Profile Photo

রুপকথাOffline

  • RupKaTha
  • Profile picture of রুপকথা

    রুপকথা

    • 5 years, 4 months ago

    গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”
    পর্ব ৩
    ————————————
    এক সপ্তাহ হয়ে গেল, সবুজের খবর নেই কোন। ছেলেটা ঠিক আছে তো? আমি আবার একা হয়ে গেলাম। যে কারণেই হোক, তার সাথে আমার প্রতিদিন একবার হলেও তো কথা হতো। এখন তো… সবই আমার ভাগ্য। না আমি সবুজকে ভালোবাসতাম, না সবুজও আমাকে ভালোবাসতো। ভালোই তো ছিলাম আমি আমার এক তরফা ভালোবাসা নিয়ে, ওকে কে বললো এসব করতে? শুধু বন্ধু হয়ে থাকলে কি হতো? কেন আমাকে সে ভালোবাসতে গেল?

    –নীলা?

    –জ্বি আম্মু।

    –শোন, একটু কথা আছে।

    –কি আম্মু, বলো। এত গম্ভীর দেখাচ্ছে কেন তোমাকে?

    –ইদানিং তুই কোন বড় স্বপ্ন দেখেছিস নাকি? অনেকক্ষণের এমন?

    দেখেছি তো বটে কিন্তু আম্মু কেন জানতে চাইছে। না, আগে জানতে হবে। বিষয়টা কি!

    –কেন আম্মু, হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

    –তোকে যেটা জিজ্ঞাসা করেছি সেটার উত্তর দিতে পারছিস না?

    –আচ্ছা বাবা, বলছি। এতো রাগ হচ্ছো কেন? নাহ, কোন স্বপ্ন দেখি নি। মাঝে মধ্যে…

    –কি? মাঝে মধ্যে কি?

    –মাঝে মধ্যে আর কি দেখি যে আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, কত সুন্দর ফুটফুটে সন্তান আমার। তোমাদের সাথে আর থাকা লাগছে না, তোমার কা কা আর শোনা লাগছে না। কত্ত সুন্দর হয় সেই স্বপ্নগুলো! আহা!

    –হ্যা, তা তো দেখবিই। আমি তো সারাদিন কা কা করি। আসুক না তোর বাবা, কে কা কা করে বের করছি আমি।

    –ওরে আমার লক্ষ্মী আম্মু, আমি তো মজা করছিলাম। নাহ, আমি কোন ধরণের স্বপ্ন দেখি না। এবার বলবে কেন জিজ্ঞাসা করলে?

    –তুই তোর দাদা বাড়ির সম্পর্কে সবকিছু জানিস কিন্তু একটা কথা তোকে এখনো বলা হয় নি।

    –কি কথা আম্মু?

    — কথাটা হচ্ছে যে, শোন মা মনোবল রাখিস। কিচ্ছু হবে না তোর।

    –আম্মু, তুমি বলবে কি হয়েছে।

    –তোর দাদি, কুফুরি করছিল তোর উপর কিন্তু তোকে কোন ক্ষতি করতে পারে নি কারণ আমরা তার ধারে কাছে ছিলাম না। তারপরেও সে একটা কাজ করেছে।

    –কি কাজ?

    –তোর দাদি কুফুরি করে তোর স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছিল। মানে আমি বুঝিয়ে বলছি। এমন কিছু একটা করেছে যার ফলে তুই নিজেকে নিজেই যদি কখনো ১৮ বছর বয়সের পরে স্বপ্নে দেখিস সেটা কোনভাবে সত্যি হয়ে যাবে।

    –কি যা তা বলছো আম্মু? এইসব ফালতু, এরকম কখনো হয় না। আর ভালো কিছু দেখলে, তখন কি? তখন তো সেটাই সত্যি হবে, তখন কি হবে?

    –মা রে, সমস্যাটা এখানেই। তুই জীবনে একবার হলেও খারাপ কিছু একটা দেখবি আর সেটাই লেগে যাবে। ভালো কিছু দেখার সম্ভাবনা খুব কম, আর দেখলেও তোর কিছু মনে থাকবে না। খারাপ যেটা দেখবি সেটা তোর স্পষ্ট মনে থাকবে, তোর মনে হবে যে তোর সাথে এটা সত্যি সত্যি হয়েছে আর বাস্তব মনে হবে। তুই মনে করে দেখ, বিগত কয়েক বছরে তুই কি কোন।খুব ভালো কিছু দেখেছিস যেটা তোর এখনো মনে আছে? এমন ভালো কিছু যেটা তুই কখনো ভুলতে পারছিস না আর মনে হচ্ছে তোর সাথে সত্যি সত্যি এমনটা হয়েছিল?

    –না।

    –কিন্তু ভয়ানক দুস্বপ্ন একটা দেখলে তখন এমন মনে হবে। সেটা দুস্বপ্ন কিনা তুই বুঝবিও না কিন্তু খারাপ কিছু একটা তোর নিজেকে নিয়ে।

    –বুঝলাম, কিন্তু তোমরা এই ব্যাপারে কারো সাথে আলাপ করো নি? আব্বু কিছু করে নি?

    –করেছি তো, কুফুরি কাটায় যারা গিয়েছি তাদের কাছে। মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলেছি। সবাই বলেছে যতক্ষণ না তুই এমন কিছু দেখছিস ততক্ষণ কিছু করা সম্ভব না, আগে হলে তারপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু একটা করা যেতে পারে। তাই তোকে আজকে জিজ্ঞাসা করা। ৪ বছর তো প্রায় পেরিয়ে গেল, তুই এর মাঝে কখনো কিছু দেখেছিস কি না জেনে নিলাম।

    –না, কিছু দেখি নি। দেখলে জানাবো আর তোমার স্বামীকে বলে দিও তার মায়ের মত মা এই পৃথিবীতে যেন কেউ না পায় সেই দোয়া যেন আল্লাহর কাছে নিজের মুখে করে।

    আমি চলে গেলাম তার সামনে থেকে। দাদু কিভাবে করতে পারলো এমনটা, আমি তার বংশেরই একজন। তাহলে কেন করলো সে এমন? আমি তার কি ক্ষতি করেছিলাম, কোন সম্পত্তির দাবিও কখনো করি নি। এই মহিলা এখনো বেঁচে আছে! এই জন্যেই সবাই বলে যে, যে আগে চলে যায় সে ভালো মানুষ ছিল আর বেশি দিন যে বাঁচে তাকে আল্লাহ সময় দিচ্ছে শুধরানোর তাই সহজে নিয়ে যায় না। এই মানুষটা হাজার বছর বাঁচলেও ঠিক হবে না, উল্টো আরো কত মানুষের জীবন যেন নষ্ট করে।

    (চলবে)

    2
    1 Comment
    • প্রেম এক অপূর্ব বিনোদন। অনেক গল্প জমা হয় জীবনের পাতায়। লিখে যাও। অভিনন্দন।

Skip to toolbar