-
নোনা গন্ধ
মেয়ে শরীরের প্রতি আমার আকর্ষণ তীব্র। একদম ছোটবেলা থেকে। শরীর যখন থেকে শরীর চেনা শুরু করেছে। সেই তখন থেকেই। সবচে ভাল লাগে ওদের চুলের গন্ধ। গায়ের গন্ধও। এক মাইল দূর থেকেও আমি বুঝতে পারি কার শরীরের গন্ধ গায়ে মাখতে আরাম হবে। একদম কাছে গেলেই আমি মাতাল হয়ে যাই। সব গন্ধ ছাপিয়ে একটা গন্ধই শক্তিশালী হয়ে উঠে। এক টুকরো মাংসের গন্ধ।
গুলশান থানায় বসে আছি। ঘন্টা তিনেক পার হয়ে গেছে। ওসি সাহেব বার বার উঠে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসছেন। বুঝতে পারছেন না কি করবেন। দুইজন এস আই দাঁড়িয়ে আছে। ওদেরকে বলে দেয়া হয়েছে কোনভাবেই যেন বাইরে একটা শব্দও বের না হয়। দরজার বাইরেও একজন এস আই দাঁড়িয়ে আছে। কোন সিপাহী এই রুমে এখন ঢুকতে পারবে না।
আমার সারা গায়ে রক্ত লেগে আছে। ফিনফিনে সাদা শার্ট দেখলে কেউ বুঝবে না এটা সাদা ছিল। আমার গাড়িতেও রক্ত ভরে আছে। গাড়ির রঙটাও সাদা। লোকে আমাকে সাদা মনের মানুষ বলে জানে। মানে। সব সময় সাদা কাপড় পরি। বয়স ষাটের কাছে হলেও শরীর পেটানো। সারা জীবন ব্যায়াম করেছি। নানান ধরণের ব্যায়াম। আমি জানতাম ব্যায়াম না করলে শরীর ঠিক থাকবে না। কোন কিছুই খেয়ে আরাম পাবো না।
ওসি সাহেব এর আগে কবে আইজি সাহেবের সাথে কথা বলেছেন মনে করতে পারছেন না। উনার অবস্থা দেখে আমার সন্দেহ হচ্ছে আদৌ কোনদিন উনি আইজির সাথে কথা বলেছেন কিনা! গুলশান জোনের ডিসি হয়ে ঢাকার পুলিশ কমিশনার পার হয়ে আইজির কাছে খবর চলে গেছে। আইজি সরাসরি ওসিকে কল করে বলেছেন দরকার হলে থানার গেট বন্ধ করে রাখা হোক। তবু এই খবর যেন বাইরে না বের হয়। এক শব্দও না।
আইজি সাহেব প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন।
দেশটার যে ইদানিং কী হোল! সব ব্যাপারে এদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে হয়। সিদ্ধান্ত যা হওয়ার সেখানই হয়। বাকি সারা দেশ সেই সিদ্ধান্ত পালন করে কেবল। আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় এত বড় সরকার যন্ত্র রেখে লাভ কী?
