-
পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_তেইশ _চব্বিশনিচে আজাদ চৌধুরীকে ভয় দেখিয়েই দ্রুত উপরে চলে আসে তালহা। উপরটায় তারা সেইযে প্রথমদিন এসেছিলো তারপর আর যতবারই এই বাড়ি এসেছে উপরে আর একবারও আসা হয়নি ওদের। ওর মনে হলো এতোদিন ওরা বোকার মত কাজ করেছে। এই বাড়িটা সম্পর্কে যদি কোন ডকুমেন্টস থাকে তাহলেতো উপরেই থাকবে। উপরের ঘরগুলো পরিপাটী করে গোছানো থাকলেও সব জায়গায় ধূলার আস্তরণ পড়ে গেছে। তালহার মনে পড়লো প্রথম যেদিন ও এই বাসাটায় ঢুকেছিলো সেদিন কতগুলো ছবি একজায়গার স্তুপ করে রাখা দেখেছিলো। তালহা উপরে উঠেই প্রথমে ছবিগুলোর কাছে চলে গেলো। ছবিগুলোর পিছনের ফ্রেমের উপর ধূলার আস্তরণ পড়ে গেলেও উপুড় করে ফেলে রাখার কারণে ছবির উপর তেমন ধূলা পড়েনি। পাশে পড়ে থাকা এক টুকরা কাপড় দিয়ে ছবির ফ্রেমগুলো মুছে নিলো। মোট পাঁচটা ছবি আছে সেখানে। একটা গ্রুপ ছবির মধ্যে চারজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। একজন চল্লিশোর্ধ পুরুষ আর একজন পঁচিশ কি আটাশ অর্থাৎ অনুর্ধ্ব ত্রিশের একজন মহিলার ছবির সাথে একটা সতেরো আঠারো বছরের একটা তরুণ দাঁড়িয়ে আছে। মহিলাটার ছবিটা দেখে তালহা চিনতে পারলো এই মহিলাই ঐ মহিলা যাকে বারের কম্পিউটার এবং এই বাড়ির তিন নং ঘরে দেখেছিলো। তালহা বাকি ছবিগুলো দেখা শুরু করলো। একটা ছবিতে একজন বৃদ্ধা এবং একজন বৃদ্ধের সাথে একটা আনুমানিক বারো থেকে পনেরো বছর হবে এই বয়সের একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে। তালহা আগের ছবিটার সাথে মিলিয়ে দেখলো ওর ধারণাই ঠিক। এই ছবিটা ঐ চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিটার কৈশর বয়সের ছবি। অন্য একটা ছবিতে সতেরো বছরের যে ছেলেটাকে প্রথম ছবিটাতে দেখেছিলো ওর সাথে একটা এক বছরের বাচ্চা ছেলে আছে। একইভাবে বাকি ছবিগুলোও দেখলো তালহা। একটা কাবা শরিফের ছবি এবং অন্যটা একটা গ্রুপ ছবি। তালহার সব কিছু তালগোল পাকিয়ে গেল। ছবিগুলো প্রমাণের জন্য নিজের মোবাইলে ওগুলোর ছবি তুলে নেয়। ছবি তোলার কাজ শেষ করে দ্রুত বাকি ঘরগুলো দেখতে লাগলো। একটা কাঠের আলমারির ভিতর ঘাটাঘাটি করে কাপড় চোপড় ছাড়া তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। বাকি আলমারি ওয়ার ড্রপ ঘেটেও কিছু পাওয়া গেলোনা। নোটবুক টাইপের কিছু পাওয়ার আশা করছিলো তালহা কিন্তু তেমন কিছুই পাওয়া গেলোনা। স্টিলের আলমারিটা দেখতে গিয়ে দেখে ঐটার ভেতরটা সব লন্ডভন্ড হয়ে আছে। তালহা দেখতে গিয়ে বুঝলো কাছাকাছি কোন একটা সময় এটার উপর দিয়ে বড় রকমের ঝড় বয়ে গেছে। তালহা আর এক মুহূর্ত সেখানে না থেকে ওখান থেকে বের হয়ে আসে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় নীচতলার ঘর থেকে কথোপকথনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তালহা দ্রুত গতিতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতেই লিটনের সাথে আসা অপরিচিত লোক দুজনের সামনে পড়ে গেলো। তালহাকে দেখে চিৎকার করতে যাবে তখনই তালহা একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে অন্যজনের মুখ চেপে ধরে সে অবস্থায় বাকি সিঁড়িগুওলো নেমে গেলো। যে লোকটাকে ফেলে দিয়েছিলো সে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তালহা ওকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আবার ফেলে দিলো। ওদের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ভেতর থেকে লিটন চৌধুরী বাইরে বেরিয়ে আসে। তালহা তখনও এক হাত দিয়ে লোক দুইজনের একজনকে ধরে রেখেছে। লিটন ওর কাছে পৌঁছানোর আগেই লোকটার বুক বরাবর একটা ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিয়ে এক লাফে সিঁড়ির শেষ ধাপে নেমে দৌড় দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে। লিটন লোক দুইজনকে ওকে অনুসরণ করতে বলে কালক্ষেপণ না করে তালহার পেছন পেছন দৌড় দিলো।
