা বটগাছ, প্রায় সময় আমি এই বটগাছের তলায় বিসে থাকি আর চেয়ে রই পুকুরের পানে। পুকুরটার একটা নাম দেওয়া দরকার, জুতসই নাম খুজে পাচ্ছিনা, পেলেই দিয়ে দেবো।
বেশ কিছুক্ষন চেষ্টা করেও, শেষে না পেরে উঠে বসলাম, খানিকটা বিরক্ত লাগছে।
আশে পাশে তাকাতেই হঠাৎ চোখে পরলো, একটু তফাতে এক বেঞ্চে, আপাদমস্তক বোরকায় ঢাকা এক রমনি বসে আছে, পায়ের কাছে মাঝারি সাইজের একটা সুটকেস। খুন সম্ভবত সে কারো জন্য অপেক্ষা করছে, এভাবে ভরদুপুরে একজন রমনী একা একা বসে আছে, বিষয় টা আমাদের দেশে একটু অসাভাবিক। নিশি কন্যাও হতে পারে, আমাদের দেশের নিশি কন্যারা বেশির ভাগ বোরকা পরে থাকে, রমনা পার্কে এদের বেশ আনাগোনা আছে, এদের থেকে আমি একটু দূরত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করি, না তাদের পেশার কারনে নয়, এই পেশায় আসার পর থেকে এদের সভাব চরিত্র পালটে যেতে থাকে, অচিরেই এরা চুরি, ছিনতায়ে জড়িয়ে পরে।আচ্ছা শোনেন আপনাকে অনেক্ষন থেকে দেখছি আমার দিকে তাকাচ্ছেন, আপনার মতলব টা কি পরিষ্কার করে বলেন? আমাকে কিন্তু যতটা অবলা ভাবছেন ততটা আমি না।
আমি হতবাক, মানুষের কন্ঠ এত সুন্দর হতে পারে আমার জানা ছিলোনা, কোনো কবি সাহিত্যিক, এই মেয়ের কন্ঠ শুনলে নিঃসন্দেহে কবিতা ফেদে বসতো, কেও কেও উপমা ও দিয়ে ফেলতো কিন্নর কন্ঠ।
এমন হা করে চেয়ে আছেন কেনো জীবনে কি মেয়ে মানুষ দেখেননি, আপনাদের পুরুষদের এই এক সমস্যা বুঝলেন, মেয়ে দেখলেন ওমনি চোয়াল ঝুলে গেলো, চক্ষু শরম বলতে কিছু নেই।
একটা কাজ করলে কেমন হয়। মেয়েটাকে বিভ্রান্ত করা যাক।
আমি গলা যতসম্ভব গম্ভীর করে বললাম, দেখুন আপনি আমাকে কি ভাবছেন আমি জানিনা, তবে আপনার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই, আমি আসলে আপনার বোরখা টা দেখছিলাম খুব পছন্দ হয়েছে আমার, এরকম বোরখা বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায়না, আমার এক আত্মীয় আছে উনার জন্য নিয়ে যাবো ভাবছিলাম, উনি খুব খুশি হবেন, উনাকে উপহার দেওয়ার মানুষ নেই। বোরখা টা মনে হয় অনেক দামি তাইনা, কত দাম হতে পারে একটু বলবেন, যেভাবেই হোক আমি উনার জন্য নিয়ে যাবো, দরকার হলে চুরি, ডাকাতি করতেও রাজি আছি।রমনী চুপসে গেছে। বেলুন থেকে সমস্ত গ্যাস বের করে নিলে বেলুন যেমন চুপসে যায়, ঠিক তেমন ভাবেই চুপসে গেছে। মনে হচ্ছে তার প্রতি আমার অনাগ্রহ টা সে সহজ ভাবে নিতে পারেনি, মেয়েদের এই এক সমস্যা, কেও যদি বেশি আগ্রহ দেখায় তাতেও তারা অখুশি, আবার কেও আগ্রহ না দেখালেও অখুশি। এজন্যই কবি বলেছেন নারীর মন বোঝা, আর ক্যালকুলাসের অংক বোঝা সমান।
কি হলো চুপ করে আছেন ন কেনো বলুন তাড়াতাড়ি, আমার বেশি সময় নেই, আপনার কাছে দাম টা শুনেই কাজে নেমে পরতে হবে, ৪-৫ টা মোবাইল চুরি করতে পারলেই কাজ হয়ে যাওয়ার কথা, না হলে বিকল্প ব্যাবস্থা আছে।
