-
গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
পর্ব-৪মায়ের চোখ কপালে উঠলো,
-‘হ্যাঁ? মাথা ঠিক আছে তোর? নাকি আবার সেই সিলি প্র্যাঙ্ক নিয়েই আছিস?’
আইভি আশ্বাস দিলো,
-‘প্র্যাঙ্ক না মা। আসলেই।’
কথাটা শুনে চেয়ার থেকে সাথে সাথেই উঠার উদ্যোগ নিচ্ছিল মা, তার মধ্যেই আইভি আটকে দিয়ে বলল,
-‘আম্মু, নিজেকে সামলে রাখো প্লীজ। ও কিন্তু এখন আমাদেরকে চিনেনা। নিজের বাবা মাকেই চিনেনা। আমরা তো দূরের মানুষ।’
মায়ের মন কিছুটা খারাপ হলো। কিন্তু আবার চেহারায় উজ্জ্বলতা এনে বলল,
-‘যাক, ভাগ্যক্রমে আবার আমাদের কাছে এসেছে এটাই বেশি। ভাগ্যিস আমার ছেলেকে আর কোনো বিয়ে দেইনি।’
আইভি বলল,
-‘আচ্ছা আম্মু এবার শুনো, ওকে এখানে কোনোভাবেই রাখা যাবেনা। কারণ তোমরা আসার আগে ওর বাবা দুই তিনবার এসে ওকে খুঁজে গেছে। ভাগ্যিস আমি সব চেঞ্জ করার সরঞ্জাম দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তাও ওর বাবা হাতের দাগটা দেখতে চেয়েছিল। এখানে ওকে রাখলে যদি আবার এসে পড়ে?’
শুভ্র বলল,
-‘হুম, ঠিকই বলেছিস রিস্ক নেওয়া যাবেনা।’
মা বলল,
-‘এক কাজ কর, ওকে তোর সাথে রিসোর্টে নিয়ে যা। ওখানে রাখ কয়দিন, কিছু মনে পড়লে পরে দেখা যাবে।’
আইভির দিকে ফিরে বলল,
-‘আইভি, তোকে কি ওর বাবা চিনেনাই? তোর চেহারা তো ইয়ানার সাথে মিল আছে।’
-‘মনে হয়না চিনেছে আম্মু। অনেকদিন হয়ে গেছে তো। হয়তো চেহারা ভুলে গেছে। যদিও আমাকে উনি দেখেন নাই কোনোদিন।’
-‘যাই হোক, তাহলে এই কথাই থাকলো। কাল সকালে তুই ওকে রিসোর্টে নিয়ে যাবি।’
শুভ্র বলল,
-‘আচ্ছা।’
রুম থেকে বের হয়ে একটা চেয়ারে চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মত বসে থাকতে দেখে শুভ্রর মা কাছে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো স্পর্শিতা।
মা কাছে এসে চোখ ছলছল পানি নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বলাতে বলল,
-‘কেমন আছিস মা?’
-‘ভালো আছি আন্টি। আপনি কানছেন কেন?’
-‘না মানে চোখে একটা পোকা ঢুকেছে, তাই পানি পড়ছে আর কি।’
স্পর্শিতা নরম স্বরে বলল,-‘আন্টি, আপনি আমাকে হেল্প করবেন প্লীজ? আমার একটা জব খুবই দরকার। আমি বিয়েতে বসতে চাইনা। প্লীজ আন্টি।’
-‘আহা, এতবার রিকুয়েস্ট করতে হবেনা রে পাগলী। আচ্ছা শোন, আমার ছেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট হবি? কতদিন ধরে মাথাটা খেয়ে ফেলছে অ্যাসিস্ট্যান্টের জন্য। কতগুলো মেয়েকে খুঁজে দিলাম রাজিই হলোনা। মেয়েরা তো অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ভালো হয়। কিন্তু তোকে দেখে কিভাবে সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলো।’
শুভ্র আর আইভি দুইজনই বুঝতে পারলো মা আর কথা ধরে রাখতে পারছেন না।
সাথে সাথে আইভি বলে উঠলো,
-‘শুনো আপু, তুমি অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারবে। কিন্তু তোমাকে এখানে রাখবো না আমরা। এখান থেকে অনেকটা দূরে এক জায়গায় তুমি যাবে ভাইয়ার সাথে। সেখানে আলাদা রুম, তোমার যা যা দরকার সব পাবে। তুমি কি রাজি আছো?’স্পর্শিতা ভাবনায় মশগুল হয়ে গেলো,