তালহা আগেই মুসায়েবকে ফোন করে গাড়িটাকে একেবারে গলির ভেতর দেবদারু গাছঘেরা ঘন জঙ্গলটার কাছে রাখতে বলেছিলো যাতে করে ও বিপদে পড়লে খুব সহজেই গাড়িতে উঠে যেতে পারে। ওরা কথামতো গাড়িটা কাছেকাছি রাখা হয়েছিলো। তালহা বের হয়েই গাড়িতে উঠে পড়ে।লিটন তালহার পিছু নিয়ে যখন গলিটার কাছে আসে তখন গলির মধ্যে কাউকে দেখতে পেলোনা, শুধু দেখলো একটা মাইক্রো দ্রুত বেগে সেখান থেকে চলে যাচ্ছে। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো লিটন। ওদেরকে ধরতে না পারলে ওর পরিণতি কি হবে ও বেশ বুঝতে পারছে। অপরাধ জগৎটাই এমন। এখানে টাকা আর স্বার্থ ছাড়া আবেগের কোন দাম নেই। লিটন উঠে আবার পোড়োবাড়িটার ভেতর চলে গেলো। আজাদ চৌধুরীকে সবটা বলল।
লিটনের কথা শুনে আজাদ চৌধুরী তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বললেন, তুমি ওখান থেকেই আমাকে ফোন করতে। আমি গাড়িটাকে আসতে বলতাম।
স্যার তাতেও দেরি হয়ে যেতো।
মাইক্রোটার নাম্বার রেখেছো?
জ্বি স্যার এই কাজটা করতে ভুলিনি। আমরা যখন এসব কাজে আসি তখনই আমাদের বলে দেওয়া হয়েছে কোন গাড়ি অনুসরণ করতে চাইলে প্রথমে বুদ্ধিমানের কাজ হলো গাড়ি নাম্বারটা টুকে রাখা। স্যার গাড়ি নাম্বার হলো গ-৫৮৫২।
চল তাহলে আমরা গাড়িটাকে অনুসরণ করি। কথা বলে আজাদ তার ড্রাইভারকে খুব দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাজির হতে বলে।
পোড়োবাড়িটার এরিয়া পার হওয়ার সাথে সাথে গাড়ির নকল নাম্বার তা খুলে ফেলে তালহা। আপাতত তালহারা ওর নানি বাড়ি যাবে। ওখানে গিয়ে কিছু খাবার খেয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বসবে। ড্রাইভারকে গাড়ির গতি বাড়াতে বলে চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিয়ে বসলো।
কিরে তেমন কিছু বের করতে পারলি?
অনেকগুলো ছড়ানো ছিটানো ক্লু পেয়েছি যেগুলোকে এখন জোড়াতালি লাগাতে হবে। খুব ক্লান্ত লাগছে। আমার ২ ঘণ্টা টানা ঘুম দরকার।
গতকাল চাচী ফোন করে তোর ছোট মামাকে বলেছে আমাদের যেন আজকেই বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কলেজ শুরু হয়ে গেছে সে খেয়াল আছে? শ্লেষের সাথে বলল মুসা। আর তাছাড়া আন্টি বলেছে তোর বড় চাচা এসেছে এসময় তোর বাইরে বাইরে থাকাটা একদমই ঠিক হচ্ছেনা।
বড় চাচা আরও বিশদিন মত থাকবে। আমি আশা করছি আর দুই তিন দিনের মধ্যেই আমরা রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবো। তারপর আমাদের আর পিছন ফিরে তাকাতে হবেনা।
এখনও পর্যন্ততো কাজের কোন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছিনা।
মুসায়েবের কথার উত্তর দেয়ার জন্য চোখ খুলে সোজা হয়ে বসলো তালহা। মাথাটা সোজা করতেই আয়নার দিকে চোখ চলে গেলো। পেছনে ধেয়ে আসা গাড়িটা চিনতে একটুও কষ্ট হলোনা। ড্রাইভারকে গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিতে বলল।
ড্রাইভার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ওরা কি আমাদের গাড়ি চিনতে পারবে? আমরা নাম্বারটা বদলে ফেলেছিতো।
তালহা বলল, তবুও কোন ঝুঁকি নিতে চাইনা।