রমনী থমকে গেছে, কি বলবে বুঝতে পারছেনা। অতি কষ্টে আমতা আমতা করে বললো, সরি আমি আসলে বুঝতে পারিনি, আসলে বুঝতেই পারছেন আমাদের সমাজে তো পুরুষরা এখন, এমন পর্যায়ে চলে গেছে, পারলে যেনো গিলে খায়। আমাকে একটু সাহায্য করতে পারেন, আমি আসলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি, না কোনো ছেলের জন্য নয়, বাসায় বাবা মা খুব অশান্তি করছে আমাকে বিয়ে দিবে তাই, বার বার বোঝানো সত্তেও বোঝেনা, তাই ঠিক করেছি তাদের কে উচিত শিক্ষা দিবো। ভেবেছিলাম বাসা থেকে বের হয়ে কয়দিন বান্ধবীর বাসায় থাকবো, তারা কান্নাকাটি করবে, হুলুস্থুল ফেলে ফিবে চারিদিকে। কয়েকদিন পর, খুব সকাল বেলা ব্যাগ পত্র নিয়ে আবার বাসায় উপস্থিত হবো। এখিন সমস্যা হচ্ছে আমার বান্ধবীর আমাকে এইখান থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো, সে আসছেনা অনেকবার ফোন দিয়েছি ধরেন। খুব সম্ভবত সে ঝামেলা ঘাড়ে নিতে চাচ্ছেনা। আপনি কি দয়া করে আমাকে আবার আমার বাসা পর্যন্ত পৌছে দিতে পারবেন, আসলে আমি একা যেতে সাহস পাচ্ছিনা।
আমি, বেশ ভাবলেশ হীন গলায় বললাম, আপনাকে আমি নিয়ে যেতে পারবোনা বারণ আছে, তবে আমি আপনাকে খুব জোর একটা রিকশা ঠিক করে দিতে পারি। চলুন বলেই হাটা শুরু করলাম আমি, বেশ বুঝতে পারছি মেয়েটির চোখে স্পষ্ট হতাশার ছাপ, তবুও তার ভারী ব্যাগটা সে কাধে নিয়ে আমার পিছ পিছ পিছ আসতে শুরু করলো। হয়তো মনে মনে আফসোস করছে, কেনো যে সাহায্য চাইতে গেলাম, কত অভদ্র একবারো বললোনা দিন ব্যাগ টা আমাকে দুন আমি নিয়ে যাচ্ছি।মেয়েটাকে একটা রিকশা ঠিক করে দিয়ে, বললাম উঠে পরুন, আর এভাবে সব কিছু ঠিক না করে বাসা থেকে পালাবেননা, পালাতেই যদি হয় ভালো করে প্ল্যান করে তারপর পালাবেন, আর এমন দিন দুপুরে বের হবেননা, দিন দুপুরে পালিয়ে মজা নাই, কোনো এক জ্যোৎস্না রাত দেখে তল্পিতল্পা গুছিয়ে পগার পার। এমন কোথাও যাবেন যে আপনার ঝামেলা ঘাড়ে নিতে রাজি আছে। তাহলে দেখবেন আর সমস্যা হবেন। মেয়েটি যথেষ্ট বিভ্রান্ত হয়েছে, আমার উদ্দেশ্য সফল, সে পাথরের মত নিশ্চুপ হয়ে গেছে, যেনো বুঝে উঠতে পারছেনা কি বলা উচিত। আমার সুক্ষ ধারনা হচ্ছে, এই মেয়ের সাথে এটাই শেষ দেখা নয়, এই মেয়ের সাথে আমার আবার দেঝা হবে, এবং বার বার হবে।
মেয়েটিকে হতভম্ব অবস্থায় রেখেই আমি আমি উল্টা পথে হাটা ধরলাম। তাকে অবশ্য দোষ দেওয়া যায়না, মানুষ হিসেবে আমরা হতভম্ব হতে পছন্দ করি, হরহামেশাই হচ্ছি।
লেখাঃ উসমান।1 Comment
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Prithula Zaman
@prithula
Shaikh-Mohidul-Islam
@shaikh-mohidul-islam
Md Tashnim Rahman
@wire-taseen
Reza e Rabbi
@rabbi121
Mesbah-Ahmed
@mesbah-ahmed
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah


চমৎকৃত