Profile Photo

তাহমিনা মোরশেদOffline

  • RBTM796923t
  • বৃষ্টি থামতে থামতে সন্ধ্যা যেনো নেমে এসেছে শহরের ওপর।

    ক্যাফের কাঁচে জমে থাকা পানির রেখাগুলো ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। বাইরে রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে, ভেজা রাস্তায় তাদের আলো ঝাপসা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

    নন্দিনী ব্যাগটা কাঁধে তুলে দাঁড়ালো।
    “আমার যেতে হবে।”

    আরিয়ান মাথা নাড়লো।
    “আমারও একটা মিটিং আছে।”

    কথাটা খুব স…Read More

    3
    4 Comments
    • “বৃষ্টির ফোঁটা এসে পড়ছিল আরিয়ানের কাঁধে “__এ ধরনের বর্ণনাগুলো আমার ভালো লাগে। আপনার বর্ণনাগুলো সুন্দর। প্রকৃতি সঙ্গে দুজন মানুষ :নারী ও পুরুষ য্যানো মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। সুন্দর লিখেছেন। ভালো লাগলো। শুভকামনা, আপনার জন্য।

    • বৃষ্টির দিনে এক কাপ গরম কফির মতোই মায়াময় আর আরামদায়ক এক লেখনী। শুভকামনা রইল!

  • চারপাশে মানুষ আছে, কফির গন্ধ আছে, নিচুস্বরে গান বাজছে— তবু নন্দিনীর মনে হচ্ছিল যেন পুরো জায়গাটা নিঃশব্দ হয়ে গেছে।
    আরিয়ান তার সামনে বসে আছে। বহুদিন পর এমনভাবে। কোনো তর্ক নেই। কোনো তীক্ষ্ণ কথা নেই। শুধু চোখদুটো ক্লান্ত… আর ভীষণ সত্যি।
    ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করলো, “স্যার, অর্ডার?”
    আরিয়ান চোখ না সরিয়েই বললো, “দুটো কফি। আগের মতো।”
    নন্দ…Read More

    3
    3 Comments
  • ওয়াশরুমের আয়নায় মুখে পানি ছিটাতেই আরিয়ানের ঠোঁটের কোণের সেই চওড়া হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
    আয়নার ওপাশে যে মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে— তার চোখে দুষ্টুমি নেই। আছে ক্লান্তি। আর এক ধরনের অদ্ভুত শূন্যতা।
    তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে সে কিছুক্ষণ নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে রইলো। নন্দিনীর চোখের সেই চিকচিকে জলটা তার মাথা থেকে কিছ…Read More

    3
    6 Comments
  • মেয়ে মানুষের সামনে একটা গোটা জাতি
    যদি বেঁধে রাখা হয়! ব্যাপারটা অচিন্তনীয় হলেও, এক্সপেরিমেন্ট করতে দোষ কোথায়?
    মেয়েদের বিচার বুদ্ধি নিয়ে যদি এতই নিচো মনের পরিচয় পাওয়া যায়।
    তবে দোষ কোথায়?
    দোষটা হয়তো সেকেলে কিছু নিয়ম আর
    আরেকটি মেয়ের রোষানল,
    হয়তোবা পরিচয়টাও মেয়ে বলেই,
    এই জাতির জন্য অভিশাপ থেকে যাবে।

    এই চরণগুলির কোনো…Read More

    2
    8 Comments
  • “নাহ্!” নন্দিনীর একরকম কাঠখোট্টা জবাব শুনে আরিয়ান তাকিয়ে থাকে। নন্দিনী তার মুখ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়।
    আরিয়ান হাত দুটো ছেড়ে দেয়। নন্দিনী হাত দুটো ঘষতে থাকে। চাইলে সে ওকে থাপ্পড় মারতে পারতো কিন্তু সে মনের ইচ্ছাকে সেখানেই দমিয়ে রাখলো।
    আরিয়ান একটা সিগারেট ধরালো। সেটা মুখে করে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
    নন্দিনী ওর দিকে বাঁকা…Read More

    3
    3 Comments
    • আপনি মানুষের সম্পর্কের জটিল এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

    • “নাহ্!” নন্দিনীর একরকম কাঠখোট্টা জবাব শুনে আরিয়ান তাকিয়ে থাকে।

  • আরিয়ান মিটিং রুমের থেকে বের হয়ে তার রুমে যাওয়ার জন্য লিফটের দিকে এগোতে থাকে। মি. ফেডারেল এর সাথে পরবর্তী মিটিং নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো বলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তারা কথা বলতে থাকে। হোটেলের ম্যানেজার তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন। এই লোকটা এতো অসহ্যকর মনে মনে আরিয়ান প্রমাদ গুণে। কথা ফাইনাল হলে সে মি. ফেডারেলকে ধন্যবাদ জানাই আর ম্যানেজারকে ন…Read More