আজাদ চৌধুরী খুব দ্রুতই গাড়ি নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে এসেছে। সামনের বড় রাস্তাটা কোন বাঁক নেওয়া ছাড়াই অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। তাই তার মনে হলো গাড়ি একটু জোরে চালালে ঠিক ঐ গাড়িটার নাগাল পেয়ে যাবে। কিন্তু ওদের গাড়ির সামনে এখন চারটা মাইক্রো সামনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে তিনটাই সাদা। লিটনের কথা অনুযায়ী জুব্বা পরা লোকটা যে মাইক্রোতে করে চলে এসেছে সেটা সাদা রঙয়ের। সবথেকে বড় ব্যাপার লিটনের নাম্বারের সাথে একটা গাড়ির নাম্বারও মিলছেনা। সামনে আর কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তাটা দুই দিকে ভাগ হয়ে গেছে। আজাদ চৌধুরী লিটনকে বলল, এবার কোনদিকে যাবো? দুইটা সাদা গাড়ি ডানে গেছে এবং একটা সাদা আর একটা কালো গাড়ি বামে চলে গেছে। আজাদ চৌধুরী ড্রাইভারকে বামে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তার বামে যাওয়া সাদা গাড়িটাকেই সন্দেহ হচ্ছে। কারণ সে খেয়াল করেছে গাড়িটার গতি অন্য গাড়িগুলোর তুলনায় বেশি আবার মাঝে মাঝে গতি অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে। এরকমটা হয় সাধারণত যখন কোন গাড়ি অন্য কোন গাড়ির দৃষ্টিগোচর হতে চায়না সেসব ক্ষেত্রে।
তালহাদের ডানেই যাওয়ার দরকার। তবুও পিছনের গাড়িটাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য বাম দিকে বাঁক নিয়েছিলো। কিন্তু তার সব প্রচেষ্টা ভন্ডুল করে য়াজাদ চৌধুরীর গাড়িটা বাম দিকে ওদের গাড়ির পেছনে পেছনে আসতে লাগলো দেখে তালহা কি করবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে লাগলো। কিছুক্ষণ ভেবে ড্রাইভারকে বলল, চাচা এখান থেকে থানা করদূর?বেশিদূর না। আধগণ্টা সময় লাগবে।
আপনি গাড়িটা নিয়ে সোজা থানায় চলে যাবেন।
থানায় কেন? উৎকণ্ঠার সাথে মুসায়েব আর যায়িদ জিজ্ঞাসা করলো।
তালহা শীতল কণ্ঠে বলল, পেছনের গাড়িটাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এর থেকে উত্তম পন্থা আমার কিছুই মনে আসছেনা। আমার ধারণা আমাদের থানায় ঢুকতে দেখলে ওরা নিশ্চয় ভড়কে যাবে। কারণ ওরা সবাই ক্রিমিনাল।
আর যদি না ভয় পায়?
তাহলেও অসুবিধা নেই। আমরা সোজা ভেতরে চলে যাবো।
ওরাও যদি ভেতরে যায়?
দেখি কি হয়?
ওরা কথা বলতে বলতে ড্রাইভার গাড়িটাকে থানার মধ্যে প্রবেশ করালো।
তালহাদের গাড়ি থানার ভিতর ঢুকতে দেখে আজাদ চৌধুরী তাজ্জব বনে গেলো। লিটনের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি ড্যাম শিউর এটাই ওদের গাড়ি। দেখি ওরা কতক্ষণ ভেতরে থাকে। ড্রাইভার জুয়েলকে বলল, জুয়েল গাড়িটা একপাশে রাখো। আমার ধারণা ওরা আমাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্যই থানায় ঢুকে গেছে।
তালহা গাড়ি থেকে নেমে থানার ভেতরে ঢোকার সময় গাড়ির লুকিং গ্লাস দিয়ে আজাদ চৌধুরীর গাড়িটা রাস্তার পাশে দাড় করানো অবস্থায় দেখে ভাবলো প্রতিপক্ষকে এতোটা হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবেনা। তালহা বিপাকে পড়ে গেলো। এখনই পুলিশকে পোড়োবাড়ির ব্যাপারে কিছু বলার ইচ্ছে ছিলোনা তালহার। কিন্তু থানা থেকে এখনই বের হয়ে গেলে লিটনদের সন্দেহ আরও বেড়ে যাবে। কিন্তু থানার ভেতরে ঢুকে কি বলবে তা চিন্তা করতে লাগলো। হঠাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় আসাতে খুশি হয়ে গেলো। দুই বন্ধুকে নিয়ে থানার ভেতরে ঢুকে গেলো। ওসি রফিকুল ইসলামের রুমে ঢুকলো ওরা তিনজন।
এতো সকালে তিনজন কিশোরকে রুমের মধ্যে ঢুকতে দেখে একটু বিস্ময়ের সাথে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো রফিকুল ইসলাম। কিছু সময় পর বিস্ময়তা কাঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, কি চাই?