যাই হোক, এই সবকিছুরই উত্তর আমি জানি। বলি না। সব বলতে নেই। এই মন্ত্র শিখে ফেলেছি বলেই আজ আমাকে বাঁচানোর জন্যে থানাও বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও আমি তিনটুকরা তাজা মাংস কেটে যত্ন করে একটা আড়ং এর ব্যাগে ভরে নিয়ে এসেছি। বাসায় অনেক খুঁজেও পলিথিন ব্যাগ পাইনি। সরকার যে কী নিয়ম করল কে জানে! পলিথিন এর ব্যাগ ইদানিং কোন আউটলেট দেয় না।
সবাই দেয় কাগজের ব্যাগ। আরে কাগজের ব্যাগ কি রক্ত আটকে রাখতে পারে? আমার গাড়িটা অযথা রক্তে ভরে গেল। সাদা ল্যান্ড ক্রুজার। সমস্যা নাই যদিও। ওই গাড়িটাই পুড়িয়ে ফেলবে নাকি। ওসি সাহেব বললেন। কোন সূত্র রাখা যাবে না।
বড় হয়েছি গ্রামে। স্কুল গ্রামেই। চেয়ারম্যান এর ছেলে। স্কুলে থাকতেই নারীর শরীর চিনতে শুরু করেছি। স্কুলে একটা রুম ছিল তালা মারা। নানান জিনিস রাখার জন্য। তালার চাবি ছিল পিয়নের কাছে। কেউ জানত না একটা নকল চাবি আমি বানিয়ে নিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান এর ছেলে, পিয়ন নিষেধ করে চাকরী খোয়াতে চায়নি। গন্ধ আগেই নিতাম, ক্লাস নাইনে উঠার পর থেকেই গন্ধের মধ্যে নাক আর আমারে ডুবায় রাখতাম। ভাল কথা, আমারে বলতে আমি এখানে আমার শরীরের একটা অংশকেই বুঝিয়েছি। আমার চাওয়া-পাওয়া সব শরীরের ওই অংশের জন্যেই।
আমার সাঙ্গপাঙ্গ ছিল। অনেক। চেয়ারম্যানের ছেলেদের থাকতে হয়। তার উপরে আমি ছোটছেলে। রাতের আঁধারে আমরা কারো কারো বাড়িতে লুকায় থাকতাম। গ্রামের কোন কোন বাড়ির মেয়ে সুন্দর এইটা আমাদের জানা ছিল। গ্রামে টয়লেট ঘরের বাইরে থাকত তখন। অনেক বাড়িতে টয়লেটই থাকত না। মেয়েরা মাঝরাতের দিকে ঘর থেকে বাইর হইলেই আমরা ওদের গায়ের গন্ধ নিয়া নিতাম। গ্রামের অনেকেই জানত। কিন্ত কিছু কইতে পারত না। দুইটা মেয়ে পোয়াতী হইয়া গেছিল। তবু কাউরে কয় নাই। খালাসের খরচা গোপনে আমিই দিছিলাম।
কলেজ পার হয়ে আসলাম ঢাকায়। ভার্সিটিতে। এইসব করার কারণেই কিনা জানি না আমার মাথা ছিল পরিস্কার। লেখাপড়ায় বরাবর ভাল ছিলাম। ভার্সিটিতে এসেই বুঝে গেলাম ক্ষমতা কোন দিকে। যোগ দিলাম। ভাল করলাম। কোন কিছুর অভাব হলো না আর। যন্ত্র-টাকা… সব অঢেল। চাইলে মেয়েদের হলেও ঢুকতে পারতাম। একটু ট্রিক করতে হত যদিও। ঢুকতাম বোরকা পরে। এরপর আচমকা কোন একটা সিঙ্গেল রুমে ঢুকে যেতাম মাঝরাতে। বাইরে পাহারা থাকত। বের হতাম যখন তখন মেঝেতে রক্ত আর রুম জুড়ে নোনা বাস্প থাকত। বহু করেছি… বহু বহু। কোনদিন গুণে শেষ করতে পারব না। ইচ্ছাও নেই।
আমরা পাঁচ ভাই-বোন। আমি ছোট আগেই বলেছি। মনে রাখতে পেরেছেন!? বোন একদম বড়। তারপর ভাই। তারপর বাকি দুইজন বোন। দাদা বণিক ছিলেন। দশ গ্রামের সবচে সুন্দরী মেয়েকেই ঘরে তুলেছিলেন ছেলের বউ করে। আমার বোনদের সুন্দরের কথাও আশপাশের দশগ্রাম জানে। কিন্ত ওদের দিকে চোখ তুলে কেউ চাইতে পারেনি।
সেজো বোনটাকে একবার এক ইতর কলেজে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। বড়ভাই ফোন করে আমাকে জানাল। ওইদিন বিকেলেই ঢাকা থেকে গিয়ে ওই হারামজাদার চোখ তুলে ফেলেছি। শুনেছি এখন কোথায় যেন ভিক্ষা করে শুয়োরটা। কত্তবড় সাহস আমার বোনের দিকে নজর দেয়!! সবাই জানত মফিজ চেয়ারম্যানের মেয়েরা হল লক্ষ্মী! সাক্ষাৎ!