    1
    2 Comments
    • আপনি খুব চমৎকারভাবে আরিয়ান এবং নন্দিনীর মধ্যকার সেই অপ্রকাশিত রসায়ন, দীর্ঘদিনের অভিমান এবং একধরণের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • আরিয়ান যখন মিটিং রুমের দিকে আসছিলো তখন লিফটের দরজা হঠাৎ খুলে যায় সেখানে একজনকে দেখে কিছুক্ষণের জন্য পাথর হয়ে যায়। হঠাৎ করে কিছু স্মৃতির কেমোথেরাপি চলতে থাকে মনে। কিন্তু বিপরীতের মানুষটির মুখে কোনো অভিব্যক্তি না দেখতে পেয়ে একটু অবাক হয়। কেনো সেটা নিয়ে আর মাথা না ঘামিয়ে সে চলে যায় রুমে।
    প্রথমে কেউ গুরুত্ব না দিয়ে গল্প করতে ব্যস্ত হয়ে পর…Read More

    2
    2 Comments
    • রুমের ভেতর আরিয়ানের প্রবেশ এবং রাশিয়ান ও ইংরেজি ভাষার সংমিশ্রণে যে নাটকীয় পরিবেশ আপনি তৈরি করেছেন, তা গল্পে একটি আন্তর্জাতিক বা গ্লোবাল থ্রিলার-এর আমেজ দিচ্ছে।

      • গ্লোবাল থ্রিলার? এখনো ঠিক করিনি। তবে আপনি সাজেস্ট করতে পারেন কেমন থ্রিলার হলে অন্য সব থ্রিলার থেকে আলাদা হতে পারে। অথবা আপনার পড়া কোনো থ্রিলার গল্প।

  • “বাবা! আমার একটা নতুন গাড়ি লাগবে। তোমারটা পুরনো লাগে।” তখন বয়স খুব কম ছিলো। চৌদ্দ কি পনেরো। রাশিয়া থেকে বেড়াতে এসেছিলাম উইন্টার ভ্যাকেশনে। ততোদিনে আমি এক পাক্কা ড্রাইভার হয়ে গেছি। স্কুলে ট্রেনিং প্রাপ্ত। কিন্তু দেশে আসার পর এখানকার নিয়ম অনুযায়ী আমি তো আর চালাতে পারি না। বাবা এক কথায় মানা করে দিয়েছিলো।
    “আরিয়ান, খবরদার এরকম আবদার করব…Read More

    2
    2 Comments
  • আরিয়ানের গেটআপ দেখে হোটেলের প্রায় স্টাফ সন্দেহের চোখে দেখতে থাকে। তার সাথে কোনো গার্ড আনেনি আজকে। তাই হোটেলে ঢুকতেই বাঁধা পেলো। তার কার্ড আর পরিচয় পাওয়ার পর হোটেলের ম্যানেজার আসলো আর তাকে সম্মান দেখিয়ে ভিতরে নিয়ে গেলো।
    “খবরদার যদি এরকম ব্যবহার আর করেছো তোমরা কোনো গেস্টের সাথে তাকে তখনই আউট করে দেয়া হবে, বুঝেছো? এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং। মনে…Read More

    3
    2 Comments
  • আরিয়ান তার লিমুজিনে উঠে বসে। সোফারকে গাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিতেই সে স্টার্ট দেয়। আরিয়ান গা এলিয়ে বসে থাকে। পাশের লিমুজিনের ড্রয়ার থেকে একটা ছোট বোতল বের করে। দামি রূপার কারুকার্য করা অনেকটা মিডল ইস্টের ছোঁয়া আছে তাতে। সে তার চেইন লাগানো ঢাকনা খুলে তা থেকে পান করে। প্রশ্ন তো আসতেই পারে। এ আর এমন কি? আসলে ওটার ভিতরে সে মাল্টার শরবত…Read More

    1
    2 Comments
    • মাল্টার শরবতকে মদ্যপানের স্টাইলে পান করাটা সম্ভবত জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে বিদ্রূপ করার একটা ঢং

  • “আবেগী মন বারংবার প্রশ্ন করতে থাকে –
    সবকিছুই কি ক্ষণস্থায়ী আনন্দের জন্য
    নাকি সাদামাটা জীবনে এক প্রস্থ
    আনন্দের বিচরণ যা থেকে যায়।
    রেখে যায় স্মৃতিময় আবেগীয় সরল পথ।”