তালহা নিজেদের কার্ডটা দেখিয়ে বললো, আমরা ক্ষুদে গোয়েন্দা। আনন্দ স্কুলের অপহরণের ঘটনার ব্যাপারে আমরা আগ্রহী ছিলাম। অপহৃতদেরকে কি উদ্ধার করতে পেরেছেন স্যার?
না এখনও পারিনি। তাছাড়া যাদের সন্তান তাদেরও তেমন কোন আগ্রহ দেখছিনা। এতোদিন বারবার থানায় ফোন করে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছে। হঠাৎ গতকাল থেকে তাদের মধ্যে একটা শৈথিল্য লক্ষ্য করছি। অবশ্য আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়া যাচ্ছি।তালহা খুব আগ্রহ দেখিয়ে বললো স্যার কি কোন তথ্য পেয়েছেন?
না তেমন কোন তথ্য যোগাড় করতে পারিনি।
তাহলে কাজের অগ্রগতি কীভাবে হচ্ছে?
আসলে আমরা চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারিনি। তোমরা কি কোন তথ্য যোগাড় করতে পেরেছো।
মিথ্যা কথা বলা ঠিক হবেনা। তাই তালহা বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিলো, স্যার এখন আপনাকে কিছু বলতে পারবোনা। তবে আপনাদের সাথে দেখা করে জানিয়ে রাখলাম যাতে করে প্রয়োজনে আপনাদের দারস্থ হলে সঠিক সেবা ও সাহায্য পেতে পারি।
পর্ব_চব্বিশ
প্রায় চল্লিশ মিনিট মতো অপেক্ষা করার পর তালহাদের বের হতে না দেখে লিটন বলল, স্যার খুবতো ওদের ধরার আশায় বসে আছেন! এখন যদি দেখেন ওরা পুলিশ নিয়ে আমাদেরকে ধরতে আসে তখন কি করবেন?
লিটনের কথাটা একদমই উড়িয়ে দিতে পারলোনা আজাদ চৌধুরী। আর এভাবে অপেক্ষা করাটাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওদেরকে ধরতে না পারলে মেয়েটার খবর বের করা যাবেনা। আজকে সন্ধ্যায় যে পার্টি আছে সেখানে যদি মেয়েটাকে উপস্থিত করতে না পারি তাহলে আমাদের কপালে কি আছে কে জানে? আজকে ওদেরকে ধরতেই হবে এখন থেকে আমাদের প্রধান কাজ হবে ওদের গতবিধি লক্ষ্য রাখা। আমরা বরং গাড়িটা একটু আড়ালে রেখে অপেক্ষা করি।
সে নাহয় করলাম। কিন্তু স্যার আমার দেওয়া নাম্বারের সাথে ঐ গাড়ির নাম্বার যে মেলেনি সেটাও উড়িয়ে দেওয়ার মতনা।
উড়িয়ে দিচ্ছিনা বলেইতো পিছু নিয়েছি। কারণ আমার ধারণা ওটা নকল নাম্বার সম্বলিত প্লেট ছিলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তা খুলে ফেলা হয়েছে।
হ্যা এখন আমারও মনে হচ্ছে সেটাই করেছে ওরা। স্যার বুঝতে পারছি আমাদের প্রতিপক্ষ খুব বিচক্ষণ।
আজাদ চৌধুরী মুচকি হেসে বলল, বুঝতে দেরি হয়ে গেছে। জুয়েল, ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য বললেন, গাড়িটা বাম পাশে গলির কিনারাটাতে রেখে দাও যাতে চট করে কারো নজরে না পড়ে কিন্তু আমারা ঠিকঠাকভাবে রাস্তাটা নজরে রাখতে পারি।
ঠিক আছে স্যার বলে জুয়েল গাড়িটা রাস্তার বামপাশে একটা গাছের আড়ালে এমনভাবে রাখলো যেন চট করে কারো নজরে না পড়ে। গাড়ির লুকিং গ্লাসটা একটু বাঁকা করে রেখেছে। ফলে বড় রাস্তাটা সহজেই নজরে রাখতে পারছে তারা।
আরও আধঘণ্টা কেটে গেলো তবুও ছেলেগুলো বের হচ্ছেনা দেখে আজাদ চৌধুরী বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হনহন করে থানার ভেতরে ঢুকে গেলো। লিটন হতভম্বের মত তাকিয়ে আজাদ চৌধুরী চলে যাওয়া দেখতে লাগলো। থানায় ঢুকেই একজন কনস্টেবলকে সামনে পেয়ে যায় আজাদ চৌধুরী। লোকটার ইউনিফর্মের গায়ে লাগালো নেমপ্লেট থেকে নামটা দেখে নিলো। লোকটাকে নাম ধরে ডেকে বলল, এই বদিউজ্জামান শুনেন। বদিউজ্জামান কাছে আসলে বলল, এখানে যে তিনটা ছেলে এসেছিলো ওরা কোথায় গেছে জানেন। আমি ওদের সকাল থেকে হন্যে হয়ে খুজছি। পরে জানতে পারলাম ওরা নাকি থানায় এসেছে। বাইরে ওদের ড্রাইভারের সাথে দেখা হলো। কিন্তু ওরা কোথায়?ওরা তিনজন স্যারের সাথে বের হয়ে গেছে।
স্যারের সাথে বের হয়ে গেছে মানে? ওদের নিজেদের মাইক্রোটা রেখে তোমাদের স্যারের মাইক্রোতে গেছে কেন?