ভার্সিটির একদম শেষ দিকে বুঝে গেলাম ক্ষমতার বদল হবে। বলেছিলাম না, আমার মাথা পরিষ্কার! দল বদলে ফেললাম।
আমাদের আসনেই আমাকে এমপি নমিনেশান দিয়ে দিল। দেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি হয়ে দেশ সেবার শপথ নিয়ে নিলাম।
দেশের সেবাই করতাম সারা দিন। শুধু রাতের বেলায় অল্প একটু গন্ধ না নিলে আমি শান্তি পেতাম না। আমার অফিসেই ব্যাবস্থা করে ফেললাম। আমার রুমে পাশেই একটা বেগুনী আলোর রুম বানিয়ে নিলাম। বেগুনী আলো প্রিয় আমার। কেমন যেন ঘোর লাগা। গন্ধ আরো তীব্র হয়ে উঠে এই আলোতে।
আমার মেয়েটা ভার্সিটিতে পড়ত। একটাই মেয়ে। আর বাচ্চা হতে পারেনি। মেয়ের মা বাচেনি। সব পত্রিকায় খবর এসেছিল মন্ত্রী সাহেবের বউ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা গেছে। বালিশ চাপা দিয়েছিলাম আমি। কুত্তিটা আমাকে বলে কিনা, মেয়ে বড় হলে সব বলে দেবে! আমার মেয়ে…
আমার কলিজার টুকরা। আমি-ই ওকে বড় করেছি। ওর বাবা আমি, ওর মা-ও। অনেক আদর আর যত্নে বেড়ে উঠেছে আমার কলিজার টুকরা।
এক বন্ধুর পার্টিতে গিয়েছিল। একটা রেস্টুরেন্টে।
পুলিশ আমার মেয়ের লাশ নিয়ে এসেছিল ফেরত। রক্তাক্ত। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে পাওয়া গেল দুই হারামজাদা আমার মেয়েটাকে একটা রুমে নিয়ে গেছে। এরপর শুয়োরের বাচ্চাগুলো টলতে টলতে ওই রুম থেকে বের হয়ে গেছে। আমার মেয়েটা বের হতে পারেনি।
আমার মেয়েটাকে ওরা মেরে ফেলেছে। আমার কলিজার টুকরাকে রক্তাক্ত করেছে। আমি ওর লাশের দিকে তাকাতে পারিনি। ওকে কবর দিয়ে এসেই রাস্তায় নেমেছি। আমি পাগল হয়ে গেছি। আমার মেয়েকে ওরা রক্তাক্ত করেছে।
ওদের ধরে এনে আমার বাংলোতে আটকে রেখে পুলিশ আমায় খবর দিয়েছিল। সাথে ওই রেস্টুরেন্টের মালিকটাকেও ধরে আনতে বলেছি। রেস্টুরেন্টে কেন আলাদা রুম থাকতে হবে?? কেন?
তিনটাকে চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমার কলিজার টুকরাটা নাকি ওদের হুমকী দিয়েছিল, বলেছিল ওর বাবা মন্ত্রী। ও দুই হারামজাদাকে ছাড়বে না। এজন্য নাকি ওরা ওকে খুন করেছে। না হলে করত না।
আমার মাথা ঠান্ডা এখন। তিনজনের পেট চিরে তিনটা কলিজা আড়ং এর ব্যাগে ভরে থানায় নিয়ে এসেছি।
আমি বিচার চাই।
আমি বিচার চাই সবার, যারা নোনা গন্ধের পেছনে ছুটে।
3 Comments
Friends
শাহারুখ আহমেদ শান্ত
@shaharukh83
Siam-Bro
@siam-bro
Razia Rahman Rojoni
@rojoni
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম
@shiyam
ApAlal
@apalal
OLOT PALOT
@olotpalot71
Nabanita Banik Mumu
@nabanita246
Sabbir Ahmad
@sabbirahmad90
Muhammad Jabed
@jabed92


দুর্দান্ত!! প্রকৃতির প্রতিশোধ ও বলা যায় বোধহয়।