    1
    2 Comments
  • আরিয়ান লিফটের থেকে বের হয়ে লবির দিকে হাঁটতে থাকে। মার্বেলের মেঝেতে জুতোর আওয়াজ তুলে না। সে নির্দ্বিধায় হেঁটে যায়।রিসেপশনের মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে একটা ছলনাময়ী হাসি দেয় যা দেখে সে উল্টো একটা কাজ করে বসে। সে সোজা তার সামনে যেয়ে দাঁড়ায়। আর গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,”কি হলো ম্যাডাম, ফ্রী আছেন নাকি আজকে? আমার লগে যাইবেন? একটুখানি একান্ত সময…Read More

    1
    2 Comments
  • ব্ল্যাকরিজ টাওয়ার থেকে নামার সময় লিফটটা মাঝপথে থেমে যায়। আলো ঝাপসা হয়ে আসে, কাঁচের ভেতর আরিয়ানের প্রতিচ্ছবি বিকৃত হয়ে দুলতে থাকে—মনে হয় কেউ তার মুখটা একটু দেরিতে নড়াচড়া করছে। এই শহরে প্রতিচ্ছবিও বিশ্বাসযোগ্য নয়, সে সেটা ভালো করেই জানে।
    লিফট চালু হতেই তার ফোনে একটা অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ আসে—
    “ফাইল ৭০৭” এখন খুলবে না।” সে সেটা তার ল্য…Read More

    1
    2 Comments
  • আরিয়ান যখন ব্ল্যাকরিজের চার্চ স্ট্রিটের এক স্যাঁতসেঁতে সস্তা ফ্ল্যাটে তার চশমাটা মুছছিল, তখন বাইরে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তার কাজ হলো সেইসব মানুষের ফাইল ঘাঁটা, যারা এই শহরে ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেছে। কিন্তু সে জানে, ব্ল্যাকরিজে কেউ নিখোঁজ হয় না, শহরটা স্রেফ তাদের গিলে ফেলে। আরিয়ানের টেবিলের ওপর রাখা ফাইলগুলো থেকে এক ধরণের পচা কাগজের গন্ধ আসে—যে গন্ধ…Read More

    1
    4 Comments
  • রাতের ব্ল্যাকরিজ কোনো বিশ্রামের জায়গা নয়, বরং এটি একটি নিভৃত ল্যাবরেটরি। যখন রাস্তার শেষ ল্যাম্পপোস্টটি টিমটিম করে জ্বলে ওঠে, তখন শুরু হয় মানুষের ভেতরের ‘অন্ধকার সংস্করণ’-এর পদচারণা। এখানকার ড্রেন দিয়ে শুধু বৃষ্টির জল নয়, বয়ে চলে হাজারো মানুষের বিসর্জিত স্বপ্ন। শহরের প্রতিটি জানালা এক একটি নিস্তব্ধ চোখের মতো তাকিয়ে থাকে; কেউ জানে না…Read More

    1
    2 Comments
    • শহরটি এমন এক গোলকধাঁধা, যেখানে মুক্তি মানেই রূপান্তর, আর টিকে থাকা মানেই মনুষ্যত্ব বিসর্জন।

  • শহর যখন এক জীবন্ত ক্ষত
    শহর মানে কেবল কিছু দালানকোঠা আর রাস্তার মানচিত্র নয়; শহর মানে এক অনিয়মিত হৃদস্পন্দন। ব্ল্যাকরিজের মতো শহরে বসবাস করা মানে একটি বিশাল অন্ধকার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, যেখানে নিজের প্রতিবিম্বের চেয়ে পেছনের ছায়াগুলো বেশি স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। এখানে প্রতিটি ইটের স্তরে লুকিয়ে আছে কোনো না কোনো দীর্ঘশ্বাস, আর প্রতিটি ল্যাম্পপো…Read More

    1
    2 Comments
  • Load More Posts
হ্যাঁ বা না শব্দ দুটি সবচেয়ে পুরনো এবং ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়।

পীথাগোরাস

Friends

Profile Photo
Syed Farah
@syedfarah
Profile Photo
Hridita Islam
@hriditaislam
Profile Photo
Haoya Khan
@haoyakhan
Profile Photo
সজল
@sojol
Profile Photo
Jannatul Ferdausi
@ferdausi
Profile Photo
Masum-Pantho
@masum-pantho
Profile Photo
Riyansh Hasmi
@riyanshhasmi
Profile Photo
Amrita Sardar
@amritasardar
Skip to toolbar