কারা নাকি ওদেরকে অনুসরণ করছে। ওদের মাইক্রো নিয়ে বের হলে ওদের পিছু নিবে। তাইতো স্যারকে বলল, ‘ আপনিতো ওদিকেই যাচ্ছেন, আমাদেরকেও নামিয়ে দিবেন’।
কথাটা শুনে আজাদ চৌধুরীর খুব রাগ হলো। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোর কাছে এভাবে ধোঁকা খাবে ভাবতেও পারেনি। হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসতে বলল, ওরা তিনজন হোস্টেল থেকে পালিয়েছে। ওরা ঠিকমত পড়ালেখা করতোনা বিধায় গত মাসে ওদেরকে হোস্টেলে ভর্তি করে দিয়ে গেছে ওদের অভিভাবকেরা। আমাদেরকে অনুরোধ করে গেছে আমরা যেন ওদের উপরে কড়া নজর রাখি। ইদানিং পড়ালেখা বাদ দিয়ে ওরা নাকি কোন জঙ্গি সংস্থার সাথে যোগ দিয়েছে। আমি ওদের হোস্টেল সুপারভাইজার।কি বলেন? আমারও সন্দেহ হয়েছিলো। তা না হলে এ বয়সেই ছেলেগুলো দাড়ি রাখবে কেন? স্যারকে বিষয়টা জানানোর দরকার। বেশ ব্যস্ত হয়ে কথাটা বলল বদিউজ্জামান। লোকটার কথা বলার ঢঙে বোঝাই যাচ্ছে লোকটা একটু বোকাসোকা গোছের। আজাদ চৌধুরী সুযোগটা লুফে নিয়ে বলল, আপনার স্যারকে ফোন করে কথাটা বলেন।
ঠিক আছে বলেই ওসিকে ফোন দিলো বদিউজ্জামান। ওপাশ থেকে ফোনটা ধরলে বলল, স্যার ছেলেগুলো কোথায়? ওরা কলেজের হোস্টেল থেকে পালিয়েছে।
কি বলছো বদিউজ্জামান? কে বলেছে তোমাকে এসব?
স্যার যে ছেলেগুলো থানায় এসেছিলো ওরা নাকি হোস্টেল থেকে পালিয়ে এসেছে। ছেলেগুলো পড়ালেখা বাদ দিয়ে জঙ্গি সংস্থায় যোগ দিয়েছে। তাই ওদের অভিভাবক ওদেরকে হোস্টেলে রেখেছে। কিন্তু ওরা কি বেপরোয়া দেখেছেন। ঠিকই হোস্টেল সুপারকে ফাঁকি দিয়ে হোস্টেল থেকে বের হয়ে একটা মাইক্রো ভাড়া করে এদিকে আসছিলো। যখন বুঝতে পারে হল সুপারের গাড়ি ওদেরকে অনুসরণ করছে তখনই উপায়ান্ত না দেখে থানায় ঢুকে পড়ে। তারপর আপনাকে ধোঁকা দিয়ে কি সুন্দর আপনার সাথে চলে গেলো! স্যার ওদেরকে হাতছাড়া করবেন না।
কে বলল তোমাকে? যে বলেছে তার পরিচয় কি?
বদিউজ্জামান ফোনটা হাত দিয়ে চেপে ধরে আজাদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল, স্যার আপনার পরিচর জানতে চায়।
আজাদ চৌধুরী এক্ষেত্রে আবারও মিথ্যা কথা বলে। বলেন অধ্যাপক আজাদ চৌধুরী ওদের খোঁজে থানায় এসেছে।
বদিউজ্জামান ওসিকে ফোনে কথাটা বললে ওপাশ রফিকুল ইসলাম তাকে বলল, অধ্যাপককে আমার রুমে বসাও। আমি আসছি।
ঠিক আছে বলে ফোনটা কেটে দেয় বদিউজ্জামান।
বদিউজ্জামান ফোন রাখার সাথে সাথে আজাদ চৌধুরী জিজ্ঞাসা করলো, কি বলল আপনার স্যার?
স্যার আপনাকে উনার রুমে বসতে বলেছে, উনি এখনই এসে পড়বে।
ছেলেগুলোকে কি সাথে করে নিওয়ে আসছে?