‘আমি যদি যাই তাহলে আমি এখান থেকে বাঁচতে পারবো। কিন্তু যাওয়ার পর কি হবে জানিনা। কেন জানি মন চাইছে লোকটাকে বিশ্বাস করতে। লোকটাকে নারী পাচারকারীও মনে হয়না। কারণ ওর নিজের মা বোন আছে। আবার যদি না যাই, তাহলে বাবা মা আমাকে খুঁজে ফেলবে। তারপর জোড় করে বিয়েতে বসাবে।’
স্পর্শিতাকে ওরা তিনজনই একটু সময় দিলো ভাবার। কারণ এত বড় একটা ডিসিশন হুটহাট করে নেওয়া যায়না।স্পর্শিতা রাজি হয়ে গেলো।
-‘আমি রাজি আছি, যতদিন পর্যন্ত ভালো কাজ হয় আমি রাজি আছি।’শুভ্র এই কথার মানেটা সাথে সাথে বুঝেছে। কারণ এটা সে আগেও শুনেছে স্পর্শিতার কাছ থেকে। সে বোঝাতে চেয়েছে সে কখনও অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে চায়না।
রাতের বেলা স্পর্শিতাকে আইভিদের বাসায় নিয়ে আসলো ওরা।
আইভি নিজের রুমটাও দিয়ে দিলো স্পর্শিতাকে থাকার জন্যে। কিন্তু স্পর্শিতা মেয়েটা আগে থেকেই শেয়ার করে সব কিছু। তাই জোড় করে আইভিকেও সাথে থাকতে বলল।ডিনারের সময় টেবিলে চুপচাপ বসে খাচ্ছিল স্পর্শিতা। সে এখনও কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেনি কোথায় যাবে কীভাবে যাবে, এই নিয়ে।
হঠাৎ শুভ্র নিস্তব্ধতা ভাঙলো,
-‘আচ্ছা তোমার নামটা যেন কি বললে?’জেনেও না জানার ভান করে বসলো সে।
আইভি বলল,
-‘এখন যেহেতু ওর পরিচয়টা দেওয়া ঠিক না, তাই ওর নাম মুমতারিনই থাক।’শুভ্র আবার বলল,
-‘অত বড় নাম মনে থাকবেনা, আচ্ছা তোমাকে মুন ডাকবো আমি। সমস্যা আছে এতে?’
স্পর্শিতা মাথা নেড়ে সায় জানালো, তার কোনো সমস্যা নেই।
শুভ্র জিজ্ঞাসা করলো,
-‘আচ্ছা তুমি এভাবে অন্ধভাবে কেন বিশ্বাস করছো আমাদের?’স্পর্শিতা বলল,
-‘আমার আশে পাশে সব কিছু এখন অন্ধকার। কোথাও একা গেলেও পড়ে যাবো। তাই ভাগ্যক্রমে আপনাদের থেকে যেটুক সাপোর্ট পেয়েছি, সেটুকু ধরেই আগাতে হবে আমাকে। নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো।’ওর কথা শুনে সবাই নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করে নিলো।
রাত ১২টা ৩০ মিনিট।
পাশে আইভি আরামের ঘুম ঘুমুচ্ছে। স্পর্শিতা টানা দুই ঘন্টা ঘুরন্ত ফ্যানের দিকে তাকিয়েও ঘুমাতে পারছেনা। মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে গেলে, ঘুম থেকে উঠে এই বুঝি ওর বাবা মাকে দেখতে পাবে। সব কিছু অচেনা লাগবে। ওর বাবা মা আবার তাকে জোড়াজুড়ি করবে বিয়ের জন্য।
জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে সে রুম থেকে বের হলো। হাটতে হাটতে তার পা গুলো তাকে কোথায় নিয়ে গেলো সে টের পায়নি।
যখন টের পেয়েছে তখন বুঝলো সে ছাদে এসেছে।জোছনার আলোয় আবছা দেখাচ্ছে সব কিছু।
আস্তে আস্তে এগোলো সামনের দিকে। ঠিক রেলিংয়ের কাছে এসে সে একটা কট করে শব্দ পেলো পেছনে।
বুকটা কেঁপে উঠলো।1 Comment
Friends
Md. Junaid
@junaid-islam
মোঃ আবু মুনিফ আল মুকিম।
@munifalmukimrocky
Drako Shajib
@drako
মানজারুল ইসলাম দুলাল
@manjarulislamdulal
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল
@ashraful710
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
মোখলেসুর রহমান
@mokhles
Moniruzzaman Sarjil
@zaman2802
মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সবুজ) সিকদার
@attokendrik

এমন জীবনের গল্প সবারই কিছু না কিছু গহীনের কথা নৈর্ব্যক্তিকে বলে চলে… খুব দারুন প্রবাহ… ভালো লাগলো… শুভেচ্ছা রইলো…