-
আমি কেউ নই
সময়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার কিছুদিন পর। ফেইসবুক স্ক্রল করছি। বাহ তমা ঢাবিতে চান্স পেয়েছে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট, সারিদ ঢাকা মেডিকেলের সামনে ছবি তুলে পোস্ট করেছে আলহামদুলিল্লাহ। খোকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে ছবি তুলে ঢাবির জন্য আক্ষেপ করার পর আলহামদুলিল্লাহ বলে বিরাট ক্যাপশন দিয়েছে। ভালোই লাগছে দেখতে অন্যের সাফল্যের উচ্ছাস। ইন্সট্রাগ্রামে অনেক মানুষ মেসেজ দিয়েছে সব গুলো সিন করে নিয়েছি।উওর দেয়ার মতো কিছু পেলাম না। তাই সিন করেই গেলাম। কি বা দেবো কোথাও চান্স না পাওয়া সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়া আমি। আমি নিপু। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইলে ডাটা অন করি আবার ভোর রাতে আজানের সময় অফ করি। সারাদিনই মোবাইল নিয়ে বসে অন্যের সাফল্যের গল্প শুনি,পড়ি।কি করার সারাদিন খুঁজে পাই না। বসে বসে খালি মেসেজ সিন করি। কেউ জিজ্ঞেস করে না ” কেমন আছি” সবাই জিজ্ঞেস করে ” নিপু ঢাবিতে তোর মেরিট কত? জাবিতে কত? ভুলেই গেছিস বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে। অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে সবাইকে ইগনোর করে রেখে দিয়েছি।সাফল্যের পিছনের গল্পটা সবাই শুনতে চায়, ব্যর্থতার পিছনে গল্পটা কেউ শুনতে চায় না। আমি ব্যর্থতা মানতে পারছি না,ভিতরে একটু একটু করে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি। কারো সাথে কথা বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। ব্যর্থতটা সম্পুর্ন আমার ভাগ্যের জন্য। কিন্তু এই ব্যর্থতা আমাকে আসটে পিষটে রেখে দিয়েছে। কোনো কিছু করতে শক্তি পাচ্ছি না। ভিতর থেকে মরে গেছি। একটা স্টুডেন্ট মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার ব্যর্থটা ততক্ষণ তার কাছে বিরহ তৈরি করে যতক্ষণ না পর্যন্ত তার শরীরের মৃত্যু হয়। কারন পূর্বেই ব্যর্থতার জন্য সমাজটা মনকে মৃত ঘোষনা করে দেয়। মানুষের উপহাসের থেকে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে নিজের ভিতরের হাহাকার। তবুও চলছি আমি একাকিত্বকে বরণ করে নিয়ে। মনে হচ্ছে পৃথিবীতে শুধু এসেছি এই এডমিশন পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হতে। যে জিতে যায় ক্যারিয়ার তার পিছু ছোটে আর ছোটে। আর যে হেরে যায় পৃথিবীর সব দুঃখ তার। মা বাবাও ফিরে তাকিয়ে খবর নেয় না।সন্তানটা কি ভালো আছে, এতো চুপচাপ কেনো হয়ে যাচ্ছে। আহা এই যাএা বদলে দেয় প্রিয় বাবা কিংবা মার ব্যবহার। টাকাটাই মুল। বেঁচে থাকা মানুষের মুল্য নেই, খোজ নেই,প্রানহীন একটা জীবন ব্যর্থদের। তাদের পিছনে কেউ নেই। কেউ নেই, শুন্য জীবনের গ্লানি।
মা ডাকছেন, সাতকাহন বইটি রেখে দিলাম। যাই মা
-কিরে মোবাইল ছাড়া কি আর কোনো কাজ নাই, জীবনে তো ভাতও খেতে পারবি না। যা দরজা খুলে আয় দেখ কে এসেছে।
– আরে নিপুন মা কেমন আছো? কোথায় ভর্তি হলে তুমি?
– জ্বি ভিতরে আসুন, বসুন, মাকে ডেকে দিচ্ছি
– তোমার বাবা বাসায় নেই? তোর ছোট দুই বোন কোথায়?
– জ্বি ওরা স্কুলে, বাবা তো সিলেটে আছেন। বলে ভিতরে বলে এলাম।আম্মুকে বললাম।
– আরে মোকসেদ ভাই কেমন আছেন? ভাবী কেমন আছে,আপনার বড় ছেলে কানাডা থেকে কবে আসবে?
– আসবে ভাবী খুব শিঘ্রই যদি সব পাকাপাকি হয়ে যায়। কি বলেন বলে হা হা হা। আপনার ভাবীর মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয় হচ্ছে। আর বাচ্চারা তো বোডিং এ দিয়ে দিছি,আপনার ভাবীর সব সামলাতে খুবই কষ্ট হয়।
– সেটা তো হওয়ারই কথা, যে বয়সে মানুষটা রেস্ট নিবে সে বয়সেও কাজ করতে হচ্ছে।
মায়ের ডাক শোনা গেলো নিপু নিপু চা করে আন তোর কাকার জন্য। চা নিয়ে চলে এলাম… চা রেখে দেয়ার সাথে মা ভিতরে চলে যেতে বললেন, তবুও আড়াল থেকে শুনছিলাম।
– বরাবরই আপনার ভাবীর পছন্দ নিপুন মাকে। এখন আমার তাহমিদ সামনের মাসের ১৮ তারিখ আসলে আমরা সব পাকাপাকি করে ফেলবো যদি আপওি না থাকে
– আরে ভাই আপওি আর কিসের, আমার মেয়ে তো আপনারও মেয়ে।
– হে তা তো ঠিকই। তবে আজকে আসি ভাবী। আপনার ভাবী আবার একা রয়েছে।
পর্দার আড়ালে দাড়িয়ে হঠাৎ খেয়াল আসলো দু চোখ ভিজে গেছে….7 Comments
Friends
Tasnim-Akter-Mim
@tasnim-akter-mim
Md. Habibur Rahman
@habib
Khandokar-Mariatul-Islam
@khandokar-mariatul-islam
Himel Paul
@himel1881
S.M ROBEL
@smrobel
Fatema-Kasem
@fatema-kasem
Arif-Ahmed
@arif-ahmed
Kibria jahan anaana
@ananna
অপরিচিতা আমি
@opo-ri-1001



চলতে থাক…