সেটাতো বলতে পারবোনা।
আজাদ চৌধুরী কি করবে বুঝতে পারছেনা। তবে তার মনে হলো এখন থানায় বসে থাকাটা একদমই বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। এটা একটা ফাঁদ হতে পারে। ঠিক আছে আমি একটু আমার গাড়ির কাছ থেকে আসছি বলে থানা থেকে বের হয়ে নিজের গাড়ির কাছে চলে আসলো। তাকে দেখার সাথে সাথে লিটন গাড়ি থেকে বের হয়ে বলে স্যার এইমাত্র ওদের মাইক্রোটা চলে গেছে। আপনাকে রেখে গাড়ি নিয়ে মাইক্রোটাকে অনুসরণ করবো কিনা বুঝতে পারছিলাম না। তারপরইতো আপনি বের হয়ে আসলেন। স্যার আমার মনে হয় বেশিদূর যেতে পারেনি। আমাদের এখনই পিছু নেওয়া উচিৎ।
আজাদ চৌধুরী হতাশার সাথে বললেন তাতে কি লাভ? গাড়িতেতো আর ওরা ছিলোনা।
ওরা ছিলোনা মানে? তাহলে কি ওরা এখনও থানায়?
আজাদ চৌধুরী বিষণ্ণতার সাথে বললেন, ওরা ওসির মাইক্রোতে করে চলে গেছে।
মানে?
ওসিকে বলেছে ‘ আমাদের কারা যেন অনুসরণ করছে। তাই আমরা আমাদের আনা মাইক্রোতে যেতে চাচ্ছিনা । আপনি যদি আমাদের ড্রপ করে দিতেন।’ তারপর আরকি? আমাদের ধোঁকা দিয়ে আমাদের সামনে দিয়েই চলে গেলো।
ছেলেগুলোর বুদ্ধি আছে বলতে হবে।লিটনের বলা কথাটা একদমই সত্যি কিন্তু তবুও লিটনকে ধমক দিয়ে বলল, ওদের এই বুদ্ধিমত্তাইতো আমাদের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে।
স্যার এখন কি করবেন?
কি আর করবো? সন্ধ্যার জন্য আপাতত একটা মেয়ে দরকার।
কিন্তু স্যার ওরাতো ঐ মেয়েটার ছবি দেখেছে ওর বদলে অন্য মেয়ে দিলে ওরা সেটা মানবে কেন? আর তাছাড়া এখন মেয়ে পাবেনই বা কোথায়?
আরে এটা কোন ব্যাপার? ধনী ঘরের কত সুন্দরী মেয়ে আছে যারা মোটা অঙ্কের টাকার কথা শুনলে যেকোন কাজ করতে পারে।
তাহলে স্যার আমরা কেন এসব ভালো ভালো মেয়েদের ধরে নিয়ে এসে এদের জীবনটা নষ্ট করি।
এই কাজটাতো আমরা করিনা। আমরা অন্যের হয়ে করি। তবে অন্য যেকোন সমাজবিরোধী কাজ করতে গেলে আমার অতটা খারাপ লাগেনা কিন্তু এই কাজটা মোটেও পছন্দ করে করিনা। এই কাজটা করতে গেলেই আমার আমার দশ বছরের ছোট মেয়েটার মুখটা মনে পড়ে যায়।
স্যার আমি ভাবছি এসব কাজ ছেড়ে দিবো। তালহা ছেলেটা একটা কথা বলেছে। কথাটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। এতো ছোট একটা ছেলে জীবনবোধ সম্পর্কে এতো গভীর ধারণা দেখে আমি ভীষণভাবে অবাক হয়েছি।
কি বলেছে?
আমাকে বলেছে, ‘ যে কাজ রাতের অন্ধকারে সবার অগোচরে করতে হয় সেরকম কাজ কেন করেন? এমন কাজ করবেন যেন সবার সামনে সিংহের মত বাঁচতে পারেন। আর একটা কথা মনে রাখবেন রাতে অগোচরে সবার অলক্ষ্যে করার সময় হয়তো আপনার সামনে, পিছনে, ডানে, বামে কোন মানুষ থাকেনা কিন্তু উপরে যিনি আছেন তিন কিন্তু আপনার সব কাজের সাক্ষি থাকছে, যার কাছে আপনাকে একদিন দাঁড়াতেই হবে।’
কথাটা শুনে আজাদ চৌধুরী কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও খুব দ্রুত নিজেকে ধাতস্থ করে বলল, এখান থেকে ফিরে যাওয়ার কোন পথ নেই। যেই ফিরে যেতে চাইবে তাকে নির্ঘাত মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে। চল এখন এসব বলার সময় না। কর্কশ স্বরে আজাদ চৌধুরীর ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনটা ধরতে ইচ্ছা না করলেও ধরে বলল, শুভ সকাল স্যার?
তুমি কোথায়? আজকের অনুষ্ঠানেরে কথা মনে আছেতো?
আজাদ চৌধুরী কপট উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বলল, জি স্যার ঢের মনে আছে।
কোন মেয়ে জোগাড় করতে পেরেছো?
