-
বৃত্তে বন্দী জীবন
জীবন হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃত্তের সমন্বয়ে গঠিত একটি বড় জটিল বৃত্ত। যে বৃত্তের সূচনা হয় মাতৃগর্ভে শুক্রানু ও ডিম্বানুর মিলনে গঠিত একখন্ড মাংসপিন্ডে পরিনত হওয়ার মাধ্যমে আর পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যু নামক অদেখা, অচেনা, অদৃশ্য, অস্তিত্বহীন এবং নিয়ন্ত্রণহীন এক পরাক্রমশালী বহ্নিবৃত্তে প্রবেশের মাধ্যমে। মাতৃবৃত্ত থেকে মৃত্যুবৃত্তের মাঝপথে জীবনকে শিশুবৃত্ত, শৈশববৃত্ত, কৈশোরবৃত্ত, যুববৃত্ত, পরিনতবৃত্ত, বয়স্কবৃত্ত, বার্ধক্যবৃত্ত অথবা প্রাইমারিবৃত্ত, স্কুলবৃত্ত, কলেজবৃত্ত, ভার্সিটিবৃত্ত, চাকুরিবৃত্ত, বৈবাহিকবৃত্ত, সংসারবৃত্ত ইত্যাদি নামক অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃত্ত পার হতে হয়। এই বৃত্তগুলো পার হতে গিয়ে অথবা একটি বৃত্ত হতে অন্যবৃত্তে প্রবেশ করতে গিয়ে জীবনকে নানামুখি পাটিগণিত ও বীজগণিতের যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ এবং ফিজিক্স ও কেমিষ্টির অসংখ্য জটিল সমীকরণ ও ইকুয়েশান মিলাতে হয়। এই যোগ-বিয়োগ, গুন-ভাগ এবং সমীকরণ -ইকুয়েশান মেলাতে গিয়ে কেউ কেউ ব্যর্থ হয়ে একই বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে আবার কেউ কেউ সফল হয়ে পর্যায়ক্রমে সকল বৃত্ত পার হয়ে যায়। বৃত্তের মধ্যে চলতে থাকা এই সফলতা ও ব্যর্থতার জটিল খেলা জীবনভর চলতে থাকে। মানুষ মাত্রই এই বৃত্তগুলো থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসতে চায় কিন্ত এই বৃত্তগুলো অসংখ্য পারিবারিক, সামাজিক, নৈতিক, আর্থিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, রাষ্টীয় নিয়ম-কানুন, বিধিবিধান, মুল্যবোধ, দায়িত্ববোধ, মায়াবোধ, ভালোবাসাবোধ, চাহিদাবোধ ইত্যাদি পরিবেশগত অনুষজ্ঞ দিয়ে এমনভাবে গঠিত যা ভেঙ্গে সবার পক্ষে সফলভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ মানুষই এই বৃত্তগুলোর মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে আর অল্প কিছু সংখ্যক মানুষই এই গতানুগতিক বৃত্তগুলো থেকে সফলভাবে বেরিয়ে নিজস্ব বৃত্ত তৈরি করে জীবন চালাতে থাকে। আর এই শ্রেনির স্বল্প সংখ্যক মানুষগুলোই সমাজে/পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। যদিও এই শ্রেনির মানুষগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যর্থ মানুষগুলো সমাজদ্রোহী, ধর্মদ্রোহী, রাষ্ট্রদোহী, পরিবারদ্রোহী ইত্যাদি বিশেষায়িত নামে সংখ্যালঘু করে রাখে। তারপরেও মনে হয়-
আহারে জীবন! এই জীবন যদি এই রকম অসংখ্য বৃত্তের সমন্বয়ে গঠিত না হয়ে অসংখ্য সরল রেখার সমন্বয়ে গঠিত হতো তাহলে কতোই না সহজ হতো, কতোই না সুন্দর হতো, কতোই না উপভোগ্য হতো, কতোই না ক্লান্তিহীন হতো, কতোই না বৈচিত্র্যময় হতো আর যেদিকে মন চায় জীবনবোধের সরলরেখা ধরে হেটে হেটে বড্ড আনন্দচিত্তে জীবনবৃত্তের প্রতিটি বৃত্ত পেরিয়ে সর্বশেষ বৃত্তে প্রবেশ করতে পারতাম।2 Comments
Friends
বিলকিস খানম কাজল
@bilkiskhanam-kazal
কবি মোঃ সামিদুল ইসলাম
@samidul
Md. Nur Alam (এইচ. এম নুর আলম)
@nuralam
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo
Kazi Zuberi Mostak
@kazi-zuberi-mostak
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam


বৃত্তে আবদ্ধ জীবন, মুক্তির কোন পথ খোলা নাই!
অনেকদিন বাদে আপনার লেখা পড়ছি লেখকপ্রিয়! কেমন আছেন তারপর?