স্যার এটা কোন ব্যাপার? ডাকলেই একটা কেন দশটা মেয়ে এসে হাজির হবে।
কথাটা শুনেই ক্ষেপে গেলেন ফোনের ওপাশের মানুষটা। রাগতস্বরে বললেন, কি বলছো এসব? উনারা কুমারি এবং অনুর্ধ্ব বিশ এর মেয়ে না হলে প্রস্তাবে রাজী হবেনা। আমি ওতোকিছু জানিনা, আমার ঐ মেয়েটাকেই লাগবে। আমি রাখছি। সময়মত ওকে নিয়ে হাজির হতে দেখি যেন। বলেই খট করে ফোনটা কেটে দিলেন।
আজাদ চৌধুরী বিপাকে পড়ে গেলেন। মাথা কাজ করছেনা তার। ঐ মেয়েটাকেই নাকি তাদের লাগবে। তাহলেতো মেয়েটাকে আবার কিডন্যাপ করতে হবে। ‘আচ্ছা মেয়েগুলোকে নিয়ে ছেলেগুলো কি ওদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে? কিন্তু গতকাল থেকে এমন একটা খবরও দেখলাম না যেখানে বলা হয়েছে অপহৃত মেয়েগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।’ ভাবনাটা মাথায় আসতেই আজাদ চৌধুরী গাড়িতে উঠে জুয়েলকে গাড়ি চালাতে বলে নিজে নিউজ চ্যানেলগুলো দেখতে লাগলো। কি আশ্চর্য গতকাল থেকে আজকের একটা খবরেও এই বিশেষ খরটা বললো না দেখে খুব অবাক হলো সে। মনে মনে ভাবলো তাহলে ছেলেগুলোও পাচারকারী নাকি? ওরা কালকে মেয়েগুলোকে নিয়ে ওদের বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়নি? লিটনকে প্রশ্নটা করলেন আজাদ চৌধুরী।
কেন তা মনে হচ্ছে স্যার? নিশ্চয় দিয়েছে।
তাহলে একটা নিউজ চ্যানেলে এই খবরটা শোনা গেলোনা কেন?
খুব সাধারণ বিষয়! ওরাই ওদের পরিবারদেরকে ব্যাপারটা সবাইকে জানাতে নিষেধ করে দিয়েছে নিশ্চয়। কারণ বিষয়টা জানাজানি হয়ে গেলে ওদের কাজের ব্যাঘাৎ ঘটতে পারে।লিটনের কথা শুনে আজাদ চৌধুরী বললেন, ইশ এমন করে আমি কেন ভাবতে পারলামনা। বসতো আগের মেয়েটাকেই চাচ্ছে। তাহলে চলো ওকেই আবার অপহরণ করতে হবে।
ওকে কোথায় পাবেন? আমরাতো ওদের বাড়িটা চিনিনা।
বাড়িতে যাবো কেন? মেয়েটা স্কুলে আসেনা?
স্যার এখন স্কুলে পাঠানোর কথা না। কারণ স্কুলে পাঠালে লোক জানাজানি হতো, খবরেও আসতো।
তাহলে কি উপায়?
স্যার আমার মাথা কাজ করছেনা।
চল আমরা আনন্দ স্কুল থেকে ঐ মেয়েটার বাড়ির ঠিকানাটা সংগ্রহ করি তারপর দেখি কি করা যায়?
স্যার ঠিকানা সংগ্রহ করবেন কীভাবে?
সেটা নাহয় আমার উপরেই ছেড়ে দাও।
গাড়ি নিয়ে সোজা আনন্দ স্কুলের সামনে চলে গেলো ওরা। সকাল এগারোটা বাজে। ছোট ক্লাসগুলো ছুটি হওয়ার কারণ গেটের সামনে অভিভাবকদের ভিড় জমে গেছে। ওদেরকে ঠেলে কোনমতে স্কুলের ভেতরে ঢুকে গেলো আজাদ চৌধুরী এবং লিটন।
খবর নিয়ে জানা গেলো মেয়েটা এখনও স্কুলে আসা শুরু করেনি। অফিস সহকারিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মেয়েটার নাম ঠিকানা যোগাড় করলো আজাদ চৌধুরী। মেয়েটার নাম আগে থেকেই জানা ছিলো। ওর নাম অরিন মেহজামিন। এখন ঠিকানাটা জানা গেলো। ঠিকানা অনুযায়ী বাসার সামনে গিয়ে উপস্থিত হলো ওরা। সাধারণের তুলনায় একটু বেশি উঁচু পাঁচিল ঘেরা একটা দোতলা একটা বাড়ি। চওড়া ফটকের উপরটা জুড়ে বাগান বিলাসের বাহারি গাছ শোভা পাচ্ছে। বাড়িটার নামও ‘বাগান বিলাস’। দোতলার ঝুলন্ত বারান্দায় একটা আলসেশিয়ান কুকুরের বাচ্চা নিয়ে একটা দশ বছরের বাচ্চাকে খেলা করতে দেখা যাচ্ছে। আজাদ চৌধুরী লিটনকে গাড়িতে বসিয়ে গেটের কাছে গিয়ে মৃদু আওয়াজে টোকা দিতে লাগলেন।
বসে বসে ঝিমাচ্ছিলো দারোয়ানটা। গেটে অনবরত শব্দ হওয়ায় টনক নড়ে। শরীরটাকে নাড়াচাড়া করে ঘুমটাকে বিদায় করে গেট খুলে মাথা বের করে দিয়ে কেতাদুরস্ত একজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সালাম ঠুকে জিজ্ঞাসা করলো, কার কাছে এসেছেন?মেয়েটার আদ্যন্ত জেনে আসায় উত্তর দিতে অসুবিধা হলোনা। বলল, আমি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরমান শেখের সাথে একটু দেখা করতে চাই।
কিন্তু উনিতো এখন বাসায় নেই।
হ্যা আমি জানি। উনার এসময় থাকার কথা ছিলো। আমার সাথে সাথে উনার একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। আমি এসে গেছি বিধায় উনি আমাকে ভেতরে অপেক্ষা করতে বলেছেন। আধঘণ্টার মধ্যেই উনি এসে যাবেন।
কিন্তু স্যার, স্যারের সাথে আমি কথা না বলে আপনাকে ভেতরে ঢুকতে দিতে পারবোনা।
আজাদ চৌধুরী খবর নিয়ে এসেছে আরমান শেখ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিঙ্গাপুর গেছে। তাই এখন তাকে ফোনে পাওয়া যাবেনা। ব্যাপারটা হয়তো বাসার দারোয়ান জানেনা। নিরাপত্তার খাতিরেই হয়তো দারোয়ানের কাছ থেকে বিষয়টা গোপন করা হয়েছে। মেয়েটার মাও এসময় বাসায় থাকেনা। তিনি একটা কর্পোরেট অফিসে চাকরি করেন। অরিনের বড় একটা ভাই আছে সেও এখন ব্যবসায়িক কাজে বাবার সাথে সিঙ্গাপুরের পথে। বাসায় পরিচারিকা আর মেয়েটা এবং ওর ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ নেই। স্মিত হেসে দারোয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলল, ঠিক আছে ফোন করেন। তবে আমার সাথে কথা বলার পর উনার একটা মিটিং এ অংশগ্রহণ করার কথা। তাই এখন উনার ফোন বন্ধই থাকবে। আমি এতো দূর থেকে এসেছি যে কাজটা সেরে তারপর যেতে
চাই।বাসায় ম্যাডামও নেই। আমি আপনাকে ঢুকতে দিতে পারবো।
আজাদ চৌধুরীর কাছে লোকটাকে বেশ ঘাওড়া প্রকৃতির মনে হলো। টাকা দেখিয়ে লোভ দেখাবে কিনা বুঝতে পারছেনা। তাকিয়ে দেখলো দশ বছরের ছেলেটা অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আর ছোট কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করা শুরু করেছে। ছেলেটা দারোয়ানকে ডেকে বলছে, আজগর আংকেল, কি হয়েছে?
ভাইজান এই ভদ্রলোক বলছে স্যার নাকি তাকে বাসার ভিতরে গিয়ে বসতে বলেছে। উনার সাথে কি নাকি প্রয়োজনীয় মিটিং আছে। স্যারের ফোনে ফোন করে দেখি ফোন বন্ধ। বড় ভাইজানের ফোনও বন্ধ। খালাম্মারটাও বন্ধ পেলাম। আমি বলেছি পরে আসতে, কিন্তু লোকটা কিছুই শুনছেনা।
দারোয়ান কথা বলার সময় দরজা থেকে একটু সামনে সরে গিয়ে কথা বলছিলো। গেটটা খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে আজাদ চৌধুরী। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলে আমার বাসাটা একটু দূরে, তাই স্যার আমাকে বাসায় ঢুকে অপেক্ষা করতে বলেছে। ঠিক আছে আমি ভেতরে না ঢুকে এখানে অপেক্ষে করি। অসুবিধা আছে তাতে?
না না ঠিক আছে, আপনি আমাদের নিচতলার বসার ঘরটাতে অপেক্ষা করতে পারেন। আমি দারোয়ান চাচাকে বলে দিচ্ছি।
চলবে
3 Comments
Friends
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Morsalin Islam Shouradip
@morsalinshouradip
জাস্রা জুমান
@nmafin4gmil-com
Hijbullah hiju
@hijbullah
মোঃ রিদওয়ান আল হাসান
@mridwanalhasan
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam



আপনার লেখার হাত সত্যি ভালো।